পেপ্যাল (paypal) নিয়ে বিস্তারিত (পর্ব ৫, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতারণা)

2
398

নিয়ন্ত্রণ

ইউরোপে, পেপ্যাল লুক্সেমবার্গে একটি ব্যাঙ্ক হিসেবে নিবন্ধন করা হয় PayPal (Europe) Sàrl et Cie SCA আইনি নামের অধীনে, যেটি একটি প্রতিষ্ঠান লুক্সেমবার্গের ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ বা কমিশন ডি সার্ভাইলেন্স দু সেক্টিউর ফাইন্যান্সিয়ার (CSSF) কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। (নোট যে কোম্পানির সমস্ত ইউরোপীয় অ্যাকাউন্টের হিসাব জুলাই ২, ২০০৭তে লুক্সেমবার্গে পেপ্যালের ব্যাঙ্কে স্থানান্তর করা হয়েছিল) এই পরিবর্তনের পূর্ব পর্যন্ত পেপ্যাল নিবন্ধিত ছিল যুক্তরাজ্যে PayPal (Europe) Ltd, নামে, একটি বাণিজ্যিক সত্বা যার আনুমোদন ছিল ইলেকট্রনিক মানি ইস্যুয়ার হিসেবে যুক্তরাজ্যের ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অথরিটির (FSA) অধীনে ২০০৪ সাল থেকে। এই প্রক্রিয়া ২০০৭ সালে শেষ হয়ে যায় যখন প্রতিষ্ঠানটি লুক্সেমবার্গে স্থানান্তরিত হয়ে যায়।

পেপ্যাল (paypal) নিয়ে বিস্তারিত (পর্ব ৫, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতারণা)

যদিও যুক্তরাষ্ট্রে পেপ্যালের ব্যাপক ব্যাবহারকারীর সাথে সুগভীর চুক্তি থাকে, তথাপি আমেরিকার কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক পেপ্যাল সরাসরি নিয়ন্ত্রিত নয় এই কারণে যে তারা মুলত ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে মধ্যস্ততাকারী হিসেবে কাজ করে।পেপ্যালের অবস্থানের বিষয়ে আইন এখনো অস্পষ্ট যে এটি কি একটি ব্যাঙ্ক, নাকি সীমাবদ্ধ ব্যাঙ্ক, অর্থ প্রেরক সংস্থা নাকি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। পেপ্যাল স্থানীয় রাজ্যের আইন অনুসারে নিয়ন্ত্রিত হতে পারে যদিও রাজ্যের আইন একটির থেকে আরেকটি কমবেশী হয় ব্যাঙ্ক, সীমাবদ্ধ ব্যাঙ্ক, প্রেরক সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সংজ্ঞাইত করতে। পেপ্যালের নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে নিকটবর্তী আইনগত ব্যাখ্যা পাওয়া যায় পারস্পরিক P2P লেনদেন ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে। আইনগতভাবে, একটি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন, বিশেষত কার্ডধারী ও কার্ড প্রদানকারী ব্যাঙ্কের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ন্ত্রিত হয় ট্রুথ ইন লেন্ডিং এক্ট (TILA) 15 U.S.C. §§ 1601-1667f যা Z, 12 C.F.R. pt. 226, (TILA/Z). আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। TILA/Z এই আইন বিল তৈরিতে প্রমাদ, বিবাদ মেটানো এবং অননুমোদিত লেনদেনের ক্ষেত্রে কার্ডধারীর দায়বদ্ধতা ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়। করে।  একই ভাবে ডেবিট কার্ডধারী ও তার ব্যাঙ্কের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ন্ত্রিত হয় ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার এক্ট (EFTA) 15 U.S.C. §§ 1693-1693r, এর E, 12 C.F.R. pr. 205, (EFTA/E) ধারা আনুসারে। EFTA/E ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণ ও দৃড় ভূল সংশোধনের নীতি সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়।  However, because PayPal is a তথাপি যেহেতু পেপ্যাল একটি তাৎক্ষনিক পেমেন্ট পদ্ধতি এবং এছাড়া সরাসরি নিয়ন্ত্রিত নয়, তাই TILA/Z এবং EFTA/E আইনগুলো সরাসরি পেপ্যালের ওপরে পরিচালিত হয় না যখন একবার ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন সম্পন্ন হয়ে যায়। সহজভাবে, যদি না পেপ্যালের একটি লেনদেন ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে হয়ে থাকে তাহলে বিক্রেতা কর্তৃক প্রতারণা বা জালিয়াতির বিরুদ্ধে ক্রেতার করণীয় তেমন কিছু নেই।

