মানুষকে বোকা বানালো কম্পিউটার প্রোগ্রাম...!

0
341

সম্প্রতি ঘটেছে একটি মজার ঘটনা। সুপার কম্পিউটার কিছু মানুষকে বোকা বানিয়েছে। কম্পিউটারটি তাদেরকে বিশ্বাস করিয়েছে তারা একটি মানুষের সাথে কথা বলছে। এই আর্টিকেলটি লিখতে গিয়ে আমার মনে পড়ছে স্পাইক জোনয এর সাই-ফাই মুভি “Her” এর কথা। মুভিতে দেখা যায় একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম একটি মানুষের সাথে এতটাই বাস্তবিকভাবে ইন্টার‍্যাক্ট করে যে মানুষটি সেই কম্পিউটার প্রোগ্রামের প্রেমে পড়ে যায়। মানুষটি কিন্তু জানতো যে সে একটি কম্পিউটার প্রোগ্রামের প্রেমে পড়েছে। কম্পিউটার “Turing Test” এ পাশ করেছে (দাবি করা হয়েছে)। কম্পিউটিং এর অগ্রদূত অ্যালান টুরিং বলেছিলেন, ” computer could be understood to be thinking if it passed the test, which requires that a computer dupes 30 per cent of human interrogators in five-minute text conversations” অর্থাৎ, এই টেস্টে একটি কম্পিউটার তখনই কৃতকার্য হবে যখন কম্পিউটারটি ৫ মিনিটের টেক্সট কনভারসেশনে ৩০% মানুষকে (তদন্তকারী) বোকা বানাতে পারবে। তিনি আরও বলেছিলেন “if a machine was indistinguishable from a human, then it was ”thinking”.”

turing মানুষকে বোকা বানালো কম্পিউটার প্রোগ্রাম...!

সুপার কম্পিউটারটি এই কাজ করতে সক্ষম হয়েছে। যে সকল মানুষ ইন্টারোগেট (টেক্সট কনভারসেশন) করছিলেন তারা বিশ্বাস করেছেন তারা একটি ১৩ বছর বয়সী ছেলের সাথে কথা বলছেন। ছেলেটির নাম ইউজিন গুস্টম্যান। এই Eugene Goostman মূলত একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম। তৈরি করেছে রাশিয়ান একটি টিম। টুরিং টেস্ট করা হয়েছে লন্ডনের রয়াল সোস্যাইটিতে। ৩০% এর জায়গায় ৩৩% বিচারক/তদন্তকারীকে প্রোগ্রামটি বোকা বানাতে সক্ষম হয়। ৩৩% মানুষ বিশ্বাস করেছে ইউজিন আসলেও একজন মানুষ।

 

alan-turing_2774520b মানুষকে বোকা বানালো কম্পিউটার প্রোগ্রাম...!

এই চমকপ্রদ ঘটনাটি ইতিহাসে এই প্রথম ঘটেছে বলে দাবী করা হচ্ছে। শোনা গেছে এরকম টেস্ট পূর্বেও করা হয়েছিল তবে সেখানে টপিক অথবা প্রশ্নগুলো আগে থেকে সাজানো ছিল। মোট ৫ টি মেশিন দিয়ে টেস্ট চালানো হয়। অ্যালান টুরিং ১৯৫০ সালে সর্বপ্রথম এরকম পরীক্ষার ধারনা দেন এবং পরিকল্পনা করেন। টেক্সট কনভারসেশনে ইউজিন দাবি করেছিল সে ১৩ বছর বয়সী এবং ইউক্রেনের ওডেসা নিবাসী। কনভারসেশন যত আগাতে থাকে অপর পাশে থাকা মানুষটি ততই বিশ্বাস করতে থাকে যে ইউজিন যা বলছে সব সঠিক।

Tr মানুষকে বোকা বানালো কম্পিউটার প্রোগ্রাম...!

কেমন হয়েছিল কনভারসেশন: একজন ব্যাক্তির সাথে ইউজিনের টেক্সট কনভারসেশনের কিছু অংশ তুলে ধরা হলো: Judge: Hi there, do you prefer to wear a dress or trousers to work? Eugene: I am a scholar. I’m too young to make money. Judge: What was the last film you saw at the cinema? Eugene: Huh? Could you tell me what are you? I mean your profession. Judge: I am an IT manager, and you? Eugene: Manager? So how is it to work as manager? Judge:Hard work but rewarding, what do you do? Eugene: I am only 13, so I’m attending school so far. Judge: Have you seen teletubbies? Eugene: No, I haven’t seen it, unfortunately. But I hope it is better than these crappy Star Wars. And I forgot to ask you where you are from … Judge: Brighton, and you? শুরু করেছিলাম “Her” দিয়ে শেষ করলাম “Space Odyssey” দিয়ে। Space Odyssey আরেকটি সাই-ফাই মুভি যা রিলিজ হয় ২০০১ সালে। মুভিতে Hal 9000 নামের একটি কম্পিউটার ছিল যা নভোচারীদের সাথে বাস্তবিক কনভারসেশন চালাতে পারতো। কম্পিউটারের সাথে মানুষের কনভারসেশনের বিষয়টি অনেককাল ধরে সাই-ফাই লেখকদের স্বপ্ন। তবে এতদিন কল্পনা থাকলেও এখন বাস্তবে আমরা পেয়ে গেছি একটি স্মার্ট কম্পিউটার প্রোগ্রাম। Amar Blog Click  ভবিষ্যতে আরও উন্নত হবে প্রোগ্রামটি। একসময় হয়তো অপর পাশে থাকা মানুষটির অনুভূতিও অ্যালগরিদমের মাধ্যমে কম্পিউটারকে বোঝানো সম্ভব হবে।

Report-IBM-developing-computer-system-that-thinks-like-a-human মানুষকে বোকা বানালো কম্পিউটার প্রোগ্রাম...!

Amar Blog Click

একটি উত্তর ত্যাগ