ধূমপানের ৬টি বিতর্কিত স্বাস্থ্য “উপকারিতা”!!!

2
712
এটি 11 পর্বের রহস্যময় প্রযুক্তি সিরিজ টিউনের 1 তম পর্ব

ধূমপায়ীদের জন্য সুখবর! ধূমপানেরও আছে উপকারী দিক! পুরুষেরা, বিশেষত স্বামীরা প্রায়ই সিগারেট নিয়ে নাস্তানাবুদ হন স্ত্রী আর পরিবার পরিজনের কাছে। এবার ধূমপায়ীদের হয়ে ওকালতি করতে এসেছেন স্বাস্থ্য-বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকরা। তাঁদের মতে বেশ কিছু রোগে উপকারী ভূমিকা পালন করে ধূমপান। :-D

আলসারেটিভ কোলাইটিসঃ

প্রথমেই বিজ্ঞানীরা বলেছেন আলসরেটিভ কোলাইটিসের কথা। এটা পেটের একটি রোগ, মূলত এই রোগে বৃহদন্ত্রে ক্ষত সৃষ্টি হয়। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্যি যে এই রোগে ধূমপানের রয়েছে ইতিবাচক ভূমিকা। এমনকি দেখা যায় অধূমপায়ী বা আগে ধূমপান করতেন এমন মানুষের চেয়ে যারা বর্তমানে ধূমপান করেন তাঁদের মধ্যে এই রোগ হবার হার তুলনামূলকভাবে খুবই কম। এমনকি এই রোগ হয়ে যাবার পরেও যদি কেউ ধূমপান শুরু করেন তবে আরোগ্যের সম্ভাবনা এবং রোগ উন্নয়নের হার তুলনামূলকভাবে বেশি।

ব্যাপারটি লক্ষ্য করে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষায় নেমে পড়েছেন। নিকোটিন, আলসারেটিভ কোলাইটিসের আরোগ্যের জন্য আসলেই একটি কার্যকর উপাদান কী না সে বিষয়ে গবেষণা করছেন তাঁরা।

ধূমপানের ৬টি বিতর্কিত স্বাস্থ্য "উপকারিতা"!!!

এ পরীক্ষার জন্য প্রথমে বিজ্ঞানীরা আলসারেটিভ কোলাইটিসের রোগীদের নিকোটিন চুইংগাম খেতে দেন, কিন্তু তাতে যথাযথ ফল না পেয়ে চামড়ার নিচে নিকোটিন প্রয়োগ করেন তাঁরা। আর তাতেই দেখা যায়, নিকোটিনের উপকারী ফলাফল!
ব্রিটেনে একটি পরীক্ষায় ১৬ জন আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগীর মাঝে অর্ধেককে নিয়মত চিকিৎসার পাশাপাশি ৪ সপ্তাহের জন্য প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম করে নিকোটিন (চামড়ার নিচে) দেওয়া হয়; আর বাকি অর্ধেককে দেওয়া হয় প্লাসিবু (ছলৌষধি- কার্যকর ঔষধ নয় কিন্তু দেখতে বা প্রয়োগের ক্ষেত্রে ঔষধের মত)। ফলাফলে দেখা যায় নিকোটিন প্রাপ্ত রোগীরা প্রায় ৪৮.৮% ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন যেখানে প্লাসিবু প্রাপ্তদের মাঝে সুস্থ হবার হার মাত্র ২৩%। আরেকটি পরীক্ষায় নিকোটিনপ্রাপ্তদের আরোগ্যের হার শতকরা ষাট ভাগেরও বেশি।

আলঝেইমারসঃ

ধূমপানের আরেকটি উপকারী দিক হলো এটা আলঝেইমারস প্রতিরোধক। আলঝেইমারস হলো স্নায়বিক ক্ষয়রোগ যাতে আস্তে আস্তে সব কিছু ভুলতে থাকে মানুষ। কিন্তু এ নিয়ে এখনও যথেষ্ট বিতর্ক মত-দ্বিমত চলছেই। ২০০২ সালের দিকে ইঁদুরের উপর একটি গবেষণায় প্রমানিত হয় যে ধূমপান স্নায়ুক্ষয় জাতীয় রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম । কিন্তু মানুষের উপর বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যায়, বহুদিন ধরে যারা ধূমপান করেন তাদের জন্য আলঝেইমারস হবার সম্ভাবনা বরং বেশ বেশিই। অনেকেই মনে করেন যে, সিগারেট কোম্পানিগুলো ক্রেতা আকৃষ্ট করার জন্য এ ধরণের গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে।

