কেয়ামত দিবস অর্থাত হাশরের দিনের কিছু পরিস্থিতি

1
1006

কেয়ামত দিবস অর্থাত হাশরের দিনের কিছু পরিস্থিতি“হাশর” সকল সৃষ্টিকে আল্লাহ হিসাবের জন্য একত্রিত করবেন। আতঙ্কগ্রস্থের মত বিকার অবস্থায় তারা থাকবে। দিনটি ৫০ হাজার বছরের সমান দীর্ঘ হবে। দুনিয়ার জীবন তাদের কাছে এক ঘন্টার মত মনে হবে। সূর্য মাথার উপর এক মাইল দূরত্বে অবস্থান করবে। প্রত্যেক মানুষ তার আমল অনুসারে ঘামের মধ্যে হাবুডুবু খাবে। এদিন দূর্বল ও
অহংকারীরা পরস্পর ঝগড়ায় লিপ্ত হবে। কাফের তার বন্ধুর সাথে এবং শয়তানও তার সাথীর সাথে বিতর্ক করবে। তারা একে অপরকে লানত করবে। অত্যাচারী নিজের হাতকে দংশন করবে। সেদিন জাহান্নামকে ৭০ হাজার শিকল দিয়ে সামনে টেনে নিয়ে আসা হবে। প্রত্যেক শিকলকে ৭০ হাজার ফেরেশতা ধরে টানবে। কাফের জাহান্নাম থেকে নিজের জান বাঁচানোর জন্য মুক্তিপন দিতে চাইবে। অথবা চাইবে সে যেন মাটির সাথে মিশে যায়।

“কিন্তু পাপীদের মধ্যে”- যারা যাকাত দিত না তাদের সম্পদকে আগুনে চ্যাপ্টা করে তাকে ছ্যাক দেয়া হবে। অহংকারীদেরকে পিঁপড়ার মত ক্ষুদ্র করে উঠানো হবে। বিশ্বাসঘাতক, গনীমতের সম্পদ চোর ও মানুষের সম্পদ আত্মসাৎকারীকে সকলের সামনে লাঞ্ছিত করা হবে। “অতঃপর কেয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন (সূরা-নাহল-২৭)” চোর যা চুরি করেছিল তা নিয়ে সে উপস্থিত হবে। সকল গোপন বিষয় প্রকাশ হয়ে পড়বে।
“কিন্তু পরহেজগারগণ”- তাদের কোন ভয় থাকবে না। এদিনটি যোহরের নামাযের সময়ের মত অল্পতেই শেষ হয়ে যাবে। “কিয়ামতের ব্যাপারটি তো এমন, যেমন চোখের পলক অথবা তার চাইতেও নিকটবর্তী।” (সূরা-নাহল-৭৭)

১. সেদিন সকলে একত্রিত হবে,
২. দুনিয়ার জমিন হবে রুটির ন্যায়,
৩. মানুষ নগ্নপদ, নগ্নদেহ ও খতনাবিহীন সমবেত হবে,
৪. কেউ কারোর প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার অবকাশ পাবে না,
৫. কাফেরদেরকে মুখের মাধ্যমে হাঁটিয়ে একত্রিত করা হবে,
৬. প্রতি হাজারে ৯৯৯ জন লোক জাহান্নামী বলে ঘোষিত হবে,
৭. ঐদিন মানুষ ঘর্মাক্ত হবে, এমনকি ঘাম তাদের কান পর্যন্ত পৌছাবে,
৮. সূর্যকে অতি নিকটে আনা হবে এবং মানুষের আমল অনুপাতে ঘামের মধ্যে ডুবে থাকবে,
৯. দুনিয়াতে যারা আল্লাহর জন্য সিজদাহ করে নাই কিংবা লোক দেখানোর জন্য সিজদাহ করেছে তারা সেদিন আল্লাহকে সিজদাহ দিতে পারবে না,
১০. মুমিনদের হিসাব হবে মুখো-মুখি,
১১. যার হিসাব পুংখানুপুংখ যাচাই করে হবে সে ধ্বংস হবে,
১২. ঐদিন মানুষের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হবে,
১৩. হাত, পা, কান, চক্ষু এবং চামড়া মানুষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে,
১৪. সে দিনের সময় সীমা হ’ল ৫০ হাজার বছরের সমান,
১৫. তবে ঐ দিন মুমিনের জন্য একটি ফরজ সালাত আদের সময়ের ন্যায় মনে হবে ।
দলিলঃ –(১: সূরা আন আম: ২২/ ২: বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা: ৫২৯৮/ ৩-৪: বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা: ৫৩০২/ ৫: বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা: ৫৩০৩/ ৬: বুখারী: ৪৭৪১/ ৭-৮: বুখারী, মুসলিম, মমিশকাত হা: ৫৩০৬, ৫৩০৮/ ৯: সূরা কালাম:৪২-৪৩; মিশকাত: ৫৩০৮/ ১০-১১: মিশকাত: ৫৩১৫/ ১২: সূরা ইয়াসীন: ৬৫/ ১৩: সূরা নূর: ২৪; হা-মীম সাজদাহ: ২০/ ১৪: মুসলিম, মিশকাত হা: ১৭৭৩/ ১৫: বায়হ্বাকী, মিশকাত হা: ৫৫৬৩)

1 মন্তব্য

  1. ধনাবাদ ভাই, দারুন পোষ্ট। আশাকরি আমার এবং অন্যদের কাজে লাগবে।চাইলে আমার নিজের তৈরি করা ব্লগটি ঘুরে আসতে পারেন। আর হ্যা ভাল লাগলে মন্তব্য করবেন। টেকটিউনসইউ

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 + 8 =