THE HARRY POTTER SERIES-কি আছে এতে? জানতে চান হ্যারি পটার সম্পর্কে অজানা সব তথ্য? জানতে চাইলে পড়তে পারেন।

1
1451
আমরা জানি যে পৃথিবীতে ফিকশন নামের একটি বিশেষ ধরনের সাহিত্য রয়েছে।এই ফিকশন বা কল্পকাহিনী আমাদের সবার কাছে হয়তো সমানভাবে গ্রহনযোগ্যতা পায় না,তাছাড়া অনেকেরই এটি নিয়ে মিশ্র মতামত রয়েছে।অন্যান্য ধরনের উপন্যাস বা গল্পে শুধুমাত্র চরিত্র ও প্লট নিয়ে চিন্তা করলেই চলে কিন্তু ফিকশনে এগুলোর বাইরেও একটা ভিন্নজগত্‍ তৈরী করতে হয়।শুধুমাত্র কাগজ আর কলম দিয়ে একটি ভিন্ন জগত্‍ তৈরী করে এর মধ্যে প্রান সন্ঞ্চার করা কোনমতেই সহজ কাজ হতে পারে না।এরকম একটি বিশ্বখ্যাত সাহিত্য হল HARRY POTTER সিরিজ।হ্যাঁ,এর স্রষ্টা জে.কে.রাউলিং পাঠকদেরকে শুধুমাত্র একটি ভিন্ন জগত্‍ই উপহার দেননি,দিয়েছেন এতে বাস্তবতার কঠোর সত্যকেও,ভালোবাসার বন্ধনটাও এতে বিশেষভাবে বর্ননা করা হয়েছে।শুরুতেই হ্যারী পটার নিয়ে দুইটি ভুল ধারনা ভাঙিয়ে দিই,প্রথমটি হলো হ্যারী পটার কখোনই শুধুমাত্র বাচ্চাদের বই নয়।বরং এটি এরকম একটি উপন্যাস যেটা বড়দের পাশাপাশি ছোটরাও পড়তে পারে।আর হ্যারী পটারকে যারা অবস্তাব বলে দূরে ঠেলে দেয় তাদেরকে বলছি-হ্যারী পটার অবস্তাব নয় বরং বাস্তবতার চাইতে বেশি কিছু যা আমাদের মনোজগতের সুগভীর স্থানে ঘোরাফেরা করে।হ্যারী পটার সিরিজের কাহিনীটা হয়তো অনেকেরই জানা আর যাদের জানা নেই তারা উইকিপিডিয়া থেকে জেনে আসতে পারেন,তাই এখানে আর উল্লেখ করছি না।হ্যারী পটার সিরিজে মোট সাতটি খন্ড রয়েছে যার প্রত্যেকটিতে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মৌলিক কাহিনী এবং গোটা সিরিজটিরও একটি মূল কাহিনী ও কতগুলো উপ কাহিনী রয়েছে।আর মূলকাহিনীর সাথে খন্ডগুলোর মৌলিক কাহিনীগুলোর সম্পর্কস্থাপনের জায়গায়টিতেই রাউলিং তার মেধার সর্বোচ্চ পরিচয় দিয়েছেন।প্রত্যেকটি খন্ডেরই একটি প্রত্যক্ষ সমাপ্তি রয়েছে কিন্তু পরোক্ষভাবে কাহিনীর গভীর একটা টান থেকে যায়,যা কিনা পরবর্তী খন্ডটা পড়ার জন্য পাঠকের চরম কৌতূহল সৃষ্টি করে।এমন যাদুকরী ক্ষমতা পৃথিবীর কয়টা বইয়ের রয়েছে?পৃথিবীর কোটি কোটি পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখার মতো কঠিন কাজটি অতি সহজেই করে দেখিয়েছেন রাউলিং।তাও আবার কোন প্রকার যৌনতা ছাড়াই,যা কিনা অনেক লেখক তার বইকে বেষ্টসেলার করার জন্য ব্যাবহার করে,যেমন ধরতে পারেন TWILIGHT সিরিজ।আমি কখোনই রোমন্স কিংবা যৌনতাকে খারাপ চোখে দেখি না কারন মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিগুলোর মধ্যে এগুলো অন্যতম। কিন্তু কিশোর কিংবা তরুনদের কাছে টানার জন্য এর থেকে ভালো ঔষধ বোধহয় আর পৃথিবীতে নেই।কিন্তু রাউলিং এসব কিছুর ধার না ধরেই প্রচুর টিনেজার পাঠক পেয়েছেন।