পৃথিবীর নানান জায়গার অদ্ভুত অদ্ভুত কিছু কুসংস্কার (পর্ব ১)

1
1199
এটি 11 পর্বের রহস্যময় প্রযুক্তি সিরিজ টিউনের 1 তম পর্ব

সালাম সবাইকে। আমরা জানি আমাদের বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে রয়েছে বেশ কিছু কুসংস্কার যা আমরা হয় বিশ্বাস না করতে চেয়েও এগুলোকে মানতে বাধ্য হয়ে থাকি আমাদের পরিবারের গুরুজনের কাছে। শুধু দেশেই নয় পৃথিবীর সব জায়গায় রয়েছে বেশ কিছু কুসংস্কার। কিন্তু সব কিছুর একটি ব্যাখ্যা আছে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টি থেকে। তাহলে চলুন আজকে দেখি এমন কিছু কুসংস্কার যা আমরা এতদিন সত্য ভেবেছিলাম কিন্তু আসলে এগুলো শুধুই আমাদের মিথ্যা ভাবনা ছাড়া আর কিছু নয়।

owl পৃথিবীর নানান জায়গার অদ্ভুত অদ্ভুত কিছু কুসংস্কার (পর্ব ১)

আউল (Owl) পেঁচা


মূলত রাত্রিকালীন পাখি হওয়ার কারণে পেঁচাকে কুসংস্কারে অবিশ্বাসী হিসেবে মনে করা হয়। একটি পেঁচা দেখা অথবা তার ডাক শোনা হচ্ছে অমঙ্গলজনক বিশেষ করে দিনের বেলাতে। যেভাবে একটা পেঁচার বাসার দিকে দৃষ্টি করাও অমঙ্গলের। কারণ এর ফলে সেই ব্যক্তিটি তার পরবর্তী সারা জীবন বিমূর্ষকাতর অবস্থায় কাটাবে। যদি একটি পেঁচাকে ঘরের কাছে ডাকতে শোনা যায় তার একটা প্রতিরক্ষা হলো কিছুটা লবণ আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করা, যার দ্বারা দুর্ভাগ্য কেটে যাবে। এটা যদি এমন সময় ডাকে যখন ঘরে কেউ অসুস্থ আছে  তখন কেউ উপদেশ দেয় যে এর প্রতি কদর হচ্ছে পেঁচাটিকে মেরে এনে রোগীর বুকের ওপর রাখার জন্য চেষ্ট করা। ফ্রান্সে যদি একটি পেঁচার ডাক একজন গর্ভবতী নারী শুনতে পায় তবে নারীর গর্ভে একটি কন্যা সন্তান জন্মাবে। ওয়েলসের লোককথায় ইত্যবসরে ঘরের মাঝখানে পেঁচার ডাকের দ্বারা এই সত্য উদ্‌ঘাটিত হয় যে একটি কুমারী মেয়ে তার সতীত্ব হারাতে যাচ্ছে।

Ox পৃথিবীর নানান জায়গার অদ্ভুত অদ্ভুত কিছু কুসংস্কার (পর্ব ১)

অক্স (Ox) ষাঁড়


ষাঁড় নিয়ে কুসংস্কারগুলোর বেশিরভাগই গাভী এবং বলদ নিয়ে কুসংস্কারের সাথে মেলে। যাইহোক প্রথাগতভাবে একটা জিনিসই ষাড়ের বেলায় পার্থক্য দেখা যায় যে, পূর্ব ইংল্যাণ্ডের অঞ্চলসমূহে একটা ধারণা চালু আছে যে, এই পশুটির সুষুমমাকাণ্ড খেলে মানুষ বধির হয়ে যেতে পারে।

Oyster পৃথিবীর নানান জায়গার অদ্ভুত অদ্ভুত কিছু কুসংস্কার (পর্ব ১)

অয়েস্টার (Oyster) ঝিনুক


খাদ্য নিয়ে যত কুসংস্কার আছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত হচ্ছে যে ঝিনুকের প্রচণ্ড কামশক্তি বাড়ানোর ক্ষমতা আছে। এই ধারণাটা সম্ভবত নারীর যৌনাঙ্গের সাথে ঝিনুকের গঠনের একটি কল্পিত সমতা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছে রোমানদের আমল থেকে। তারা নিশীথকালের তাণ্ডবের সময় ঝিনুকের দ্বারা ভোজ দিত। এভাবে এই যুক্তিটি যেমন প্রসিদ্ধ যে ঝিনুক খাওয়া উচিত ওই মাসে যে মাসের মধ্যে ইংরেজি ‘আর’ অক্ষরটি আছে ধারণাটা দ্বারা তাদের ঝিনুক খাওয়ার মাসকে কমিয়ে ইংল্যাণ্ডের ঝিনুকের মৌসুম, সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এনেছে। যদিও বর্তমানে ঝিনুক বিদেশ থেকেও আমদানি করা হচ্ছে সারা বছর ধরে। অন্যান্য প্রথার মধ্যে এই ধারণা আছে যে, ঝিনুক চন্দ্রের সাথে প্রসারণ ও সংকোচন লাভ করে এবং ইয়র্কশায়ারে এই বিশ্বাস করা হয় যে একটা ঝিনুক দুদিনের জন্য সারের মধ্যে রেখে তারপর তার লালা বের করে কয়েক ফোটা কানের মধ্যে দিলে বধিরত্ব ভালো হয়।

সবাই ভালো থাকুন এবং শেয়ার করুন পোস্টটি। ধন্যবাদ

Series Navigation চাকরির ইন্টারভিউয়ে যে ৫টি বোকামিপূর্ণ কথা কখনোই বলবেন না >>

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