আমাদের রান্নাঘরে এবার থাকবে একটি থ্রিডি প্রিন্টার!!! ব্যাস রান্না ত এখন হাতের মুয়া

0
439

আমাদের রান্নাঘরে মাইক্রোওয়েভ ও মিক্সির মতো যন্ত্র আগেই ঢুকে পড়েছে৷ কিন্তু রান্নার কাজটা এখনো নিজেকেই করতে হয়৷ ভবিষ্যতে থ্রিডি প্রিন্টার কিন্তু সেই কাজ অনেকটাই সেরে ফেলবে৷ মানুষের কাজ যাবে কমে৷ খাবিয়ের আর স্যার্খিও টোরেস যাকে বলে ‘স্টার শেফ’৷ বার্সেলোনা শহরে নিজেদের স্প্যানিশ রেস্তোরাঁয় যমজ দুই ভাই নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন৷ তাজা উপকরণ ও আধুনিক প্রযুক্তিই তাঁদের সাফল্যের রহস্য৷ তাঁদের রান্নাঘরে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি রাখা থাকে৷

স্যার্খিও এই প্রথমবার খাবারের থ্রিডি প্রিন্টার পরীক্ষা করে দেখছেন৷ তাতে পায়েস ‘প্রিন্ট’ হচ্ছে৷ এই উদ্ভাবন রন্ধন শিল্পের ভবিষ্যতকে কতটা বদলে দেবে, স্যার্খিও এখনই সেটা বলতে পারছেন না৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার মতে, অনেক নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যাচ্ছে৷ বিষয়টা দেখেশুনে, এক্সপেরিমেন্ট করে, বিশ্লেষণ করতে হবে৷”

index আমাদের রান্নাঘরে এবার থাকবে একটি থ্রিডি প্রিন্টার!!! ব্যাস রান্না ত এখন হাতের মুয়া

উপকরণ হতে হবে মাখামাখা৷ যেমন বিস্কিট তৈরির মালমশলা৷ ক্যাপসুলে ভরে ফেললেই হলো৷ তারপর বিস্কিট প্রিন্ট হবে৷ এবার শুধু ওভেনে বেক করতে হবে৷ প্রিন্ট করা পিৎসার উপরেও পছন্দমতো টপিং দিতে হয় ও তা ওভেনে ঢোকাতে হয়৷

স্পেনের এক স্টার্টআপ কোম্পানি ‘ফুডিনি’ নামের খাবার তৈরির এই ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার উদ্ভাবন করেছে৷ থ্রিডি প্রিন্টার কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন লিনেট কুচমা৷ তিনি বলেন, ‘‘এটাকে আসলে অ্যাসেমব্লি ডিভাইস হিসেবে ভাবাটাই সহজ৷ ইটালিয়ান রাভিওলি-র কথাই ধরুন৷ বাজারে এত পাস্তা তৈরির মেশিন থাকা সত্ত্বেও বাসায় কে আর সেটা তৈরি করে! অর্থাৎ যারা তাজা খাবার পছন্দ করে, তাদের জন্যই এটা বিক্রি হয়৷ কিন্তু রেস্তোরাঁর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে খাবারের ডিজাইনের বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি৷”

চলতি বছরেই এই যন্ত্র বাজারে আসছে৷ দাম ধরা হয়েছে ১,০০০ ইউরো৷ রাঁধুনি নিজে কম্পিউটারে খাবারের ডিজাইন স্থির করবেন৷ এ ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার প্রায় কোনো সীমাই নেই৷ প্রিন্টার দিয়ে হোক, বা প্রিন্টার ছাড়া হোক – খাবারের স্বাদ রাঁধুনির গুণের উপরই নির্ভর করে৷ যেমন প্রিন্টার এই কেকের স্বাদে কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না৷ মাস্টার শেফ স্যার্খিও টোরেস বলেন, ‘‘ভাগ্য ভালো, আমাদের হাত লাগাতেই হবে৷ যন্ত্র স্বাদ বাড়াতে পারে না, কারো জন্য রান্নাও করে না৷ আমরাই রাঁধুনি হিসেবে থাকবো৷ প্রিন্টার শুধু খাবারের চেহারা সুন্দর করতে ও কঠিন ডিজাইন তৈরি করতে সাহায্য করে, যা খালি হাতে করা কঠিন৷”

টোরেস ভাইদের রেস্তোরাঁর মেনু-কার্ডে রয়েছে এই পদটি৷ থ্রিডি প্রিন্টারের সাহায্যে এটিকে আরও আকর্ষণীয় করার চেষ্টা চলছে৷ স্যার্খিও বলেন, ‘‘আমরা সবজিটাকে ঘোরাতে পারি, তাতে কিছু আঁকতেও পারি৷ অথবা ঝোল দিয়ে তার উপর ডিজাইন করতে পারি৷ প্র্যাকটিস করতে আমরা একটা প্রোটোটাইপ অর্ডার করেছিলাম৷ সেটা কাজে লাগানোর অনেক আইডিয়াও আমাদের রয়েছে৷ হাতেনাতে কিছু তৈরি করে দেখতে চাই, ঠিকমতো হচ্ছে কিনা৷ সফল হলে তাজ্জব বনে যেতে হবে৷”

সবজির পেস্ট দিয়ে তৈরি রেস্তোরাঁর নাম – সবে প্রিন্ট করা হয়েছে৷ একদিন এমন খাবার টেবিলে আসবে৷ প্রথম থ্রিডি প্রিন্টার দিয়ে এক্সপেরিমেন্ট সফল হয়েছে৷

একটি উত্তর ত্যাগ