পেপ্যাল (paypal) নিয়ে বিস্তারিত (শেষ পর্ব ৬,সমালোচনা এবং সীমাবদ্ধতা)

2
321

পেপ্যাল একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান যারা অর্থের স্থানান্তর বা হাতবদল ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা সহায়তা দিয়ে থাকে। অননলাইন স্থানান্তরের এই পদ্ধতি গতানুগতিক অর্থের লেনদেনের পদ্ধতি যেমন চেক বা মানি অর্ডারের বিকল্প হিসেবে ব্যাবহৃত হয়ে থাকে।

সমালোচনা এবং সীমাবদ্ধতা

বর্তমান (2011/04/15 09:17 CST) পেপ্যালের গ্রাহক চুক্তিনামা ৩৪ পৃষ্ঠা দীর্ঘ পিডিএফ নাথি।  যদি একটি পেপ্যাল ব্যবসায়ী থেকে যদি এক একটি পণ্য ক্রয় করা হয়, একজন ক্রেতা নিজের ও ব্যবসায়ীর পরেও সালিশির জন্য একটি অতিরিক্ত স্তরে সম্মত হচ্ছে। সুতরাং এমনকি যদি ব্যবসায়ী অসঙ্গতভাবে লেনদেন করে, পেপ্যাল তাদের নিজের নীতিমালা অমান্য করেনি যতক্ষন পর্যন্ত ব্যবহারকারী পেপ্যালের সঙ্গে একটি অতিরিক্ত সালিশ পদ্ধতির মধ্য দিয়ে পর্যন্ত গিয়েছে। একমাত্র যখন পেপ্যাল তাদের ৩৪ পাতা চুক্তিনামা অনুসারে কোন সমস্যার সুরাহা করতে ব্যর্থ হয় তখন একজন গ্রাহক সরাসরি ক্রেডিট কার্ড সরবরাহকারীর সাথে যোগাযোগ করতে পারে।

সামথিং অফুল, নামে ওয়েবসাইটের সত্বাধিকারী রিচার্ড কায়ানকা ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হারিকেন কাটরিনার ভুক্তভোগীদের জন্যে একটি পেপ্যাল একাউন্ট খোলেন যার অর্থ রেড ক্রসে অনুদানের জন্য সংগ্রহ করা হয়। তার এই আহ্বানে দ্রুতহারে সেই একাউন্টে অনুদান আসতে থাকে যার ফলে সেই একাউন্টটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত করে দেয়া হয়, পরবর্তীতে সেই একাউন্টকে নিয়মিত করার জন্য পেপ্যালের গ্রাহক সেবা বিভাগের সাথে যে পরিমাণে সময় এবং ঝামেলা পোহাতে হয় কায়ানকা তার যথেষ্ট সমালোচনা করেন। সামথিং অফুল ওয়েবসাইটের সদস্যগণ যখন তাদের আশংকা প্রকাশ করেন পেপ্যাল কর্তৃক নিযুক্ত দাতব্য প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ওয়ের, বিষয়ে, কায়ানকা তখন সকল দাতাদের অর্থ ফেরত দিয়ে দেন যেন তারা নিজেদের পছন্দের দাতব্য প্রতিষ্ঠানে অর্থ প্রদান করতে পারেন। যদিও পেপ্যাল বহির্বিশ্বের দাতাদের এক্সচেঞ্জ ফী এবং কমিশন ফী ফেরত দেয়নি।

পেপ্যাল (paypal) নিয়ে বিস্তারিত (শেষ পর্ব ৬,সমালোচনা এবং সীমাবদ্ধতা)

২০০৮ সালের মার্চ মাসে অস্ট্রেলিয়ার একটি বর্তমান সময়ের ওপরে টেলিভিশন প্রোগ্রাম টুডে টুনাইট পেপ্যালের ওপরে একটি পর্ব প্রচার করে যেখানে পেপ্যালের নিরাপত্তা, একাউন্ট যব্দকরণ ও গ্রাহক সেবার বিষয়ে সমালোচনা করা হয়।

বেশকিছু পেপ্যালের সমালোচোনাকারী ওয়েবসাইট সৃষ্টি হয়েছে যাদের মুল অভিযোগ পেপ্যাল কর্তৃক একাউন্ট যব্দকরণ যখন ই-কমার্স সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের দ্রুত প্রবৃদ্ধি ঘটে, ফলে সেসকল ব্যাবসায়ী তাদের সরবরাহকারীদের সময়মত অর্থ প্রদানে ব্যর্থ হয়। এমনই এক ওয়েবসাইট, Paypalsucks.com,ranked third on a ফোর্বস ম্যাগাজিন এর ২০০৫ সালের সেরা “Top Corporate Hate Web Sites” এর তালিকায় তৃতীয় হয় “বৈরিতা” এবং ওয়েব পোস্টিং এবং অন্যান্য বিষয়ে এর “বিনোদোন মাত্রার” ওপরে।

