উইন্ডোজ এইট এবং উইন্ডোজ সেভেন ব্যবহার করুন একি পিসিতে

0
433

উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের সর্বশেষ সংস্করণ উইন্ডোজ এইট। ইতোমধ্যে অনেকেই এটি ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। তবে অনেকেই পুরনো সংস্করণটিকে পছন্দ করে রয়ে গেছেন উইন্ডোজ সেভেনে। কেউবা ইতস্তত করছেন। আদৌ উইন্ডোজ এইট ব্যবহার করবেন কিনা তা নিয়ে চিন্তিত অনেকে। তাদের জন্য এই অপশনটি বেশ কাজে দেবে। উইন্ডোজ সেভেন কে অবিকৃত রেখেই তার সাথে উইন্ডোজ এইট ‘ডুয়েল বুট’ করে নিন। তারপর একইসাথে দুটি সংস্করণ ব্যবহার করে দেখে নিতে পারবেন কোনটি আপনার ভালো লাগে, কোথায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন আপনি। চলুন দেখে নেই ডুয়েল বুট করার ধাপগুলি।

windows-8-40-700x393 উইন্ডোজ এইট এবং উইন্ডোজ সেভেন ব্যবহার করুন একি পিসিতে

শুরুতেই আপনার সিস্টেমের ফাইল ব্যাকআপ নিয়ে নিন। কারণ অনেক সময় পার্টিশন প্রক্রিয়া চলাকালে আপনার মূল্যবান তথ্য হারিয়ে যেতে পারে। পুরোপুরি কিংবা আংশিক মুছে যেতে পারে কোন দরকারি ফাইল। তাই ডুয়েল বুট করার আগে ব্যাকআপ রাখাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
ফাইল ব্যাকআপ রাখা হয়ে গেলে এবার শুরু করতে পারেন পরবর্তী প্রক্রিয়া।

১। প্রথমে উইন্ডোজ সেভেনে একটি নতুন পার্টিশন যোগ করুন।
২। তারপর ইন্সটল করে নিন উইন্ডোজ এইট।

উইন্ডোজ সেভেনে নতুন পার্টিশন যোগ করা:

ধাপ ১:

প্রথমে আপনার উইন্ডোজ সেভেন পিসিতে Win+R শর্টকাট চেপে ‘রান’ অপশনে প্রবেশ করুন। টাইপ করুন “diskmgmt.msc” । টাইপ করার সাথে সাথেই ডিস্ক ম্যানেজমেন্ট উইন্ডো খুলবে।

ধাপ ২:

এখন সি ড্রাইভে উইন্ডোজ এইট এর জন্য স্থান তৈরি করতে হবে। ডিস্ক ম্যানেজমেন্ট এ সি ড্রাইভের উপরে রাইট ক্লিক করুন। সিলেক্ট করুন “Shrink Volume” ।

ধাপ ৩:

একটি নতুন উইন্ডো খুলবে, “Querying volume for available shrink space, please wait” । সিস্টেম রেসপন্সের জন্য অপেক্ষা করুন। তারপর কতটুকু জায়গা সংকোচন করতে চান তা সিলেক্ট করুন।

ধাপ ৪:

আপনার ‘shrink’ টাস্কটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তারপর ‘unallocated partition’-এ রাইট ক্লিক করুন। তারপর সিলেক্ট করুন ‘New Simple Volume’ অপশনটি। তারপর নতুন পার্টিশনটি ফরম্যাট করুন। আপনার ভলিউম লেবেলের নামকরণ করতে পারেন ‘Windows 8’ । (ছবিতে দেখুন)

উইন্ডোজ এইট ইন্সটলেশনঃ

উপরের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে শুরু করবেন উইন্ডোজ এইট ইন্সটল করার প্রক্রিয়া।

ধাপ ১:

পিসিতে বুট্যাবল উইন্ডোজ ৮ ডিভিডি অথবা ইউএসবি ড্রাইভ প্রবেশ করান। তারপর উইন্ডোজ এইট ইন্সটল করার জন্য রিবুট করুন।

ধাপ ২:

উইন্ডোজ সেটআপের সময় ‘Type of installation’ হিসেবে ‘Custom’ অপশনটি সিলেক্ট করুন।

ধাপ ৩:

সেটআপ প্রসেসে অপশন আসবে “Where do you want to install Windows” । এসময় উইন্ডোজ এইট ইন্সটল করার জন্য আপনার তৈরি করা নতুন পার্টিশনটি পছন্দ করুন। (ছবিতে দেখুন)। তারপর সাধারণভাবে শেষ করুন উইন্ডোজ ইন্সটল প্রক্রিয়া।

পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করলেই ডুয়েল বুট হয়ে যাবে এবং আপনি একইসাথে পিসিতে উইন্ডোজ এইট এবং সেভেন ব্যবহার করতে পারবেন। ইন্সটলেশন শেষ হবার পর আপনার বুট মেনুতে উইন্ডোজ এইট এবং সেভেন দুটোই দেখাবে। বুট মেনু থেকে ৩০ সেকেন্ডের মাঝেই উইন্ডোজ এইট ডিফল্ট হিসেবে স্টার্ট হয়ে যাবে। তবে আপনি চাইলে উইন্ডোজ সেভেন-ও ডিফল্ট হিসেবে সেট করতে পারবেন। সেজন্য বুট মেনুতে “Change defaults or choose other options” অপশনটিতে প্রবেশ করে পরিবর্তন করে নিন।

উইন্ডোজ এইটের গ্রাফিক্স বেশ সুন্দর। এছাড়াও অনেক নতুন ফিচার এতে যোগ করেছে মাইক্রোসফট। তবে নতুন পরিবেশে আপনার শুরুতে কিছুটা অস্বস্তি লাগলেও কিছুদিন ব্যবহার করলেই তা দূর হয়ে যাবে। উইন্ডোজ এইট এবং সেভেন একসাথে ব্যবহার করে বুঝে নিন কোনটি আপনার বেশী ভালো লাগছে।

একটি উত্তর ত্যাগ