কেন, কিভাবে, কোথা হতে শিখবেন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট?

0
506

পৃথিবীতে ওয়েবসাইটের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে, আর সেই সাথে ওয়েবসাইট এর কাজের পরিমাণ ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বর্তমান সময়ে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট একটি অনবদ্য ক্যারিয়ার। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এমন একটি ক্যারিয়ার যার প্রয়োজনীয়তা ইন্টানেটের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত থেকে যায়। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং বলুন আর আউটসোর্সিং বলুন সব ক্ষেত্রেই সমান ভাবে জনপ্রিয় “ওয়েব ডেভেলমেন্ট”। কিন্তু অনেকেই জানেন না ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কি, কিভাবে শিখবেন, কোথা হতে শিখবেন ইত্যাদি। আজ আমাদের এই টিউনের মাধ্যমে আপনাদেরকে এসকল বিষয় সম্পর্কে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করবো।

ওয়েব ডিজাইন আর ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কি একই জিনিসঃ

এই দুইটার পার্থক্য যদি বুঝতে হয় তবে তার আগে একটু জেনে নিই ওয়েব ডিজাইন আসলে কি?

ওয়েব ডিজাইনঃ ওয়েব ডিজাইন হল ভিজিটরদের জন্য। অর্থাৎ ভিজিটর এর অংশটুকু যে ডিজাইন টা দেখতে পাই একটা ওয়েব সাইটের। একজন ওয়েব ডিজাইনার সবসময় মাথায় রাখেন কিভাবে একজন ভিজিটর কে আকৃষ্ট করে ওয়েব সাইটের সাথে কানেক্ট রাখা যায়। আর একজন ভালো ওয়েব ডিজাইনার এর কাজই এটা। সে জানে কিভাবে একটা সাইটের লুক বেস্ট করা যায়। কারন সে একজন ভিজিটরকে একজন কাস্টমার হিসবে নিচ্ছে। আর কাস্টমার থেকে যেন খারাপ ফিডব্যাক না পাওয়া যায় সেটাই সে মাথাই রাখে।

ওয়েব ডেভেলপমেন্টঃ ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কে বলা ওয়েব সাইট এর ব্যাকএন্ড এর কাজ। ওয়েবসাইটের পেজের উপর প্রোগ্রামিং এবং ইন্টারএকশান টা প্রধান। একজন ওয়েব ডেভেলপার সর্বদা ফোকাস করে কিভাবে ওয়েবসাইটটি কাজ করবে, কিভাবে একজন ভিজিটর বা কাস্টমার তার চাহিদাকে পুরন করে যেতে পারবে। একজন ভালমানের ওয়েব ডেভেলপার জানে কিভাবে প্রোগ্রাম সিজিআই, স্ক্রিপ্ট পিএইচপি । সে জানে একটা ওয়েব ফর্ম কাজ করে সাইটকে ইফেকটিভভাবে রান অবস্থায় রাখা যায়।

তো উপরের সংজ্ঞা থেকে আমরা নিশ্চয় পরিস্কার হয়েছি যে একজন ওয়েব ডেভেলপার আর একজন ওয়েব ডিজাইনার মাঝে কতটুকু পার্থক্য।

কেন শিখবেন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট?

সত্য এবং সরাসরি উত্তর চান? তাহলে উত্তর হচ্ছে, এটা একটা ফান বা মজা।কারন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখলে যেমন ভালো আয় করা যায় ঠিক তেমনি ভাবে মজার এনভাইরমেন্ট বা পরিবেশের ভিতর ও থাকা যায়। এককথায় অসাধারন। যদি আপনি সময় দিতে পারেন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এ তাহলে শুধু দেশে নয়, সহজেই পাড়ি জমাতে পারবেন ভিন দেশে। কারণ সারা পৃথিবীতে রয়েছে ওয়েব ডেভেলপারদের অনেক চাহিদা।

কেন, কিভাবে, কোথা হতে শিখবেন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট?

