ডেভেলপারদের ‘ঈদের চাঁদ’ অ্যাপলের সুইফট

1
302

 

প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ম্যাশএবল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ডব্লিউডব্লিউডিসিতে অ্যাপল নতুন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ দেখাবে এমনটা ভাবেননি ডেভেলপারবা বা প্রযুক্তি বোদ্ধাদের কেউই। প্রযুক্তি জগতের জন্য বড় একটা ‘সারপ্রাইজ’ হয়েই এসেছে সুইফট।   

প্রচলিত আইওএস এবং ম্যাক অ্যাপের বেশিরভাগই লেখা হয় অবজেকটিভ-সি ব্যবহার করে। এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়েই আশির দশকে প্রয়াত অ্যাপল গুরু স্টিভ জবসের তৎকালিন প্রতিষ্ঠান নেক্সট তৈরি করেছিল ‘নেক্সটস্টেপ’ অপারেটিং সিস্টেম। প্রায় তিন দশকের পুরনো অপারেটিং সিস্টেমটিকে বলা চলে আইওএস এবং ওএস এক্সের পূর্বসূরি।

অবজেকটিভ-সির যেমন অনেক ইতিবাচক দিক আছে, ঠিক তেমনি আছে সীমাবদ্ধতাও। বলা হচ্ছে, সুইফটে সেই সীমাবদ্ধতাগুলোর মুখোমুখি হতে হবে না ডেভেলপারদের। আইওএস এবং ওএস এক্সের মূল অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) কোকোয়া এবং কোকোয়া টাচের সঙ্গে কাজ করবে সুইফট। একই সঙ্গে গতি বাড়াবে অ্যাপগুলোর।

ডেভেলপারদের জন্য সুইফটের সবচেয়ে ইতিবাচক দিকগুলোর একটি হল রুবি, পাইথন আর রাস্টের মতো আধুনিক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের সঙ্গে মিল আছে সুইফটের সিনট্যাক্সের। ফলে সুইফট শেখা এবং কার‌্যকর ব্যবহার অনেক সহজ হবে ডেভেলপারদের জন্য।

অন্য প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ অভ্যস্ত ডেভেলপাররাও এখন সুইফটের দিকে ঝুঁকবেন বলে মন্তব্য করেছেন আইওএস ডেভেলপার ব্র্যাড ব্রাইটন। শুধু ব্রাইটন নয় সুইফট নিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনার ছোঁয়া ছিল ডব্লিউডব্লিউডিসিতে উপস্থিত সব ডেভেলপারদের মধ্যেই।

অ্যাপল সুইফট উন্মোচনের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই আইওএস অ্যাপ ডেভেলপার মোশি ব্যারম্যানের কাছে ধরনা দিয়েছিলেন তার শিষ্যরা। প্রশ্ন একটাই; সুইফট শেখা কি অবজেকটিভ-সি এর থেকেও সহজ হবে? প্রথম দেখায় “অন্তত আইওএস ও ম্যাক অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট জগতে প্রবেশ সহজ হবে মনে হচ্ছে” বলে মন্তব্য করেন তিনি।     

শুধু পুরনো অ্যাপল ডেভেলপাররাই নন। সুইফটের দিকে ঝুঁকছেন দীর্ঘদিন ধরে C# এর মতো মাইক্রোসফট কেন্দ্রিক প্রোগ্রামিংয়ের ভাষা নিয়ে কাজ করছেন এমন ডেভেলপাররাও।

এক যুগ ধরে মাইক্রোসফটের অ্যাপ নির্মাণের কাজ করছেন ড্যান উলস্টেনক্রফট। অবজেকটিভ-সি শিখতে চাইলেও C#  মাইক্রোসফটকেন্দ্রিক প্রোগ্রামিংয়ের ভাষাগুলোর সঙ্গে পার্থক্যের কারণে আর তা শেখা হয়ে উঠেনি তার। তবে সুইফটের বদৌলতে আবারও অ্যাপলের জন্য অ্যাপ্লিকেশন নির্মাণের কথা ভাবছেন উলস্টেনক্রফট। “এখন পর‌্যন্ত আমি যা দেখেছি তাতে সুইফট, C# এবং জাভার সমান্তরাল। এতে মাইক্রোসফট থেকে অ্যাপলে প্রবেশটা সহজ হবে বলেই মনে হচ্ছে।”– বলেন উলস্টেনক্রফট।

শুধু আমেরিকান ডেভেলপাররাই নয়, সুইফট নিয়ে উত্তেজিত বিদেশি ডেভেলপাররাও। এর বড় একটা কারণ কেবল রোমান হরফেই সীমাবদ্ধ নেই সুইফট। চায়নিজ সহ বিভিন্ন ভাষায় প্রোগ্রামিং সম্ভব সুইফট দিয়ে।

সুইফট বিশ্বব্যাপী ডেভেলপারদের উপর বড় প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন গেইমটাইমের শীর্ষ আইওএস ইঞ্জিনিয়ার রিচ লোয়েনবার্গ। “ইংরেজিভাষী নয় এমন ভেলপারদের জন্য প্রোগ্রামিং শেখা তুলনামূলক কঠিন। কিন্তু সবাইকে নিজের ভাষায় প্রোগ্রামিংয়ের সুযোগ করে দিয়ে অ্যাপল এশিয়ার ডেভেলপারদের মধ্যেও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চাইছে এটা পরিষ্কার।”–বলেন তিনি।                   

সুইফট নিয়ে উচ্ছসিত গেইম ডেভেলপাররাও। হালি গেইম স্টুডিও প্রেসিডেন্ট জিন ব্রুনেটের বক্তব্য “সুইফট শুধু অ্যাপের চলার গতিই নয়, অ্যাপ বা গেইম ডেভেলপমেন্টের গতি বাড়বে, সহজ হবে পুরো প্রক্রিয়া।”    

সুইফট অ্যাপ ডেভেলপারদের এই উচ্ছাস, উৎসাহ আর উদ্দীপনার ধরে রাখতে পারবে কি না তা সময়ই বলে দেবে। তবে আপাতত ডব্লিডব্লিউডিসিতে উপস্থিত ডেভেলপাররা, বলা চলে, হাতে “ঈদের চাঁদ” পেয়েছেন।

কেমন লাগলো জানাবেন তাহলেই নতুন কিছু দিতে পারবো । ভুল হলে জানাবেন ভালো লাগলে উৎসাহ দিবেন । আমরা টিজে রা কিছু চাই না শুধু একটা ফিডব্যাক ।

NEXT পর্বে দেখা হবে আশা করি ।

c8kPr ডেভেলপারদের ‘ঈদের চাঁদ’ অ্যাপলের সুইফট

t5 ডেভেলপারদের ‘ঈদের চাঁদ’ অ্যাপলের সুইফট

Like My FB Page 4 FB Updates Plz

আমার ফেসবুক

Google +

আমাকে ফলো করুন

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