পারকিনসনস ডিজিজঃ

এটাও একটি স্নায়বিক রোগ। এ রোগে স্নায়ুক্ষয়ের ফলে ক্রমাগত হাত-পা কাঁপতে থাকে রোগীর; বুড়ো আঙুল ও তর্জনীর সাহায্যে কলম- সুঁই বা ট্যাবলেট ধরার মত কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ২০০৭ সালের মার্চ মাসে প্রথম একটি জার্নালে বলা হয় যে কম হলেও ধূমপান পারকিনসনস ডিজিজ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। পরে ২০১০ সালে আরেকটি জার্নালে একই ধরণের আরকটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়; তবে ২টি জার্নালের কোনটিতেই নিকোটিন বা ধূমপানের ভূমিকার সঠিক কার্যকরণটি ব্যাখ্যা করা হয়নি।

ওজন কমাতেঃ :evil:

আসলে এটাকে ইতিবাচক ভূমিকা বলা যায় কি না সে নিয়ে অনেক বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। কারণ ওজন কমাতে ধূমপানের সরাসরি কোন ভূমিকা নেই; ধূমপান মূলত ক্ষুধামন্দার কারণ হিসেবে কাজ করে। তাই ক্ষুধা না লাগলে খাওয়াও কমে যায়, সেই সাথে কমে ওজন। তবে যাদের ওজন এমনিতেই কম- তাঁরা যে ধূমপান করলে কঙ্কালসার হয়ে যেতে পারেন সে নিয়ে কোন সন্দেহই নেই!

ধূমপানের ৬টি বিতর্কিত স্বাস্থ্য "উপকারিতা"!!!

ঔষধের কার্যকারিতায়ঃ :-o

হৃদরোগীদের জন্য ব্যবহৃত একটি ঔষধ হল ক্লোপিডগরাল। ২০০৯ সালে হার্ভার্ডের এবং ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা থ্রম্বোসিসের উপর একটি গবেষণায় এ ব্যাপারে আলোকপাত করেন। দিনে ১০টি সিগারেট এর কার্যকারিতা বাড়াতে পারে! তবে একথাও সত্য যে, দিনে ১০টি সিগারেট ধূমপায়ীদের রক্তনালিকায় যে পরিমান চর্বি জমায় তাতে তাদের হৃদরোগের ঔষধ প্রয়োগ করার আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়াটা (স্ট্রোক করা বা হঠাৎ হার্ট ফেইল করা) বিচিত্র কিছু নয়।

আরও কিছু রোগঃ

ধূমপানের সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায় নি, তবে ধারণা করা হয় আরও কিছু রোগে এর উপকারী প্রভাব রয়েছে, যেমনঃ এ্যাফথাস আলসার (মুখে এক ধরণের ঘা) প্রতিরোধে, মহিলাদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সার এবং ইউটেরাইন ফাইব্রয়েড (জরায়ুর এক ধরনের রোগ), সারকয়ডোসিস ( লসিকা গ্রন্থির এক ধরণের রোগে) ইত্যাদি। 8-)

এই প্রবন্ধের বেশিরভাগ তথ্যই ক্রিস্টোফার ওয়ানজেক এর লেখা “ব্যাড মেডিসিন” বই থেকে নেওয়া। বইয়ের প্রায় প্রতিটি তথ্য দেওয়ার পর পরই ওয়াজনেক বারবার বলেছেন যে, কোন চিকিৎসকই কাউকে যেন তারপরেও ধূমপান করার উপদেশ না দেন, কারণ এই অল্প কয়েকটি ইতিবাচক দিক বাদ দিলে ধূমপান নেতিবাচক প্রায় সব দিক থেকেই। এটা পরিবেশের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি আপনি ও আপনার পরিবারের প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ ক্যান্সারের জন্যও দায়ী হতে পারে ধূমপান। আর ধূমপানের আরও একটি অতুলনীয় “উপকারিতা” তো রয়েছেই সেটা হল আপনাকে খুব জলদি মৃত্যুর কাছাকাছি নিয়ে গিয়ে “যন্ত্রণাময়” এই জীবন থেকেই বাঁচিয়ে দেবে। তাই সিগারেটে একটি সুখটান দেবার আগে কমপক্ষে একশ বার ভাবুন; সুন্দরভাবে বেঁচে থাকবেন নাকি এই গুটিকয়েক উপকারিতা নিয়ে দুনিয়া থেকেই তল্পিতল্পা গোটাবেন।  :mrgreen:

ফেসবুকে আমি

 

Series Navigation চাকরির ইন্টারভিউয়ে যে ৫টি বোকামিপূর্ণ কথা কখনোই বলবেন না >>

2 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