দুষ্ট জ্বীনের ক্ষতিকর আছর ও আমাদের করণীয়

0
1295

মানুষ যেমন আল্লাহর সৃষ্টি তদ্রুপ জ্বীন ও আল্লাহর সৃষ্টি। মানুষের মতো তাদেরও বিবেক, বুদ্বি, অনুভূতিশক্তি রয়েছে। তাদের আছে ভালো ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা। জ্বীনসহ সকল  সৃষ্টিই মানবের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তুু কখনো কখনো দুষ্ট জ্বীনেরা মানুষের ক্ষতির কারন হয়ে থাকে। তাই এই দুষ্ট জ্বীনের ক্ষতিকর আছর থেকে রক্ষার জন্য কুরআন ও হাদীসের নির্দেশনাগুলো সবার জেনে রাখা দরকার।

আরবী জ্বীন শব্দের অর্থ গোপন। তারা মানুষের দৃষ্টি থেকে গোপন থাকে বলেই তাদের নাম রাখা হয়েছে জ্বীন।
যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে বলেন :

নিশ্চয় সে ও তার দলবল তোমাদেরকে দেখে, যেখানে তোমরা তাদেরকে দেখনা। ( সূরা আল আরাফ : আয়াত-২৭ )

আল্লাহর নবী হযরত আইউব আলাইহিস সালামকে জ্বীন শয়তান আছর করে শারীরিক রোগ-কষ্ট বৃদ্ধি করে দিয়েছিল।
এবং  শয়তানের আছর থেকে বাঁচার জন্য তিনি আল্লাহর কাছেই পার্থনা করেছিলেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে বলেন :

আর স্মরন কর আমার নবী আইউবকে, যখন সে তাঁর রবকে ডেকে বলেছিল, শয়তানতো আমাকে কষ্ট ও আযাবের ছোঁয়া দিয়েছে। (সূরা সাদ : আয়াত-৪১)

অনেক সময় আমরা ঠিক করতে পারিনা রোগটা কি মানসিক, নাকি দুষ্ট জ্বীনের ক্ষতিকর আছর থেকে রোগ দেখা দিয়েছে। তাই কখনো আমরা মানসিক রোগীকে জ্বীনে-ধরা রোগী বলে থাকি। তেমনি আবার জ্বীনে-ধরা রোগীকে মানসিক রোগী বলে চালাতে চেষ্টা করি। বিশেষ করে ডাক্তার ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা কোনভাবেই জ্বীনের আছরকে স্বীকার করতে চান না। তারা এ জাতিয় সকল রোগীকে মানসিক রোগী বলে সনাক্ত করে থাকেন।

পাগলামীকে আরবীতে বলা হয় জুনূন। আর পাগলকে বলা হয় মাজনূন। আরবীতে এ জুনূন ও মাজনূন শব্দ দুটি কিন্তু জ্বীন শব্দ থেকে  এসেছে। কাজেই কাওকে পাগলামীর মতো অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখলে সেটা যেমন জ্বীনের আছরের কারণে হতে পারে, আবার তা মানসিক রোগের কারনেও হতে পারে।

জ্বীনে-ধরা রোগীর সামনে কুরআনের বিশেষ বিশেষ আয়াত তেলাওয়াত করা।  সম্পূর্ণ আল কুরআনই শিফা বা আরোগ্য লাভের মাধ্যম। আল কুরআনের বহু স্থানে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনকে শিফা বলেছেন। যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে বলেনÑ

আর আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করেছি যা রোগের সূচিকিৎসা এবং মুমিনদের জন্য রহমত। (সূরা ইসরা : আয়াত-৮২)

জ্বীনে-ধরা রোগীর কাছে কুরআনের বিশেষ বিশেষ আয়াত তেলাওয়াত করা হলে জ্বীন ছেড়ে যায় আর রোগী ভালো হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সীরিন (রহ) কর্তৃক আব্দুল্লা বিন উমার (রা) থেকে তেত্রিশটি আয়াতের কথা বর্ণিত আছে। যদিও হাদীসের সনদটি সহীহ্ নয় কিন্তু আল কুরআনের আয়াতের প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই। কোন কোন বর্ণনায় সূরা হাশরের ২১ থেকে ২৪ নং আয়াত পাঠ করার কথা এসেছে। আবার সূরা কাফেরুন, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক,সূরা নাস পাঠ করার কথাও এসেছে। সূরা সাফফাত পাঠে জ্বীন শয়তান ভয় পেয়ে যায় বলে হাদীসে এসেছে। আয়াতুল কুরসীর আমল ও ফজিলততো আমাদের সকলেরই জানা।

মূল কথা হলো তেত্রিশটি আয়াত-ই পাঠ করতে হবে এমন কোন বিধান নেই। তবে এ আয়াতগুলো ও এর সাথে অন্যান্য যে সকল আয়াতের কথা আলোচনা হয়েছে এগুলো সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে খুবই অর্থবহ, তাতপর্যপূর্ণ, বরকতময়। আর অভিজ্ঞতায় এর কার্যকারিতা প্রমাণিত।

একটি উত্তর ত্যাগ