অ্যান্ড্রয়েড এর রুট সম্পর্কীত কিছু তথ্য, রুটের ১০ টি সুবিধা এবং অসুবিধা।

2
1805

রুট শব্দটি অ্যান্ড্রয়েড
ব্যবহারকারীরা প্রায়ই শুনে থাকবেন।
অ্যান্ড্রয়েড বিষয়ক অন্যান্য সাইট ,
ফোরাম, এমনকি গুগল
প্লে স্টোরে অ্যাপ্লিকেশনও
চোখে পড়বে যেগুলো ব্যবহার
করতে হলে আপনার ফোন
বা ট্যাবলেট
রুট করা থাকতে হয়।
প্রাথমিকভাবে অনেক অ্যান্ড্রয়েড
ডিভাইস ব্যবহারকারীরাই রুট কী এই
প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানেন না।
রুট
করার মাধ্যমে ডিভাইসের পরিপূর্ণ
পারফরম্যান্স পাওয়া সম্ভব , এমন
কথা শুনে অনেকেই রুট
করতে আগ্রহী হয়ে পড়েন।
দেখে নিন রুটের ১০ টি সুবিধা:
১- রুট এক্সেস পাওয়া ঃ আপনার
এন্ড্রয়েড ডিভাইস
টি রুট করলে আপনি আপনার
ডিভাইস এর এডমিন
এক্সেস পাবেন যাকে এন্ড্রয়েড
এর ভাষায় রুট
এক্সেস বলে অনেকে। এই এক্সেস
টি আপনি রুট
না করলে পাবেন না। এই এক্সেস
এর
সাহায্যে আপনি অনেক কিছু
করতে পারবেন
এবং পেতে হলে অবশ্যই
আপনাকে আপনার ডিভাইস
টি রুট করতেই হবে মাস্ট।
২- ইচ্ছামত অ্যাপ /সিস্টেম
অ্যাপস রিমুভঃ রুট
করার ফলে আপনি এডমিন এক্সেস
পাচ্ছেন
মানে আপনার ডিভাইস এ আপনার
সম্পূর্ণ কন্ট্রোল
এসেছে। এখন আপনি ইচ্ছামত
আপনার ডিভাইস এর
অ্যাপ /সিস্টেম অ্যাপস রিমুভ
করতে পারবেন। যেমন
স্টক সিস্টেম এর সাথে অনেক
অ্যাপ
আসে যা আমাদের
ভালো লাগেনা ইউজ
করতে অথবা ওগুলো কখন ও ইউজ
করিনা।
তো যেটা ইউজ
করিনা সেটা রেখে লাভ কি? রুট
করলে আপনি সেই অ্যাপস
গুলো রিমুভ করতে পারবেন
অথবা ফোন
মেমোরি থেকে এসডি কার্ড এ মুভ
করতে পারবেন
যা আপনি নরমালি পারবেন না।
এতে করে আপনার ডিভাইস এর
ইন্টারনাল
মেমোরি ও RAM বাড়বে। আর এই
দুইটা বাড়ানো মানে ডিভাইস এর
স্পীড বাড়ানো।
৩- ডিভাইস এর ফুল ব্যাকআপ
নিনঃ ডাটা আমাদের
অনেক ইম্পরট্যান্ট। আর
সে জন্যে অনেক সময়
আমাদের মোবাইল অথবা ট্যাব এর
ডাটা ব্যাকআপ
করা লাগে। নরমালি দেখা যায়
একসাথে সব
ব্যাকআপ করা যায়
না অথবা গেলেও অনেক কিছু
মিসিং থাকে। কারন আপনার
ডিভাইস এর এডমিন
এক্সেস আপনার নেই। আর এডমিন
এক্সেস
পেতে হলে আপনার রুট করতে হবে।
আর রুট
করলে আপনি আপনার ডিভাইস এর
অ্যাপস
ডাটা থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ রম
ব্যাকআপ
করতে পারবেন। আমরা প্লে ষ্টোর
এ একটা অ্যাপ
দেখেছি Titanium Backup নামক
