তথ্যচোরদের হাত থেকে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষা করার উপায়

0
629

কিছু দিন আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এনএসএ গোপনে মার্কিন নাগরিকদের তথ্য চুরি করছে এমন ঘটনা ফাঁস হবার পর সারাবিশ্বে বেশ আলোড়ন হয়। গোয়েন্দারা একপ্রকার ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে নাগরিকদের ফোন কল লগ, ক্রেডিট কার্ড রেকর্ড, ইমেইল, স্কাইপ চ্যাট, ফেসবুক মেসেজ সহ আরও অনেক কিছু জেনে নিচ্ছিলেন। এতে যেমন ব্যাক্তি স্বাধীনতা নষ্ট হচ্ছিল ঠিক তেমনি নাগরিকদের উপর সরকারের স্বেচ্ছাচারিতাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ইন্টারনেটে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেন একটু সচেতন হলেই এবং কয়েকধাপ নিরাপত্তা বাড়িয়ে নিলেই আমরা অযাচিত হস্তক্ষেপ থেকে বাঁচতে পারি। ইন্টারনেট প্রাইভেসি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আসকান সলটানি এর মতে, “ইন্টারনেট নিরাপত্তাকে কঠিন করা যায় কিন্তু অসম্ভব করা যায় না। কেউ না কেউ সেটা অবশ্যই ভাঙতে পারবে। তবে সেটা নির্ভর করবে তারা কতটা আক্রমণাত্মক হয়ে আপনাকে খুঁজছে।”
এরপরও ব্যাক্তিগত সতর্কতার প্রয়োজনে আমরা কিছু সাবধানতা মেনে চলতে পারি। এতে তথ্যচোরদের হাতে থেকে নিজেদের প্রতিরোধ করতে পারব।
১. মেইল এনক্রিপ্ট করুনঃ
প্রতিদিন আমরা অসংখ্য ইমেইল গ্রহণ করি/পাঠাই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইমেইলটি বাইরের কেউ পড়তে পারবে। যদি সে আপনার এবং প্রাপকের মাঝখানে অবস্থান করে। সেটা হতে পারে আপনার ওয়েব মেইল কোম্পানির কেউ, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রদানকারী কোম্পানির কেউ কিংবা আপনার অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলে ফাঁদ ফেলে।

এ সমস্যা সমাধানে ইন্টারনেট নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ইমেইলে এনক্রিপশন ব্যাবহার করাটা সুপারিশ করে। এর ফলে ইমেইল পাঠানোর মাধ্যমে কেউ যদি অনুপ্রবেশ করে তবে সেই ইমেইল পড়ার অযোগ্য হবে। এনক্রিপশন করার অনেক পদ্ধতি আছে। তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে পিজিপি। এটা এতটাই শক্তিশালী যে জনগণ যেন এই এনক্রিপশন ব্যাবহার করতে না পারে সেজন্য আমেরিকা সরকার এটা ব্লক করে দিতে চেয়েছিল। তবে এনক্রিপশন সিস্টেম ব্যবহার করার সবচেয়ে বড় অসুবিধা হল এটা অনেক জটিল একটি পদ্ধতি। প্রেরক এবং প্রাপক দুইজনের কাছেই এই সিস্টেমটি থাকতে হবে। না হলে ইমেইলটি পড়া যাবে না।
২. টর(TOR) ব্যাবহার করুনঃ
‘দ্যা অনিয়ন রাউটার’ এর সংক্ষিপ্ত রুপ হচ্ছে টর। ইমেইলের মতই যেকেউ আপনার ব্রাউজিং রেকর্ড অনুসরণ করে বের করতে পারবে। টর ব্যবহার করে আপনি আপনার কম্পিউটারের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন। টর সফটওয়্যার প্রথম ব্যবহার হয় আমেরিকান সেনাবাহিনীর নিজস্ব যোগাযোগের জন্য। তারাই এটার উন্নয়ন ঘটান। মুলত সেনাবাহিনীর নেটওয়ার্কের ট্রাফিক লুকিয়ে ব্যবহারের জন্য টর ব্যবহার করত। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা অক্ষুন রেখে কোন ইন্টারনেট ট্রাফিক লুকিয়ে ব্যাবহারের জন্য টর অনেক কার্যকরী। জাপান পুলিশ সেদেশে টর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

টর ব্যবহারে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এটি নেটওয়াকর্কে ধীর করে দেয়। এছাড়া টর ব্যবহার করে ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে গেলে অনেকসময় ভিডিও/ছবি দেখতে সমস্যা হয়।
৩. মোবাইল ফোন রেখে দিনঃ
কিছুদিন আগে ব্রিটেনে কিছু সাংবাদিক তথ্য অনুসন্ধানে ফাঁদ পেতে গ্রাহকদের কথা রেকর্ড করে। মোবাইল ফোনে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হবার সাথে সাথে এর নিরাপত্তার বিশাল ফাঁক থেকেই যাচ্ছে। অনেক সময় গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক অনুসরণ করে বের করে আপনি কোথায় যাচ্ছেন, কার কার সাথে কথা বলছেন।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জ্যাকব এপলবাম মতে, যদি আপনার মনে হয় কেউ আপনাকে অনুসরণ করছে তবে বাইরে বের হলে মোবাইল ফোন বাসায় রেখে বের হওয়াই উত্তম।
এর সবচেয়ে বড় সমস্যা হল দরকারি সময়ে হাতের কাছে কোন মোবাইল না থাকায় যোগাযোগ রক্ষা করাটা মুশকিল।
৪. ক্রেডিট কার্ড থেকে দুরে থাকুনঃ
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রকাশিত রিপোর্টে জানা যায় যে আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা নাগরিকদের উপর নজরদারি চালানোর সময় ক্রেডিট কার্ডের হিসাব নিকাশও সংরক্ষণ করত।
সাইবার অপরাধীরাও একই পদ্ধতিতে অপরাধ করে থাকে। এ ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে সবচেয়ে ভালো হয় সবসময় সরাসরি ক্যাশ টাকা ব্যবহার করুন অথবা সম্পূর্ণরুপে ইলেক্ট্রনিক কারেন্সির উপর নির্ভরশীল হয়ে যান।
৫. ম্যালওয়্যার মুক্ত রাখুন আপনার ডিভাইসকেঃ
ম্যালওয়্যার সাধারণত কোন ভাইরাস নয়। তবে এটি আপনার কম্পিউটারের ঢুকে আপনার নেটওয়ার্কের তথ্য পাচার করতে সাহায্য করবে। দেখা গিয়েছে যখন তথ্য চুরির কোন উপায় থাকে না তখন তারা ম্যালওয়্যারযুক্ত সফটওয়্যার দিয়ে আঘাত আনার চেষ্টা করে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এক সাবেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন তারা যে কাউকে যেকোনো উপায়ে হ্যাক করার চেষ্টা করে।

সাধারণত ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার গুলোকে চিহ্নিত করা কঠিন। তবে এন্টিভাইরাস ইন্সটল করে রাখা, অপ্রয়োজনীয় ফাইল অপেন না করা, নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা, ফায়ারওয়াল তৈরি করে ম্যালওয়্যার এর আক্রমণ প্রতিহত করা যায়।

বিস্তারিত

একটি উত্তর ত্যাগ