জোরহাতে মিনতি জানাচ্ছি একবার পড়ুন। শ্রমিক নির্যাতনের বাস্তব রূপ।

0
264

জোরহাতে মিনতি জানাচ্ছি একবার পড়ুন। শ্রমিক নির্যাতনের বাস্তব রূপ।

বাংলাদেশে যদি একজন বিবেকবান মানুষ থেকে থাকেন তার উদ্দেশ্যে আমার এই খোলা চিঠি। আপনি জানেন কি? কিভাবে Textile Industry(Garments, Spinning mill, Weaving mill, Sweater mill and Dyeing mill) তে শ্রমিকদের উপর কিভাবে নির্যাতন করা হয়, কিভাবে তাদেরকে পাওনা মুজুরি এবং ওভারটাইম না দিয়ে ঠকানো হয়, কিভাবে মেয়ে শ্রমিকদের দেহ ভোগ করা হয়।বাংলাদেশ সরকার, শ্রমিকদের জন্য যত আইন করেছে তার কোন আইনের প্রয়োগ Textile Industry(Garments, Spinning mill, Weaving mill, Sweater mill and Dyeing mill) তে নাই।

  1. 1.   শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি দেওয়া হয় না।যা শ্রমিক আইনের পরিপন্থি ।
  2. 2.  শ্রমিক/কর্মকর্তা নিয়োগের সময় কোন নিয়োগপত্র দেওয়া হয় না ।যা শ্রমিক আইনের পরিপন্থি ।কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হয় না জানেন, Textile Industry তে দুর্ঘটনায় কারও নিকট আত্নীয় মারা গেলে যাতে কোন ক্ষতিপূরন চাইতে না পারে। নিয়োগপত্র না দেওয়ার আরেকটি কারন হল, Textile Industry এর মালিকরা যখন যাকে খুশি ছাঁটাই করবে এবং ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকেরা কোথাও এই অনিয়মের বিচার চাইতে পারবে না(এখানে উল্লেখ্য যে, শ্রমিক আইনে বলা আছে কোন শ্রমিককে ছাটাই করলে 100 দিনের বেতন দিয়ে তাকে ছাটাই করতে হবে)। মালিকদের পোষা ফ্যক্টরীর ভিতরে্ একটা গুন্ডা/মাস্তান বাহিনী থাকে(কখনও কখনও যাদের নামকরন করা হয় ‍Security Guard বলে)। এই গুন্ডা/মাস্তান বাহিনীর কাজ হল, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক, অগ্নিকান্ড/দুর্ঘটনায় কবলিত শ্রমিকদের ID Card ছিনিয়ে নেওয়া।
  3. 3.  শ্রমিক আইন অনুযায়ী, কোন শ্রমিককে দিয়ে জোর করে কোন কাজ করাতে পারবে না, একজন শ্রমিককে দিয়ে এক দিনে আট ঘন্টা(সকাল আটটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত ) কাজ করাতে পারবে এবং সর্বোচ্চ 2 ঘন্টা ( পাঁচটা থেকে সাতটা পর্যন্ত) ওভারটাইম করাতে পারবে। কিন্তু আমাদের দেশে সকাল আটটা থেকে শুরু করে রাত বারটা পর্যন্ত শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করা হয়,তাদেরকে ঠিকমত মজুরি দেওয়া হয় না, ওভারটাইম তো দূরের কথা।
  4. 4.  মালিক পক্ষের দু একজন ব্যক্তি/মালিকের দু একজন খাস চামচা মহিলা শ্রমিকদের বেতন, ওভারটাইম, প্রমোশন পাওয়িয়ে দেবে এই প্রতিশ্রুতিতে তাদের দেহ ভোগ করে।

ব্যক্তিত্বসম্পন্ন গ্যাজুয়েট ডিগ্রিধারী Textile engineer, Electrical engineer, Mechanical engineer, MBA, BBA করা ব্যক্তিত্ব টেক্সটাইল ইন্ডাষ্টিতে বিদ্যমান, তারা ফ্যক্টরীর ক্ষমতাধর ব্যক্তি, তাদের ছাড়া ফ্যক্টরীর চাকা ঘুরবে না।এই সকল ব্যক্তিত্ব (Textile engineer, Electrical engineer, Mechanical engineer, MBA, BBA)হুকুম তামিলে ব্যস্ত নির্বাক পুতুল, হুকুমের বাহিরে গেলে এদেরও চাকুরি নাই।নামের আগে বা পরে যতই Engineer/Officer লেখুক না কেন, এদের পরিচয় হল এরাও শ্রমিক।তাহলে এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতেছে কে খারাপ? BGMEA এর যত নেতা দেখবেন ওরা খারাপ এবং Textile Industry এর মালিকরা খারাপ।

পুলিশদের উদ্দেশ্যে বলছি,

              আমি একটা টেক্সটাইল মিলের একজন কর্মকর্তা, ঈদের পরদিন আমার এক আত্নীয় সম্পর্কে দাদা লাগে আমাকে বলল আমিতো পেনসন পেয়েছি, তোমার Factory তে আমাকে একটি Security Guard এর চাকুরী দাও না। আমি বললাম আমার  Factory তে 20 জন Security Guard এক্সটা আছে, এখনতো আপনাকে আমি কোন চাকুরী দিতে পারবো না। আমি দেখবো আপনার জন্য কিছু করতে পারি কিনা। সত্য কথা হল আমি তাকে চাকুরি দিতে পারতাম।একবছর আগে আমি আমার ঐ দাদাকে টিভিতে দেখেছি , বেতন বোনাসের দাবিতে আন্দোলনরত গার্মেন্টস ‍শ্রমিকদের পিটাচ্ছে।কি দোষ করেছিল গার্মেন্টস ‍শ্রমিকরা কাজ করার পর মজুরী চাওয়া কি অপরাধ। পুলিশ তাদের বিতর্কিত কাজের জন্য সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে, এমন দিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন ছোট ছোট বাচ্চারা বলবে সালায় পুলিশ, আলেমসমাজ বলবে পুলিশের জানাযা দিব না।      

 

একটি উত্তর ত্যাগ