যা ব্যাকআপ এর
জন্যে সবচেয়ে ফেমাস
এবং এটি ব্যাবহারে আপনার
রুট এক্সেস লাগবে।
৪- ডিভাইস এর বাহ্যিক
সৌন্দর্যঃ এই
কথাটি দ্বারা আমি আপনার
ডিভাইস এর
কাভার,কেসিং, রঙ বুঝাই নি। এই
সৌন্দর্যের
মানে আপনার ডিভাইস এর সিস্টেম
এর সৌন্দর্য
বাড়ানো। রুট করলে আপনি অনেক
কিছু
এডিট,কাস্টমাইজ করতে পারবেন
যাতে করে নরমাল
ডিভাইস এর চেয়ে আপনার ডিভাইস
টি থাকবে এক
ধাপ এগিয়ে।
৫- পিক্সেল
ডেনসিটি পরিবর্তনঃ রুট করার
মাধ্যমে আপনি আপনার ডিভাইস
এর ইউজার
ইন্টারফেস চেঞ্জ করতে পারবেন।
স্মার্টফোন
মানেই অনেক স্মার্ট ফিচার তার
ভিতরে থাকা।
তবে স্ক্রিন সাইজ ছোট হউয়ার
কারনে অনেক কিছু
করতে অথবা দেখতে আমাদের
সমস্যা হয়। তাই
পিক্সেল ডেনসিটি এর পরিবর্তনের
মাধ্যমে ইন্টারনালি আপনার
ডিভাইস এর স্ক্রিন
সাইজ বাড়িয়ে নিতে পারেন
যা আপনাকে দিবে এক
অন্য রকম অভিজ্ঞতা।
এই ৫ টি হল নরমাল কিছু পয়েন্ট।
আসুন দেখি আরও ৫
টি এডভান্স লেভেল এর পয়েন্ট।
৬- রুট কার্নেল এর ব্যাবহার ও
পারফর্মেন্স
ইমপ্রুভমেন্টঃ এই পয়েন্ট
টি আমরা অনেকেই
শুনেছি তবে আসলে সম্পূর্ণ
টা জানিনা। অনেক
অ্যাপ আছে যা আপনার ডিভাইস
এর ভিবিন্য ফাইল
মডিফাই করে আপনার ডিভাইস এর
স্পীড ও
পারফর্মেন্স একধাপ বাড়াবে।
এখন বলবেন
এটা কি আপনার ডিভাইস এর
মেমোরি,RAM ,প্রসেসর
ইত্যাদি বাড়াবে? নাহ …
এটি আপনার হার্ডওয়্যার
এর পরিবর্তন করতে পারবে না।
তবে ফার্মওয়্যার
এ পরিবর্তন ও অপটিমাইজ
করে স্পীড
বাড়াতে পারবে। এখন আসি রুট
কার্নেল নিয়ে। রুট
কার্নেল এর
সাহায্যে আপনি আপনার ডিভাইস
এর
প্রসেসর ক্লক স্পীড ও
হার্ডওয়্যার এর ব্যাবহার
মডিফাই করতে পারবেন। এই
কাস্টম কার্নেল এর
সাহায্যে আপনি আপনার ডিভাইস
এর পারফর্মেন্স
বাড়াতে পারবেন
তবে আপনাকে এডভান্স লেভেল
এর
ইউজার হতে হবে। আজ রুট করলেন
আর কালই
এটা নিয়ে ট্রাই করলেন
তাহলে হবেনা। আগে আরও
অনেক কিছু নিয়ে জানতে হবে।
৭- কাস্টম রম ও রম মডিফাইঃ রম
অথবা ফার্মওয়্যার সিস্টেম
যা ডিফল্ট
ভাবে আপনার ডিভাইস এর
সাথে এসেছে তা আমরা অনেক
সময় মডিফাই
করতে চাই। অথবা দেখা যায়
এটি আমার
ভালো লাগতেছেনা।
ভালো না লাগলে আর কি করার
পরিবর্তন করার ও কোন উপায়
নেই তো নতুন মোবাইল
কিনতে হবে। কিন্তু না… রুট
করলে আপনি আপনার
ডিভাইস এর ডিফল্ট সিস্টেম
অথবা রম এ পরিবর্তন
করতে পারবেন ইচ্ছা মতো। অনেক
ফিচার এড
