একটি চমৎকার আর্টিকেল লেখার কিছু কৌশল। নতুন ব্লগার হলে, না পড়লে মিস করবেন সত্যি !!!

2
531

একটি চমৎকার আর্টিকেল লেখার কিছু কৌশল। নতুন ব্লগার হলে, না পড়লে মিস করবেন সত্যি !!!

আর্টিকেল রাইটিং অনেক সহজ !!! হুম, যেনতেন একটা আর্টিকেল লিখা অনেক সহজ। কিন্তু একটু ভালো করে গুছিয়ে আর্টিকেল লিখতে পারা একটা আর্ট বটে। আপনি যদি ভালো আর্টিকেল লিখতে পারেন, তবে এই পোস্ট আপনার জন্য নয়। আর যদি আর্টিকেল লিখা শিখতে চান, চলুন তবে সামনে এগিয়ে যাই।


কি নিয়ে লিখবেন

প্রথমে আপনাকে ঠিক করতে হবে যে আপনি কি নিয়ে লিখতে যাচ্ছেন। লেখার বিষয় নির্দিষ্ট না থাকলে কিছুই লিখতে পারা যায় না। তাই আগে আপনার লেখার বিষয় টা ফিক্সড করে নিতে হবে।

রিসার্চ

যে বিষয়ে লিখতে যাচ্ছেন সেই বিষয়ে আপনার কেমন জানা আছে ? যদি ভালো জানা থাকে তো ভালো। আর যদি ভালো জানা না থাকে তখন ?

হ্যাঁ, তখন আপনাকে একটু সময় খরচ করে ওই বিষয় টা নিয়ে রিসার্চ করতে হবে। আর যদি ভালো জানা ও থাকে, তারপর ও লেখা শুরু করার পূর্বে একটু রিসার্চ করে নেয়া ভালো। এই বিষয়ের মেইন কিওয়ার্ড টা দিয়ে গুগলে রেঙ্কিং এ টপে থাকা ৩-৪ টা ওয়েবসাইট এর আর্টিকেলগুলো দেখে নিতে পারেন অথবা ওই গুলা পড়ে নিতে পারেন। এতে করে আরও ভালো ধারনা পাবেন।

ওই আর্টিকেলগুলো যেমন ই হোক, আপনি মনে বাসনা রাখবেন যে এর চেয়ে ভালো আর্টিকেল লিখবেন। আপনি তাদের লিখাগুলো খুব ভালো করে খুঁটিয়ে দেখবেন। কিন্তু তাদের লেখার ছাপ যেন আপনার আর্টিকেল এ না ডুকে সেই দিকে কড়া নজর রাখবেন।

আপনার লেখার স্টাইল, কোন বিষয়ে কিছু ডেলিভার করার স্টাইল, আর্টিকেলটির মাধ্যমে কিছু বোজানোর স্টাইল সব কিছু আলাদা এবং মানসম্মত করার চেষ্টা করবেন। চেষ্টা করতে থাকলে একদিন দুইদিনে হয়তো কিছু হবেনা। কিন্তু বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, ক্রমাগত লেগে থাকার ফলে একদিন না একদিন আপনি খুব ভালো মানের আর্টিকেল লিখতে পারবেন।

কিওয়ার্ড

সার্চ ইঞ্জিনে আপনার আর্টিকেল টা ভালো রেঙ্ক পাক, আপনি নিশ্চয়ই তা চান ? যদি চান, তবে আপনার উচিত কিওয়ার্ড রিসার্চ করা। হেড কিওয়ার্ড এর চেয়ে লংটেইল কিওয়ার্ড ইউজ করলে আপনি রেঙ্ক পাবেন দ্রুত। আর লংটেইল কিওয়ার্ড ব্যাবহারে ভিজিটর কিন্তু হিসেবে বেশিই পাবেন। সাধারণত ৩ বা ততোধিক শব্দ নিয়ে গঠিত কিওয়ার্ড কে বলা হয় লংটেইল কিওয়ার্ড। আর হেড ? ওই যে দুইটা বা একটা কিওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। হেড কিওয়ার্ড অনেক বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ।

