১০টি টিপস নিয়ে নিন মোবাইল ডিভাইস এর নিরাপত্তায়

0
304

আমাদের দেশে অ্যান্ড্রয়েড চালিত স্মার্টফোন এর ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলছে। স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাথে এর নিরাপত্তার বিষয়টিও এখন গুরুত্তপূর্ন হয়ে উঠেছে। ডেক্সটপ কিংবা ল্যাপটপ এর ইন্টারনেট ভিত্তিক অনেক কাজই এখন মানুষ স্মার্ট ফোনে সেরে ফেলেন। এতে করে ইন্টারনেট ভিত্তিক বিভিন্ন ভাইরাস স্মার্ট ফোনে ঢুকে যাওয়ার ঝুঁকিও মারাত্মক আতঙ্ক হয়ে দাড়িয়েছে। তাছাড়াও ওঁত পেতে থাকা হ্যাকারদের ভয় তো আছেই। বিশ্বখ্যাত এন্টিভাইরাস নির্মাতা অ্যাভিরার পক্ষ থেকে মোবাইল ডিভাইসের নিরাপত্তা বিষয়ক ১০ট টিপস প্রকাশ করা হয়েছে যা অনুশরন করে আপনার স্মার্টফোনকে কিছুটা হলেও নিরাপদ রাখতে পারেন।

টিপস ১- ডিভাইসে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড সেট করাঃ

পাসওয়ার্ড নির্ধারনের ক্ষেত্রে আপনার ফোন নম্বর, জন্মদিনের তারিখ কিংবা আপনার বহুল ব্যবহৃত কোন নাম্বার ব্যবহার করবেন না। পাসোয়ার্ডটিতে অবশ্যই ছোট হাতের এবং বড় হাতের অক্ষরের মিশেল রাখবেন।

টিপস ২- একটি এন্টি-থেপ্ট সল্যুশন সেট করুনঃ

ল্যাপ্টপ কিংবা ডেক্সটপের তুলনায় স্মার্টফোন খুব হরহামেশাই হারায় কিংবা চুরি হয়ে থাকে। তাই মোবাইলে এন্টি-থেপ্ট সল্যুশনের ব্যবহার খুবই গুরুত্তপূর্ণ। কিছু কিছু মোবাইলে এই সল্যুশনটি ইন্সটল করাই থাকে। যেমনঃ আইফোন এ ‘ফাইন্ড মাই আইফোন’। তবে যাদের ফোনে এই ধরনের সল্যুশন থাকে না, তারা অ্যাভিরা ফ্রি মোবাইল সিকিউরিটি টাইপের বিশ্বস্ত কোন ব্রান্ডের মোবাইল সিকিউরিটি ব্যবহার করতে পারেন।

টিপস ৩- অপারেটিং সিস্টেমের হালনাগাদ ভার্শন ইন্সটল করুনঃ

কিছু কিছু অপারেটিং সিস্টেম নিজে নিজেই হালনাগাদ হয়ে থাকে। তবে আপনার স্মার্ট ফোনে সমর্থন করে এমন সর্বশেষ হালনাগাদ ভার্শনের অপারেটিং সিস্টেমটি ব্যবহারের চেষ্টা করুন। এতে শুধুমাত্র আপনার অপারেটিং সিস্টেমে নিতুন ফিচারই যোগ হবে না, ফোনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও হালনাগাদ হয়ে থাকে। ফলে ভাইরাস আক্রমনের স্বীকার হওয়ার সম্ভবনা কম থাকে।

টিপস ৪- অ্যাপসমূহ হালনাগাদকরনঃ

অপারেটিং সিস্টেমের মত অ্যাপস গুলোও হালনাগাদ করে রাখা উচিৎ। অ্যাপ’স গুলো হালনাগাদ রাখার মাধ্যমেও স্মার্টফোনটিকে অনেকখানি নিরাপদ রাখা সম্ভব।

টিপস ৫- একটি সিকিউরিটি সল্যুশন ইন্সটল রাখা

অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ’স গুলো দেখতে যেমন মনে হয়, সত্যিকার অর্থে সেগুলো সেরকম নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখাযায়, অ্যাপ’স গুলোতে সব ফিচারের কথা বলা থাকে, সেগুলো বাস্তবে সেসব কাজ করে না। তাই একটি ভাল মানের সিকিউরিটি সল্যুশন ব্যাবহারের মাধ্যমে অপরিচিত ম্যলওয়্যারের আশংকা থেকে নিরাপ থাকা যায়।

টিপস ৬- আনঅফিসিয়াল অ্যাপস্টোর থেকে ডাউনলোড না করা

স্মার্টফোনে ওয়েব ব্রাউজ করার সময় এন্ড্রয়েড এর জন্য হাজার হাজার অ্যাপলিকেশন এর অফার পাওয়া যায়। কিন্ত, অপরিচিত এবং আনঅফিসিয়াল কোন স্টোর থেকে অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড কিংবা ইন্সটল করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারন অধিকাংশ আনঅফিশিয়াল অ্যাপ স্টোরগুলোতে ম্যালওয়্যার সংক্রামনের সমূহ সম্ভাবনা থাকে।

টিপস ৭- স্মার্ট ফোনের সকল পার্ট’স না খোলা

অনেককে অতি আগ্রহি হয়ে স্মার্ট ফোনের বিভিন্ন পার্ট’স খুলে নাড়া চাড়া করতে দেখা যায়। এটা করলে ডিভাইসের ওয়ারেন্টি জনিত সমস্যার পাশাপাশি নিরাপত্তা জনিত সমস্যার দুয়ারও খুলে যেতে পারে।

টিপস ৮- অনিরাপদ ওয়াইফাই থেকে বিরত থাকুন

বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কিংবা বিভিন্ন স্থানে ওয়াই-ফাই উন্মুক্ত থাকে। আপনি যখনই অনিরাপদ ওয়াই-ফাই নেটোয়ার্কে যুক্ত হবেন, তখনি আপনার স্মার্ট ফোনে সংরক্ষিত পাসোয়ার্ড সহ গুরুত্তপূর্ণ তথ্য প্লেইন ডাটা হিসেবে সেই নেটোয়ার্কে চলে যেতে পারে।

টিপস ৯- নিরাপত্তার বিষয়টি সব সময় মাথায় রাখা

নন-উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের ফলে অনেকেই ভাইরাসে আক্রান্ত হবার বিষয়টি ভুলে যান যা কোণ ভাবেই কাম্য নয়। কারন আপনি যেকন সন্দেহ জনক ওয়েবসাইট ব্রাউজিং, ই-মেইল এটাচমেন্ট খোলা কিংবা অ্যাপ’স ব্যবহারের সময় আপনার মনের অজান্তেই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন কিংবা আপনার গোপন তথ্য অন্যের হাতে চলে যেতে পারে।

টিপস ১০- সর্বক্ষেত্রে নিজের ই-মেইল আইডি ব্যবহার করা

বর্তমানে দেশে এবং বিদেশে অনলাইন ব্যাংকিং বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। পিসির মত মোবাইল ডিভাইসেও যেকোন সিকিউরিটি সল্যুশন ইন্সটল করার সময় নিজের ই-মেইল আইডি থেকে রেজিস্ট্রেশন করলে অনেক ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

আসলে এই সতর্কতা গুলো অবলম্বন করলেই যতসব অনাকাঙ্খিত বিপদের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। আর যেহেতু এখন আমরা টেকনলজির যুগে বসবাস করছি তাই নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষার জন্য আপনার এই পদক্ষেপটুকু আপনাকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

একটি উত্তর ত্যাগ