যারা কি না এখন আধুনিক প্রযুক্তির কারনে বইয়ের কাছে পর্যন্ত যায় না।হ্যারি পটারে কেবলমাত্র কল্পদুনিয়াটকে নিয়েই আলোচনা করা হয়নি,এর পাশাপাশি বাস্তব দুনিয়ার সাথে এর সম্পর্ক বর্ননা করা হয়েছে।তাছাড়া হ্যারি পটারকে একটি পূর্নাঙ্গ সামাজিক উপন্যাস বললেও ভুল হবে না।রাউলিং তার শক্তিশালী চরিত্রগুলো মাধ্যমে বর্নবাদের প্রতিবাদ করেছেন।তবে একটু ভিন্ন ভাবে,তিনি সরাসরি কালো সাদার বিরোধটি ফুটিয়ে তুলেননি।তিনি তার উইজার্ড জগতের বর্নবাদ অর্থ্যাত্‍ ব্লাড স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বাস্তব জগতের বর্নবাদকে ফুটিয়ে তুলেছেন।তাছাড়া বন্ধুত্ব,ভালোবাসা,সহমর্মিতা,সহযোগিতা,ঘৃনা,ভয়,লজ্জা,হিংসা,মৃত্যুকে হ্যারি পটার সিরিজে গভীরভাবে বর্ননা করা হয়েছে।এবার আসি সিরিজটির চরিত্রগুলোর কাছে।সিরিজটিতে অসংখ্য চরিত্রের সন্নিবেশ ঘটানো হয়েছে।এর প্রধান চরিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম হল-হ্যারি, রন, হার্মায়েনী, স্নেইপ, ডাম্বলডোর,  ভোল্ডেমর্ট এবং আরো অনেকে।এর মধ্য প্রধান তিন চরিত্র হল HARRY,RON ও HERMIONE.তবে সিরিজটি মূলত অন্য দুইটি চরিত্রের উপর ভর করে এগিয়েছে,তারা হলেন DUMBLEDURE এবং SNAPE.হ্যারি চরিত্রটিকে মূলত গতানুগতিক ধারা অনুযায়ী তৈরী করা হয় নি।হ্যারির সাহসিকতার পাশাপাশি আমরা তার মধ্যে দেখতে পাই নিয়ম ভাঙার প্রবনতা ।একজন সাধারন স্কুলবালকের আদলেই তৈরী করা হয়েছে অনন্যসাধারন এই বিশ্বমাতানো চরিত্রটিকে।স্কুলের পড়াশুনায় মধ্যম মানের কিন্তু জাদুবিদ্যায় পারদর্শী হ্যারিকে দেখলে কি পাশের বাড়ির চন্ঞ্চল ছেলেটির প্রতিমূর্তি চোখের সামনে ভেসে উঠে না।আর হ্যারী চরিত্রটির এই বাস্তব ও ঘনিষ্ট আবেদনটাই একে করেছে বিশ্বখ্যাত।রাউলিং শুধুমাত্র হ্যারিকে নয় সিরিজের প্রতিটি চরিত্রগুলোর মাঝে এরকম আবেদনময়তা তৈরী করেছেন।রন চরিত্রটি কিছুটা বোকা টাইপের কিন্তু এর মাঝে একটি সহজ সরল বন্ধুর আবহ ফুটে উঠে।আর হার্মায়েনী চরিত্রটি বুদ্ধিমত্তা আর মননশীলতার প্রতীক।সত্যি কথা বলতে কি রাউলিং তার ভালো চরিত্রগুলোর মাঝেও হালকা রাগ, হিংসা,ঘৃনা,দিয়েছেন।আর এ কারনেই চরিত্রগুলোকে এত সজীব ও বাস্তব মনে হয়।যেকোন গোয়েন্দা উপন্যাসের তুলনায় হ্যারি পটারে রহস্যের পরিমান কোন অংশে কম নয়।অর্থ্যাত্‍ এটিকে রহস্য উপন্যাসও বলা চলে।আর স্নেইপ চরিত্রটি মনে হয় পৃথিবীর সর্বকালের সেরা রহস্যময় চরিত্র।আর হ্যারি পটার সিরিজে হাস্য রসকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।আর ফ্রেড জর্জের কথাগুলো শুনে হাসবে না এরকম লোক পৃথিবীতে বোধহয় খুব কমই আছে।আপনারা যারা হ্যারী পটার পড়েছেন তারা বোধহয় একটা বিষয় লক্ষ্য করে থাকবেন যে হ্যারি পটার পড়া শুরু করলে সহজে উঠা যায় না।