মাটির নীচে লাফালাফির আয়োজন

0
412

মাটির নীচে ‘ট্র্যাম্পোলিন’, মানে লাফালাফির ব্যবস্থা! ভাবতে অবাক লাগলেও ওয়েলসে রয়েছে এমন ব্যবস্থা৷ শুধু লাফালাফি কেন, শত কিলোমিটার গতিতে ওড়ার ব্যবস্থাও আছে সেখানে৷

স্নোডোনিয়া জাতীয় পার্কের কাছে ওয়েলসের উত্তরের অঞ্চলে ছবির মতো সুন্দর গ্রাম, পাহাড় আর উপত্যকার দেখা মেলে৷ অনেক পর্যটক যান সেখানে৷ তবে শুধু মাটির উপরের নয়, নীচের দৃশ্য দেখতেও৷ সেখানে পরিত্যক্ত এক খনির মধ্যে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভূগর্ভস্থ ‘ট্র্যাম্পোলিন’৷

খনির ভেতরে ভিন্ন ভিন্ন স্তরে তিনটি ট্র্যাম্পোলিন রয়েছে৷ গুহাটি ৬০ মিটার লম্বা এবং ৩৫ মিটার উঁচু৷ ফানস্পোর্টের জন্য বিখ্যাত স্থানীয় কোম্পানি জিপ ওয়ার্ল্ড এটি পরিচালনা করছে৷ কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শন টেলর বলেন, ‘‘আমাদের কোম্পানির সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক মানুষ, বিশেষ করে আমাদের বন্ধুরা এই আইডিয়া বের করেছে৷ আমরা অনন্য কিছু একটা চেয়েছিলাম, যা এখানে পেয়েছি৷ এটা পৃথিবীর প্রথম এ ধরনের পার্ক৷’

মাটির নীচে লাফালাফির আয়োজন, biggan,বিজ্ঞান, প্রযুক্তি মাটির নীচে লাফালাফির আয়োজন

গত বছর এই খনীতে সতের হাজার শ্রমিক কাজ করতেন৷ শিল্পায়ন এবং নতুন সামগ্রীর আবির্ভাবের কারণে একসময় এর প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়৷ পরিত্যক্ত খনিটি খেলার জায়গায় পরিণত করতে ছয় মাসের মতো সময় লেগেছে৷ ৩০০ টন আবর্জনা সরাতে হয়েছে৷ এমনকি একটি লেকও ভরাট করা হয়েছে৷

তবে জিপ ওয়ার্ল্ড অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে শুধু ট্র্যাম্পোলিন গুহাই অফার করছে না৷ বছর খানেক আগে গুহাটির কাছে জিপ লাইন চালু করেছে কোম্পানিটি৷ ১,৭৫০ মিটার লম্বা এই লাইন ধরে একশো কিলোমিটার গতিতে উড়ে যাওয়া যায়৷ দর্শনার্থীরা বিষয়টি বেশ উপভোগ করেন৷ প্রতিষ্ঠানটি এ রকম আরো এক প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে৷

শন টেলর বলেন, ‘‘এটা টপ সিক্রটে প্রকল্প৷ আপনিই প্রথম যাকে বলছি৷ আমরা ওটার নাম দিয়েছি ‘জিপ বিলো’৷ এক্ষেত্রে দর্শনার্থীরা এক অ্যানিমেটেড দুনিয়ার মধ্যে জিপ করবেন৷ আগুন, ঝর্না, বরফখণ্ড কিংবা পাথরের পাশ কাটিয়ে ছুটে চলার মতো ব্যাপার৷ সব মিলিয়ে দেড় ঘণ্টার যাত্রা৷”

এ সব উদ্যোগের মাধ্যমে ওয়েলসের উত্তরে আরো পর্যটক আনতে চান টেলর ও তাঁর সহকর্মীরা৷ ভূগর্ভস্থ ট্র্যাম্পোলিন কাজটা ভালোভাবেই করছে৷ ছোট-বড় সবার পছন্দ এই খেলা৷

একটি উত্তর ত্যাগ