আসুন আজ শেষ দিনে সব বিতর্ক ভুলে দেশের জন্য সুন্দরবনের পাশে দাড়াই– বিষেদাগারের আগে পুরো লেখাটি পড়ুন

1
341


আসুন আজ শেষ দিনে সব বিতর্ক ভুলে দেশের জন্য সুন্দরবনের পাশে দাড়াই– বিষেদাগারের আগে পুরো লেখাটি পড়ুন
*****অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সুন্দরবনকে ভোট দিন এবং দেশের প্রয়োজনে এগিয়ে আসুন******  সুন্দরবনকে ভোট দেওয়ার সময় আছে আজ বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এই প্রতিযোগীতার ব্যাপারে বিষেদাগারের আগে পুরো লেখাটি পড়ুন–

সুন্দরবনকে ভোট দেওয়ার সময় আছে আজ বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আসুন সবাই একটিবার অন্তত এগিয়ে আসি দেশের কল্যাণে। এর জন্য আপনার খরচ হবে দুটি মাত্র মিনিট। আর এই প্রতিযোগীতার ব্যাপারে বিষেদাগারের আগে পুরো লেখাটি পড়ুন–

আমি জানি এই প্রতিযোগিতা আয়োজকদের জন্য একটি ব্যবসার ক্ষেত্র। বর্তমানে ভোটিং মানেই হল এক ধরনের ব্যবসা। আমেরিকান আইডল বলুন,আর ইন্ডিয়ান আইডল বলুন এবং আমাদের দেশের ক্লোজ আপ ওয়ানের কথাই বলুন। কিন্তু তাই বলে কি সাধারণ মানুষ যে এসব প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের দাম দিচ্ছে না তা নয়।

তাদের এই ব্যবসার মাধ্যমে যদি অন্তত আমাদের দেশের নাম,সুন্দরবনের নাম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বারংবার উচ্চারিত হয় এবং কিছু টুরিস্ট আসে তবে ক্ষতি কী? এমনিতে যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ,রাজনৈতিক সহিংসতা এবং দুর্ঘটনা ব্যতীত আমাদের দেশের ব্যাপারে কোন পজিটিভ নিউজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর সেখানে এই ধরনের একটি প্রতিযোগিতা আমাদের দেশের ব্র্যান্ডিং এর জন্য একটি বিশাল সুযোগ।

গতবার ২২০ টি দেশ থেকে ১০০ মিলিয়নের বেশী ভোট পরেছিল। আমরা ভোট না দিলে আমরাই পিছিয়ে পড়বো। ভারত এবং চায়না কিন্তু ঠিকি গতবার ম্যান-মেইড ওয়ান্ডার্স এর তালিকায় ভোটিং এর মাধ্যমে তাদের তাজমহল এবং গ্রেট ওয়াল তুলে এনেছিল। সবাই কিন্তু ঠিকই নিজেদের স্বার্থের কথা বুঝে ভোট দিচ্ছে, কিন্তু আমাদের কিছু অতিচালাক বাঙ্গালী আবার এই ভোটিং এর বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন করছেন নিজেদের সস্তা নাম কামানোর স্বার্থে। অন্যদেশের সবাই ক্যাম্পেইন করছে নিজেদের ওয়ান্ডার্স এর জন্য আর আমরা এদিকে নিজেদের মধ্যে নিজেরা মারামারি করছি এই প্রতিযোগিতার আয়োজন নিয়ে।

➽ সম্প্রতি মেসি তার ভক্তদের কাছে একটি ভিডিও এর মাধ্যমে ভোট চেয়েছেন আর্জেন্টিনার Igauzu falls-এর জন্য।

➽ আরো জানতে এই প্রতিযোগিতার আন্তর্জাতিক গুরুত্ব নিয়ে লেখা একটি নোট দেখে নিতে পারেন এই লিঙ্কে:

➽ এই বিষয়ে প্রথম আলোতে প্রকাশিত আনিসুল হকের একটি অসাধারণ লেখা পড়তে ক্লিক করুনঃ

তাই সবাইকে অনুরোধ করবে দেরী না করে অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে এগিয়ে আসুন সুন্দরবনকে ভোট দিতে। সেই সাথে এই তথ্যটি শেয়ার করুন এবং অনুপ্রাণিত করুন আপনার বন্ধুদেরও।

আজই ভোট করার শেষ দিন। আজ বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা ১১ মিনিট (গ্রীনিচ মান সময় ১১টা ১১ মিনিট) পর্যন্ত সুন্দরবনকে ভোট দেওয়া যাবে।

ভোট দেওয়ার পদ্ধতি :

আন্তর্জাতিক এসএমএস চালু হওয়ার কারণে এখন সুন্দরবনকে ছয়টি উপায়ে ভোট দেওয়া যাবে।

এক. আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট থেকে: www.n7w.com  বা www.new7wonders.com  ঠিকানার ওয়েবসাইটে গিয়ে একটি ই-মেইল ঠিকানা থেকে একবার করে ভোট দেওয়া যাবে।

এই পদ্ধতিটির বিস্তারিত জানতে click করুন : http://www.sonarbangladesh.com/blog/noorealam_ku/30880