এর পিছনেও একটি রহস্য আছে।আপনারা নিশ্চয়ই ছোটগল্প নামক এক ধরনের বিশেষধরনের সাহিত্যের নাম শুনেছেন,যেমন রবিঠাকুরের ছুটি,পোষ্টমাষ্টার ইত্যাদি।এইধরনের সাহিত্যের একটি বৈশিষ্ট হল এটি শেষ করার পড় বাকিটুকু জানবার চরম ইচ্ছা জাগে আর হ্যারি পটারের প্রতিটি অধ্যায়ই ছোটগল্পের আদলে তৈরী করা হয়েছে।আর সেকারনেই একটি অধ্যার শেষ করার পর আমরা বাকিটুকু জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকি।তাছাড়া হ্যারি পটারে মৌলিকভাবে চিন্তা করার অসংখ্য উপাদান রয়েছে যেমন ব্রুম,কুইডিচ,পোর্ট কী আরো কত কি।আরেকটা বিষয় হলো হ্যারী পটার পড়তে হলে কল্পনাশক্তি থাকতে হয় এবং এটা কল্পনাশক্তি বিকাশও ঘটায়।আপনি নিশ্চয়ই ভুলে যাননি আইনস্টাইনের সেই কথাটি,IMAGINATION IS MORE IMPORTANT THAN KNOWLEDGE. উপরের কথাগুলো আমি লিখেছি একজন হ্যারিপটারভক্ত হিসেবে নয় একজন সত্যিকারের বইপ্রেমিক হিসেবে।তাই যদি এখনও না পড়ে থাকেন তাহলে একবার পরখ করে দেখতে পারেন যে হ্যারি পটার কি মাপের সাহিত্য।
দুই ধরনের মানুষ আছে।
টাইপ ১) যারা হ্যারি পটার সিরিজের বই গুলো পড়েছে।
টাইপ ২) যারা হ্যারি পটার সিরিজ পছন্দ করে না।
 টাইপ ২ এর অন্তর্ভুক্তদের দুটি কথা বলছি। প্রথমতঃ এটি টাইপ ১ এর জন্যই লেখা। আপনাদের এটা পড়ার কোন দরকার নেই। লেখাটি আপনাদের ভালোও লাগবে না, আপনারা তেমন কিছু বুঝবেনও না। দ্বিতীয়তঃ যদি কখনো “জানিবার শখ হয়” কি এমন রসগোল্লা আছে এই সিরিজে, কি কারণে এতো মানুষ এসব শিশুতোষ লেখা পছন্দ করে, তাহলে বেশি না, শুধু সিরিজের প্রথম বইটা পড়ে দেখবেন। (অনুবাদ নয়, মূল) আমি হ্যারি পটারের কিছু চরিত্র আন্যালাইসিস করার চেষ্টা করি।
ফ্রেড–জর্জ
এই সিরিজের প্রধানতম উপজীব্য হিউমার। আর সেটার স্টিয়ারিং এ আছে এই উইসলি টুইন্স। এই দুই চরিত্র না থাকলে ব্যাপক বোরিং হয়ে যেত বই গুলো। আমার সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র উইসলি ভ্রাতৃদ্বয়। যদিও তাদের পরিণতি ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক। এক ভাই মারা যায়। ফলে অন্য ভাই পরবর্তীতে পেট্রোনাস কাস্ট করার করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। কেননা, ছায়াসঙ্গি টুইন ব্রাদারের মৃত্যুর পর তার জীবনে সুইট মেমরি বলে আর কিছু ছিল না।
ডাম্বেলডোর