করতে পারবেন যা নরমালি আপনার
ডিভাইস এ
পাবেন না। এছাড়াও সম্পূর্ণ
সিস্টেম পরিবর্তন
করতে পারবেন যা কাস্টম রম
নামে পরিচিত।
যেমন আমি প্রতি সপ্তাহে আমার
মোবাইল এর রম
চেঞ্জ করি এবং ভিবন্য রম এর
স্বাদ নেই।
এটি শুধুমাত্র সম্ভব রুট করলেই।
এমন ও দেখা যায়
আপনার মোবাইল এ কিছু
একটা ফিচার নেই
যা দামি একটি ডিভাইস এ আছে।
কাস্টম রম
ব্যাবহার এর ফলে আপনি ওই
ফিচার টি ইউজ ও
করতে পারেন।
৮- আলাদা অ্যাপ ইন্সটল ও
ব্যাবহারঃ রুট
করলে আপনি আলাদা কিছু অ্যাপ
ইন্সটল
করতে পারবেন
যা নরমালি আপনি ইন্সটল
করতে পারবেন না। এছাড়াও নরমাল
ভাবে অনেক
অ্যাপ এ অনেক কাজ
করতে পারেনা এবং করতে রুট
এক্সেস চায়। যেমন ধরুন – টাস্ক
কিলার অ্যাপ।
নরমাল ইউজার রা এই টাইপের
অ্যাপ ইউজ
করে আবার রুট ইউজার রাও করে।
সেইম অ্যাপ ইউজ
করে রুট ইউজার বেশি সুবিধা পায়
কারন ওই অ্যাপ
টি এডমিন পারমিশন পায় যার
ফলে সিস্টেম ও
হিডেন কিছু টাস্ক কিল
করতে পারে যাতে করলে আপনার
ডিভাইস এর স্পীড
বাড়ছে।
৯- ইন্টারনাল Storage
বাড়ানোঃ যাদের
ফোনে ইন্টারনাল মেমোরি কম
তারা চাইলে রুট
করার
মাধ্যমে যেকোনো অ্যাপ্লিকেশান
SD কাের্ড
ট্রান্সফার করে নিতে পারবেন।
কিন্তু এই কাজটির
জন্য রুট করা আবশ্যক। কিছু কিছু
অ্যাপ্লিকেশান
Storage ট্রান্সফার করার
ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দিলেও অনেক
অ্যাপস
আছে যেগুলো রুট
করা ছাড়া ট্রান্সফার একরকম
অসম্ভব। যেমন আপনি চাইছেন
আপনার
সেটে জেলিবিন আপডেট করবেন
কিন্তু তার জন্য
আপনি সেটের ডাটা ব্যাকআপ
নিতে চাইছেন। এখন
আপনি যদি ব্যাকাপ নেবার জন্য
কোন বিশেষ
অ্যাপস ইন্সটল করতে চান তার
জন্য অবশ্যই আপনার
সেটটিকে রুট করে নিতে হবে।
১০ – ডিভাইস এর মূল মালিকঃ রুট
করা মানে আপনি আপনার ডিভাইস
এর প্রকৃত মালিক
হলেন। কারন রুট করার আগ মুহূর্ত
পর্যন্ত
আপনি আপনার ডিভাইস এর
এডমিন না। এডমিন হল
আপনার মোবাইল এর
কোম্পানি এবং তাদের
দেয়া ফার্মওয়্যার। তাদের
দেয়া সিস্টেম এ
যা যা জেভাবে আছে আপনাকে সেইভাবেই
ডিভাইস
টি ইউজ করতে হবে। কিন্তু
আমি যেহেতু মালিক
সুতরাং আমি আমার মোবাইল
ইচ্ছামত ইউজ
করবো তাহলে রুট
আপনাকে করতে হবেই। রুট করার
মাধ্যমে আপনি আপনার ডিভাইস
এর সর্বোচ্চ
কন্ট্রোল এক্সেস পাবেন যার
সাহায্যে আপনি অনেক
কিছুই করতে পারবেন। যেমন ধরুন
আপনি সনি ইউজ
