হারিয়ে যাওয়া উড়োজাহাজ রহস্য-২

0
528
হারিয়ে যাওয়া উড়োজাহাজ রহস্য-২

৮ মার্চ দিনের শুরুতে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে চীনের বেইজিংয়েন উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় মালয়েশিয়া এয়ারওয়েজের ফ্লাইট ৩৭০। বোয়িং কোম্পানির তৈরি ৭৭৭ মডেলের অত্যাধুনিক এ বিমানটি সকাল সাড়ে ৬টায় বেইজিং পৌঁছানোর কথা থাকলেও যাত্রা শুরুর একঘণ্টার মধ্যে নিখোঁজ হয়। এসময় উড়োজাহাজটিতে ২২৭ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রু ছিল। উড়োজাহাজ উধাও হওয়ার ঘটনাগুলোর মধ্যে ফ্লাইট ৩৭০ সর্বশেষ। পৃথিবীর শত কোটি মানুষের মনে আজ প্রশ্ন , বিমানটি কোথায় গেল? কি হয়েছে ২৩৯ যাত্রী ও ক্রুর ভাগ্য? কোনো প্রকার চিহ্ন ছাড়াই কীভাবে হারিয়ে গেল বিমানটি আধুনিক এভিয়েশন প্রযুক্তির যুগে ?  বিমান হারিয়ে যাওয়া রহস্য-১

পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল নয়। আরও বেশকিছু বিমান উধাও হওয়ার ঘটনা আছে যা আজ পর্যন্ত অমীমাংসিত। আজ পড়ুন দ্বিতীয় পর্ব।

১. গ্লেন মিলার

গ্লেন মিলার হারিয়ে যাওয়া উড়োজাহাজ রহস্য-২
গ্লেন মিলার
 

গ্লেন মিলার ছিলেন আমেরিকান বিগ ব্যান্ড এর একজন সদস্য । ১৯৩৯-১৯৪৩ পর্যন্ত তিনি ছিলেন একজন বেস্ট সেলার গায়ক। ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৪৪ সালে তিনি ইংল্যান্ড থেকে ফ্রান্সের প্যারিসে গান করার জন্য এক ইঞ্জিন বিশিষ্ট বিমানে করে রাফ টাইনুড নামে একটি খামার থেকে যাত্রা শুরু করেন। ইংলিশ চ্যানেলের উপর দিয়ে ওড়ার সময় উধাও হয়ে যায় তার উড়োজাহাজ। অনেকে মনে করেন, উড়ে যাওয়ার সময় গোলাগুলি প্রশিক্ষণের বোমাতে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। আবার অনেকেরে ধারণা যাত্রার আগের দিন রাতে তিনি নির্ঘুম ছিলেন, যার ফলে তিনি হার্ট অ্যাটাক করেন।

২. স্টার এরিয়েল

হারিয়ে যাওয়া উড়োজাহাজ রহস্য-২
 

ব্রিটিশ সাউথ আমেরিকান এয়ারওয়েজের (বিএসএএ) আরেকটি উড়োজাহাজ স্টার এরিয়েল। ১৭ জানুয়ারি ১৯৪৯ সালে বারমুডা থেকে জ্যামাইকা যাওয়ার সময় আটলান্টিক সাগরে নিখোঁজ হয় উড়োজাহাজটি। এটি ছিল স্টার টাইগারের অনুরূপ। নিখোঁজ হওয়ার সময় আকাশ পরিষ্কার ছিল। ২০জন যাত্রী ও ক্রুর ভাগ্যে কি ঘটেছিল তা কেউই জানে না। পরবর্তীতে বিভিন্ন অনুসন্ধানে সঠিক কারণ জানা যায় নি। অনেকেই মনে করেন, বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের কারণে উড়োজাহাজটি নিখোঁজ হয়। কিন্তু বিএসএএ-এর প্রাক্তন পরিচালক ডন বেনেট অভিযোগ করেন, অন্তর্ঘাতী আক্রমণের কারণে উড়োজাহাজ দু’টি ধ্বংস হয়।

৩.মিসরীয় উড়োজাহাজ ফ্লাইট ৯৯০

হারিয়ে যাওয়া উড়োজাহাজ রহস্য-২
 

মিসরীয় এ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়া নিয়ে রয়েছে নানা রহস্য। ফ্লাইট ৯৯০ ছিল বোয়িং কোম্পানির তৈরি ৭৬৭ মডেলের উড়োজাহাজ। ৩১ অক্টোবর ১৯৯৯ সালে নিউইয়র্ক থেকে কায়রোর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা এ বিমানটি ম্যাসাচুসেটের দক্ষিণে আটলান্টিক সাগরে ২১৭জন যাত্রী নিয়ে বিধ্বস্ত হয়। যাদের প্রত্যেকেই মারা যান। দুই সপ্তাহ পর এফবিআই অনুসন্ধান চালানোর দায়িত্ব পায়। তারা অনুসন্ধান করে পায়, কো-পাইলট গামিল আল বাতাওতির আত্মহত্যার ফলে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। কিন্তু এ অনুসন্ধান মিসরীয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পছন্দ না হওয়ায় তারা আবারো অনুসন্ধান চালায় এবং অনুসন্ধানের ফল হিসেবে তারা দাবি করে, ইঞ্জিনে গোলযোগের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত  হয়।

৪.ডগ্লাস ডি এস টি- এন সি ১৬০০২

হারিয়ে যাওয়া উড়োজাহাজ রহস্য-২
 

২৮ ডিসেম্বর ১৯৪৮ সালে হারিয়ে যাওয়া একটি উড়োজাহাজ ডগ্লাস ডি এস টি – এন সি ১৬০০২।

শিডিউল ফ্লাইটের অংশ হিসেবে সান জুয়ান থেকে মিয়ামির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল উড়োজাহাজটি। আকাশ অত্যন্ত পরিষ্কার ছিল, কিন্তু তারপরেও বিমানটি উধাও কীভাবে হলো তা আজও প্রশ্নবিদ্ধ। অনেকে মনে করেন পাইলট তার অবস্থান সম্পর্কে ভুল ধারণা পেয়েছিল। আবার অনেকে মনে করেন এটি বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের আরেকটি চক্রান্ত। কিন্তু অফিসিয়ালি অনুসন্ধানে আজও কোনো কারন পাওয়া যায়নি। বিমানটির ২৯ জন যাত্রী ও ক্রু উপরের উল্লেখিত বিমানগুলোর যাত্রীদের মতো চিরতরে হারিয়ে গেলেন পৃথিবী থেকে।

বিমান হারিয়ে যাওয়া রহস্য-১

কেমন লাগলো জানাবেন তাহলেই নতুন কিছু দিতে পারবো । ভুল হলে জানাবেন ভালো লাগলে উৎসাহ দিবেন । আমরা টিজে রা কিছু চাই না শুধু একটা ফিডব্যাক ।

NEXT পর্বে দেখা হবে আশা করি ।

c8kPr হারিয়ে যাওয়া উড়োজাহাজ রহস্য-২

t5 হারিয়ে যাওয়া উড়োজাহাজ রহস্য-২

Like My FB Page 4 FB Updates Plz

আমার ফেসবুক

Google +

আমাকে ফলো করুন

একটি উত্তর ত্যাগ