ফ্রিল্যান্সিংয়ে অনুমোদন পেল ১৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা

0
340

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং কর্মক্ষেত্র সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে সরকার ১৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকার লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেক দেশের ২০ হাজার নারীসহ ৫৫ হাজার ফ্রিল্যান্সার তৈরির জন্য এ প্রকল্প অনুমোদন দেয়।

জানা গেছে, পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির জন্য ৩০৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়েছিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। তবে কমিশনের পিইসি সভায় এটি পর্যালোচনার পর ১৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ ছাড়া উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ১০ হাজার বিশেষায়িত আউটসোর্সিং ফ্রিল্যান্সার তৈরির অ্যাডভান্স প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে মেলা, আঞ্চলিক পর্যায়ে ফ্রিল্যান্স কর্মশালা, সম্মেলনসহ বিভিন্ন আয়োজনও থাকবে। প্রকল্পে ১ হাজার ৯২০ জন সাংবাদিককেও আউটসোর্সিং বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে সচেতনতামূলক কর্মসূচীতে অর্ন্তভূক্ত করা হবে।

freelancing-640 ফ্রিল্যান্সিংয়ে অনুমোদন পেল ১৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা

দক্ষ ফ্রিল্যান্সার তৈরির মাধ্যমে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আউটসোর্সিং বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের অধীনে খুব শিগগিরই ৮০টি ল্যাপটপ, ৮০টি মডেম, ৪০টি পেন ড্রাইভ, পাঁচটি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, একটি ফটোকপিয়ারসহ প্রয়োজনীয় অফিস ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ এবং একটি মাইক্রোবাস, একটি জিপ ও একটি ক্যারাভান জিপ কেনা হবে।

মাস্টার ট্রেইনার তৈরির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হবে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কার্যক্রম। প্রকল্পটির প্রধান কার্যক্রম হবে, ইউনিয়ন পর্যায়ে ২০ হাজার নারীকে বেসিক আইটি লিটারেসি প্রশিক্ষণ এবং ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে ২৫ হাজার জনকে আউটসোর্সিং ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তুলতে বেসিক আইটি শিক্ষা দেয়া। প্রকল্পের আওতায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ১০ হাজার জনবলকে বিশেষায়িত আউটসোর্সিং কাজে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আগাম আইটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এছাড়া আউটসোর্সিং বিষয়ে দেশব্যাপী মেলা, আঞ্চলিক পর্যায়ে ফ্রিল্যান্স বিষয়ে ওয়ার্কশপ, কনফারেন্স ও সেমিনার আয়োজন করা হবে।

বর্তমান সরকারের ভিশন ২০২১ অর্জনের জন্য আইসিটি সেক্টরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার- ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশে অনলাইন আউটসোর্সিং প্রসারের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটি রোববার একনেক সভায় চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হবে। প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে দেশ আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং ইন্টারনেট ভিত্তিক কার্যক্রমের এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম উপ-একনেক (পিইসি) সভায় প্রথম প্রকল্প পর্যালোচনা করা হয়। সেসময় পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ থেকে প্রকল্পটির অনুমোদন বিবেচনার সুপারিশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার চূড়ান্ত অনুমোদন পায় প্রকল্পটি।

একটি উত্তর ত্যাগ