ফেসবুকের কিছু জানা অজানা গল্প ও তথ্য

0
1017

আমরা এখন দিনে অন্তত একবার হলেও লগ-ইন করি ফেসবুক। অনেকেই বলেন, ফেসবুক এখন নাকি শুধু একটি ওয়েবসাইট নয় বরং পৃথিবীর ১০০ কোটির বেশি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কৈশোর পেরোনো কয়েকজন তরুণের ছোট্ট একটা স্বপ্নই যে বিশ্বের বৃহত্তম সামাজিক যোগাযোগের সাইটে পরিনত হবে তা গত ১০ বছর আগে হয়ত কেউ ভাবতে পারে নাই। হারভার্ডের সেই ডরমিটরির ছোট্ট ঘর ছেড়ে ফেসবুক পরিবার এখন পুরো পৃথিবী জুড়ে। অথচ সেই ফেবুকের অনেক মজার তথ্যই হয়তো জানা নেই অনেকের।

ফেসবুকের রং নীল কেন : ফেসবুকে শুধু নীল রংয়ের ছড়াছড়ি কেন? নীল পছন্দের রং না হলে দোষটা দিতে হবে জুকারবার্গকেই। ‘নচ্ছাড়’ এই কণিষ্ঠতম বিলিয়নেয়ার একেবারেই চেনেন না লাল আর সবুজ রং। কারণ আর কিছুই না, তিনি কালার ব্লাইন্ড। জুকারবার্গের কাছে সবচেয়ে উজ্জ্বল রং হচ্ছে নীল। ফেসবুকের বদৌলতে নীল রংটা এখন এতটাই জনপ্রিয় যে ফেসবুকের নীলের সঙ্গে মিল রেখে নেইলপলিশও বানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ফেসবুক ক্যাম্পাস স্টোরে নাকি দেদারসে বিক্রিও হয় ‘সোশাল বাটারফ্লাই ব্লু’ শেইডের সেই নেইলপলিশ।

৭০ ভাষার ফেসবুক: ৭০টিরও বেশি ভাষায় ব্যবহার করা যায় ফেসবুক। এমনকি আছে ফেসবুকে ইংরেজিতে লেখা আইকনগুলো উল্টো করে দেখার অপশনও। নিউজফিডের ডান দিকে নিচে আছে পছন্দের ভাষা ঠিক করে নেওয়ার অপশন। বিশ্বাস না হলেও সেখান গিয়েই দেখুন না, খুঁজে পান কিনা উল্টো করে লেখা ইংরেজির অপশনটি।

জুকারবার্গের ফ্যাশন সেন্স: ফেসবুকের মজার ব্যাপার হচ্ছে কণিষ্ঠতম বিলিয়নেয়ার হয়েও কর্পোরেট ড্রেস কোড তথা স্যুট-টাই পরার প্রথা মানেন না জুকারবার্গ। ধূসর রংয়ের টি-শার্ট অথবা হুডি ছাড়া জুকারবার্গের দেখা পাওয়া একেবারেই দুষ্কর। এর কারণ? আজ কি পরবেন সেটা ভাবার সময় নেই জুকারবার্গের, বরং ফেসবুক নিয়ে আজ কি করবেন তা নিয়েই তার সব ব্যস্ততা। গণমাধ্যমের সামনে জুকারবার্গ স্যুট-টাই পরে হাজির হয়েছিলেন স্রেফ দুই-একবার। একবার বারাক ওবামার সঙ্গে এক ইভেন্টে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। আর তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বেশ গর্ব করেই বলেছিলেন, “আমিই সেই ব্যক্তি যে মার্ককে স্যুট পরাতে সক্ষম হয়েছি”

ইয়াহুকে না: ২০০৬ সালে ১০০ কোটি ডলার দিয়ে সে সময় ফেইসবুক কিনে নিতে চেয়েছিল তৎকালীন ওয়েব জায়ান্ট ইয়াহু! সেবার ইয়াহুকে না বলে দিয়েছিলেন জুকারবার্গ। কারণ, বুঝে উঠতে পারছিলেন না কি করবেন এত টাকা দিয়ে। জুকারবার্গ যে তখন ভুল করেননি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ফেসবুকের মূল্য এখন সাড়ে ১৩ হাজার কোটি ডলার।

ফেসবুকে ফটো বন্যা: প্রতিদিন গড়ে ৩৫ কোটি ফটো ফেসবুকে আপলোড করেন এর ব্যবহারকারীরা। ২০১৩ সালের প্রথম ৯ মাসে প্রায় ২৫০০ কোটি ফটো আপলোড করা হয়েছে সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটটিতে। প্রতি সেকেন্ডে আপলোড হয় গড়ে ৪ হাজার ফটো।

সংবিধান লিখতে ফেসবুক: অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি সংবিধান লিখতে ফেসবুকের শরণাপন্ন হয়েছিল আইসল্যান্ড সরকার। ২০০৮ এবং ২০০৯ সালের বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে আইসল্যান্ডের জন্য নতুন সংবিধান লেখার স্বিদ্ধান্ত নিয়েছিল দেশটির সরকার। আর এজন্য ফেসবুকের মাধ্যমেই দেশটির নাগরিকদের মতামত আর পরামর্শ নেওয়ার প্রকল্প শুরু করেছিলেন আইসল্যান্ডের আইন প্রণেতারা।

ফেসবুক বাউন্টি হান্টিং: অন্যান্য প্রযুক্তিকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানের মতো ফেসবুকেরও আছে ‘বাউন্টি হান্টিং প্রোগ্রাম’।
ফ্রিল্যান্স সিকিউরিটি রিসার্চাররা নিয়মিত চিরুনি অভিযান চালান সাইটটির কোডের উপর। কোনো বাগের সন্ধান পেলেই মেলে সর্বনিম্ন ৫০০ ডলার থেকে শুরু করে সাড়ে ৩৩ হাজার ডলারের নগদ পুরস্কর।

বিচ্ছেদেও ফেসবুক: বিচ্ছেদেও বিকল্প নেই ফেসবুকের। ব্রিটিশ লিগাল ফার্ম ‘ডিভোর্স অনলাইন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১১ সালে ব্রিটিশ আদালতের এক তৃতীয়াংশ বিয়েবিচ্ছেদের আবদনে আবেদনকারীরা বলেছেন ফেসবুকের কথা। জীবনের হাসি-ঠাট্টাগুলোতে যেখানে ফেসবুক না হলেই না নয়, বিচ্ছেদেও যে তার বিকল্প নেই।

একটি উত্তর ত্যাগ