ইন্টারনেট নিরাপত্তা বাড়াবে চীন

0
230

সাম্প্রতিক সময়ে ক্রমবর্ধমান সাইবার হামলা রোধে ইন্টারনেট নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর জোর দিচ্ছে চীন। বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট খাতে বৈরী ভাব বিরাজ করায় চীন এ খাতের আগাম নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সম্প্রতি দেশটির টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের এক কর্মকর্তা ইন্টারনেট খাতের নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সূত্র: বিবিসি

চীনের সরকারি সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটেও বর্তমানে সাইবার হামলার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক গুণ। আর এসব হামলার জন্য সাইবার অপরাধীরা ব্যবহার করছে দুর্বল নিরাপত্তার ইন্টারনেট ব্যবস্থা। তাই সাইবার হামলা রোধে ইন্টারনেট নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন বলে জানানো হয়।

এ বিষয়ে চীনা ন্যাশনাল ইন্টারনেট ইনফরমেশন অফিসের ডেপুটি পরিচালক ওয়াং জিউজুন জানান, এক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ইন্টারনেট ব্যবস্থার নিরাপত্তার ওপর অধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কেননা বিগত কয়েক মাসে চীনের অসংখ্য রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে সাইবার হামলার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে চীনের ক্ষমতাসীন চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টির অফিসিয়াল সংবাদপত্র দ্য পিপলস ডেইলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি চীনভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানি হুয়াউইর ওয়েবসাইটে হামলা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য এবং প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ)। এছাড়া বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এ প্রযুক্তি কোম্পানির প্রযুক্তিগত লাখ লাখ তথ্য ও প্রডাক্ট কোড এনএসএ হাতিয়ে নিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ফলে হুয়াউই প্রযুক্তিগত দিক থেকে সাময়িকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এছাড়া এর নেতিবাচক প্রভাব চীনের অর্থনীতির ওপরও পড়ে বলে জানানো হয়। আর এসব দিক বিবেচনা করেই ইন্টারনেট নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে চীন।

এছাড়া স্থানীয়ভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানো এবং ব্যক্তিগত তথ্য চুরি রোধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয় চীনা ন্যাশনাল ইন্টারনেট ইনফরমেশন অফিসের পক্ষ থেকে। এ বিষয়ে ওয়াং জানান, একটি বিশেষ মহল চীনের ইন্টারনেট স্বাধীনতার নাম করে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির সাবেক কর্মকর্তা স্নোডেনের প্রকাশ করা নথি অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে অযাচিত নজরদারি করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেও এনএসএর নজরদারি থেকে রেহাই পাচ্ছে না বিশ্বের বহু প্রতিষ্ঠান। আর তাই যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ঠেকাতেও ইন্টারনেট নিরাপত্তার জোরদার জরুরি বলে উল্লেখ করেন চীনা ন্যাশনাল ইন্টারনেট ইনফরমেশন অফিসের ডেপুটি পরিচালক ওয়াং জিউজুন।

এদিকে ইন্টারনেট খাতের ব্যবস্থাপনায় নেট নিউট্রালিটি নামে নতুন আইন করছে যুক্তরাষ্ট্র, যা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য হুমকিস্বরূপ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ধারণা করা হচ্ছে, নেট নিউট্রালিটি আইন বাস্তবায়িত হলে বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি আরো বৃদ্ধি পাবে। আর তাই এরই মধ্যে শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এ আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু ব্যাপক বিরোধিতার পরও আইনটি বাস্তবায়নের পক্ষেই কাজ করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ভোট গ্রহণের আয়োজন করে ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি)।

নতুন প্রস্তাবিত আইন অনুসারে যাদের ব্রান্ডউইথ বেশি প্রয়োজন হয়, এবং গ্রাহক বেশি সেসব কোম্পানিকে অধিক গুরুত্ব দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে। তবে এ সুবিধা দিতে অর্থ ধার্য করার ক্ষমতা রাখবে এফসিসি।

একটি উত্তর ত্যাগ