করছেন। কিন্তু Samsung এর
ফিচার ও স্টাইল
গুলো ভালো লাগে।
তাহলে আপনি আপনার ডিভাইস
এর ইন্টারফেস ও ফিচার সেরকম
করে পরিবর্তন
করে নিতে পারবেন।
কিন্তু রুট
করার পর দেখা যায় তাদের ডিভাইসের
পারফরম্যান্স আগের মতোই
রয়ে যায়।
তখন তারা হতাশ হয়ে পড়েন ও রুটের
কার্যকারিতা বা আসল সুবিধা কী এই
প্রশ্ন তাদের মনে আবারও
উঁকি দিতে শুরু করে।
এই লেখাটি তাদের জন্যই যাদের রুট
নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই। এই
লেখাটিতে আমি খুব সাধারণভাবে রুট
কী তা বোঝানোর চেষ্টা করবো ও
ডিভাইস রুট করার সুবিধা ও
অসুবিধা সংক্ষেপে বলার
চেষ্টা করবো।
যেহেতু লেখাটি একদমই নতুন
ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্য করে লেখা ,
তাই বেশিরভাগ টেকনিক্যাল
বিষয়গুলো এড়িয়ে কেবল একটি স্পষ্ট
ধারণা দেয়ার
মতো করে লেখাটি সংক্ষেপিত
করা হয়েছে। অ্যাডভান্সড
ব্যবহারকারীরা রুট সম্পর্কে যথেষ্টই
ধারণা রাখেন বলে আমার ধারণা। তাই
লেখাটি তাদের উদ্দেশ্য করে নয়।
রুট কী ?
সবচেয়ে সহজ শব্দে বলা যায় , রুট
হচ্ছে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর
বা প্রশাসক।
যদিও এর বাংলা অর্থ গাছের শিকড়,
লিনাক্সের জগতে রুট বলতে সেই
পারমিশন বা অনুমতিকে বোঝায়
যা ব্যবহারকারীকে সর্বময় ক্ষমতার
অধিকারী করে তোলে ( অবশ্যই কেবল
সেই কম্পিউটার, ডিভাইস
বা সার্ভারে !)
। রুট হচ্ছে একটি পারমিশন
বা অনুমতি।
এই অনুমতি থাকলে ব্যবহারকারী সেই
ডিভাইসে যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন।
উইন্ডোজ
অপারেটিং সিস্টেমে ব্যবহারকারী
অ্যাডমিনিস্ট্রেটর প্রিভিলেজ
ছাড়া সিস্টেম ফাইলগুলো নিয়ে কাজ
করতে পারেন না ( যেগুলো সাধারণত
সি ড্রাইভে থাকে ) । লিনাক্সেও
তেমনি রুট পারমিশন প্রাপ্ত ইউজার
ছাড়া সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের
কাজগুলো করা যায় না।
যিনি লিনাক্স –
চালিত কম্পিউটার
বা সার্ভারে যা ইচ্ছে তাই
করতে পারেন
অথবা যার সব কিছু করার
অনুমতি রয়েছে, তাকেই রুট ইউজার
বলা হয়। অনেক সময়
একে সুপারইউজার বলেও সম্বোধন
করা হয়ে থাকে।
শব্দটি এতোই প্রচলিত হয়ে গেছে যে ,
রুট ইউজার বলার বদলে সরাসরি রুট
বলেই সেই ব্যবহারকারীকে সম্বোধন
করা হয়। অর্থাৎ, আপনার লিনাক্স
অপারেটিং সিস্টেমের আপনি যদি রুট
অ্যাক্সেস প্রাপ্ত ব্যবহারকারী হন ,