কিওয়ার্ড ডেনসিটি

আপনি যখন আর্টিকেল লিখবেন, তখন এই বিষয় টা ও মাথায় রাখতে হবে। আপনি আর্টিকেল লিখবেন মানুষের জন্য। আপনার আর্টিকেল এর এক মাত্র পাঠক কিন্তু মানুষ, সার্চ ইঞ্জিন না। একটা ১০০০ ওয়ার্ড এর আর্টিকেল এ বারবারএকই কিওয়ার্ড পড়তে গিয়ে আসলে সেটা বিরক্তিকর লাগে না ? তাই কিওয়ার্ড ইউজ করতে হবে মেপে মেপে। সাধারণত ৩-৪% এর বেশি ব্যাবহার না করাই ভালো। আর বেশি কিওয়ার্ড ইউজ করলে আপনার আর্টিকেল পড়তে গিয়ে মানুষ যেমন বিরক্ত হবে, তেমনি সার্চ ইঞ্জিন বেচারারা ও মাইন্ড খাবে। আপনাকে উপরে তোলার পরিবর্তে নিচে নামিয়ে দিবে ! আপনি নিশ্চয়ই তা চান না ?

সূচনা 

এতক্ষণ কথা চলছিলো আর্টিকেল লিখার পূর্বপ্রস্তুতির বিষয়গুলো নিয়ে। এখন সোজা কিভাবে লিখতে হবে তা নিয়ে আলোচনা হবে। ভালোভাবে শুরু করতে পারাটায় ও অনেক কিছু নির্ভর করে। অনেক ভিজিটর আপনার আর্টিকেল এর প্রথম দুইতিন টা লাইন পড়েই চেষ্টা করবে ভিতরে কি আছে তার ধারণা নিতে। ওই বেচারার আর দোষ কি, আপনি নিজেও তো এমন করেন ? করেন না ?

আচ্ছা কোন আর্টিকেল লিখার জন্য যে স্টার্টিং টা করেন, সেটা কিভাবে করেন ? যেনতেনভাবে শুরু করাটা নিশ্চয়ই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না, তাই না ?

সুচনাতে আপনি বলতে পারেন ভিজিটরদের আকাঙ্ক্ষা কি এই বিষয়ে এবং আপনার এই আর্টিকেল টি কি কি বিষয়ে বর্ণনা করতে চলছে।

উদাহরণ হিসেবে আমার এই আর্টিকেল টির সূচনাটাই লক্ষ্য করেন না হয় ! আরেকটা বিষয় লক্ষ্য রাখবেন লেখা শুরুর করার সময়। যারা দুই-ছাড় লাইন পরেই ভিতরের ভাব-সাব বুজে এর পর পুরাটা পড়তে চায়, তাদের জন্য আপনাকে একটু ভাবতে হবে। সূচনা পর্যায়ে এমনভাবে কিছু শব্দ উপস্থাপন করুন, যাতে ওই বেচারা ভিতরে কি আছে তা পড়তে আগ্রহী হয়।


আর্টিকেল বডি

এই রে !!! মুল অংশে চলে আসলাম ! আর্টিকেল এর প্রায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু ব্যাপারটা লিখা অনেক সহজ ! কিভাবে ?

মনে আছে আপনি সূচনা পর্বে কি বলেছিলেন ? আপনি বলেছিলেন যে আপনি ভিতরে এই এই আলোচনা করবেন। এখন বডি তে এসে সেই সেই আলোচনাই করুন না !!! আপনাকে বেঁধে রেখেছে কে !!!

হুম, বডি তে এসে যে বিষয়ে আর্টিকেলটি রচনা করতে যাচ্ছেন, সেই বিষয়ে ভালো করে আলোকপাত করুন। ভিজিটরকে ভালো করে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করুন। তাকে এই বিষয়ে পারলে ক্লিয়ার করে তলুন। যতো বেশি আপনি তাকে বোজাতে পারবেন, তত বেশি আপনার আর্টিকেল এর সফলতা।

উপসংহার 

এইটা লেখা তো আরও সহজ ! বডি তে কি বলেছিলেন মনে আছে ? আর সূচনাতে ? হুম, সেটাই এবার ইউজ করবেন। কিভাবে ?

উপসংহার  এ এসে বলতে পারেন যে বিষয় টি আসলে কেমন শিখার জন্য বা পড়ার জন্য বা কেরিয়ার হিসেবে বা যে ক্ষেত্রে মানায়, সেই ক্ষেত্রে। তাছাড়া, ভিজিটর আর্টিকেল এ কি রকম বিষয়ে ধারণা পেলো, সেই বিষয়ে ও বলতে পারেন। আর উপসংহার  পারলে ছোট্ট একটা প্রশ্ন দিয়ে শেষ করবেন। এই ছোট্ট প্রশ্নটা সব আর্টিকেল ই যে করা যাবে তা না কিন্তু। এইটা আপনার উপসংহার  এর প্রথম দিকে বক্তব্য এর সাথে মিল খেলেই আপনি করতে পারবেন। কেমন প্রশ্ন ?

