ফরেক্স বিগেনার টু প্রফেশনাল ট্রেডিং [পর্ব-১১] (ইন্ডিকেটর, সিম্পল/ এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং এভারেজ)

3
465

গত পূর্বের টিউনগুলো:

ফরেক্স বিগেনার টু প্রফেশনাল ট্রেডিং – [পর্ব -১]

ফরেক্স বিগেনার টু প্রফেশনাল ট্রেডিং -[ পর্ব -২ ]-(মূল অংশগ্রহনকারি, মার্কেট ভলিউম, ব্রোকার)

ফরেক্স বিগেনার টু প্রফেশনাল ট্রেডিং – [পর্ব – ৩] (কারেন্সি পেয়ার, মেজর/ক্রস, ডিরেক্ট/ইন্ডিরেক্ট, পিপস,লট,স্প্রেড)

ফরেক্স বিগেনার টু প্রফেশনাল ট্রেডিং – [পর্ব – ৪] (মার্জিন, রোলওভার, অর্ডার টাইপ, প্রফিট/লস,ডেমো ট্রেড)

ফরেক্স বিগেনার টু প্রফেশনাল ট্রেডিং – [পর্ব -৫] (ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস:ইকোনমিক ডাটা,গোল্ড এবং অয়েল ফান্ডামেন্টাল ফেক্টর)

ফরেক্স বিগেনার টু প্রফেশনাল ট্রেডিং – [পর্ব -৬] (ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস: ইকোনমিক ক্যালেন্ডার )

ফরেক্স বিগেনার টু প্রফেশনাল ট্রেডিং – [পর্ব -৭] (টেকনিক্যাল এনালাইসিস, চার্ট/ট্রেন্ড, সাপোর্ট এন্ড রেসিসটেন্স)

ফরেক্স বিগেনার টু প্রফেশনাল ট্রেডিং – [পর্ব – ৮] (ট্রেন্ড লাইন )

ফরেক্স বিগেনার টু প্রফেশনাল ট্রেডিং – [পর্ব -৯] -(অ্যাসেন্ডিং/ডিসেন্ডিং ট্রাইএঙ্গেল, বুলিশ/বেয়ারিশ পেনান্ট প্যাটার্ন  )

ফরেক্স বিগেনার টু প্রফেশনাল ট্রেডিং – [পর্ব – ১০] (চার্ট প্যাটার্ন- ডাবল টপ/বটম, ট্রিপল টপ/বটম, হেড অ্যান্ড শোল্ডার টপ/ বটম)

 

 

 

ইন্ডিকেটর কিঃ


সহজ কথায় ইন্ডিকেটর হল প্রাইস অ্যাকশন এর একটি চিত্রভিত্তিক নির্দেশনা। অর্থাৎ বর্তমান পাইস থেকে পরবর্তী পাইস ডাউন করবে কি আপ এ যাবে এই ধরণের নির্দেশনা ইন্ডিকেটরের মাধ্যমে পাওয়া যায়। টেকনিক্যাল এনালাইসিসে ইন্ডিকেটর অনেক জনপ্রিয় একটি সিস্টেম যা প্রায় সকল ট্রেডারকে ব্যাবহার করতে দেখা যায়।

ইন্ডিকেটর হল প্রোগ্রামিং কোডের সমন্বয়ে কিছু লজিক নিয়ে গঠিত একটি ডিরেকশন পদ্ধতি তাই যদি কখনো মার্কেট ট্রেন্ড ওই পদ্ধতির বাইরে রেয়াক্ট করে তখন আর ঐ ইন্ডিকেটরের সুফল পাওয়া যায় না, তবে কিছু শক্তিশালী ইন্ডিকেটর আছে যেগুলো আপনার ট্রেডিংকে অনেক সহজ এবং রিলাইএবল করে। ভিন্ন রকম ইন্ডিকেটর ভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। তবে টেকনিক্যাল এনালাইসিস এর জন্য ইন্ডিকেটর একটি বড় এবং মৌলিক হাতিয়ার। মোটামুটি সব ট্রেডাররাই ইন্ডিকেটরের মাধ্যমে ট্রেড করতে পছন্দ করে।

