সাইবার নিরাপত্তায় সচেতনতা জরুরী

1
298

ইন্টারনেট নিঃসন্দেহে আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, যা আমাদের জীবনকে আগের তুলনায় কেবল সহজই করেনি, বরং এটি শিক্ষা, বিনোদন, স্বাস্থ্য এবং ব্যবসায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এর নেতিবাচক দিকও আছে। ইন্টারনেটের সবচেয়ে বড় হুমকি নিরাপত্তা ঝুঁকি। সম্প্রতি প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সিটিও ফোরাস বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং জুনিপার নেটওয়ার্কসের পৃষ্ঠপোষকতায় সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তার বিভিন্ন বিষয় এ আলোচনায় উঠে আসে। সাইবার নিরাপত্তার পাশাপাশি সাইবার হামলার প্রতিরোধ বিষয়ক বিভিন্ন আলোচনা করা হয়। এ আলোচনা অনুষ্ঠানে সিটিও ফোরাম বাংলাদেশের সভাপতি জনাব তপন কান্তি সরকার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশে এখন ইন্টারনেট ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এর নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা আমাদের চিন্তা করা দরকার। বিশ্বে এরই মধ্যে বিভিন্ন সাইবার অপরাধ সংগঠিত হয়েছে এবং আমাদের দেশেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তবে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে এই সমস্যার সমাধান অনেকাংশে সম্ভব। এই সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সিটিও ফোরাম শুরু থেকে কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সিটিও ফোরামের উদ্দেগে সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে ৫টিরও অধিক সেমিনার/গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এই প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

সভার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগের মাননীয় সচিব জনাব নজরুল ইসলাম খান। জনাব খান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমানে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে, যার মুল হাতিয়ার হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে এই নিরাপত্তা ঝুকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের মন্ত্রনালয় এই বিষয়ে সজাগ রয়েছে এবং আমরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে তা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছি। তিনি আশা প্রকাশ করেন এই ধরনের সেমিনারের মাধ্যমে আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারব এবং এর ফলে আমরা আরও সচেতন হবার সুযোগ পাব।

অনুষ্ঠানে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন জুনিপার নেটওয়ার্র্কসের সিটিও জনাব সজল কে. পাল। এছাড়া দেশের প্রতিষ্ঠিত আই.টি. বিশেষজ্ঞ ও আই.টি. প্রফেশনালদের নিয়ে একটি প্যানেল ডিসকাশন অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ডাচ-বাংলা ব্যাংকের উপ-ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন, ব্র্যাক আইটি সার্ভিসেস এর সিইও নওয়েদ ইকবাল, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিনিয়র সিস্টেম এনালিষ্ট দেবদুলাল রায় এবং এয়ারটেল বাংলাদেশের সিআইও লুৎফর রহমান। উপস্থিত প্রযুক্তিবিদদের অংশগ্রহণ এবং তাদের নিজেদের মতামত তুলে ধরার মাধ্যমে প্যানেল ডিসকাশন সেশনটি মুখরিত ছিল। সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ আশা করে এ ধরনের আলোচনা সভা সাধারণ মানুষের মাঝে সাইবার নিরাপত্তার সচেতনতা গড়ে তুলবে এবং বাংলাদেশের তথ্য ও প্রযুক্তিবিদদের মাঝে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আদানপ্রদান বৃদ্ধি পাবে।

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