মনে কু-প্রবৃত্তির তাড়না হলে কি করা উচিত

0
670

islamic মনে কু-প্রবৃত্তির তাড়না হলে কি করা উচিতমানুষ আল্লাহ্ সুবহানাহুতায়ালার এক রহস্যময় সৃষ্টি। তিনি চান বান্দাগণ তাকে বুঝে তার স্তুতি ও ইবাদত করুক। এজন্য তিনি জ্ঞান অর্জনকে অত্যান্ত তাৎপর্যপূর্ণ করেছেন। বর্তমান জামানায় এত বেশি বিদয়াত (নব্য উদ্ভুত) নিয়ম
কানুন চালু হয়ে গেছে যে, আমাদের সঠিকভাবে কুরআন এবং সুন্নাহ জেনে বুঝে আমল করার বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। যাহোক এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে আরো অনেক কথাই চলে আসবে যদি আল্লাহ্ সুবহানাহুতায়ালা
তৌফিক দেন তবে অন্য কোন পোষ্টে আবার ব্যাপকভাবে আলোচনা করব ইনশা’আল্লাহ্। আমি আজকে যে বিষয়ে আপনাদের মনে করিয়ে দেয়ার জন্য আলোচনা শুরু করেছি তা একটি খুবই জুরুরী বিষয় কিন্তু আমরা
অনেকেই তা ভাবতে পারিনা। এমন কোন মানুষ নাই যার মনে কু-চিন্তার উদ্রেক না হয়! একটা ব্যাপার খেয়াল করবেন আজকে জন সমাজে পরস্পরকে সম্বোধন করার সময় এবং বিভিন্ন ধরনের আড্ডায় আমরা কত অশ্লীল
এবং অপ্রীতিকর শব্দ চয়ন করি! অথচ জিহ্বাকে আল্লাহ্ সুবহানাহুতায়ালা সবসময় তাঁর জিকির-আজকারে ব্যস্ত রাখতে বলেছেন!

হাদিস শরীফে এসছে মুহাম্মাদুর রাসুল্লুলাহ (সা:) বলেছেন “প্রতিটি মানুষ সারা জীবনে যত গুনাহ করবে তার সিংহ ভাগই হবে দুই তালুর মধ্যবর্তী অঙ্গ (জিহ্বা) এবং দুই জানু’র মধ্যবর্তী অঙ্গ (লজ্জা স্থান) দ্বারা”! তিনি আরো
বলেছেন “যে ব্যক্তি আমার কাছে তার জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের হেফাজতের অংঙ্গীকার করবে কিয়ামতের দিন আমি মুহাম্মাদুর রাসুল্লুলাহ (সা:) তার জন্য শাফায়াত করব”।

বন্ধুগণ উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন যদি আপনি শুধুমাত্র এই দুই অঙ্গের হেফাজতকারী হন তাহলেই আপনার জীবনের ৭৫ শতাংশ (সিংহ ভাগ) পাপের সম্ভাবনা কমে যাবে, নাজাত পাওয়া সহজ হবে এবং যে দিবসকে মহান
আল্লাহ্ সুবহানাহুতায়ালা কুরআন মজীদে “ভীষণ বিপদের দিন” (কিয়ামত দিবস) হিসেবে উল্লেখ করেছেন সেদিন আপনি স্বয়ং মুহাম্মাদুর রাসুল্লুলাহ (সা:) এর সুপারিশ পাওয়ার জন্য মনোনীত হবেন!

তাই সর্বদা চেষ্টা করুন যেন মনে কু-চিন্তা এলে তা প্রকাশ হয়ে না পড়ে। সহীহ মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে একদা একজন সাহাবী (রা:) মুহাম্মাদুর রাসুল্লুলাহ (সা:) কে জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রাসুল্লুলাহ (সা:) আমার মনে যখন
কুচিন্তার উদ্রেক হয় তখন আমি কি করব? তিনি বললেন “তা কারো কাছে প্রকাশ করো না এবং তা বাস্তবায়ন করোনা, এটাই ঈমানের সুস্পষ্ট নিদর্শন”।

তার মানে এটা প্রতীয়মান হচ্ছে যে, ঈমানদারগণের মনে কুচিন্তা আসবেই আর তা গোপন করতে পারাটাই ঈমানের শুধু চিহ্ন নয় বরং সুস্পষ্ট চিহ্ন! আরেক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে মুহাম্মাদুর রাসুল্লুলাহ (সা:) সাহাবীদের (রা:)
উদ্দেশ্যে বললেন শয়তান তোমাদেরকে প্রশ্ন করবে, তোমাদেরকে কে সৃষ্টি করেছে? অমুক জিনিষ কে সৃষ্টি করেছে, তারপর আরো বলবে আসামান কে সৃষ্টি করেছে এভাবে একসময় সে তোমাকে জিজ্ঞাসা করবে তাহলে তোমার
আল্লাহ্-কে কে সৃষ্টি করেছে? তখন তোমরা বলবে ‘আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি’।

আল্লাহ্ সুবহানাহুতায়ালা শয়তানের উসিলায় আসলে বান্দাগণকে পরীক্ষা করে থাকেন।  আর আল্লাহ্ সুবহানাহুতায়ালা স্বয়ং অস্তীত্বশীল
সমস্ত সৃষ্টির একমাত্র মহাকারণ। আপনারা হয়ত দার্শনিক এরিষ্টটল এর ‘কার্যকারণ তত্ত্ব’ জেনে থাকবেন যেখানে বলা হয়েছে সমস্ত কারনের একটি কারন আছে, সেই কারনেরও একটি কারন আছে কিন্তু একটি মাত্র মহাকারন
আছে যে কারনের কোন কারন নেই। আসলে আল্লাহ্ সুবহানাহুতায়ালা-ই হচ্ছেন সেই মহাকারন যিনি সমস্ত কারনের একমাত্র উৎস এবং যার কোন কারন নেই। সুতরাং মনে যে কোন ধরনের কু-চিন্তাই আসুক না কেন আমাদের
তা প্রকাশ না করে আল্লাহতায়ালা-কে ভয় করে তার উপর ঈমান এনেছি এটি ভাবাই প্রকৃত ঈমানদারের পরিচায়ক। অন্য কথায় বলা যায়, কু-চিন্তা প্রকাশ করলেই গুনাহ্ হবে আর গোপন করলেই প্রকৃত ঈমানদার হওয়া যাবে।
আসুন আমরা ইসলামকে নিজে পড়াশুনার মাধ্যমে আরো প্রকৃতভাবে জানি এবং বিদয়াতের (ভুল ধারনার) সমূল উপাটন করে প্রকৃত হুকুম আহকাম মেনে আমাদের আখেরাতের আসল জীবনের বিপদ থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিই।

আল্লাহ্ সুবহানাহুতায়ালা আমাদের জীবনের ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করুন। আমীন।

একটি উত্তর ত্যাগ