তাহলে আপনি রুট।
লিনাক্স এবং অ্যান্ড্রয়েড
অনেকেরই হয়তো খটকা লাগতে শুরু
করেছে যে, অ্যান্ড্রয়েড
নিয়ে কথা বলতে এসে লিনাক্সকে টানা
হচ্ছে কেন। মূলত, অ্যান্ড্রয়েড
অপারেটিং সিস্টেমটি লিনাক্স
কার্নেলের উপর ভিত্তি করেই
তৈরি করা হয়েছে।
যারা কম্পিউটারে লিনাক্সভিত্তিক
অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করেছেন ,
তারা অ্যান্ড্রয়েড রুট করার পর
কম্পিউটারের মতোই ফাইল সিস্টেম
( রুট পার্টিশন ) দেখতে পাবেন
অ্যান্ড্রয়েডে , তখন বিষয়টা আরও
স্পষ্ট হবে।
অ্যান্ড্রয়েডে রুট অ্যাক্সেস
লিনাক্স -ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম
ইন্সটল করার পর আপনার যেই
পাসওয়ার্ড থাকবে, সেটি ব্যবহার
করেই
আপনি রুট অ্যাক্সেস পেয়ে যাচ্ছেন।
এখন নিশ্চয়ই আপনার মনে প্রশ্ন
জাগছে , অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসটিও
তো আপনিই কিনেছেন,
তাহলে আপনি কেন রুট অ্যাক্সেস
পাচ্ছেন না?
ট্রিকটা এখানেই।
আপনি ডিভাইসটি কিনেছেন ঠিকই ,
কিন্তু আপনি কিন্তু
অপারেটিং সিস্টেমটি ইন্সটল করেননি,
তাই না ? ডিভাইস প্রস্তুতকারক
ডিভাইসটি প্যাকেটজাত করার
আগে তাদের কম্পিউটার
থেকে লিনাক্স
কার্নেলের উপর তৈরি অ্যান্ড্রয়েড
অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল
করে দিয়েছে। এখানে বলা বাহুল্য,
অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের
মূল
ভিত্তিটা এক হলেও একেক
কোম্পানি একেকভাবে একে সাজাতে বা
কাস্টোমাইজ করতে পারেন। এই
জন্যই
সনির একটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের
ইউজার ইন্টারফেসের
সঙ্গে এইচটিসির
একটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের
ইন্টারফেসের মধ্যে খুব কমই মিল
পাওয়া যায়।
যাই হোক, মূল বিষয়ে আসা যাক।
আপনার ডিভাইস প্রস্তুতকারক
কোম্পানি ইচ্ছে করেই আপনাকে রুট
অ্যাক্সেস দেয়নি। এ
কথা শুনে কোম্পানির উপর
কিছুটা রাগ
অনুভূত হলেও সত্য কথা হচ্ছে এই যে ,
এটি আপনার ডিভাইসের সুরক্ষার
জন্যই করা হয়েছে। আসুন জেনে নিই
কেন রুট অ্যাক্সেস স্বাভাবিক
অবস্থায়
দেয়া থাকে না।
কেন রুট করা থাকে না
ডিভাইস প্রস্তুতকারকরা ইচ্ছে করেই
ডিভাইস লক করে দিয়ে থাকেন। রুট
ফোল্ডার/
পার্টিশনে থাকা ফাইলগুলো অত্যন্ত
প্রয়োজনীয়। এর
কোনো একটি দুর্ঘটনাবশতঃ মুছে গেলে
