অ্যান্টিভাইরাস কেনা বৃথা অর্থব্যয়

0
490

কম্পিউটারে রক্ষিত ব্যক্তিগত তথ্য ও কোন প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা এন্টিভাইরাস ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। নিরাপত্তা স্বার্থে এন্টিভাইরাস ব্যবহার করা হলেও আদতে এন্টিভাইরাস ব্যবহারকারীদের তথ্য হ্যাকারদের হাত থেকে রক্ষা অক্ষম বলে মনে করছে বিশ্বখ্যাত নর্টন এন্টিভাইরাসের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিমেনটেক। এন্টি-ভাইরাস প্রযুক্তির যুগ শেষ হয়ে গেছে এমনটাই দাবি সাইবার নিরাপত্তায় বিশ্বব্যাপী পরিচিত কোম্পানিটির। কোম্পানির মতে, এন্টিভাইরাস এখন মৃত।

কোম্পানির তথ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট ব্রায়ান ডাই ‘ওয়াল স্ট্রীট জার্নালকে’ দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, হ্যাকাররা দিনকে দীন নতুন সব প্রযুক্তি আবিষ্কার করে চলেছে। কেবলমাত্র হ্যাকারদের দক্ষতা নয়, এন্টি-ভাইরাসের বাজার কমে আসায়, এটি আগের মত কেবল অর্থ উপার্জনের মাধ্যম নেই।
ডাইয়ের মতে, তাদের তৈরি এন্টি-ভাইরাস কেবলমাত্র ৪৫ শতাংশ সাইবার আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে। হ্যাকাররা প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে। হ্যাকার নতুন প্রযুক্তির কারণে সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো হ্যাকারদের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হিসেবে চাকরিতে নিতে বাধ্য হচ্ছে। ১৯৮০ সালে সিমেনটেক তাদের এন্টিভাইরাস বাজারজাত শুরু করে। তখন এটি কম্পিউটারের ডাটাবেজ রক্ষা করত ও যে কোন আক্রমণকে বা অপ্রয়োজনীয় কোডকে ব্লক করে ব্যবহারকারীদের কম্পিউটারকে সুরক্ষার ব্যবস্থা করত।
কিন্তু এখনকার সাইবার আক্রমণ বহুমাত্রিক। এখন ট্রোজেন হর্স থেকে শুরু করে যেকোন কোডকেই হ্যাকাররা ম্যালওয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। এছাড়া স্পাইওয়ারের মাধ্যমে হ্যাকাররা ব্যবহারকারীর কীবোর্ডে নজর রাখে ও পাসওয়ার্ড কপি করে নেয়। বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মূলত এই ঘটনাটি ঘটে।
সিমেনটেকের মতে, এখন আর সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। বরং এখনকার এন্টিভাইরাসগুলো আক্রমণ শনাক্ত করবে ও হ্যাকারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। এছাড়া ব্যবহারকারীকে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে জানাবে। এখন সাইবার আক্রমণ প্রতিরোধ নয় ব্যবহারীর তথ্য পাচার হওয়া ও যেকোন ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে এমন সিকিউরিট প্যাকেজ তৈরি করা দরকার।
এন্টিভাইরাস তার কার্যক্ষমতা হারালেও বিভিন্ন এন্টিভাইরাস কোম্পানি ব্যবহারকারীদের কাছে নিরাপত্তা প্যাকেজ সম্পন্ন এন্টিভাইরাস বিক্রি করছে। এই এন্টিভাইরাসগুলো স্প্যাম ব্লক, পাসওয়ার্ড রক্ষা ও বিভিন্ন মেলিসিয়াস লিংক থেকে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা দেবে, এমন কথা বলে বিক্রি করা হলেও আদতে তা সম্ভব নয়। আর অক্ষম এন্টিভাইরাসকে এভাবে গ্রাহকদের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত সিমেনটেকের কর্মকর্তা।
এন্টিভাইরাসের বাজারের শতকরা ৮ ভাগ সিমেনটেকের দখলে রয়েছে। কোম্পানি নিরাপত্তা ও নতুন নতুন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে এমন ছোট ছোট কোম্পানিকে নিয়ে একত্রে এন্টিভাইরাসের বদলে বিভিন্ন নিরাপত্তা প্যাকেজ তৈরির চেষ্টা করছে।
চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত কোম্পানিটি ১.৬১-১৬৬ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। সিমেনটেক যেসব কোম্পানির সাথে মিলে কাজ করছে, তাদের মধ্যে একটি হলো, জুনিপার নেটওয়ার্ক। এই কোম্পানির ‘তৈরি ঘোস্ট আর্মি’ ব্যবহারকারীর তথ্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান রক্ষায় হ্যাকারদের ভুল পাসওয়ার্ড প্রদান করে ও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। ম্যানডাইট নামের আরো একটি কোম্পানির সাথে সিমেনটেক কাজ করবে, যেটি মার্কিন বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন

একটি উত্তর ত্যাগ