জেনে নিন কিভাবে অফলাইনে গুগল ম্যাপ ব্যবহার করবেন

0
401

আমাদের দেশে ‘গুগল ম্যাপ’ অ্যাপটি খুব বেশি জনপ্রিয় নয় এবং এই অ্যাপলিকেশনটির ব্যবহার বলা চলে খুব কমই হয়ে থাকে। এই গুরুত্বপূর্ন অ্যাপলিকেশনটি আমাদের দেশে জনপ্রিয় না হবার কারন সম্ভবত আমাদের দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থা। কেননা, এখন পর্যন্ত আমাদের ব্যবহারিত সিমের বিভিন্ন রকম ইন্টারনেট প্যাকেজের মূল্য প্রচন্ড চড়া। হয়ত এ কারনেই গুগল ম্যাপের জনপ্রিয়তা এবং ব্যবহার এখনো এই দেশে কিছুটা কম। তবে, এখন যেহেতু প্রায় সব অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, ভার্সিটি এবং বড় বড় শপিং কমপ্লেক্সে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা যোগ করা হয়েছে তাই আপনারা কিন্তু চাইলে গুগল ম্যাপে আপনার প্রয়োজনীয় এলাকাটি ডাউনলোড করে পরবর্তীতে আপনি এই সেবাটি অফলাইনেও অর্থাৎ নেট কানেকশন ছাড়াও ব্যবহার করতে পারেন। অনেকেই হয়ত এই পদ্ধতিটি জেনে থাকবেন তবে এখনো যাদের জানা নেই তারা মনযোগ দিয়ে পড়া শুরু করুন।

আপনাকে গুগল ম্যাপের এই হিডেন (লুকায়িত) ফিচারটি ব্যবহার করার জন্য শুধু মাত্র একটি ম্যাজিক ওয়ার্ড শিখতে হবে। এপনি এটিকে একটি ‘বুলি’-ও বলতে পারেন এবং এটি হচ্ছে ‘OK Maps’। আপনি গুগল ম্যাপ অ্যাপলিকেশনে এই বাক্যটি লিখে এন্টার চাপলেই আপনার স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ম্যাপের ঠিক যতটুকু অংশ থাকবে সেই অংশটি আপনার ডিভাইসে সংরক্ষিত হয়ে যাবে। এবং, একবার সংরক্ষিত হবার পরে আপনি যেকোন সময় সেই নির্দিষ্ট এরিয়ার ম্যাপটুকু ব্যবহার করতে পারবেন এমনকি কোন রকম ডাটা কানেকশন ছাড়াই।

আপনি হয়ত ‘স্ক্রিন শট’ নেয়ার কথা ভাবতে পারেন। তবে, স্ক্রিন শটের চাইতে এই পদ্ধতিটি অনেক বেশি ভালো। কেননা, ধরুন আপনার স্মার্ট ফোনটির ডিসপ্লে সাইজ হচ্ছে 640×480 পিক্সেল। এখন আপনি যদি একটি স্ক্রিন শর্ট নিয়ে থাকেন ডিভাইসটির তবে এর অর্থ হচ্ছে আপনি আপনার ডিভাইসের স্ক্রিনে থাকা ম্যাপটির একটি ছবি তুলেছেন যার পরিমাপ হচ্ছে 640×480 পিক্সেল! এখন, আপনি যদি সেই ছবিটি জুম করেন তবে আপনার সেই ম্যাপের ছবিটি আপনাকে এক্সট্রা কোন তথ্য প্রদান করতে সক্ষম হবেনা শুধু মাত্র আপনার ছবিটি আপনি বড় আকারে দেখতে পারবেন। কিন্তু, অফলাইনে ব্যবহারের জন্য গুগল ম্যাপ সংরক্ষন করে রাখলে আপনি আপনার সংরক্ষিত অংশটুকু ব্যবহারের সময় জুম করে অনেক বেশি তথ্য পেতে পারেন যা আপনার স্ক্রিন শট আপনাকে দিতে সক্ষম হবেনা। যাই হোক, ম্যাপ সংরক্ষনের এই পদ্ধতিটি আপনি আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড – এই দুই অপারেটিং সিস্টেমেই ব্যবহার করতে পারবেন।