আপনার পুরো ডিভাইস কাজ
করা বন্ধ
করে দিতে পারে। এছাড়াও
ম্যালিশিয়াস
বা ক্ষতিকারক প্রোগ্রামও অনেক
সময়
রুট করা ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ
নিয়ে নিতে পারে। কিন্তু লক
থাকা অবস্থায় ব্যবহারকারী নিজেই
রুট
অ্যাক্সেস পান না, তাই অন্য
প্রোগ্রামগুলোর রুট অ্যাক্সেস
পাওয়ার
সম্ভাবনাও নেই বললেই চলে।
ডিভাইস লক করা থাকার
আরেকটি কারণ হচ্ছে সিস্টেম
অ্যাপ্লিকেশন ও ফাইল। অনেকেই
ইন্টারনাল মেমোরি খালি করার জন্য
বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন
এসডি কার্ডে ট্রান্সফার
করে থাকেন।
রুট করা থাকলে সিস্টেম
অ্যাপ্লিকেশনগুলোও ট্রান্সফার
করে ফেলা যায়। কিন্তু
অপারেটিং সিস্টেমের কিছু ফাইল
রয়েছে যেগুলো ইন্টারনাল মেমোরির
ঠিক যেখানে আছে সেখানেই
থাকা আবশ্যক। ব্যবহারকারী যখন
ডিভাইস রুট করেন, তখন স্বভাবতঃই
অনেক কিছু জেনে তারপর রুট করেন।
তখন বলে দেয়াই থাকে যে , কিছু কিছু
সিস্টেম অ্যাপস
এসডি কার্ডে ট্রান্সফার
করলে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু
যদি স্বাভাবিক অবস্থায়ই সেট রুট
করা থাকে ,
তাহলে ব্যবহারকারী না জেনেই সেটের
ক্ষতি করতে পারেন।
এমন একটি চিত্র কল্পনা করুন ,
যেখানে প্রযুক্তি নিয়ে খুব
একটা ধারণা রাখেন না এমন
একজন ভাবলেন যে তিনি তার
ফোনের ইন্টারনাল
মেমোরি ফাঁকা করবেন। এই
উদ্দেশ্যে তিনি রুট
ফোল্ডারে গিয়ে সবগুলো ফাইল
কাট
করে এসডি কার্ডে ট্রান্সফার
করে দিলেন। রুট অ্যাক্সেস
থাকার কারণে ট্রান্সফারের সময়
ডিভাইস তাকে বাধা দেবে না।
কিন্তু ট্রান্সফারের মাঝেই
ফোনটি বন্ধ হয়ে যাবে এবং আর
ঠিকমতো কাজ করবে না। তখন
তিনি দোষ দেবেন কোম্পানির
কাঁধে। কিন্তু রুট লক
করা থাকলে ব্যবহারকারী রুট
ফোল্ডার খুঁজেই পাবেন না।
আশা করছি এবার বুঝতে পারছেন
কেন
ডিভাইস বাই ডিফল্ট রুট
করা থাকে না।
কিন্তু ৯০ % ( কিংবা তারও বেশি )
ডিভাইসই রুট করা যায়। যাদের রুট
করার
একান্ত প্রয়োজন , তাদের রুট করার
উপায় রয়েছে। কিছু কিছু
কোম্পানি ( যেমন সনি ) নিজেদের
সাইটেই ডিভাইস রুট করা থেকে শুরু
করে বিভিন্ন কাজের
প্রণালী দিয়ে রেখেছে। কিন্তু তবুও
কোম্পানি নিজেরা রুট করা ডিভাইস
বাজারে ছাড়ে না, কারণ বেশিরভাগ
ক্রেতাই সাধারণ ক্রেতা হয়ে থাকেন
যাদের ডিভাইস রুট করার
কোনো প্রয়োজনই নেই।
কেন ডিভাইস রুট করবেন ?
