কম্পিউটার ও তার ইতিহাস + কম্পিউটারের সকল তথ্য (অবশ্যই দেখবেন বিফলে যাবে না, গ্যারান্টি)

2
3441

সবাই আমার সালাম/নমস্কার নিবেন। আশাকরি সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সবাই ভালো আছেন !!!!!!! :D। আজ আমি আপনাদের সাথে কিছু তথ্য শেয়ার করব :D। তথ্যগুলো খুবই কাজের :P। অনেকে কম্পিউটারে এক্সপার্ট কিন্তু এতথ্য গুলো জানেন না :P। এই তথ্য গুলো যারা যারা কম্পিউটার চালান তাদের জেনে রাখা ভালো :D। আর যাদের জানা আছে তারা আবার এই পোষ্টের দিকে নজর দিয়েন না :P। এই পোস্টটি নতুনদের জন্য :D। সত্যি কথা বলতে জ্ঞান ধারন করলে কোন ক্ষতি হয় না বরং একসময় না একসময় ঠিকই কাজে দেয় :D। তাহলে চলুন কথা না বাড়িয়ে আমরা কাজের দিকে ফিরে আসি :P। দেখুন নিচের তথ্য গুলো আশা করি ভাল কাজে দিবে :D।

Computer (কম্পিউটার) কি ?

 

Computer শব্দটি গ্রীক শব্দ। এটি Compute শব্দ থেকে এসেছে। যার শাব্দিক অর্থ গণনাকারী। তবে বাস্তবক্ষেত্রে বর্তমান কম্পিউটার কেবল গণনাই করেনা বরং এটি মানুষের চেয়েও অতি দ্রুত ও নির্ভুল ভাবে গাণিতিক, যৌক্তিক ও সিদ্ধান্তমূলক কাজের সমাধান দিতে পারে। Computer হল একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র এবং একগুচ্ছ বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সমাহার। যাহা বৈদ্যুতিক প্রবাহের মাধ্যমে যৌক্তিক কার্যাবলী নিজস্ব সংকেতে রূপান্তর করে নির্ভুলভাবে দ্রুত সমাধান করতে পারে তবে Computer এর নিজের কাজ করার কোন ক্ষমতা নেই।

 



কম্পিউটার এর জনক

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক চার্লস ব্যাবেজ ১৮৩৩ সালে সর্বপ্রথম এ্যানালটিক্যাল ইঞ্জিন নামে একটি যান্ত্রিক কম্পিউটার তৈরীর পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং ইঞ্জিনের নকশা তৈরী করেন। চার্লস ব্যাবেজের এ্যানালটিক্যাল ইঞ্জিনের পরিকল্পনায় আধুনিক কম্পিউটার এর ধারণা ছিল বলেই চার্লস ব্যাবেজকে কম্পিউটারের জনক বলা হয়। চার্লস ব্যাবেজ ১৭৭২ সালে ইংল্যান্ডে জন্ম গ্রহণ করেন।

 

কম্পিউটারের আবিষ্কারক হল হল হাওয়ার্ড একিন।


 

প্রথম কম্পিউটার এর নাম

পৃথিবীর প্রথম আবিষকৃত কম্পিউটার হচ্ছে এবিসি। আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জন এটানাসফ গবেষণা কাজের জন্য বাল্ব ব্যবহার করে প্রথম এটি আবিষ্কার করে। আর ২য় টি হল ইনিয়াক। যা যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন মউলসি ও তার ছাত্র প্রেসপার ১৯৪৫ সালে এটি তৈরী করেন। যাতে স্বয়ংক্রিয় ইনপুট, আউটপুট ও মেমরির ব্যবস্থা ছিল।

 

 


 

 

কম্পিউটার এর প্রজন্ম সমূহ

 

বর্তমানে আমরা যে কম্পিউটারের সাথে পরিচিত তা একদিনে এ অবস্থায় এসে পৌছেনি। বহু সাধনা ও শ্রমের বিনিময়ে আজকের কম্পিউটারের আবির্ভাব। আই বি এম কোম্পানীর একটি বিজ্ঞাপন থেকে কম্পিউটারকে প্রজন্ম হিসেবে ভাগ করার প্রথম প্রথা চালু হয়। ইলেকট্রনিকস্‌ের প্রয়োগের উপর ভিত্তি করে কম্পিউটারের প্রজন্মকে ৫টি ভাগে ভাগ করা হয়।