আপনি একটু থেমে, চিন্তা করা শুরু করুন। চলে যান পেছনের ফেলে আসা বছরে। কি হয়েছিল সেই সময়ে এই সেক্টরে। অনেক কিছুই পাবেন। পজেটিভের থেকের নেগেটিভটাই বেশি আসবে। আপনি একটু চিন্তা করে এইবার সামনের দিকে তাকান। আপনি ইন্টারনেট জগত ছাড়া আসলে কিছু দেখতে পান ? সহজ  উত্তর আসবে ‘না’। তাহলে আপনি এখনও কেন সেই সেক্টরে নিজেকে প্রবেশ করাতে পারেন নি ? একটা সময় ইনভেস্টররা স্টার্টআপদের কে টাকা দিত। সেখান থেকে হইত একটা প্রফিটেবল কোম্পানি বের হয়ে আসতো। তাদের চিন্তাভাবনা টা ছিল যে কিনা আইডিয়া ক্রিয়েট করে বাস্তবরুপ দিতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে আসলে সেটা আদৌ হয়েছিল? হ্যাঁ হয়েছিল কিন্তু সেটা তুলনার থেকে অনেক কম।

চিন্তা করেন তো বর্তমানে সেটা কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়। আপনি যদি চিন্তা করেন, বর্তমানে অনেক সুযোগ রয়েছে এইদিকে এগিয়ে যাওয়ার। সরকার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের প্রাইভেট কোম্পানি পর্জন্ত সহযোগিতা করছে। কিন্তু বর্তমানে সেই পরিমান দক্ষ নতুন উদ্যোগতা নেই। তাই এই বিশাল সেক্টরে আপনি নিজেকে কতটুকু প্রস্তুত করতে পারছেন ?

এতক্ষণ তো বলা হলো ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা। যদি চিনা করেন যে, না আমি কোম্পানিগতভাবে না ব্যাক্তিগতভাবে জবের পাশাপাশি কাজ করতে চাই। আমাদের উত্তর হবে ‘হ্যাঁ’ অবশ্যই আপনার জন্য অনেক বেশি পরিমান কাজের ভান্ডার রয়েছে। যেখান থেকে আপনার দক্ষতা অনুযায়ী কাজ নিতে পারবেন। আপনি নিজেকে যতটা ভালোভাবে দক্ষ করতে পারবেন আপনার জন্য এই সেক্টর ততটা প্রশস্ত।

এখন শুধুমাত্র সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়। তবে সিদ্ধান্তটা খুবই দ্রত নিন। একটা সুন্দর জীবন ধারন করতে হলে আপনি এটাকে আপনার পেশা, নেশা যাই বলেন না কেন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট হতে পারে। কাজের কোন বাধা নেই। আপনার ইচ্ছা শক্তির উপর কেউ কথা বলতে পারবে না। আর কাজের চাহিদা রয়েছে অনেক। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোথায় শিখবেনঃ

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে আসতে হলে আপনি যদি নিজে নিজে শিখতে চান তাহলে সেটা বেস্ট। তবে এটা একদিক থেকে আপনার জন্য ক্ষতিকর। কারন বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক বেশি এক্সপার্টরা রয়েছেন এই লাইনে । যারা সেলফ ডিপেন্ড হয়ে ৩-৪ বছর এটার উপর পড়ালেখা করে বাধার সম্মুখীন হয়ে শিখেছেন। আপনি যদি তাদের মত করে চিন্তা করে তবে আপনার যে লসের সম্মুখীন হতে হবেঃ

  • প্রথমত আপনার অযথা সময় নষ্ট হবে।
  • দ্বিতীয়ত আপনি অন্যদের থেকে অনেক পিছিয়ে পড়বেন। কারন এটা প্রতিযোগিতার যুগ।

আর এইসব সেলফডিপেন্ড এর পড়ালেখা করে এক্সপার্টগন এখন স্বল্প কিছু অর্থের বিনিময়ে তাদের অর্জিত ৪-৫ বছরের সব কিছু একটা মাধ্যমে সবার সাথে শেয়ার করতেছেন। সেটা হতে পারে যেকোনো ট্রেনিং ইনস্টিটিউট মাধ্যমে। তো কিছু টাকা আপনার খরচ হলেও যে বেনিফিটগুলো আপনি পাবেনঃ

  • আপনার ৩-৪ বছর সময় বেচে যাবে।
  • সঠিক গাইডলাইনের মাধ্যমে খুব সময়ে দক্ষ হয়ে যাবেন।
  • এক্সপার্টরা তাদের এক্সপেরিএন্স যখন শেয়ার করবে তখন আপনার জ্ঞানের পরিধি টা আরও প্রসার হবে।
  • আরও ভালো করার রিসোর্স পাবেন।

তো বর্তমানে সেলফ ডিপেন্ড হওয়ার থেকে কিছু টাকার বিনিময়ে হলেও আপনি এইসব এক্সপার্টদের কাছ থেকে শিখে নিতে পারবেন। আজ থেকে ৪-৫ বছর আগে কোন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ছিল না, অনলাইনে এত বেশি পরিমান রিসোর্স ছিল না। কিন্তু এখন সবকিছুই আছে। তাই বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে খুব দ্রুত আপগ্রেড করাই হবে একজন বুদ্ধিমানের কাজ। এখন প্রশ্ন হইল কোন ধরনের ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে আসলে শিখব? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রথমে আপনাকে বলতে আপনি যেখানে আছেন শুধু সেখানে নয় আশপাশের যতগুলো ট্রেনিং ইনস্টিটিউট আছে সবগুলোতে খোজ খবর নেওয়া উচিৎ। কি খোজ নিবেন?

