(Beginner to Professional Security Specialist: Part:3) একজন সত্যিকার হ্যাকারের আচার-ব্যবহার ও লাইফ স্টাইল।

8
563

আসসালামুআলাইকুম।
আবারো স্বাগতম আপনাদের ।আজকে আমি আপনাদের সত্যিকারের হ্যাকারদের জীবনধারা বা লাইফস্টাইল সম্পর্কে কিছু ধারনা দেব।
আমরা এখন মোটামুটি জানি যে হ্যাকার কারা এবং তারা কি করে।চলুন আজকে তাদের জীবনধারা সম্পর্কে একটু জ্ঞান আহরন করি।যদিও হ্যাকারদের জীবনধারা যে সবার এক তা নয়, তবে সব হ্যাকারদের জীবনধারাতেই কিছু কমন ব্যাপার রয়েছে।এখন আপনারা অনেকে একমত নাও হতে পারেন এ ব্যাপারে।অনেকে বলতে পারেন যে হ্যাকিং পারলেই হ্যাকার তার জীবনধারা জেনে কী লাভ? একটা কথা চিন্তা করে দেখুন, আপনি যদি একজন ব্যাংকার হন তাহলে অবশ্যই আপনার জীবনধারা একজন আর্মি অফিসারের জীবনধারা থেকে আলাদা হবে।তাই একজন নতুন হ্যাকার হিসেবে বা আপনি যদি একজন হ্যাকার হতে চান তাহলে অবশ্যই হ্যাকারদের জীবনধারা অনুসরন করা উচিত,তাই নয় কী?

একজন আদর্শ হ্যাকার হতে চাইলে আপনাকে হ্যাকিং সম্পর্কে জানতে হবে , বুঝতে হবে , চাইতে হবে , অর্জন করতে হবে । এটা আহামরি কঠিন বা অসম্ভব কিছু নয় , শুধু আপনাকে কষ্ট করে এটা নিজের মত করে শিখতে হবে আর সেক্ষেত্রে আমি আপনাকে সাহায্য করব ।
একেকজন হ্যাকার সম্পূর্ণ আলাদা এবং ভিন্ন ব্যাক্তিত্তের মানুষ । রহস্যজনকভাবে তারা সবাই অনুরূপ জীবনধারা মেনে চলে ।

১/ড্রেসিং স্টাইল:
তাদের জামা-কাপড় এর ধরন হল অনেকটা বাচ্চদের মত যা দেখে মনে হবে তাদের মায়েরা এখনও তাদের কে জামা পরিয়ে দেয় । অনেকটা পথিক স্টাইলের মত। তবে হ্যাকাররা সারা বিশ্বে বিদ্দমান , অতএব আপনি তাদের ড্রেস কে আলাদা কোন গোত্রে ফেলতে পারবেন না ।যদিও বিখ্যাত হুডিস (hoodies)পরে একধরনের একটা দুর্বৃত্ত টাইপের ভাব আনার চেষ্টা করে অনেকে ।

(Beginner to Professional Security Specialist: Part:3) একজন সত্যিকার হ্যাকারের আচার-ব্যবহার ও লাইফ স্টাইল।

২/বসবাসের স্টাইল :
একজন টিপিক্যাল হ্যাকার মূলত হয়তোবা কোন ভ্যান গাড়িতে বা তাদের বাড়ির স্টোর রুমে (অথবা একা) বাস করে।সারাক্ষন ভিডিও গেম এর মিউজিক শুনবে । যদিও আরও অনেক ভাল ও বিখ্যাত মিউজিক রয়েছে তারপরও ভিডিও গেম এর মিউজিক হ্যাকারদের বেশি পছন্দ । তাদের ঘরে আপনি শুধু সাংস্কৃতিক বা বিজ্ঞানভিত্তিক পোস্টারে ভরা দেখবেন।
৩/কথার স্টাইল : হ্যাকাররা খুবই স্বল্পভাষী।খুব কমই একজন হ্যাকার কথা বলে যদি না তার জন্য দরকারি হয় এবং যতটা সম্ভব কাটছাঁট বা আদ্যক্ষরসমস্টি ব্যবহার করে কথা বলে।এখন আপনি জিজ্ঞেস করতে পারেন কেন তারা এটা করে ?এটি আসলে শক্তি সংরক্ষণ এবং মাল্টি টাস্কিং এর জন্য ভাল ।হ্যাকাররা কথা বলার চাইতে ই-মেইল বা মেসেজ ব্যবহার করে বেশি, এমনকি যদি আপনি তাদের পাশে বসে থাকেন তাও ! ইলেকট্রনিক বার্তা পরের মন জানাজানির থেকে ভাল জিনিস (যদিও আমি শুনতে পাই কিছু মানুষ আছে যারা তাদের ঘিলুর মধ্যে মাইক্রোচিপস বসিয়ে ভিডিও গেম খেলে, ব্যাপারটা পুরোই পাগলামি মনে হয় আমার কাছে)…. এছাড়াও হ্যাকাররা খুব ভাল দ্বিভাষিক হতে পারে; তারা অত্যন্ত সাংস্কৃতিক মানুষ ও বটে ।
৪/আত্মপ্রকাশ: হ্যাকাররা বেশিরভাগ সময়ে নিজেকে লোকচক্ষুর আড়ালে রাখতে পছন্দ করে।কেউ দেখেও বোঝেনা, অধিকাংশ ক্ষেত্রে হ্যাকাররা নিজের দিকে অপ্রয়োজনীয় মনোযোগ আকর্ষণ এড়ানোর চেষ্টা করে।এর জন্যই হ্যাকাররা সবসময় একা একা থাকতে পছন্দ করে।
৫/পড়াশোনাঃ মূলত বেশীরভাগ হ্যাকাররাই প্রচুর পড়াশোনা করে আর তাদের জ্ঞান পিপাসাটা অন্যদের থেকে একটু বেশীই বটে।যে কোন অজানা জিনিসের প্রতিই তাদের প্রচুর আগ্রহ।আর হাতের কছে যদি কোন হ্যাকিং বিষয়ক বা ইলেকট্রনিক সম্ভন্ধণীয় বই পত্র থকে তাহলে তো কথাই নেই, যতক্ষন না সেটা পড়া শেষ করবে দুনিয়ার অন্য কোন দিকে তার মনোযোগ আকর্ষনের চেষ্টা বৃথা। এছাড়াও হ্যাকাররা খেলাধুলা কিংবা আড্ডা মারার চেয়ে সাধারনত বইয়ের দোকানে বা কোন সিডির দোকানে ঘুরঘুর করতে বেশী পছন্দ করে ।
এখন আপনি হয়তোবা উপরের লেখাগুলো পড়ে বলতে পারেন, আপনি অনেক হ্যাকারকে চেনেন যাদের সাথে উপরের লেখাগুলোর অনেকাংশে মিল নেই বা আংশিক মিল রয়েছে।আমি কিন্তু এব্যাপারে আগেই বলে নিয়েছি যে সব হ্যাকাররা ভিন্ন ব্যাক্তিত্তের মানুষ আর সে জন্য সবার জীবনধারা যে এমনই হতে হবে তা নয়।
আশা করি হ্যাকারদের সম্পর্কে নতুন কিছু জানতে পেরেছেন ।

ভালো থাকবেন ।ভালো রাখবেন কাছের মানুষটিকে সেই কামনা রইল।
আল্লাহ হাফেজ।

8 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