 

(১) প্রথম প্রজন্ম (১৯৪০-১৯৫৬): এ প্রজন্মের কম্পিউটার গুলো আকারে বড় ছিল, গতি ছিল কম। এ প্রজন্মের উল্লেখযোগ্য কম্পিউটার হচ্ছে এ বি সি, ইউনিভিক ও ইনিয়াক এর ওজন ছিল ৩০ টন। এতে ১৮০০ শত ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহৃত হয়। এট চালাতে বিদ্যুৎ খরচ হত ২০০ কিলোওয়াট। ১৯৪৮ সালে ট্রানসিস্টার আবিষ্কার হয়।

 

(২) ২য় প্রজন্ম (১৯৫৬-১৯৬৩): এ প্রজন্মের কম্পিউটারে ভ্যাকুয়াম টিউবের পরিবর্তে ট্রানসিস্টার এর ব্যবহার শুরু হয়। উল্লেখযোগ্য কম্পিউটার হচ্ছে আইবিএম-১৪০০, আইবিএম-৭০৯০, আরসিএল-৩০১ ও ৫০১ এবং আরসিএল-৩০০ ইত্যাদি।

 

(৩) ৩য় প্রজন্ম (১৯৬৪-১৯৭১): এ প্রজন্মের কম্পিউটারে মনিটর, মেমরি ও প্রিন্টারের প্রচলন শুরু হয়। উল্লেখযোগ্য কম্পিউটার হচ্ছে আইবিএম-৩০০, ৩৭০ এবং জি ই-৬০০ ইত্যাদি। ৩য় প্রজন্মেই বাংলাদেশে কম্পিউটারের আবির্ভাব ঘটে। ১৯৬৪ সালে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের পরমানু শক্তি কেন্দ্র আইবিএম-১৬২০ নামের কম্পিউটার নিয়ে আসে।

 

(৪) ৪র্থ প্রজন্ম (১৯৭১-বর্তমান): এ প্রজন্মের কম্পিউটারের RAM, ROM, উচ্চ ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন Memory, Windows XP,Vista, Linax, Windows-7 ইত্যাদির উদ্ভব ঘটে ব্যাপক হারে। এ প্রজন্মে Micro Computer, Super Computer এর ব্যাপক প্রচলন শুরু হয়।

 

(৫) ৫ম প্রজন্ম (আগামী দিনগুলি): জাপানে ১৯৮১ সালে ১৪টি দেশের কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলন থেকে ঘোষনা করা হয় ১৯৯৫ সাল থেকে আবিষকৃত সকল কম্পিউটার ৫ম প্রজন্মের কম্পিউটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে পরে ঘোষনা প্রত্যাহার করা হয়। এ প্রজন্মের কম্পিউটারের কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা, ভয়েস রিকগনিশনসহ অন্যান্য বিষয় সংযোজিত থাকবে।

 

 


 

কম্পিউটারের শ্রেণি বিভাগ


কাজের ধরণ ও প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার প্রথমত ৩ প্রকার। যথা:

(১) Analog Computer

(২) Digital Computer

(৩) Hybrid Computer

 


 

আকার ও ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার আবার ৪ প্রকার। যথা:

(১) Super Computer

(২) Mainframe Computer

(৩) Micro Computer

(৪) Mini Computer

 

 


 

 

মানুষের ব্যবহারিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে মাইক্রো কম্পিউটারকে ৪ ভাগে ভাগ করা হয়।

 

(১) Desktop Computer

(২) Laptop Computer

(৩) Notebook Computer

(৪) Palmtop Computer

 



কম্পিউটারের উপাদান সমূহ:

কম্পিউটারের প্রধান উপাদান ২টি। যথা:

 

(১) Hardware

(২) Software

 


 

Hardware কি ?

কম্পিউটারের যে সকল যন্ত্রাংশ ধরা, ছোঁয়া এবং স্পর্শ করা যায় তাদেরকে Hardware বলা হয়। কিছু Hardware এর নামের তালিকা দেয়া হল। যেমন: (১) মাউস (২) কীবোর্ড (৩) পিন্টার (৪) মনিটর    (৫) সিপিইউ (৬) মাদারবোর্ড (৭) হার্ড ডিক্স (৮) প্রসেসর ইত্যাদি।

 


 

Software কি ?