অস্ট্রেলিয়ান কম্পিটিশন এন্ড কনজিউমার কমিশন ২০০৮ সালের জুন মাসে উদঘাটন করে যে, “প্রাপ্ত প্রমাণসমূহ থেকে পেপ্যাল অন্যান্য সকল প্রক্রিয়া থেকে নিরাপদ অথবা অন্য সকল পদ্ধতি থেকে বেশী সেবা পাওয়া যায়, এই ধারনার উপযুক্ত অবলম্বন পাওয়া যায়নি”

২০১০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে পেপ্যাল সকল “ব্যাক্তিগত” লেনদেন বন্ধ করে দেয় অথবা ফেরত দিয়ে দেয়। যেসকল অর্থ ইতোমধ্যে হাতবদল হয়ে গিয়েছিল বা যেসকল লেনদেন সম্পুর্ণ হয়ে গিয়েছিল সেগুলোও ফেরত দেয়া হয়। ফলে অনেক বিক্রেতার একাউন্ট ওভার ড্রাফট হয়ে যায়। সমগ্র ভারতের প্রতিষ্ঠান, ঠিকাদার এবং সেবা প্রদানকারী সংস্থাসমূহ হটাৎ করে পেপ্যালের নিকট ঋণী হয়ে পড়ে যখন পূর্ব ঘোষণা ব্যাতীত তাদের লেনদেনের অর্থ ফিরিয়ে নেয় যেই অর্থ তারা গ্রহণ করে পরে ব্যাঙ্ক থেকে উঠিয়েও নিয়েছিল।

আন্তর্জাতিক ব্যাপ্তি থাকা সত্বেও একাধিম মূদ্রাসম্পন্ন ব্যাবহারকারীদের ক্ষেত্রে পেপ্যালের ক্ষমতা সীমিত। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, একজন ব্যাবহারকারীর একাধিক দেশে ব্যাঙ্ক একাউন্ট থাকা অসম্ভব, এছাড়া ব্যাবহারকারীর ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড যেই দেশে সেই দেশ ছাড়া অন্য দেশে ডাক ঠিকানা রাখা।

পেপ্যাল (paypal) নিয়ে বিস্তারিত (শেষ পর্ব ৬,সমালোচনা এবং সীমাবদ্ধতা)

২০১০ সালের মার্চ মাসে পেপ্যাল ক্রিপ্টোম নামে প্রতিষ্ঠানের অনুদান যব্দ করে, তার ফলে ৫৩০০ ডলারের পাঠানো অনুদান আটকে যায়। পেপ্যাল এই পদক্ষেপের কোন ব্যাখ্যা দিতে অস্বীকার করে, এই দাবীতে যে অনুদান যব্দের কারণ জানালে তা ক্রিপ্টোমের নিজের গোপনীয়তার নীতিমালা ভঙ্গ করবে। এক সপ্তাহ পরে পেপ্যাল তাদের আচরণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, যা ক্রিপ্টোমের প্রতিষ্ঠাতা জন ইয়ং বর্জন করে পেপ্যালের আচরণকে “অপমানজনক ও অগ্রহণযোগ্য” বলে জানান।

২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পেপ্যাল মাইনক্র্যাফট গেমের নির্মাতা স্বাবলম্বী গেম ডেভেলাপার মার্কুস প্রেসনের একাউন্ট যব্দ করে ফেলে। সেই সময় সেই একাউন্টে প্রায় €600,000 ছিল।

এছাড়াও ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পেপ্যাল ওপেন সোর্স রিভিশন কন্ট্রোল সফটওয়ার টরটয়েজএসভিএন এর একাউন্ট স্থগিত করে দেয়। তাদের প্রধান ডেভেলপার এই পরিস্থিতিকে তুলনা করে একটি গাড়ির ওয়ার্কশপের সাথে এইভাবে, “তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা আপনার সাথে আর ব্যাবসা করবে না … কিন্তু দোকানের মালিক জানায় যে তারা আপনার গাড়ী ছয় মাসের আগে ফেরত দিতে পারবে না তাদের নিজস্ব নীতিমালার কারণে।”

ডিসেম্বর ২০১০তে, পেপ্যাল পেপ্যাল গ্রহনযোগ্য ব্যবহার নীতিমালার লঙ্ঘনের অভিযোগে একটি একাউন্ট যা উইকিলিকস এর জন্য অর্থ উত্তোলোনে ব্যাবহৃত হত, স্থায়ীভাবে সীমিত করে দেয়। প্যারিসে এক সম্মেলনে পেপ্যালের উপ-সভাপতি এক প্রশ্নের জবাবে জানান, যে সেই একাউন্টটি আমেরিকান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চাপে স্থগিত করা হয়েছে। .পরবর্তীতে পেপ্যাল এই বলে পুনরাবৃত্তি করে যে একাউন্টটি পেপ্যালের গ্রহনযোগ্য ব্যবহার নীতিমালার লঙ্ঘন করে। এর ফল হিসেবে পেপ্যালের ওয়েবসাইট paypal.com এ সাইবার আক্রমণ ঘটে এবং একটি ক্ষূদ্র সংখ্যক ব্যাবহারকারী তাদের পেপ্যাল একাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেন এই ঘটনার প্রতিবাদ হিসেবে।

2 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