ডিভাইস রুট করার কারণ একেক
জনের
একেক রকম হয়ে থাকে। কেউ
ডিভাইসের
পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য
বা ইন্টারনাল মেমোরি ফাঁকা করার
জন্য
রুট করে থাকেন , কেউ
ওভারক্লকিং করার
মাধ্যমে ডিভাইসের
গতি বাড়ানোর জন্য রুট করেন, কেউ
স্বাধীনভাবে কাজ করা ডেভেলপারদের
তৈরি বিভিন্ন কাস্টম রম ব্যবহার
করার
জন্য , কেউ বা আবার রুট করার জন্য
রুট করে থাকেন। আমি নিজেও প্রথম
রুট করেছিলাম কোনো কারণ ছাড়াই।
লিনাক্স ব্যবহার করি বলে বিভিন্ন
সময় রুট হিসেবে অনেক কাজ
করেছি কম্পিউটারে। কিন্তু
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে রুট পারমিশন
না থাকায় একটু কেমন যেন লাগছিল।
তাই রুট হওয়ার জন্য রুট করেছিলাম।
পরে অবশ্য পারফরম্যান্স বাড়ানোর
জন্য বিভিন্ন সিস্টেম অ্যাপ্লিকেশন
ব্যবহার করতে শুরু
করেছি যেগুলো রুট
করা ডিভাইস ছাড়া কাজ করে না।
তবে সেসব নিয়ে পড়ে কথা হবে। চলুন
আগে এক নজর দেখে নিই রুট করার
সুবিধা ও অসুবিধা।
রুট করার সুবিধা
পারফরমেন্স বাড়ানোঃবিভিন্ন
অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার
করে ডিভাইসের অব্যবহৃত ফাইল,
টেমপোরারি ফাইল ইত্যাদি নিয়মিত
মুছে ফোনের গতি ঠিক রাখা।
ওভারক্লকিং করাঃ সিপিইউ স্পিড
স্বাভাবিক অবস্থায়
যতটা থাকে তারচেয়ে বেশি দ্রুত
কাজ করানো। এর
মাধ্যমে কোনো বিশেষ
কাজে প্রসেসরের গতি বাড়ানোর
প্রয়োজন পড়লে তা করা যায়।
আন্ডারক্লকিং করাঃ যখন ডিভাইস
এমনিতেই পড়ে থাকে, তখন সিপিইউ
যেন অযথা কাজ না করে যে জন্য
এর কাজের ক্ষমতা কমিয়ে আনা।
এতে করে ব্যাটারি ব্যাকআপ
বাড়ানো সম্ভব।
কাস্টম ইউআই : আপনার ডিভাইসের
হোমস্ক্রিন, লক স্ক্রিন , মেনু
ইত্যাদি বিভিন্ন ইউজার
ইন্টারফেসের ডিজাইন একটা সময়
পর আর ভালো নাও লাগতে পারে।
তখন আপনি ডিভাইসে নতুনত্ব
আনতে পারবেন নতুন সব কাস্টম
ইউজার ইন্টারফেসের মাধ্যমে।
এগুলোকে অন্যভাবে রমও বলা হয়।
কাস্টম রম : ইন্সটল করার সুবিধা।
অনেক ডেভেলপার বিভিন্ন
জনপ্রিয় ডিভাইসের জন্য কাস্টম
রম তৈরি করে থাকেন। এসব রম
ইন্সটল করে আপনি আপনার
সেটকে সম্পূর্ণ নতুন একটি সেটের
রূপ দিতে পারবেন।
বাইরে থেকে অবশ্যই এর ডানা –
পাখনা গজাবে না বা ক্যামেরা ৫
মেগাপিক্সেল থেকে ৮ মেগাপিক্সেল
হবে না, কিন্তু ভেতরের ডিজাইন ও
ক্ষেত্রবিশেষে পারফরম্যান্সেও
আসবে আমূল পরিবর্তন।
রুট করার অসুবিধা
ওয়ারেন্টি হারানোঃ ডিভাইস রুট
করার মাধ্যমে আপনার
ওয়ারেন্টি বাতিল হয়ে যাবে। তাই
রুট করার আগে সাবধান। অবশ্য
অনেক সেট আবার আনরুট করা যায়।
আর সেট আনরুট
করা হলে তা সার্ভিস
সেন্টারে থাকা টেকনিশিয়ানরা অনেক
সময়ই ধরতে পারেন না যে সেটটি রুট
করা হয়েছিল। তবে কাস্টম রম
