মঙ্গল অভিযানে নভোচারীদের বন্ধ্যত্বের আশঙ্কা

2
351

পৃথিবীর বাইরে আর কোথাও উপনিবেশ গড়ে তোলার ব্যাপারে বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে পছন্দের জায়গা মঙ্গল গ্রহ…কিন্তু নভোচারীদের মঙ্গল অভিযানের সময় উচ্চ মাত্রার শক্তি বিকিরণের কারণে বন্ধ্যত্ব কিংবা শুক্রাণু নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন গবেষকরা

নাসা এমিস রিসার্চ সেন্টারের জৈবপদার্থবিজ্ঞানী টোর স্ট্রাম এ বিষয়ে ‘জার্নাল অব কসমোলোজি’তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানান,,মহাশূণ্যে মানুষের অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য উপনিবেশ স্থাপন করা,যেখানে প্রজনন একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত…অথচ কিছু বিশেষ ধরনের মহাকাশীয় বিকিরণ মানুষের প্রজনন প্রক্রিয়াকে বন্ধ্য করে তুলতে পারে

অন্যসব স্তন্যপায়ী প্রাণীর ওপর এই বিকিরণ সংক্রান্ত গবেষণায় দেখা গেছে,অল্প মাত্রায় আয়নিত বিকিরণও গর্ভাবস্থায় একটি ভ্রুণ নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট…আমাদের সৌরজগতের বাইরে থেকে যে বিকিরণের স্রোত আসে তা সামাল দেওয়া সহজ কাজ নয়…গভীর মহাকাশে আন্তগ্রহ অভিযানের সময় নভোযানের এলুমিনিয়াম শিল্ডকেও এই আধানযুক্ত বিকিরণ-স্রোত ভেদ করে ফেলতে পারে…আশার কথা হল মঙ্গলের মাটিতে যে পরিবেশ রয়েছে তা এই বিকিরণকে শুষে নিতে পারে

এই লাল গ্রহে মানুষের সরাসরি অভিযানের শারীরবৃত্তিক ও মানসিক সামর্থ্যের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়ার মার্স-৫০০ প্রকল্প…বিজ্ঞানীরা মনে করেন এক কালে মঙ্গলের সর্বত্র হয়তো প্রাণের বিচরণ ছিল…সে প্রাণ হয়ত অতিকায় ছিলনা,প্রাথমিক পর্যায়ের জীব মাত্র…তাছাড়া সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহের তুলনায় মঙ্গলকে মহাকাশবিজ্ঞানীরা একটু ভিন্নভাবে দেখেন…সূর্যকে সামনে রেখে পৃথিবীর আগে পরে শুক্র ও মঙ্গলের অবস্থান…মঙ্গল শুক্রের মত এত ভয়ঙ্কর উষ্ঞ নয় আবার শনির সুবৃহত্‍ টাইটান উপগ্রহের মত অতিশীতলও নয়…পৃথিবীর মতো মঙ্গলেও মেরুঅন্জ্ঞলীয় মরুভূমি ও বালু রয়েছে…এতসব কারনে মঙ্গলে বসতিস্থাপন কিছুটা সুবিধাজনক

2 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