অনলাইনে দেওয়া আপনার তথ্যের কি হবে যখন আপনি ইন্তেকাল করবেন? [ইনফরমেশন]

0
356

ডিজিটাল সম্পত্তি হস্তান্তর

কি হবে আপনার ইনফো বা ডাটার যখন আপনি আর থাকবেন না?

ফেসবুক তৈরি হওয়ার প্রথম আট বছরের মধ্যে, আনুমানিক 30 মিলিয়ন ফেসবুক ব্যবহারকারী তাদের তথ্য এবং সব ধরনের ডাটা ছেড়ে চলে গেছেন। যে সমস্ত স্মারক পেজ অথবা ডাটা ছেড়ে ইউজাররা গত হয়েছেন, ফেসবুক এখন তাদের জন্য একটি পলিসি উম্মুক্ত করেছে। সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, যারা মৃত্যু পথযাত্রী বা ইন্তেকাল করেছেন তারা এখনও ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পেতে পারবে, যে কোন ছবিতে ট্যাগ হতে পারবে; এমনকি তারা “শুভ জন্মদিন” অভ্যর্থনাও পাবে যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের মৃত্যুর খবর ফেসবুক অফিসিয়ালভাবে জানতে পারবে।

এই ইনফরমেশন আমাকে অনেক অভিভূত করেছে এই ভেবে যে, আমি যখন মারা যাব তখন কি হবে আমার অনলাইনের ইনফো বা ডাটাগুলির যেগুলো আমি শেয়ার করেছি আমার ফ্রেন্ডদের সাথে, আমার কলিগদের সাথে। ফেসবুকের কথা না হয় বাদই দিলাম। অন্যান্য নেটওয়ার্ক যেমন গুগল, লিঙ্কড ইন, টুইটার, ফ্লিকার, স্কাইপ, ইন্সটাগ্রাম, মিগ৩৩ এবং আরও অন্যান্য সাইটে যেখানে আমি বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করেছি। আমার আরও অনেক ডাটা নিশ্চয়ই আরও বিভিন্ন সাইটের সার্ভারে সংরক্ষিত আছে। আমার মৃত্যুর পরও সেই ডাটাগুলির কি হবে? আমার মৃত্যুর পর আমার পরিবারের কেউ কি সেই ডাটাগুলোতে হস্তক্ষেপ করতে পারবে? আমার প্রোফাইল যখন আর থাকবেনা তখন কি অন্য কেউ আমার সেই প্রোফাইলের ইউজারনেম ব্যবহার করতে পারবে অথবা আমার ইমেইল বা সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে লগ-ইন করতে পারবে?

এবার আপনার মৃত্যুর পরে আপনার ডিজিটাল সম্পত্তি হস্তান্তর সম্পর্কে কিছু ইনফরমেশন জানা যাক—

আরও জানতে চাইলে আপনি এই লিঙ্কে গিয়ে জানতে পারেন।

গত আট বছরে ৩০ মিলিয়ন ফেসবুক ইউজার মারা গেছে। বর্তমানে ৪২৮ জন প্রতি ঘণ্টায়, ১০,২৭৩ জন প্রতিদিন এবং ৩১২,৫০০ জন প্রতি মাসে মারা যাচ্ছে। প্রতিদিন সম্ভবত ১০,০০০ মৃত ফেসবুক ইউজার ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট, ফটো ট্যাগ এবং “শুভ জন্মদিন” এর অভ্যর্থনা পাচ্ছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছেঃ

মৃত্যুর পরে-

১। কে আমার ডাটার মালিক?
২। কতদিন পর্যন্ত আমার প্রোফাইল অ্যাকটিভেট থাকবে?
৩। অন্য কেউ কি আমার প্রোফাইলের ইউজারনেম ব্যবহার করতে পারবে?
৪। কি হবে যখন আমার ফ্রেন্ড বা পরিবারের কেউ আমার ডাটা হস্তক্ষেপ করতে চাইবে?

১ নং প্রশ্নের উত্তরঃ

এই সমস্ত ব্যপারে, আপনার প্রাইভেসি গোপন থাকবে এমনকি মৃত্যুর পরেও। আপনার ডাটা কেউ জানতে বা দেখতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার মৃত্যুর খবর অফিসিয়ালভাবে না জানান হয়। কিন্তু যদি আপনি আপনার মৃত্যুর আগে আপনার ডাটা হস্তক্ষেপ করার জন্য অফিসিয়ালভাবে কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যান তবে তিনি আপনার ডাটা হস্তক্ষেপ করতে পারবেন।