  • আপনার কি মনে হয় ?
  • কি মনে হয় করতে পারবেন ?
  • কি মনে করেন, সহজ নাকি কঠিন ?

এইগুলো শুধু উদাহরণ। এই রকমকরে ছোট্ট প্রশ্ন করতে পারেন। এই রকম প্রশ্ন আপনার আর্টিকেল এর যে কোন অংশেই করতে পারেন। তবে লক্ষ্য রাখবেন, কিওয়ার্ড ডেনসিটি এর মতো এইটা যেন আবার বেশি না হয়ে যায়! একটা আর্টিকেল এ ২-৩ বার করাই যথেষ্ট।

রিভিউ 

উপসংহার টানা শেষ করে মানে আর্টিকেল লিখা কমপ্লিট করে আর্টিকেল টা একবার হলেও রিভিউ দেন। পারলে কয়েকবার। দেখেন কোন ভুল টুল আছে কিনা ! তথ্য আরও একটু যোগ করা দরকার কিনা। প্রাঞ্জলতা আছে কিনা। কোন জায়গায় বেশি ভাব বেক্ত করা হয়ে গেছে আবার অন্য জায়গায় সাদা মাটা এই রকম কিনা। এইভাবে রিভিউ দিয়ে আর্টিকেল টারে মানুষ করেন !! ইয়ে মানে, পরিপাটী করে তলুন। ও হ্যাঁ, আর্টিকেল এর মধ্যে ইমেজ যোগ করতে হবে কিনা, এই ব্যাপারটা ও মাথায় রাখুন। ইমেজ যোগ করতে হলে মানানসই ইমেজ যোগ করুন।

এইবার টানতে হবে আমার এই আর্টিকেল এর উপসংহার । তবে উপসংহার  টানার আগে কিছু কথা বলে নেয়া জরুরী মনে করছি।

বিশেষত ইংরেজি আর্টিকেল লিখতে গিয়ে অন্যান্য ভাষাধারীদের মতো আমাদের ও সমস্যায় পরতে হয়। তবে তাতে কি হয়েছে !!! থেমে থাকবো নাকি !!!

কক্ষনো না ! ভাষা হল ভাব প্রকাশের মাধ্যম। আর পরিপূর্ণভাবে ভাব প্রকাশের জন্য ভাষার উপর দক্ষতা থাকা ও জরুরী। ইংরেজি তে দুর্বল হলে প্রতিদিন অল্প অল্প করে ডেভেলপ করার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন ওষুধের ডেইলি ডোজ এর মতো কিছু ইংরেজি টু বাংলা শব্দার্থ শিখুন। কিছু গ্রামার প্র্যাকটিস করুন। হয়ে যাবে ! কি মনে হয়, হবে না ???

আর্টিকেল লিখার জন্য কিছু সিস্টেম এ লিখতে হয়। মানে এক সিস্টেম এ আপনি প্রত্যেক টা আর্টিকেল লিখতে পারবেন না। লেখা উচিত না। এতে যে আপনার নিয়মিত ভিজিটর রা বিরক্ত হয়ে যেতে পারে। তাই শুরু, সমাপ্তি, মুল বক্তব্য পেশ এইসব গুলোতে স্টাইল এর বিভিন্নতা আনতে হবে। মাঝে মাঝেই স্টাইল এ চেঞ্জ আনবেন।

অনেক ব্লগর ব্লগর করলাম। জানি না কার কেমন উপকার করতে পারলাম। তবে জানি, উপকার করতে না পারলে, এতক্ষনে কারও সময় হয়তো নষ্ট করে ফেলেছি !

আর কেহ যদি আমার এই লেখা টা পড়ে  আর্টিকেল লিখতে পারেন, তবে আমায় মনে রাখবেন তো ? নাকি ভুলে যাবেন ?

————————————————————–

You can visit my blog named Webconsi which has covered ‘How to make money online in Bangladesh‘ &  also be sure that all the ways are best ways to make money online lagitimately 

2 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