থাকলে ধরা খাওয়া এড়ানোর উপায়
নেই।
ফোন ব্রিক করাঃ ব্রিক অর্থ ইট।
আর ফোন ব্রিক মানে আপনার
ডিভাইসকে ইটে রূপান্তরিত করা।
অর্থাৎ, এর কাজ করার
ক্ষমতা হারানো। রুট করা ও এর
পরবর্তী বিভিন্ন কাজের সময় একটু
এদিক -সেদিক হলেই
ফোনে স্থায়ী বা অস্থায়ী সমস্যা
হতে পারে। আপনার ফোনের
প্রস্তুতকারক
কোম্পানি ফোনটি আনরুট অবস্থায়
দেন যেন এর ক্ষতি না হয়। রুট করার
মাধ্যমে আপনি সেই
নিশ্চয়তা ভেঙ্গে ফেলছেন।
রুট করার পদ্ধতি ও শেষ কথা
এই ছিল রুট নিয়ে যত বকবকানি। রুট
নিয়ে বা এর করা -না করা,
উপকারিতা-
অপকারিতা নিয়ে আরও অনেক
কথা বলা যায় , কিন্তু এগুলোই
হচ্ছে বেসিক কথা।
আশা করছি এতটুকু
পড়েই আপনারা বেশ স্পষ্ট
একটি ধারণা পেয়েছেন ডিভাইস কেন
রুট
করা হয় , এর সুবিধা –
অসুবিধা ইত্যাদি।
এখন অনেকেই তাদের ডিভাইস রুট
করতে চাইবেন। তাদের জন্য বলছি ,
একেক ডিভাইস রুট করার
পদ্ধতি একেক
রকম। স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াই রুট
করার পদ্ধতির সঙ্গে এইচটিসি ওয়ান
এক্স রুট করার পদ্ধতির কোনো মিল
নেই। এইচটিসি কেন,
গ্যালাক্সি ওয়াই-
এর সঙ্গে স্যামসাং -এরই অন্য
কোনো সেট রুট করার পদ্ধতি এক
নয়।
এছাড়াও একই ডিভাইস রুট করার
একাধিক পদ্ধতিও রয়েছে। আবার
একটি পদ্ধতি দিয়ে একাধিক ডিভাইস
রুট করা যায়। রুটের বিষয়টি এতোটাই
জটিল ও বিস্তৃত যে, রাতারাতিই এ
নিয়ে সব লিখে ফেলা যায় না।
আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে, নিজেদের
হাতে সেট না থাকলে রুট করার
পদ্ধতি নিয়ে টিউটোরিয়াল লেখাও
যায়
না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ,
বিভিন্ন সময় আমাদের হাতে আসা ও
পরিচিতদের ডিভাইস রুট করার
পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন সময় পোস্ট
প্রকাশ করবো। আর যদি বিশেষ
কোনো ডিভাইস নিয়ে রুট করার
টিউটোরিয়ালের জন্য একাধিক
অনুরোধ
আসে , তাহলে আমরা এক্সডিএ
থেকে অনুবাদ করে টিউটোরিয়াল
দেবো। বলা বাহুল্য, এক্সডিএ
অ্যান্ড্রয়েড বিষয়ক সবচেয়ে বড়
ফোরাম যেখানে অ্যান্ড্রয়েডসহ
বিভিন্ন সিনিয়র রম ডেভেলপারদের
সম্মেলন ঘটে।
এবার আপনার পালা। আপনার
ডিভাইসটি কি রুট করা ? রুট
করা হলে আমাদের জানাতে পারেন
কীভাবে ডিভাইসটি রুট করেছেন। আর
যদি এখনও রুট না করে থাকেন,
তাহলে মন্তব্যের ঘরে বলুন এই
লেখা পড়ে আপনি কী ভাবছেন।
রুট করবেন ? নাকি রুট করবেন না ?

Recuva ডাউনলোড করুন আর কম্পিউটার,মেমোরি কার্ড ও পেন ড্রাইভ থেকে ডিলিট হওয়া ফাইল গুলো এক ক্লিক এ ফিরিয়ে আনুন লিঙ্ক : ডাউনলোড

আমার ব্লগ থেকে ঘুরে আসতে পারেন আমার ব্লগ

2 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