(Beginner to Professional Security Specialist: Part:2) হ্যাকিং এর সূচনা ও পূর্ব ইতিহাস।

4
372

আসসালামুআলাইকুম।

এই যে হ্যাকার ভাইয়েরা এদিকে আসুন ।.আশা করি আল্লাহর অশেষ রহমতে সবাই ভালো আছেন।

হ্যাকার হবেন কিন্তু যদি না জানেন হ্যাকিং এর ইতিহাস তাহলে কিভাবে হবে?

তাই আজকে আমি আপনাদের হ্যাকিং এর শুরুর দিকের কিছু কথা বলব।
প্রায় এক শতাব্দী ধরে হ্যাকিং চলছে! ১৮৭০ সালের দিকে সর্বপ্রথম (ধারনা করা হয়) কিছু উঠতি যুবকরা আমেরিকার ফোন সিস্টেম বিচ্ছিন্ন করে। এর পর পরবর্তী ৩৫ বছর বিচ্ছিন্নভাবে এরকম ঘটনা ঘটতে থাকে। নিচে আমি ঘটনাগুলো উল্লখে করছি।
১৯৬০ সালের প্রথম দিকে এমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ল্যাব  হ্যাকারদের দ্বারা ব্যাপক পরমিনে আক্রান্ত হয়। এটা ছিল হ্যাকিং এর প্রথম ধাপ। প্রথম দিকে হ্যাকারদের একটা ভাল দল হিসেবে বিবেচনা করা হত। যারা দক্ষ ভাবে প্রোগ্রাম পরিচালনা করতে পারত।
১৯৭০-এর প্রথম দিকে “জন ড্রাপার “ অনেক দূরে (দূরবর্তী ফোন কল) কথা বলার জন্য একটা ফ্রি ফোন সিস্টেম তৈরী করল। এটার মাধ্যমে বিভিন্ন শব্দ পাঠানো যেত আর এটা কাজ করত টেলিফোন তারের মাধ্যমে।তখন “ইয়াপ্পি সোসিয়াল মুভমেন্ট” ওয়াই.আই.পি.এল/টি.এ.পি ম্যাগাজিনে হেল্প ফোন নামে দূরে কথা বলার জন্য ফ্রি প্রোগ্রাম বানালো। যার নাম দিল “ফ্রিকস্”

জন ড্রাপার (Beginner to Professional Security Specialist: Part:2) হ্যাকিং এর সূচনা ও পূর্ব ইতিহাস।
জন ড্রাপার

এরপর দুইজন ক্যালির্ফোনিয়ার হোমব্রিউ কম্পউিটার ক্লাব এর মেম্বার  “ব্লু বক্সেস” ডিভাইস বানিয়ে ফোন সিস্টেম হ্যাক করা শুরু করে। যে সব মেম্বাররা যেমনঃ বের্কলি ব্লু (স্টিভ জবস) এবং ওয়াকটোবার্ক (স্টিভ ওয়াজনিয়াক) এ নিয়ে গবেষনা করতেন পরর্তীতে তাঁরা অ্যাপল কম্পিউটার প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৮০ এর দিকে উইলিয়াম গিবসন সাইবার স্পেস  নামে একটা সাইন্সফিকশন এর নোবেল লেখেন যেটাকে ডাকা হত নিউরোমেনসার।

সর্বপ্রথম হ্যাকারদের গ্রেপ্তারের সময় এফবিআই Milwaukee-based 414s (এরিয়া কোড) এর মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটেরিং ক্যানসার সেনটার থেকে লস এলামোস ন্যাশনাল ল্যাবেরটরী পর্যন্ত রেঞ্জের প্রায় ষাটটি কম্পিউটার পুরোপুরি অকেজো করে দেয় ।“Hackers internal connection” মানে এগুলো সবগুলোর সাথে হ্যাকারদের একে অপরের সাথে যোগাযোগের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত ছিল।এর জন্যই সেগুলো অকেজো করে দেয়া হয়।

পরে কম্প্রিহেনসিব ক্রাইম কনট্রোল সিক্রেট সার্ভিসকে যে কোন প্রকার ক্রেডিট কার্ড এবং কম্পিউটার অপরাধ সংক্রান্ত সব দায়দায়িত্ব হস্তান্তর করে।১৯৮০-এর শেষ দিকে প্রতিনিয়ত টেলিফোন এবং কম্পিউটার হ্যাকিং হওয়া শুরু করে। ১৯৮০-এর শেষ দিকে ইউ.এস. ডিফেন্স এজেন্সী তৈরী করল কম্পিউটার ইমার্জেন্সী রেসপন্স টিম ।মূলত পিটসবার্গ এর কর্নিজ মেলন ইউনিভার্সিটির মেম্বাররাই এই টিমের সদস্য ছিল, যাদের দায়িত্ব ছিল এরকম হ্যাকিং আক্রমন প্রতিহত করা এবং খুঁজে বের করা কে বা কারা হ্যাকিং কার্যক্রম এর সাথে জড়িত।