ফরেক্স মার্কেটরে ডিফল্ট(ফ্রী) সহ অনেক কমার্শিয়াল ইন্ডিকেটর পাওয়া যায়। কখনো পুরোপুরি ইন্ডিকেটর নির্ভর হয়ে ট্রেড করবেন না। ইন্ডিকেটর কে ব্যাবহার করবেন ট্রেড বা অর্ডারের পারফেকশন বাড়াতে অর্থাৎ আপনি যে সব স্ট্রেটিজি জানেন সেই অনুসারে অর্ডার করতে ইন্ডিকেটর আপনাকে সাহায্য করবে এবং আপনার ডেসিশন মেকিং এ হেলপিং হেন্ড হিসেবে কাজ করবে। যে ইনডিকেটরই ব্যাবহার করবেন প্রথমে অবশ্যই তার বিহেবিয়ার বুঝে ভালোভাবে ডেমোতে প্র্যাকটিস করে ইন্ডিকেটর এর সাকসেস রেইট বুঝে তারপর লাইভ মার্কেটে এপ্লাই করবেন। যেহেতু ইন্ডিকেটর টেকনিক্যাল এনালাইসিস বেস একটি ইন্সট্রুমেন্ট তাই ফান্ডামেন্টাল নিউজ এর কারনে ইন্ডিকেটর কখনো তার স্বাভাবিক নির্দেশনার ব্যাতিক্রম করতে পারে। তাই সাবধান থাকুন। কিছু কমন এবং ভালো ফলাফল প্রদান করে এমন ইন্ডিকেটর শিখে ট্রেড করুন।

যেহেতু ফরেক্স মার্কেটে আমাদের সব শিক্ষার ফাইনাল টার্গেট হল ট্রেডে এন্টার করে এবং সফলভাবে ট্রেড থেকে বের হওয়া তাই আমরা কিছু ইন্ডিকেটর ব্যাবহার ট্রেড ওপেন করতে আর কিছু ইন্ডিকেটর ব্যাবহার করব ট্রেড ক্লোজ ডিসিশন নিতে।

আমাদের অনেক ট্রেডারের বড় একটি সমস্যা হল এলোমেলো ইন্ডিকেটর ব্যাবহার করে নিজেই মিসগাইড হয়ে যাওয়া। তাই আপনার স্ট্রেটিজি অনুসারে ট্রেড ওপেন আর জন্য ২-৩টি ইন্ডিকেটর আর ট্রেড ক্লোজ আর জন্য ২টি ইন্ডিকেটর দিয়ে নিজেই একটি সেট বা ইন্ডিকেটর প্যাকেজ তৈরি করুন। এতে করে আপনার ট্রেডিং মেসগাইড হবে না এবং শৃঙ্খলতার সাথে ট্রেড করতে পারবেন। অনেক গুলো ইন্ডিকেটর একসাথে ব্যাবহার করাটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তাই আমি এখানে মুলত একটি ট্রেডিং ইন্ডিকেটর প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা করবো আশা করছি পরবর্তীতে আপনি ও নিজে একটি সেট করে ভালো ট্রেড করবেন

ট্রেড ওপেন করার জন্যঃ


  • মুভিং এভারেজ (Moving Average)
  • বলিঙ্গার বেন্ড (Bollinger Band)
  • জিগজাগ (Zigzag)

ট্রেড ক্লোজ করার জন্যঃ

  • আর.এস.আই-RSI (Relative Strength Index)
  • এ.ডি.এক্স- ADX(Average Directional Moving Index)

 

মুভিং এভারেজঃ



একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরিধিতে মার্কেটের এভারেজ পাইস ভেলু কি ছিল তা বোঝার জন্য মুভিং এভারেজ খুবই জনপ্রিয় এবং সচরাচর বেবহারিত একটি টুল। মুভিং এভারেজ  সাধারনভাবে সম্ভব্য সাপোর্ট এবং রেসিসটেনস এর এরিয়া এবং গতি পরিমাপক একটি টুল হিসেবে বেবহরিত হয় । এই টুলটিকে রলিং (Rolling) বা রানিং (Running) এভারেজ টুল ও বলা হয়ে থাকে এবং এই মুভিং আভারেজকে টেকনিক্যাল এনালাইসিসের প্রাণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। নভিস থেকে শুরু করে প্রফেশনাল ট্রেডার সবাই মুভিং আভারেজ টুলটি ব্যাবহার করে। ফরেক্স মার্কেটে মোটামুটি ২ ধরণের মুভিং এভারেজ ট্রেডাররা বেশি ব্যাবহার করে থাকে।

১। SMA – সিম্পল মুভিং এভারেজ(Simple Moving Average)

২। EMA – এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং এভারেজ(Exponential Moving Average)

 

সিম্পল মুভিং এভারেজ(Simple Moving Average):


এই ইন্ডিকেটরটি দিয়ে পিরিয়ড এবং প্রাইস এর ভিত্তিতে একটি গাণিতিক হিসাব এর মাধ্যমে আপনি ট্রেন্ড ডিরেকশন সহ  বায় এবং সেল সংকেত বা সিগনাল দিতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে আপনি কত দীর্ঘ মেয়াদী বা স্বল্প মেয়াদী ট্রেড করবেন  তা নির্ভর করবে আপনি কত সময়ের মুভিং এভারেজ পছন্দ করছেন।  তবে অভিজ্ঞ ট্রেডাররা ৩টি সময়ের মুভিং এভারেজ এর উপর ট্রেড করে থাকে।  সেগুলো হলঃ

