নতুন ওয়েবসাইট তৈরির ক্ষেত্রে আবশ্যক ১০টি বিষয় সম্পর্কে জেনে নিন

1
997

একটি ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট হয়ে গেলে সেটির ডিজাইন কিংবা কনটেন্টের পরির্বতন করা বেশ ঝামেলার। তাই ওয়েবসাইট তৈরি করার শুরুতেই বেশ কিছু বিষয় ভালোভাবেই যুক্ত করা উচিত। এসব বিষয়গুলো ছাড়া ওয়েবসাইট অসম্পূর্ণ মনে হয়। এখানে নতুন ওয়েবসাইট তৈরির ক্ষেত্রে আবশ্যক ১০টি বিষয় সম্পর্কে জানানো হলো।

লোগো
একটি লোগো সংশ্লিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্লগের পরিচয় বহন করে। প্রতিনিয়তই লোগো পাল্টানো সম্ভব না। তাই দায়সারাভাবে টেক্সট, লোগো মেকার অথবা ক্লিপআর্টের মাধ্যমে লোগো না তৈরি করে, ভালোমানের ডিজাইনার দিয়ে একটি সুন্দর ও প্রফেশনাল লোগো তৈরি করতে হবে। সেটি সাইটের হেডারে যথাযথ স্থানে বসাতে হবে, যাতে ভিজিটররা সহজেই লোগোটি দেখতে পারে।

ট্যাগলাইন
সংক্ষিপ্ত কথার মাধ্যমে ঐ ওয়েবসাইটটির সেবা বা কি ধরণের ওয়েবসাইট তা বোঝানোর জন্য ট্যাগলাইন ব্যবহার করা হয়। তাই একটি ছোট, সহজেই আকর্ষন করে এবং যাতে একজন ভিজিটার ট্যাগলাইন দেখেই সাইটি সম্পর্কে ধারণা করতে পারে এমন ট্যাগলাইন ব্যবহার করতে হবে।

পোর্টফোলিও
এটি মূলত ব্যক্তিগত কিংবা সেবাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যুক্ত করতে হয়। তাই আপনার কিংবা আপনার প্রতিষ্ঠানের আগের কিছু কাজ বা সেবা পোর্টফোলিও হিসেবে যুক্ত করতে হবে। আপনি একজন প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনার হলে আপনার ওয়েবসাইটে আগের করা কিছু কাজের নমুনা পোর্টফোলিও হিসেবে যুক্ত করতে পারেন। এছাড়া কোম্পানির ওয়েবসাইট হলে ঐ কোম্পানির ভালো কিছু ক্লায়েন্টের জন্য করা কাজ বা সেবা যুক্ত করা যেতে পারে।

সার্ভিস পেইজ
আপনি কিংবা আপনার প্রতিষ্ঠান কি ধরণের সেবা দিচ্ছে তা সার্ভিস পেইজে যুক্ত করতে হবে। কাঙ্খিত ক্রেতা যাতে ওয়েবসাইট দেখেই আপনার সেবা নিতে আগ্রহী হয় তেমনিভাবে সেবাগুলোর বিবরণ দিতে হবে। আপনার সেবা বা পণ্য নিলে ক্রেতারা কেনো লাভবান হবেন সেটি বর্ণনা দিতে হবে।

অ্যাবাউট আস পেইজ
আপনি কিংবা আপনার কোম্পানি কি, আপনার কোম্পানির মিশন, ভিশন, অতীত, আপনার কোম্পানির সদস্যদের সম্পর্কে এখানে তুলে ধরতে হবে। এককথায় আপনার কিংবা কোম্পানির সম্পর্কে যাতে এই পেইজ থেকে পুরো ধারণা দেওয়া যায় সেভাবে উপস্থাপন করতে হবে অ্যাবাউট/অ্যাবাউট আস পেইজ।

কনট্যাক্ট পেইজ
ভিজিটর আপনার কিংবা কোম্পানির ওয়েবসাইট দেখে যোগাযোগ করার ইচ্ছা পোষন করতে পারে। তাই কনট্যাক্ট পেইজে আপনার কিংবা আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, ইমেইল, ফোন নাম্বারসহ যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমে যেমন ফেইসবুক পেইজ/আইডি, টুইটার অ্যাকাউন্ট, স্কাইপ অ্যাকাউন্ট ইত্যাদি যুক্ত করতে হবে। সম্ভব হলে গুগল ম্যাপের মাধ্যমে ঠিকানা দেখিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া ভিজিটর যাতে সহজেই মেইল অথবা মেসেজ পাঠাতে পারে তার জন্য একটি কনট্যাক্ট ফরমও বসানো যেতে পারে।

টেস্টিমোনিয়াল
ব্যবসায় কিংবা সেবার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার পুরাতন ক্লায়েন্ট আপনার কাজ, পণ্য বা সেবা নিয়ে কেমন উপকৃত হয়েছে, তাদের মন্তব্য কি এটা টেস্টিমোনিয়াল পেইজে যুক্ত করতে হবে। আপনার সন্তুষ্ঠ ক্লায়েন্টের এমন মন্তব্যের মাধ্যমে আরও নতুন ক্লায়েন্ট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

সাইটম্যাপ
একটি ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে সম্পূর্ণরুপে সপে দেওয়ার জন্য সাইটম্যাপ জরুরী। এর ফলে সার্চ ইঞ্জিন সহজেই আপনার ওয়েবসাইটের সকল পেইজ, পোস্ট দ্রুত ইনডেস্ক করতে পারবে ও সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারকারীদের কাছে তুলে ধরতে পারবে। ওয়েবসাইটের ফুটার কিংবা উপরের মেনুতে একটি পেইজের মাধ্যমে সাইটম্যাপ যুক্ত করা যেতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়া লিংক
হালের যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ফেইসবুক, টুইটার, লিংকডইন, ইউটিউবের কোনও জুড়ি নেই। আপনার কিংবা আপনার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অনেকেই আপডেটের থাকতে চাইবেন। আপনিও চাইবেন যাতে আপনার এসব সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভিজিটররা সযুক্ত থাকতে পারে, তাদের কাছে আপনার সেবা পৌছে যাক। এজন্য সাইটের হেডার, ফুটার অথবা সাইডবারে সোশ্যাল মিডিয়া লিংকগুলো যুক্ত করতে হবে। মনে রাখতে হবে এগুলোতে যাতে সহজেই ভিজিটর দেখতে ও ক্লিক করতে পারেন।

সার্চ সুবিধা
বিশেষ করে আপনার সাইটটি যদি একটি ব্লগ, নিউজপেপার কিংবা কনটেন্ট ভিত্তিক ওয়েবসাইট হয় সেক্ষেত্রে সার্চ সুবিধা যুক্ত করতে হবে। ভিজিটর হয়তোবা পুরাতন কোনও পোস্ট দেখতে চাইবেন। সেক্ষেত্রে একটার পর একটা পেইজ কিংবা পোস্ট ক্লিক করে খুঁজে পাওয়া ভোগান্তিকর। তাই ভিজিটররা যাতে সহজেই একটি লেখা বা কনটেন্ট খুঁজে পেতে পারে তার জন্য হেডারে কিংবা সহজেই দেখা যায় এমন স্থানে সার্চ অপশন যুক্ত করতে হবে।

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