মাত্র পঁচিশ বছর বয়সেই কেভিন মেটনিক যে কিনা পরবর্তীতে খুবই নাম করা হ্যাকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তিনি খুবই গোপনীয়তার সাথে এম.সি.আই এর সকল ই-মেইল এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার সাথে জড়িত যন্ত্রাংশ সমূহকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষন করে।

কেভিন মিটনিক (Beginner to Professional Security Specialist: Part:2) হ্যাকিং এর সূচনা ও পূর্ব ইতিহাস।
কেভিন মিটনিক

এর জন্য পরবর্তীতে তাঁকে বিভিন্ন প্রকার মূল্যবান সফটওয়্যার চুরি এবং কম্পিউটারের ডাটা নষ্ট করার কারনে শাস্তি হিসেবে একবছর জেলে কাটাতে হয়।
হ্যাকিং এর ইতিহাসে সর্বপ্রথম ৭০মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয় শিকাগোর ন্যাশনাল ব্যাংক ।

১৯৯০ এর শুরুতে হ্যাকাররা ব্যাপক পরিমানে তান্ডব চালাতে থাকে। এসময় অনেক হ্যাকারের নাম লোকচক্ষুর সামনে আসে।এ সময় সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা মিলে একটি ক্রাইম ইউনিট গঠন করে এবং তারা এই অপারেশনের নাম দেয় অপারেশন সানডেভিল ।মূলত ১২টি প্রধান শহরকে নজরদারীর আওতায় আনা হয় এই অপারেশনে। ১৭ মাস টানা খোঁজার পর বেরিয়ে আসে হ্যাকার কেভিন লি পলসন  (যার ছদ্মনাম ডর্ক ডেন্টি) যে কিনা মিলিটারির গোপন নথিপত্র চুরি করেছিল। এরপর হ্যাকাররা গ্রিফিত এয়ারফোর্স বেস, নাসার কম্পিউটার এবং কোরিয়ান এটমিক রিসার্চ ইন্সটিটিউটের দিকে নজর দেয় ।

(Beginner to Professional Security Specialist: Part:2) হ্যাকিং এর সূচনা ও পূর্ব ইতিহাস।
কেভিন লি পলসন

একজন হ্যাকার টেক্সাসের এক প্রফেসরের কম্পিউটারে লগইন করে তার ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাঁকেই মৃত্যুহুমকি দেয় এবং অবৈধভাবে ২০,০০০ এর মত ই-মেইল প্রেরন করে ।স্যানডিয়াগো সুপার কম্পিউটার সেন্টারে কম্পিউটরের সাহায্যে সুটোমু সিমোমোরা কেভিন মেটনিক এর সঠক অবস্থান খুঁজে বের করে এবং তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয় হ্যাকিং এর অপরাধে।
১৯৯০ এর শেষের দিকে অনেক শক্তিশালী ওয়েবসাইট হ্যাক হয়। যেগুলোর মধ্যে ইউএস ডিফেসমেন্ট অব জাস্টিস,সিআই, নাসা, ইউএস এয়ারফোর্সের ওয়েবসাইট উল্লেখযোগ্য।
শুধুমাত্র ১৯৯৫ সালে প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার কম্পিউটার হ্যাক হয়। একটি ক্যানাডিয়ান হ্যাকার গ্রুপ যার নাম “ব্রাদারহুড” তারা কানাডার ব্রডকাস্টিং ক্রপ হ্যাক করে এবং লিখে দেয় যে, “মিডায়ার প্রকাশিত সব তথ্যই মিথ্যা”।
এছাড়া ক্রিসমাসের দিনে জনপ্রিয় ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন “ইয়াহু!” হ্যাক হয়েছিল ।এর পর ১৯৯৭ সালেস্পোকসওমেন ডিয়ান হান্ট ঘোষণা করে যে ইয়াহু!তে কোন ভাইরাস নাই।

১৯৯৮ সালে একটি অ্যান্টি-হ্যাকার বাজারে আসে । এটা ছিল বিজ্ঞাপনের জন্য। যার দাম ছিল ১.৩ মিলিয়ন প্রতি ৩০ সেকেন্ডের জন্য।একই বছর জানুয়ারীতে ফেডারেল ব্যুরো হ্যাকিং এর শিকার হয়।মূল ঘটনা হল একজন হ্যাকার হাজার হাজার ফেক রিকোয়েস্ট পাঠায় যাকে স্পামিং বলা হয়।এছাড়া এবছরই হ্যাকাররা পেন্টাগনের সিকিউরিটি সিস্টেম ভেঙ্গে ফেলে এবং মিলিটারির সকল মূল্যাবান আগ্নেয়স্ত্রের মডেল চুরি করে নিয়ে যায় এবং তারা সরকার কে ব্ল্যাকমেল করতে থাকে এবং হুমকি দেয় যে তাদের চাহিদা না মেটালে তারা সেগুলো টেরোরিস্টদের কাছে বিক্রি করে দেবে।
মোটামুটি এই ছিল হ্যাকিং এর ইতিহাস।এখন বর্তমান সময়ে হ্যাকারের সংখ্যা এত বেশী যা হাতে গুনে শেষ করা যাবে না।

আজ এ পর্যন্তই।ভালো থাকবেন সবাই আর ভালো রাখবেন কাছের মানুষটিকে।

 

4 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