  • স্বল্পমেয়াদী (Short term) – ১০ দিনের মুভিং এভারেজ
  • মধ্য মেয়াদী (Intermediate Term)  – ৫০ দিনের মুভিং এভারেজ
  • দীর্ঘ মেয়াদী (Long Term) – ২০০ দিনের মুভিং এভারেজ

 

 ফরেক্স বিগেনার টু প্রফেশনাল ট্রেডিং [পর্ব-১১] (ইন্ডিকেটর, সিম্পল/ এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং এভারেজ)

কিভাবে মুভিং এভারেজ বের করবেনঃ


 SMA  =  Adding the closing price of a number of time periods / number of periods

উদহারন ১#  ৫ দিনের মার্কেট ক্লোজিং প্রাইস যথাক্রমে ১.২১৬৬, ১.২৩৪১, ১.২৩৯৮, ১.২৩৬৪, ১.২৩০৫ এর যোগফলকে ঐ সময় পিরিয়ড দিয়ে ভাগ ;

১.২১৬৬ + ১.২৩৪১ + ১.২৩৯৮+ ১.২৩৬৪,+ ১.২৩০৫ / ৫ = ১.২৩১৪

 

উদহারন ২# ১০ ঘন্টার মার্কেট ক্লোজিং প্রাইস যথাক্রমে  ১.২২৮১, ১.২২৭৬, ১.২২৭১, ১.২২৬৫, ১.২২৭১, ১.২২৬১, ১.২৩১৩, ১.২২৯৬, ১.২২৯৩, ১.২২৯৫ এর যোগফলকে ঐ সময় পিরিয়ড দিয়ে ভাগ;

 

১.২২৮১, ১.২২৭৬, ১.২২৭১, ১.২২৬৫, ১.২২৭১, ১.২২৬১, ১.২৩১৩, ১.২২৯৬, ১.২২৯৩, ১.২২৯৫ / ১০ = ১.২২৮২

 

কিভাবে ট্রেড করবেনঃ  মুভিং এভারেজ প্রাইস যদি বর্তমান মার্কেট প্রাইস এর উপরে হয় তাহলে বায় ট্রেড করবেন। এবং পাইস যদি বর্তমান মার্কেট প্রাইস এর নিচে হয় তাহলে সেল ট্রেড করবেন।

এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং এভারেজ(Exponential Moving Average):


সিম্পল মুভিং এভারেজ এর মত এই প্রকার মুভিং এভারেজ ও মার্কেট ডিরেকশন দেয় তবে পার্থক্য এটাই যে এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং এভারেজে তুলনামুলক পূর্ব পিরিয়ড প্রাইস থেকে সবচেয়ে রিসেন্ট পিরিয়ড প্রাইস কে অধিক গুরুত্তের সাথে দেখা হয় । বিষয়টি আরো পরিষ্কার করছি…… মনে করুন, আপনি ৫ দিনের সিম্পল মুভিং এভারেজ বের করবেন,

প্রথম দিন ক্লোজিং প্রাইস – ১.২১৬৬,

দ্বিতীয় দিন ক্লোজিং প্রাইস – ১.২৩৪১,

তৃতীয় দিন ক্লোজিং প্রাইস – ১.২৩৯৮,

চতুর্থ দিন ক্লোজিং প্রাইস – ১.২৩৬৪,

পঞ্চম দিন ক্লোজিং প্রাইস – ১.২৩০৫

তাহলে ৫ দিনের ক্লোজিং প্রাইস কে ৫ দিয়ে ভাগ করলে সিম্পল মুভিং এভারেজ বের হবে যা আমরা পূর্বে শিখেছি। এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য করুন যে ১ম দিনের ক্লোজিং প্রাইস এর সাথে ২য় দিনের ক্লোজিং প্রাইস এর একটা বড় ডিস্টেন্স দেখা যাচ্ছে যা পরবর্তী ৩দিনের এভারেজ ক্লোজিং প্রাইস থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। অর্থাৎ স্বাভাবিক নয়। কারন ঐ দিন (২য় দিন) ভালো ইকোনমিক নিউজ এর কারনে প্রাইস অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। যা সাধারণ টেকনিক্যাল এনালাইসিসের মধ্যে পড়ে না। সিম্পল মুভিং এভারেজে  নির্দিষ্ট কোন দিনকে অধিক কোন গুরুত্ব দেওয়া হয় নি। আর এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং এভারেজের পার্থক্যটা এখানেই। এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং এভারেজে প্রথম দুদিনের প্রাইস থেকে সবচেয়ে রিসেন্ট অর্থাৎ লাস্ট ৩দিনের প্রাইসকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে মুভিং এভারেজ বের করা হয়।  


প্রথম প্রকাশঃ বিডিফরেক্সপ্রো.কম (বাংলাদেশের প্রথম লেসন ভিত্তিক ফরেক্স শিক্ষার সম্পূর্ণ কোর্স ১০০% ফ্রী – ফরেক্স ক্যাম্পাস )

3 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