দুই. ফেসবুক থেকে: www.facebook.com/new7wondersofnature পেইজ থেকে ভোট দেওয়ার সুবিধা আছে।

তিন. বাংলাদেশ থেকে এসএমএস: মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে SB লিখে পাঠিয়ে দিতে হবে ১৬৩৩৩ নম্বরে। যত খুশি তত এসএমএস পাঠানো যাবে। প্রতিটিকেই একেকটি ভোট হিসেবে গণনা করা হবে।

চার. যেকোনো দেশ থেকে এসএমএস: মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে SUNDARBANS এরপর +২৪৮৯ ৮৮৮৮৮ নম্বরে পাঠিয়ে দিতে হবে।

পাঁচ. টেলিফোন ভোট: টেলিফোনে ভোট দিতে +১ ৮৬৯ ৭৬০ ৫৯৯০, +১ ৬৪৯ ৩৩৯ ৮০৮০, +৪৪ ৭৫৮ ৯০০ ১২৯০ এই তিনটি নম্বরের যেকোনো একটিতে কল করতে হবে। এরপর একটা বার্তা শোনা যাবে। তারপর একটা সংকেত বাজলে তখন ৭৭২৪ নম্বর চাপতে হবে সুন্দরবনের জন্য।

ছয়. পার্সোনালাইজড ভোটিং সার্টিফিকেট: www.new7wonders.com/n7w-certificate  ঠিকানায় গিয়ে পছন্দের স্থানকে ভোট দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে ভোট দেওয়ার একটি সনদপত্র পাওয়া যাবে। তবে এই সার্টিফিকেট ভোট দিতে খরচ হবে দুই ডলার করে।

এরপরেও যদি ঘাড় বাকায়ে গাল ফুলায়ে বসে থাকেন তবে সর্বশেষ ফেইসবুকে শেয়ারকৃত একটি লেখা পড়ুন–

“সুন্দরবনকে ভোট দিন। গত কয়েক বছরের বাজ ওয়ার্ড ।বাসে,টেলিভিশনে,পত্রিকায় সব জায়গাতেই এই ভোটের আবেদন। আমি প্রতিদিন তিনটি করে ভোট দিই গত দুই সপ্তাহ ধরে,দিয়ে যাচ্ছি,যতদিন পোল খোলা থাকবে দিয়ে যাব। একজনে একটির বেশী ভোট দিতে পারে কিনা আমি শিউর না,তারপরো রিস্ক নিতে আমি রাজী নই।
কিন্তু এরই মাঝে হঠাৎ একদিন ফেসবুকে দৈববাণীর মত এক নোটের আবির্ভাব ঘটলো প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য্য নির্বাচন: কতবড় ধান্দাবাজী!!! নামে।লেখক বাংলাদেশের গণমাধ্যমের পরিচিত একজন ব্যক্তিত্ব। নোটটি দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়তে লাগলো বঙ্গমাতার ফেসবুকচারী সন্তানদের মাঝে।পুরোটা পড়ে না পড়ে ফেসবুক জেনারেশনের আমরা লাগাতারে শেয়ার দিতে লাগলাম ।অনেকেই ভোট দেওয়া বন্ধ করলেন।কেউ আফসোস করতে লাগলেন।
কিন্তু আগ্রহ নিয়ে নোটটি পড়তে গিয়ে কিছু খটকা লাগলো। তিনি আমাদের ভোট দানে নিরুৎসাহিত করার জন্য বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন।
1.এই প্রতিযোগীতার কোন দাম নেই (তিনি তার ফেসবুক বন্ধু মারফত জেনেছেন)।
2.সংঘটনটি ভুঁইফোড়।শুধু অনলাইনেই উপস্থিতি।
3.ভোটিং প্রক্রিয়াটি অস্বচ্ছ এবং প্রশ্নসূচক।
এখন আসুন খানিকটা আলোচনা করা যাক এই পয়েন্টগুলো নিয়ে। দেখা যাক লেখকের নোটের সাথে বাস্তবতার পার্থক্য কতটুকু।
১)আপনার কি খেয়াল আছে তারা প্রথমবার যখন ঘোষনা দিয়েছিল? অনেক সংবাদ মাধ্যমে তা লাইভ দেখিয়েছিল। ফলাও করে ছেপেছিল প্রতিটি ইন্টারন্যাশনাল প্রিন্ট মিডিয়ায়। Times,Gurdian,NyTimes এ খুঁজলে এখনো পাবেন।বেশীরভাগ দেশের সরকার ক্যাম্পেইন করেছিল তাদের ওয়ান্ডার্সগুলো নিয়ে। জাঁকজমক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়েছিল নতুন সাত আশ্চর্যের নাম।
আসুন দেখি বিদেশী কিছু পত্রিকা দেখি এই প্রতিযোগীতা নিয়ে।
1.ভোট চেয়ে বৃটিনের জনপ্রিয় পত্রিকা গার্ডিয়ানের আবেদন বৃটিশদের কাছে।
2.গার্ডিয়ানের আরো এক টী প্রতিবেদন
3.স্টোন হ্যাঞ্জের জন্য ভোট চেয়ে গার্ডিয়ানের আবারো আবেদন।
4.নিউ সেভেন ওয়ন্ডার্স নিয়ে টাইমেস এর ফটো এসে।
5.নিউইয়র্ক টাইমেস এর ফ্রন্ট পেজ রিপোর্ট
6.সিএনএন এর রিপোর্ট
7.এই ক্যাম্পেইনকে বুস্ট করার জন্য ফিলিপাইন সরকারের ৫০০ পেসো এর মুদ্রা চালু।

