মহাকাশে বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’

0
326

মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ উৎক্ষেপন ২০১৭ সালের আগে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ সচিব আবু বকর সিদ্দিক। রাইজিংবিডিকে তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রাথামিক যাচাই-বাছাই করতে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ লাভজনক হবে কি হবেনা, হলেও কতটা হবে, এসব বিষয় খতিয়ে দেখতেই মূলত এই প্রাথমিক প্রকল্প। এ প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। এত টাকা সরকারের পক্ষে যোগান দেয়া সম্ভব নয়। তাই আমরা ডোনার খুজঁছি।’

ডোনার প্রসঙ্গে সচিব আবু বকর সিদ্দিক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক, ব্রিটেনের সিডব্লিউজি গালফ ইন্টারন্যাশনাল, চায়না গ্রেট ওয়াল ইন্ডাস্ট্রি করর্পোরেশন, এইচএসবিসি ফ্রান্স এবং জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এ খাতে অর্থায়নে আগ্রহী। এক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব লাভজনক মনে হবে তাদেরকে মুল্যায়ন করা হবে। এছাড়া ইতোমধ্যে স্যাটেলাইটের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) চূড়ান্ত করে তা অর্থমন্ত্রণালয় এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো হয়েছে। এখন অর্থ মন্ত্রণালয় এবং ইআরডি দাতা সংস্থাদের সঙ্গে সমঝোতা করবে বলে জানান সচিব।
1920140426174015 মহাকাশে বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’

জানা গেছে, মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ উৎক্ষেপনে এক বছর আগে রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিকের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি হলেও এখনও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। স্যাটেলাইটটি উৎক্ষাপনে ইন্টারস্পুটনিকের ১১৯ দশমিক ১/ই কক্ষপথ বরাদ্দ নিতে আলোচনা চলছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে উভয় পক্ষ।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ঊধ্বর্তন এক কর্মকর্তা জনান, এ বিষয়ে ইন্টারস্পুটনিকের একটি প্রতিনিধিদল গত বছরের মাঝামাঝি বাংলাদেশ সফর করেছে। সফরকালে তাদের সঙ্গে বিটিআরসির একাধিক বৈঠকও হয়েছে। ১১৯ দশমিক ১/ই কক্ষপথ বরাদ্দ নেয়ার বিষয়টি এখন অনেকটায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই কক্ষপথ বরাদ্দের বিষয়ে ইন্টারস্পুটনিকের সঙ্গে অরবিটাল স্লট এগ্রিমেন্ট এবং সার্ভিস এগ্রিমেন্ট নামে দুটি চুক্তি করবে বিটিআরসি।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কক্ষপথের মূল্য ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার থেকে কমিয়ে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার নির্ধারণের জন্য প্রাথমিক সমঝোতাও হয়েছে।

জানা গেছে, দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণে ২০১২ সালের ২৯ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনালের (এসপিআই) সঙ্গে চুক্তি করে বিটিআরসি। চুক্তি অনুযায়ি স্যাটেলাইটের নকশা প্রণয়ন, গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণ, বাজার মূল্যায়ন, ম্যানুফ্যাকচারিং, স্যাটেলাইটের মার্কেটিং, দেশের প্রযুক্তিবিদদের প্রশিক্ষণসহ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবে যুক্তরাষ্ট্রের এই কোম্পানিটি। আর এসকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসপিআইকে দিতে হবে ৮২ কোটি টাকা। প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। ইতিমধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) চূড়ান্ত করে তা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাঠিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট স্থাপনের কথা ছিল ২০১৪ সালে। কক্ষপথ বরাদ্ধসহ নানা জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে এটি উৎক্ষেপন সম্ভব হচ্ছে না। তবে যতদ্রুত সম্ভব এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা জরুরি।

তাদের মতে, নিজস্ব স্যাটেলাইট না থাকায় দেশের টিভি চ্যানেল এবং রেডিও স্টেশনসহ ইন্টারনেট সেবাদানকারী সব প্রতিষ্ঠানই এখন বিদেশি স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশ থেকে স্যাটেলাইট ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এজন্য বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় পঞ্চাশ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এছাড়া বাংলাদেশের সব জেলা ও উপজেলায় এখনো সাবমেরিন ক্যাবলের নেটওয়ার্ক পৌঁছায়নি। এসব জায়গায় ইন্টারনেট সেবা দিতে হলে এখন একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে স্যাটেলাইট। আর এ ধরনের একটি স্যাটেলাইট স্থাপন করা হলে স্যাটেলাইটের অব্যবহৃত অংশ ভাড়া দিয়েও প্রতিবছর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করা সম্ভব। পাশাপাশি এতে নিশ্চিত হবে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা।

একটি উত্তর ত্যাগ