রিসোর্স পার্সনঃ আসলে আপনি যেখানে শিখতে যাচ্ছেন সেখানে কে ক্লাস নেই। এটা বাছাই করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তার সম্পর্কে যেখান থেকে জানতে পারলে ভালো হবে সেখান থেকে জেনে নিতে হবে। সেটা হতে পারে অনলাইনে বা ট্রেনিং ইনস্টিটিউট কোম্পানি থেকে।

কোথাকার রিসোর্স পার্সনঃ বর্তমানে অনেক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট আছে যেখানে আপনি শিখতে গেলে দেখবেন কোম্পানির বাইরে থেকে টিচার নিয়োগ দেওয়া আছে।এটা যাচাই করা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারন বাইরে থেকে যে টিচার নিয়োগ দেওয়া হয় সে সাধারনত তার লিমিট সময় আপনার সাথে ব্যয় করবে। কিন্তু যদি একজন টিচার যখন কোম্পানির সাথে জড়িত থাকে তখন তার কাছ থেকে যেকোনো সময় যেকোন ধরনের সাহায্য নিতে পারবেন।

কোম্পানি ট্রাস্টেড কি নাঃ এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। অনেক সময় দেখা যায় কোম্পানিগুলো মুখে অনেক বড় বড় কথা বললেও তারা কাজের ক্ষেত্রে খুব খারাপ ফিডব্যাক দেয়। এক্ষেত্রে আপনাকে পেছনের যে কোন ব্যাচের স্টুডেন্টদের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ।

ভর্তি ফি কম অথবা বেশিঃ এটা অনেক বড় একটা সমস্যা বলে আমি মনে করি। অনেক সময় আপনি চিন্তা করতে থাকেন এই কোম্পানি একটা বিষয়ের জন্য কম নিচ্ছে আর একই জিনিস আরেকজন বেশি নিচ্ছে। আপনি রাগ করে কম ফি যেখানে সেখানে ভর্তি হয়ে গেলেন। বড় একটা ভুল সিদ্ধান্ত আপনি নিলেন বলে আমি মনে করছি। তবে তার জন্য আপনাকে বাছাই করতে হবে। বাছাই টা আপনি করতে পারেন ২ ভাবে। যদি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর জন্য কেহ ৫-১০ হাজার টাকা কোর্স ফি নেই তবে নিঃসন্দেহে বলতে পারি সেই কোম্পানি আক ধরনের ফ্রড। কারন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সেক্টর টা অনেক বড় একটা সেক্টর কিন্তু মাত্র ৫-১০ হাজার টাকা যে শেখাবে সে আলটিমেটলি আপনাকে কিছু দিবে না। বেসিকের ৫০% দিয়ে আপনাকে বোঝাই দিবে শেষ। যদি দেখেন ১৫-২০ হাজার নিচ্ছে তবে সেটা ঠিক আছে। যদি এর থেকে বেশি নিয়ে থাকে তবে সে অযথা কারনে বেশি নিচ্ছে। এই জন্য প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে একটা লিমিটেশন থাকতে হবে। একটা লেবেল বজায় আছে কোর্স ফি টা। তখন আপনি সেটা কে আপনার পছন্দের তালিকা তে রাখতে পারেন।

এতক্ষণ ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শুরু করার একটা সুন্দর গাইডলাইন দেয়ার চেষ্টা করেছি। আমারা প্রত্যেকটা কথা লজিক দ্বারা উপস্থাপনা করার চেষ্টা করেছি। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আপনার উপর। কোথাও ভর্তি হবার আগে দেখে নিন এসকল বিষয়ে তারা কতুটুকু দায়িত্বশীল। আপনার ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামন সব সময় পাশে রয়েছে ওয়েবকোড ইনস্টিটিউট। ধন্যবাদ সবাইকে।

যেকোন ধরনের প্রশ্ন, জিজ্ঞাসা থাকলে যোগ দিতে পারেন আমাদের গ্রুপেঃ  https://www.facebook.com/groups/WebCodeInstitute/

একটি উত্তর ত্যাগ