এই লিস্ট আরো কন্টিনিউ করা যাবে।কারণ আগেই বলেছি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বেশ গুরত্ব সহকারেই এই প্রতিযোগীতার খবর দিয়ে এসেছিলো বাছাই থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত।
২)এই সংঘটন ভুঁইফোড় এবং শুধু অনলাইন ভিত্তিক কিনা তা নিয়ে আমার অন্তত বেশ সন্দেহ আছে। কারণঃ

এই সংঘটনটী সুইস সরকারের অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং সুইস সরকারের নিয়ন্ত্রণের অধীনে পরিচালিত।
জাতিসংঘের সহযোগী সংঘটন হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত।যেখানে খুব অল্প কিছু সংঘটনই রয়েছে এই লিস্টে।

পর্তুগালের লিসবনে জাঁকজমক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফাইনাল লিস্ট ঘোষণা।যাতে উপস্থিত ছিলেন হিলারী সোয়াঙ্ক,জেনিফার লোপেজ,ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ড হতে শুরু করে নোবেল বিজয়ী পর্যন্ত।অনুষ্ঠানের পুরো ভিডিও পাবেন নীচের লিঙ্কগুলোতে।দেখতে ভুলবেন না যেন এই চোখ ধাঁধানো অনুষ্ঠানটি।
Link 1
Link 2
একটা ভুঁইফোড় সংঘটনের এত প্রেস কাভারেজ পাওয়া এবং এই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?
৩) হ্যাঁ।ভোটিং প্রক্রিয়াটি অস্বচ্ছ।তারা নিজেদের ওয়েবসাইটেই লিখেছে এসএমএস ভোটিং থেকে তারা টাকা রাখছে যাতে করে তারা তাদের সংঘটন চালাতে পারে। মোবাইল কোম্পানীগুলোও কমিশন পাচ্ছে। বর্তমানে ভোটিং মানেই হলো এক ধরনের ব্যাবসা।আমেরিকা বলুন,আর ভারত বলুন এবং আমাদের দেশের কথাই বলুন। এই ভাবে বলা যায় যে,তারা আসলে নিজেদের লাভের জন্যেই এই প্রতিযোগীতায় জড়িত হচ্ছে।কিন্তু আমাদেরতো প্রচার দরকার সুন্দরবনের।তাদের সংঘটনের ট্রান্সপারেন্সী,ব্যবসা নিয়ে আমাদের ভাবারতো দরকার নেই।না হয় করলো তারা একটু ব্যাবসা।
কিন্তু তাদের এই ব্যাবসা দিয়ে অন্তত আমাদের দেশের নাম,সুন্দরবনের নাম আন্তর্জাতিকভাবে বারবার উচ্চারিত হবে,যেখানে প্রাকৃতিক দূর্যোগ,রাজনৈতিক সহিংস তা এবং দূর্ঘটনার নিউজবাদে পজেটিভ কোন নিউজ আমাদের দেশের ব্যাপারে খুঁজে পাওয়ায় দুস্কর।
তাই আসুন,বিভ্রান্ত না হয়ে আমরা সুন্দরবনকে ভোট দিয়ে যাই। গতবার ২২০ টি দেশ থেকে ১০০ মিলিয়নের বেশী ভোট পরেছিল।আমরা না দিলে আমরা পিছিয়ে পড়বো।ভারত এবং চায়না কিন্তু ঠিকি গতবার ম্যানমেইড ওয়ান্ডার্স এর তালিকায় ভোটিং এর মাধ্যমে তাদের তাজমহল এবং গ্রেট ওয়াল তুলে এনেছিল।
আর ভোট দেওয়ার নিয়মটি জানেনতো?ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে SB লিখে পাঠিয়ে দিন 16333 নম্বরে।নিজে ভোট দিন,অন্যকে উৎসাহিত করুন।বঙ্গমাতা আজ আপনার কাছে দুটো টাকা আর আধ মিনিট সময় চাইছে।নিরাশ করবেন না নিশ্চয়?”

তথ্যসূত্রঃ সুখবর

1 মন্তব্য

  1. আর মাত্র 15 মিনিট। যারা ভোট দিয়েছেন তারা আবার ভোট দিন আর যারা দেন নি তাদের বলছি আজ না হয় গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ড কে একটা এসএমএস কম দিলেন। দেশের জন্য ২টাকা খরচ করতে পারবেন না? Type SUNDARBANS and send to +248988888 from your mobile if you are living Outside of bangladesh or type SB and send to 16333 if you are in bangladesh.

একটি উত্তর ত্যাগ