২ নং প্রশ্নের উত্তরঃ

কিছু কিছু ক্ষেত্রে আপনার অ্যাকাউন্ট কখনই ডিঅ্যাক্টিভেট হবে না; কিছু কিছু ক্ষেত্রে আপনার মৃত্যুর খবর অফিসিয়ালভাবে যদি জানান হয় তাহলে ডিঅ্যাক্টিভেট হবে, তবে সেক্ষেত্রে হয়তো ছয় বা নয় মাসের মত সময় লাগতে পারে যদি আপনি আপনার মৃত্যুর পূর্বে ইনঅ্যাকটিভ অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার সেট না করেন।

[ইনঅ্যাকটিভ অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার হচ্ছে একটি সিস্টেম যা গুগল এর তৈরি এবং এটি শুধু গুগল এর জন্য আপাতত প্রযোজ্য। আপনাকে শুধু আপনার অ্যাকাউন্ট এর টাইম-পিরিয়ড ৩ থেক ১৮ মাসের মধ্যে সেট করতে হবে। এবং সেট করার সময় আপনাকে আপনার পরিচিত ১০ জনের পরিপূর্ণ ঠিকানা দিতে হবে যারা মৃত্যুর পর আপনার সকল ডাটা গুগল ডাটাবেস থেকে ডাউনলোড করতে পারবে এবং আপনার ডাটা মুছে দিতে পারবে। তবে টাইম-পিরিয়ড শেষ হবার ১ মাস আগে গুগল আপনাকে এ ব্যপারে সংকেত দিবে]

৩ নং প্রশ্নের উত্তরঃ

কিছু কিছু ক্ষেত্রে আপনার প্রোফাইলের ইউজার নেম অন্য কেউ ইউজ করতে পারবে আর কিছু কিছু ক্ষেত্রে পারবে না । তবে অবশ্যই এটি বিভিন্ন সাইটের নিয়ম-নির্দেশনার উপর নির্ভর করবে।

৪ নং প্রশ্নের উত্তরঃ

৪ নং প্রশ্নের উত্তর ১ নং প্রশ্নের উত্তরেই দেওয়া আছে।

উপরের ইনফরমেশন থেকে এতটুকু স্পষ্ট যে মৃত্যুর পর আপনার ডাটার কি হবে তা বিভিন্ন সাইট এবং সামাজিক মিডিয়া নেটওয়ার্কগুলো ভিন্নভাবে নির্ধারণ করবে এবং এই সব নির্ধারণ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্ট তাদের প্রয়োজন হবে। আবার কিছু কিছু সাইট আপনার ইউজার নেম অন্যদের ব্যবহার করতে দিবে আবার কিছু কিছু সাইট দিবে না। সুতরাং যে সমস্ত সাইট আপনি ব্যবহার করবেন তাদের নীতি, প্রয়োজনীয়তা এবং নিয়ম সম্পর্কে আপনাকে জানতে এবং বুঝতে হবে। সম্ভবত গুগল এর ইনঅ্যাকটিভ অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার হচ্ছে সবচাইতে ভাল পদ্ধতি প্রোফাইল ইনঅ্যাকটিভ বা ডিজিটাল সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য।

যদি আপনি ভাল এবং সুস্থ থাকেন তাহলে এখনই আপনার ডাটা সম্পর্কে কিছু একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিন। যদি আপনি আপনার মৃত্যুর পর আপনার জিমেইল, গুগল-প্লাস বা গুগল এর অন্যান্য মাধ্যম থেকে আপনার ডাটা হস্তান্তর অথবা প্রোফাইল ইনঅ্যাকটিভ করতে চান তাহলে ইনঅ্যাকটিভ অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার সেট করে রাখতে পারেন অথবা যদি আপনি ফেসবুক সম্পর্কে জানতে চান তাহলে আপনি ফেসবুক মেমরিয়ালাইজেসন পলিসি পড়ে দেখতে পারেন। যদিও মৃত্যু সম্পর্কে কেউই কিছু চিন্তা করতে চায় না কিন্তু ডাটা হস্তান্তরের মাধ্যমে হয়তো আপনার মৃত্যুর পর আপনার পরিবার বা কাছের মানুষজন হয়তো আপনার আরও নিকটে আসতে পারে।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এইটা যদিও ফানি পোস্ট না তবুও যদি কেউ ফানি হিসেবে নিতে চান, নিতে পারেন। তবে যেভাবে তথ্যপ্রযুক্তি আমাদের লাইফে সবক্ষেত্রে প্রবেশ করছে এবং যেভাবে আমরা সবকিছুতে তথ্যপ্রযুক্তির উপর নির্ভর হয়ে যাচ্ছি সেক্ষেত্রে আমাদেরকে একসময় ঠিক এরকম ভাবেই ভাবতে হবে। তাই আগে থেকে একটু ভাবনা-চিন্তা বা সতর্ক থাকা মনে হয় অনেকাংশেই ভাল। আপনারা কি বলেন?

একটি উত্তর ত্যাগ