বিজ্ঞানীদের ধারণা শনি গ্রহের নতুন চাঁদ

0
306

নাসার মহাকাশযান ‘কাসিনি’ শনি গ্রহের কক্ষপথে একটি বরফাচ্ছাদিত বস্তুর উপস্থিতি সনাক্ত করেছে। নাসার বিজ্ঞানীদের ধারণা এটি শনি গ্রহের নতুন চাঁদ। নতুন এই চাঁদ থেকে শনির বিবর্তন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। কাসিনির ক্যামেরায় শনি গ্রহের কক্ষপথের ছবি তোলার সময় অপেক্ষাকৃত উজ্জ্বল বলয় আকারে একটি প্রতিবন্ধকতা দেখা যায়।

এই বৃত্তাংশটি তার আশেপাশের এলাকা থেকে ২০ শতাংশ বেশি উজ্জল এবং ৭৫০ মাইল দীর্ঘ ও ৬ মাইল প্রস্থ। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এই উজ্জল বৃত্তাংশ এবং স্ফীত অবস্থা আশেপাশের অন্যান্য কক্ষপথের মহাকর্ষীয় বলের প্রভাবের ফল। তাদের আরো ধারণা, এটি আর বৃদ্ধি পাবে না এবং কোনো এক সময় এটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
biggan,বিজ্ঞান, প্রজুক্তি, প্রযুক্তির খবর, প্রযুক্তি, খবর, টেকনোলজি, টেক বিজ্ঞানীদের ধারণা শনি গ্রহের নতুন চাঁদ

লন্ডনের কুইন মেরী বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ল মুরে বলেন, আমরা পূর্বে এমনটা দেখিনি। আমরা হয়ত কেবল এর উৎপত্তি সম্পর্কে জানার জন্য চেষ্টা করেছি যেখানে এটি কক্ষপথ থেকে ক্রমশই বিচ্যুত হচ্ছে ও চাঁদের রূপ ধারণ করছে।

এই বস্তুটিকে আবিষ্কারকেরা ‘পেগি’ নাম দিয়েছেন। এটি ছবিতে দেখতেও খুবই ছোট দেখায় । এর ব্যাস প্রায় ১ কিলোমিটারের মতো। শনি গ্রহ থেকে অনেকটাই দূরে অবস্থান পেগির। শনির অন্যান্য চাঁদের আদি অবস্থা বরফাচ্ছাদিত এবং ঐ সব কণা দ্বারা গঠিত যেগুলো শনির কক্ষপথের উপাদান কণা। এই সকল বৈশিষ্ট্যের কথা বিবেচনা করে গবেষকরা ধারণা করছেন যে, শনির অন্যান্য চাঁদের ন্যায় এটিও এক সময় বিলীন হয়ে যাবে।

কাসিনি প্রজেক্ট গবেষক লিন্ডা স্পিক্লার বলেন, একটি নতুন ও ছোট চাঁদের উদ্ভব প্রত্যক্ষ করা ছিল অপ্রত্যাশিত ও উত্তেজনাকর। গবেষকদের ধারণা ২০১৬ সালের মাঝে মহাকাশযান কাসিনি এই নতুন চাঁদের আরো নিকটে আসতে পারবে। যার ফলে পেগি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানা যাবে।

মুরের মতে, এই আবিষ্কার থেকে তত্ত্বীয়ভাবে এটা বুঝা যায় যে, শনির অনেক দিন পূর্বে আরো বৃহৎ কক্ষপথ ছিল যা কিনা বড় চাঁদের জন্ম দিতে সক্ষম ছিল। যেহেতু পেগি শনির একেবারের কিনারায় অবস্থিত তাই এটি এই গ্রহের বৃত্তাকার কক্ষপথের শেষ নির্দেশ করে। তাই পেগিই শনি গ্রহের সবচেয়ে বড় ও দূরতম চাঁদ।
কাসিনি হুয়াইজেন মিশন ইউরোপিয়ান মহাকাশ কমিটি ও ইতালিয়ান মহাকাশ কমিটির একটি যৌথ উদ্যোগ ।

একটি উত্তর ত্যাগ