ফেসবুকে যে ৫ ধরণের মানুষ সারাক্ষণ পরচর্চা ও গীবত করে

0
340

পরচর্চা ও পরনিন্দা করার অভ্যাস যুগ যুগ ধরে পৃথিবীতে ছিল এবং আজও আছে। বলাই বাহুল্য যে থাকবে। কিন্তু লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবেন যে ফেসবুকে যেন এই পরচর্চা ও গীবত করা মানুষের সংখ্যা মারাত্মক রকম বেশি। ফেসবুকে ঢুকলেই দেখা যায় কিছু মানুষ সারাক্ষণ এটা-ওটা-সেটা নিয়ে পরচর্চা করছেন। এর-তার নিন্দা করছে, এর সমালোচনা করছে, অমুকের বদনাম ছড়াচ্ছে। এই ধরণের মানুষদের কাছে যেন পৃথিবীর সবাই খারাপ। কেউ তার চোখে ভালো না, কেউ তার প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য না।

বিষয়টা এখন এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে একে রীতিমত মানসিক ব্যাধি বলা যায়। এই মানুষগুলো অন্যের অনিষ্ট করার, খারাপ কথা বলার একটি মারাত্মক সমস্যায় আক্রান্ত। কিন্তু কেন করেন তাঁরা এমন? কী সেই কারণ? আসুন জানি ৫ ধরণের মানুষ সম্পর্কে যারা ফেসবুকে সারাক্ষণ অন্যের নিন্দা করেন এবং জেনে নেই তাঁদের এই কুৎসিত স্বভাবের কারণ।

হিংসুটে স্বভাবের মানুষ-
পৃথিবীতে কিছু মানুষ থাকে এমনই। বাস্তবে হোক কিংবা ফেসবুকে, এরা কারো ভালো সহ্য করতে পারে না। পৃথিবীতে নিজেকে ছাড়া আর সবকিছুকেই তারা মন্দ বলে থাকে। বিশেষ করে যে ব্যাপারগুলো তার মাঝে নেই কিন্তু অন্য কারো মাঝে আছে, সেক্ষেত্রে তাঁদের ঈর্ষা চরমে ওঠে। নিজের চাইতে ভালো সবকিছুই তাদের চোখে মন্দ।

যার নিজের জীবনে কোনো অর্জন নেই-

পৃথিবীতে অন্যের অর্জন বা অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর স্বভাব তাদের মাঝেই বেশি, যাদের নিজের জীবনে কোনো অর্জন নেই। তারা নিজেরে বড় কিছু হতে পারেনি জীবনে, হবার চেষ্টাও নেই। কিন্তু তারা এটাও চায় না যে অন্য কেউ বা কিছু বড় হোক, উন্নতি করুক। তাই সকলের উন্নতিতে ইচ্ছাকৃতভাবে বাঁধা দেয়ার জন্যই তারা সারাক্ষণ অন্যের সমালোচনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কেননা আসলে এর বাইরে তাদের জীবনে কিছু করারও নেই।

মনযোগ পাবার চেষ্টা ও জনপ্রিয় হবার জন্য-

আজকাল ফেসবুকে জনপ্রিয় হবার জন্য লোকে কী না করছে! ফেসবুকে কয়েক হাজার বন্ধু থাকলেই নিজেকে সেলিব্রেটি মনে করে কিছু মানুষ। আর এই জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য সবচাইতে সহজ উপায় হচ্ছে অন্যের সমালোচনা করা। পৃথিবীতে সবকিছু সবার ভালো লাগবে এমন কোনো কথা নেই। এই মানুষগুলো পৃথিবীর সব কিছুকেই মন্দ বলে অন্যের মনযোগ আকর্ষণের চেষ্টায় থাকে।

নিজেকে জাহির করা-

আমাদের সমাজে একটা আশ্চর্য ব্যাপার প্রচলিত আছে আর সেটা হলো, কেউ যখন অন্যের সমালোচনা করে আমরা তাকে খুব জ্ঞানী হিসাবে ধরে নেই। সমালোচনাটি কতটা যুক্তিযুক্ত সেটা আমরা খতিয়ে দেখি না। কেউ সমালোচনা করলো মানেই তিনি অনেক বেশি বোঝেন, এমনটাই ধারণা আমাদের। আর এই সুযোগে কিছু মানুষ অন্যের সমালোচনা করেই নিজেকে জাহির করেন।

হীনমন্যতায় ভোগা মানুষ-

শুনে অবাক লাগতে পারে, কিন্তু এটাই সত্যি। বাস্তব জীবনে হীনমন্যতায় ভোগা মানুষগুলো নিজেকে গুটিয়ে রাখলেও ফেসবুকে চিত্র একেবারে উল্টো। ফেসবুকে যেহেতু খুব সহজেই পরিচয় গোপন করা যায় ও নিজেকে বিশাল একটা কিছু হিসাবে উপস্থাপন করা যায়, তাই ফেসবুকে এসে এইসব মানুষেরা নিজের গোপন ক্ষোভ ঝাড়ে। নিজের মাঝে যত অপূর্ণতা আছে, সেটা পূরণ করার চেষ্টা করে অন্য লোকের অকারণ সমালোচনা করে।

প্রবীণরা বলেন, একজন মহৎ মনের মানুষ সৃষ্টিশীল চিন্তা করে তার অবসর সময় কাটায়, একজন সাধারণ মনের মানুষ কোনো ঘটনা নিয়ে কাছের মানুষদের সাথে গল্প করে তার সময় কাটায়। আর একজন নীচ মনের মানুষ পরচর্চা করে তার সময় কাটায়। সুতরাং এই সব পরচর্চাকারীদের কথায় মন খারাপ করবেন না মোটেও। এগিয়ে চলুন নিজের পথে। হ্যাপি ফেসবুকিং

একটি উত্তর ত্যাগ