কীভাবে করবেন? বিস্তারিত বলছি। প্রথমে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় এরিয়াটুকু জুম করুন যা আপনি অফলাইনে থকাকালীন অবস্থায় ব্যবহার করতে চাচ্ছেন। এরপর অ্যাপলিকেশনটির ‘সার্চ বারে’ ‘Ok Maps’ ( কমা ছাড়া) লিখুন এবং সার্চ করুন। আপনি এই বাক্যটি না লিখেও কিন্তু কাজটি করতে পারেন। এজন্য, আপনাকে বলতে হবে, ‘O’ এবং ‘K’। মনে রাখবেন, এই দুটি অক্ষর বলার সময় দুটি অক্ষরের মাঝে কিছুটা বিরতি নিতে হবে কেননা আপনি বিরতিহীন ভাবে অক্ষর দুটি বললে আপনার ডিভাইসটি আপনার কমান্ডটিকে ‘Okay’ রুপে স্পেল করে নিতে পারে যা কাজ করবেনা।

যদি আপনি উপরের ধাপটি সম্পুর্ন করে থাকেন তবে দেখবেন ম্যাপ ডাউনলোড হচ্ছে। সম্পূর্ন প্রসেস সম্পন্ন হতে কত সময় লাগবে তা নির্ভর করে আপনার ম্যাপটির সাইজের উপর এবং আপনার ইন্টারনেট কানেকশনের স্পিডের উপর। যাই হোক, অপেক্ষা করুন যতক্ষন না পর্যন্ত আপনি ‘The on-screen map area has been cached’ বার্তাটি না দেখতে পান। বার্তাটি দেখতে পেলেই বুঝতে হবে আপনার নির্ধারিত ম্যাপের এরিয়াটুকু অফলাইনে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে।

পরবর্তী সময়ে যখন আপনি গুগল ম্যাপ চালু করবেন এবং আপনার স্মার্টফোনটি কোন প্রকারের ইন্টারনেট কানেকশনের সাথে যুক্ত থাকবেনা তখনও আপনি আপনার সংরক্ষিত ম্যাপের এলাকাটুকু ব্রাউজ করতে পারবেন। এটি সবচাইতে বেশি কাজে লাগে আইপ্যাড বা অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেট গুলোতে যেগুলো কোন রকম সিম সাপোর্ট করেনা এবং শুধু মাত্র ওয়াই-ফাই সুবিধার মাধ্যমেই ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হয়ে থাকে অথবা যখন আপনার ডিভাইসটি এয়ারপ্লেন মোডে থাকে। ধরুন, আপনি বিমানে একটি শহরে ভ্রমন করতে যাচ্ছেন এবং আপনি যে হোটেলটিতে থাকবেন সেই হোটেলের এরিয়াটুকু আপনি আগেই সংরক্ষণ করে রেখেছেন। তাহলে আপনি ভ্রমণের সময়েই সেই হোটেল এক্সপ্লোর করতে পারবেন বা হোটেরলের আশে পাশে কি আছে তা দেখতে পারবেন। ট্র্যাভেলারদের জন্যেও এই সুবিধাটি চমৎকার কাজ করে থাকে বিশেষ করে সে সব স্থানে যেখানে ডাটা রোমিং খুবই এক্সপেনসিভ এবং যেখানে পাবলিক ওয়াই-ফাই জোন খুবই কম।

মনে রাখবেন, আপনি আপনার প্রয়োজনীয় ম্যাপটি আগে থেকে সংরক্ষণ করে রাখলেও রিয়েল টাইম নেভিগেশন এবং ডিরেকশনের জন্য আপনার ডাটা কানেকশনের প্রয়োজন হবে। আবার, আপনি যদি আপনার সংরক্ষিত এলাকায় আপনার সঠিক অবস্থান জানতে চান তবে জিপিএস এর এক্সেসের জন্যেও আপনার ডাটা কানেকশনের প্রয়োজন হবে। তবে, যেহেতু আপনার স্মার্টফোনের কম্পাস সবসময়ই চালু থাকে তাই জিপিএস অ্যাক্টিভ না করেও আপনি কিছুটা ডিরেকশন পাবেন আপনার সংরক্ষিত অফলাইন ম্যাপে।

আরও একটি বিষয়, আপনি চাইলেই পুরো একটি দেশের ম্যাপ সংরক্ষণ করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে কিছুটা লিমিট বেঁধে দেয়া আছে। সেই বেঁধে দেয়া বা নির্ধারিত লিমিটটি আমি সঠিক জানিনা তবে এই পদ্ধতিতে প্রায় ১০ মাইল এলাকা সংরক্ষণ করে রাখা যায়।

আজকে এই ছিলো আপনাদের জন্য। আশা করি আপনিও নতুন একটি এলাকা ভ্রমণের সময় গুগল ম্যাপ ব্যবহার করেই এর পর থেকে যাবেন। আর আপনি যদি হন ফটোগ্রাফার বা অতিমাত্রায় ভ্রমণকারী তবেতো গুগল ম্যাপ আপনার অন্যরকম বন্ধু হিসেবেই আপনাকে সাহায্য করে যাবে।

একটি উত্তর ত্যাগ