এখন মোবাইল ফোন চার্জ হবে বাতাসের শক্তিতে

0
465

মোবাইল বর্তমান সময়ে জীবনযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। মোবাইল ছাড়া বেশীর ভাগ মানুষতো ঘর থেকে বের হতেই চান না। শুধুই কি যোগাযোগের জন্য প্রয়োজন? ছবি তোলা, গান শোনা, ভিডিও করা, ইন্টারনেট ব্যবহার করা, বই পড়া ইত্যাদি নানা বৈচিত্র্যময় কাজের জন্য দিনকে দিন মোবাইলের প্রয়োজনীয়তা বেড়েই চলছে। শুধু একটাই সমস্যা, বহনযোগ্য এই ইলেকট্রিক ডিভাইসটি ব্যাটারিতে চলে, এবং চার্জ ফুরিয়ে গেলে আবার চার্জ দিতে হয়! অনেক সময় চার্জ করার ব্যাপারটা মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ সময়ের জন্য বাইরে কোথাও গেলে শুধু মোবাইল সাথে নিলে চলবে না, সাথে করে তার চার্জারটিও মনে করে নিয়ে যেতে হয়। চার্জার সাথে নিলেই কী সমস্যার শেষ আছে? আপনি হয়ত এমন জায়গায় গেলেন যেখানে বিদ্যুতই নেই। আর বিদ্যুৎ থাকলেই বা কি? চার্জ করতে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেবার জায়গা খুঁজে বের করাটাও কোন কোন সময় বেশ ঝামেলা হয়ে দাঁড়ায়। মোবাইল চার্জ করার এত সব হ্যাপা থেকে সম্ভবত শীঘ্রই মুক্তি মিলতে যাচ্ছে! কারণ, বিজ্ঞানীরা বাতাসের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মোবাইল চার্জ করা পথে বেশ কিছু দূর এগিয়ে গেছেন।

Mobile-phone-charger1 এখন মোবাইল ফোন চার্জ হবে বাতাসের শক্তিতে

সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে মোবাইল চার্জ করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু গবেষণা আগে হয়েছে। এবার বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন বাতাসের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মোবাইল কিভাবে চার্জ করা যায় তা নিয়ে। আমেরিকার টেক্সাসে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস আরলিংটন- এর ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক শিক্ষক ও তার গবেষণা সহযোগী এমন একটি অতিক্ষুদ্র বায়ুকল (Micro Windmill) আবিষ্কার করেছেন, যেটার সাহায্যে বাতাসের শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তিত করা যাবে। আর এই অতিক্ষুদ্র বায়ুকল প্রযুক্তি দিয়ে মোবাইলের ব্যাটারিকে যে কোন সময় চার্জ করা যাবে অনায়াসেই।

প্রফেসর জে. সি. চিয়াও এবং তার গবেষণা সহযোগী স্মিতা রাও মোবাইল চার্জ করার জন্য যে বায়ুকল ডিজাইন করেছেন সেটা এতই ক্ষুদ্র যে, চালের একটি দানার উপর এ রকম দশটি বায়ুকল অনায়াসেই এটে যাবে। ছোট একটি ইলেকট্রিক ডিভাইসে এরকম কয়েকশ বায়ুকল যুক্ত থাকবে, আর ডিভাইসটি যুক্ত থাকবে মোবাইলের সাথে। মোবাইলটি তখন বাতাসে নাড়ালে বা বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে এমন কোথাও, যেমন- জানালার কাছে বা রুমে ফ্যান চালু অবস্থায় টেবিলের উপর, মোবাইলটি রেখে দিলে বাতাসের প্রভাবে অতিক্ষুদ্র বায়ুকলগুলোর পাখা ঘুরতে থাকবে, আর বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়ে মোবাইলের ব্যাটারি চার্জ হতে থাকবে। প্রফেসর চিয়াও বলেন, “মনে করুন, আপনার মোবাইলের চার্জ ফুরিয়ে গেলো। আপনি শুধু বায়ুকলের ডিভাইসটি মোবাইলে লাগাবেন, আর কয়েক মিনিট বাতাসে মোবাইলটি ঘুরাবেন। এখন আপনি মোবাইলটি আবার ব্যবহার করতে পারবেন।”

ইতিমধ্যে তাইওয়ানের একটি মাইক্রো-রোবোটিক ডিভাইস তৈরির কোম্পানি প্রজেক্টির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত উইনমেমস (WinMEMS) নামক এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা প্রজেক্টের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে ২০১৩ সালে বেশ কয়েকবার ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস আরলিংটন-এর ক্যাম্পাস ভ্রমণ করেছেন। গত বছরের সেপ্টেবর মাসে প্রফেসর চিয়াও-এর ল্যাবে অতিক্ষুদ্র এই বায়ুকলের একটি সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। অতিক্ষুদ্র বায়ুকল প্রজেক্টিকে বাজারের মাধ্যমে ভোক্তার কাছে নিয়ে যেতে ইউনমেমস পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাথে একটি চুক্তিও সম্পন্ন করে।

“আমরা যখন কোম্পানিটিকে অতি ক্ষুদ্র বায়ুকলের আইডিয়ার কথা বলছিলাম আর কিভাবে এটি কাজ করবে তার একটি ডেমো ভিডিও দেখাচ্ছিলাম, তখন তারা কিছুটা বিস্মিত হয়েছিলেন।” বলছিলেন স্মিতা রাও। “এটা ছিল তাদের এবং তাদের বিনিয়োগকারীদের কাছে অনেকটা চমকের মত।”

প্রজেক্টটি শুরুতেই ইউনমেমস-এর মত একটি বিশ্বখ্যাত কোম্পানির নজর কাড়তে পেরে এবং পণ্য হিসেবে এটাকে বাজারে নিয়ে আসতে প্রয়োজনীয় চুক্তি করতে পেরে শিক্ষক ও তার প্রাক্তন ছাত্রী দু’জনেই দারুন খুশী। প্রফেসর চিয়াও বলেন, “আমার এককালের শিক্ষার্থীর এমন সফলতায় আমি দারুন আনন্দিত।”

নিজের প্রজেক্ট ও উইনমেমস-এর সাথে কাজের ব্যাপারে রাও বলেন, “এটা অনেক আনন্দের আর অনেক স্বস্থির একটা বিষয়।” তবে, প্রজেক্টি নিয়ে এখনও বেশ কিছু দূর পাড়ি দিতে হবে। সে ব্যাপারে রাও বলেন, “আমার মতে, এই অতিক্ষুদ্র বায়ুকলগুলোকে কিভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে সে ব্যাপারে আমরা প্রাথমিক কিছু কাজ করেছি।”

উৎপাদন খরচ কম হবে বলে ডিভাইসটির বাজার দরও কম হবে। ক্ষুদ্র আকৃতি আর কম উৎপাদন করচের কথা মাথায় রেখে প্রফেসর চিয়াও অতিক্ষুদ্র বায়ুকলটির আরও কিছু সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। তার মতে প্রজেক্টটি সফল হলে এটাকে আরও নানা কাজে ব্যবহার করা যাবে। ঘর বা অফিসের দেয়ালে হাজার হাজার অতিক্ষুদ্র বায়ুকল স্থাপন করা যাবে। সেখান থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ ঘরের বাতি জ্বালানো, সিকিউরিটি ক্যামেরা চালানোর মত অনেক কাজেই ব্যবহার করা যেতে পারে।

একটি উত্তর ত্যাগ