পেপ্যাল (paypal) নিয়ে বিস্তারিত (পর্ব ৫, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতারণা)

২০১০ সালের জানুয়ারীর ২৭ তারিখ পর্যন্ত ভারতে পেপ্যালের অন্তঃসীমান্ত অর্থ স্থানান্তরের অনুমতি ছিল না। নিউ ইয়র্ক টাইমস এর “India’s Central Bank Stops Some PayPal Services” শীর্ষক প্রবন্ধে, ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মুখোপাত্র আলপনা কাল্লিওয়ালা জানান “অন্তঃসীমান্ত মূদ্রা লেনদেনের সেবার জন্য রিজার্ভ ব্যাঙ্কের Payment and Settlement Systems Act, আইনের অধীনে অনুমতি প্রয়োজন, পেপ্যালের সেই অনুমতি নেই।পেপ্যাল “Certificates of Authorisation issued by the Reserve Bank of India under the Payment and Settlement Systems Act, 2007 for Setting up and Operating Payment System in India” এই তালিকার অন্তর্ভূক্ত নয়।

পেপ্যাল (paypal) নিয়ে বিস্তারিত (পর্ব ৫, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতারণা)

প্রতারণা

টেমপ্লেট:Worldwide যদি একটি অননুমোদিত তৃতীয় পক্ষ কোনও একজনের পেপ্যাল লগিন তথ্য সংগ্রহ করে ও ব্যবহার করে এবং একান্টধারীর ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যাবহার করে একটি লেনদেন সম্পন্ন করে তাহলে EFTA/E এবং TILA/Z এই তথ্য চুরির জন্য পেপ্যালকে দায়িত্বশীল করে। অবশ্যই এই আইনের সুনির্দিষ্ট ব্যাতিক্রম রয়েছে। এর মধ্যে একটি হল, যখন পেপ্যালের জমা একাউন্ট থেকে বেআইনি ভাবে অর্থ উত্তোলন করা হয়। এইরকম পরিস্থিতিতে পেপ্যাল অথবা ব্যাঙ্ক কেউই এই অর্থ ফেরত দেবার জন্য দায়বদ্ধ থাকবে না কারণ পেপ্যাল ও গ্রাহকের মধ্যকার চুক্তি এইরকম লেনদেনের জন্য অনুমতি দেয়

পেপ্যালের গ্রাহকদের ব্যাক্তিগত তথ্য সীমিতভাবে সংরক্ষিত একটি কেন্দ্রীয় আইন দ্বারা। যেহেতু পেপ্যাল একটি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান Gramm-Leach-Bliley Act (GLB), এই আইন আনুসারে, তাই তারা গ্রাহকের গোপনীয় তথ্য তৃতীয় কোন পক্ষের নিকট প্রকাশ করতে পারেনা যদি না সেটি প্রকাশ করার জন্য গ্রাহক অনুমতি দিয়ে থাকে।

পেপ্যাল (paypal) নিয়ে বিস্তারিত (পর্ব ৫, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতারণা)

যদি কোন গ্রাহকের একাউন্ট প্রতারণা বা বিনা অনুমতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়, তাহলে পেপ্যাল সেটির অবস্থান হিসেবে সীমিত প্রবেশাধিকার বা “Limited Access” পদবী দিয়ে চিহ্নিত করে। এই পরিস্থিতিতে একজন একান্টধারীকে অবশ্যই নিম্নের কাজগুলো করা লাগবে।

  • লগ ইন
  • পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা।
  • কয়েকটি নিরাপত্তামূলক প্রশ্নোত্তর তৈরি করা (তার ব্যাক্তিগত পছন্দের বিপরীতে— যেমন “আপনার প্রিয় আইসক্রিম কোনটি?” এরকম নয় যে “আপনার মায়ের পূর্বের নাম কি ছিল?”)
  • অবস্থান নিশ্চিত করা ফোনে অথবা ইমেইলে।

ফিশিং

পেপ্যালের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ফিশিং এর হাত থেকে বাঁচার জন্য উপদেশ দিয়ে থাকে যেন ব্যাবহারকারীরা সহজে সন্দেহজনক কিছু দেখলে চিনতে পারে এবং কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারে। পেপ্যাল তার ব্যাবহারকারীদের উৎসাহিত করে ফিশিং সম্পর্কিত ইমেইল যেন পেপ্যালের নিকটে পৌছে দেয়।

2 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