বিক্রি হবে টিভি চ্যানেল!

0
460

আশানুরূপ লোকবল ও অর্থসংকটের কারণে সম্প্রচারে যেতে পারছে না নতুন লাইসেন্স পাওয়া ১৩টি বেসরকারি টিভি চ্যানেল। সম্প্রচারে থাকা চ্যানেলগুলোর মধ্যেও বেশ কয়েকটির আর্থিক অবস্থা নাজুক। সময়মতো বেতন-ভাতা দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন ওইসব টিভি চ্যানেল মালিকরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি টিভি চ্যানেলের মোট ৪১টি। এর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচারে আছে ২০টি। এগুলো হচ্ছে : এনটিভি, আরটিভি, বাংলাভিশন, চ্যানেল আই, এটিএন বাংলা, এটিএন নিউজ, মোহনা, মাছরাঙা, একাত্তর, সময়, এসএ টিভি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট, এশিয়ান, বিজয়, মাই টিভি, একুশে, জিটিভি, দেশ, চ্যানেল নাইন, চ্যানেল সিক্সটিন ও চ্যানেল টোয়েন্টিফোর। আর বন্ধ রয়েছে ইসলামিক টিভি, দিগন্ত টিভি ও চ্যানেল ওয়ান। এর বাইরে দীপ্ত বাংলা, গান বাংলা, যমুনা টিভি, চ্যানেল ৫২ এবং চ্যানেল ফাইভ পরীক্ষামূলক সম্প্রচারে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে আসতে পারছে না পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচারে। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ লোকবলসংকটই তাদের জন্য বড় বাধা বলে জানা গেছে।

তবে লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে যমুনা টেলিভিশন একধাপ এগিয়ে আছে। যমুনা টেলিভিশনের হেড অব নিউজ জাকারিয়া কাজল এবং চিফ নিউজ এডিটর ফাহিম আহমেদ পৃথক সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি রাইজিংবিডিকে বলেন, তাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। খুব শিগগির পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচারে আসছে চ্যানেলটি।

দীপ্ত বাংলা টিভি চ্যানেলটি কাজী ফার্মস গ্রুপের। তারা গত এক বছরের মধ্যে দুই দফা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছে লোকবলের জন্য। কিন্তু সেই নিয়োগ-প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। কবে নাগাদ শেষ হবে, আর পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচারেই বা কবে আসবে চ্যানেলটি, জানতে চাইলে এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী দীপ্ত বলেন, এ বিষয়ে কথা বলার সময় এখন আসেনি। তাই তিনি কিছু বলতে চাননি।

নতুন টেলিভিশন চ্যানেল হিসেবে যে ১৩টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেয়েছে সেগুলো হচ্ছে- গ্রিন মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের গ্রিন টিভি (চেয়ারম্যান গাজী গোলাম দস্তগীর; পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হাছান মাহমুদ সুপারিশকারী), ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের নিউজ টোয়েন্টিফোর (ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান), মিলেনিয়াম মিডিয়া লিমিটেডের তিতাস টিভি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক ধানাদ ইসলাম দীপ্ত; সুপারিশকারী প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন তাজ), ঢাকা বাংলা মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন লিমিটেডের ঢাকা বাংলা টেলিভিশন (ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী), মিলেনিয়াম মাল্টিমিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের মিলেনিয়াম টিভি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদ; সুপারিশকারী মমতাজ বেগম এমপি), নিউজ অ্যান্ড ইমেজের নিউভিশন টিভি (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ আলমগীর; সুপারিশকারী সুকুমার রঞ্জন এমপি), বারিন্দ মিডিয়া লিমিটেডের রেনেসাঁ টিভি (চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আলম এমপি), রংধনু মিডিয়া লিমিটেডের রংধনু টিভি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক এইচ এম ইব্রাহিম; সুপারিশকারী খালিদ মাহমুদ এমপি), বিএসবি ফাউন্ডেশনের ক্যামব্রিয়ান টেলিভিশন (চেয়ারম্যান লায়ন এম কে বাশার), জাদু মিডিয়া লিমিটেডের জাদু মিডিয়া টিভি (চেয়ারম্যান আনিসুল হক), মিডিয়া বাংলাদেশ লিমিটেডের আমার গান টিভি (চেয়ারম্যান তরুণ দে), ব্রডকাস্ট ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ লিমিটেডের চ্যানেল টোয়েন্টি ওয়ান (ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন কৌশিক) এবং এটিভি লিমিটেডের এটিভি (চেয়ারম্যান আব্বাস উল্লাহ)।

নতুন লাইসেন্স পাওয়া এসব চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তাদের বেশিরভাগই অর্থসংকটে আছে। বিনিয়োগকারী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য আবার কেউ কেউ বিক্রির চিন্তাও করছেন। তবে আকার-ইঙ্গিতে বোঝালেও অর্থসংকটের কথা কেউ মুখে স্বীকার করতে চান না।

আর্থিক সমস্যায় নেই বসুন্ধরা গ্রুপের নিউজ টোয়েন্টিফোর। তারা পরীক্ষামূলক সম্প্রচারে আসার জন্য কাজ শুরু করেছেন। ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম এরই মধ্যেই চ্যানেলটির পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি রাইজিংবিডিকে জানান, তথ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেও সরকারের আরো দু-একটি সংস্থা থেকে কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি। এর মধ্যে সরঞ্জাম ক্রয়সংক্রান্ত অনুমতি অন্যতম। এই অনুমতি পেলেই আগামী জুনের মধ্যে সরঞ্জাম আমদানি করবে নিউজ টোয়েন্টিফোর। ইতিমধ্যে দুজন প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান নঈম নিজাম।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (টিভি-২) আক্তারুজ্জামান তালুকদার রাইজিংবিডিকে জানান, ২০১৩ সালের ২৪ নভেম্বর নতুন করে ১৩টি চ্যানেলের লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। তবে কে কবে সম্প্রচারে আসবে তার সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। টিভি চ্যানেলগুলো কেমন চলছে, কোন খাতে কী ব্যয় করছে কিংবা কোথা থেকে আয় করছে তা জানার জন্য নিয়মিত অডিট করা হয় বলেও জানান আক্তারুজ্জামান তালুকদার।

একটি উত্তর ত্যাগ