কম্পিউটারে ব্যবহৃত সকল প্রকার প্রোগ্রাম বা প্রোগ্রাম সমষ্টিকে Software বলে। যা কম্পিউটারকে কার্যউপযোগী করার জন্য এবং কম্পিউটার দ্বারা কোন সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: মানুষের শরীরটা হচ্ছে Hardware আর প্রাণটা হচ্ছে Software। মানুষের প্রাণ না থাকলে যেমন শরীরের কোন কাজ নেই ঠিক তেমনি ভাবে Software ছাড়া Hardware এর কোন কাজ নেই।

 


 

 Software এর প্রকারভেদ:

Software প্রধানত দুই প্রকার। যথা:

(১) Operating/System Software

(২) Application Software.

 


 

(১) Operating/System Software কি ?

 

কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারের কার্যক্ষমতা ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ সম্বলিত প্রোগ্রাম সমূহকে Operating/System Software বলে। অপারেটিং সিস্টেম সমূহ সিস্টেম সফটওয়্যারের অন্তর্ভুক্ত। Windows XP, Windows Vista, Windows-7, Linux ইত্যাদি Operating/System Software এর উদাহরণ।

 

 


 

(২) Application Software কি ?


কম্পিউটার দ্বারা বিভিন্ন কার্যসম্পাদনের জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রাম সমূহকে Application Software বলে। Microsoft Office, Photoshop, Google Chrome ইত্যাদি Application Software এর উদাহরণ।

 


 

 

কম্পিউটারের আনুসাঙ্গিক উপকরণ পরিচিত:


Printer কি ?


প্রিন্টার কম্পিউটারের একটি আউটপুট ডিভাইস। কম্পিউটারের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ফলাফলকে লিখিত আকারে পাওয়ার জন্য প্রিন্টার ব্যবহৃত হয়।

 

 


 

 

Printer এর প্রকারভেদ:


Printer প্রধানত ৩ প্রকার। যথা:

(১) Dot Matrix Printer

(২) Inkjet Printer

(৩) Laser Printer

 

 


 

Speaker কি ?


এটি কম্পিউটারের একটি আউটপুট ডিভাইস, যা কম্পিউটারের শব্দ বা ধ্বনিকে শ্রোতার নিকট বোধগম্য করে তুলে।

 


 

 

Scanner কি ?

 

কাগজ, কাপড় বা এ ধরনের কোন স্থির উপাদান হতে কোন ছবি, চিত্র বা এ জাতীয় কোন বিষয় ফটোকপির ন্যায় হুবহু চিত্রের ন্যায় কম্পিউটারে প্রবেশ করানোর জন্য ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় ইনপুট ডিভাইস হলো Scanner ।

 


 

Voltage Stabilizer কি ?


কম্পিউটারের প্রতিটি যন্ত্রাংশ অত্যন্ত ছোট এবং সুক্ষ। বিদ্যুতের উঠানামা যাতে কম্পিউটারের ক্ষতি করতে না পারে সে কারণে অবশ্যই Voltage Stabilizer ব্যবহার করতে হবে। Voltage Stabilizer বিদ্যুতের ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রনের ক্ষেত্রে বড় কার্যকরী যন্ত্র। যা নির্দিষ্ট পরিমাপের চেয়ে বেশি বা কম বিদ্যুৎ সাপ্লাই দেয় না।

 

 


 

U.P.S কি ?


এটি আমাদের দেশে কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে গেলে ইউ.পি.এস ধারনকৃত বিদ্যুৎ কম্পিউটারে সরবরাহ করতে পারে। যার কারণে বিদ্যুৎ চলে গেলেও কম্পিউটার বন্ধ হয়না।

 

 


 

 

Monitor কি ?


কম্পিউটারের ফলাফল প্রদর্শনের জন্য টেলিভিশনের ন্যায় যে যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয় তাকে ডিসপ্লে ইউনিট বা মনিটর বলে।

 


 

অনেক বড় লেখা তাই ভুল ত্রুটি হতেই পারে ভুল-ত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন। কারণ মানুষ মাত্রই ভুল :D।


সবাইকে অসংখ্য ধন্যাবাদ ।।।। ভালো থাকবেন ।।।।


{সমাপ্ত}

 

 

 

2 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