বেশির ভাগ মানুষের প্রিয় চরিত্র ডাম্বেলডোর। সে অবশ্যই খুবই ভালো। তাকে আমি খারাপ বলবো না। কিন্তু আমার তাকে আহামরি কিছু মনে হয় নাই এবং সিরিজের সবচেয়ে হার্ট টাচিং দুইটা সিনের পর তার উপর আমার মেজাজ খাপ্পা হয়ে যায়। স্নেইপ যখন ডাম্বেলডোরকে বলে, ১| you’ve kept him alive, so that he can die at the proper moment? you’ve kept raising him as a pig for slaughter? আমি ভোল্ডেমোরট এর পক্ষ ছেড়ে দিয়ে তোমার কাছে এসেছি শুধু একটাই কারণে। লিলির ছেলেকে প্রটেক্ট করা। আর তুমি এখন বলছ, লিলির ছেলেকে মারা যেতেই হবে? তাহলে আমি ভোল্ডেমোরটের পক্ষ থেকে চলে এলাম কেন? ২| তুমি হ্যারিকে সব কিছু খুলে বলেছ। কিন্তু আমাকে সব কিছু খুলে বলছো না। তুমি আমাকে ট্রাস্ট করছো না। তারপরও তুমি আমার থেকে এই লিটল সার্ভিস (killing dumbledore) আশা করছো? ডাম্বেলডোর হল কোড গিয়াসের লেলুশের মতো। তার থিওরি, harry potter must die to erase greater evil voldemort. সবাইই ডাম্বেলডোর আর হারমাইওনিকে বেশ পছন্দ করে। কারণ বইয়ে যতো হাই থটের কথা আছে, দার্শনিক টাইপ বক্তব্য আছে, তার প্রায় সব গুলিই এদের মুখ থেকে বের হয়েছে।
স্নেইপ
 
ফ্রেড জর্জের পর আমার সবচেয়ে প্রিয় সেভেরাস স্নেইপ। ওভার অল স্নেইপ আমার সবচেয়ে প্রিয় ফিকশনাস ক্যারেক্টার। he never reveal the best of him. তার কাজ কর্মের কোন ব্যাখ্যা সে কোন দিনও কাউকে দেয় নাই। (ডাম্বেলডোর ব্যতীত) সে মৃত্যুর আগে তার কাজের ব্যাখ্যা দিয়ে যায়। সেটাও ডাম্বেলডোরের আদেশে। ডাম্বেলডোর না বললে, সে মৃত্যুর আগেও নিজেকে ব্যাখ্যা করত না। সে লোক দেখানো কাজ করে নাই তার জীবনে। স্নেইপকে আমার প্রথম থেকেই ভালো লাগতো। শেষে আমি তার প্রেমে পড়ে যাই। Severus Snape, The Boy Who Loved. হ্যারির প্রতি তার শীতল কালো দৃষ্টির পেছনে যে লিলির জন্যে তীব্র ভালবাসা লুকিয়ে ছিল কে জানত!! সে জীবনে কোনদিনও হ্যারিকে তার মায়ের সাথে তুলনা করে নাই। সে সব সময় বলত, পটার তার বাবার মতো, দাম্ভিক, অলস, হেন তেন। কিন্তুর মৃত্যুর আগে সে জানিয়ে দিল, সে হ্যারিকে কোন চোখে দেখতো। Snape’s last word to harry was to look at him so that he could see Lily Evans’s eyes once more. তবে যদি শেষে দেখতাম সে ভোল্ডেমোরটের সাইডে, তবুও সে আমার ফ্যাভারিটই থাকতো। স্নেইপ আমার মতে সিরিজের গ্রেটেস্ট উইজার্ড। (ডাম্বেলডোর আর ভোল্ডেমোরট ছাড়া। এদের ব্যাপারে পরে আসছি। ) তিনটি কথা বলি এই ব্যাপারে। ভোল্ডেমরট নিজেকে গ্রেটেস্ট লেগিমেন্স অফ দা সেঞ্চুরি বলে। অথচ সে স্নেইপের প্রকৃত পরিচয় ধরতেই পারে নাই। তাহলে কার লেগিমেন্সি পাওয়ার বেশি? শুধু দুই জন উইজার্ডের আছে আকাশে ওড়ার বিরল ক্ষমতা। একজন ভোল্ডেমোরট, অপরজন স্নেইপ। (অবশ্য মুভিতে দেখা যায় ডেথ ইটার মাত্রই উড়তে পারে।  ) পেট্রোনাস চার্ম একটি অত্যন্ত অ্যাডভান্স ম্যাজিক। এটা একটা ইমোশন ভিত্তিক ম্যাজিক। কোন ডার্ক উইজার্ড পেট্রোনাস কাস্ট করতে পারে না। একজন ব্যতীত। সেভেরাস স্নেইপ। স্নেইপ হল যাকে বলে অল ইন অল। Severus Snape was as cunning as Slytherin, as smart as Ravenclaw, as loyal as Hufflepuff and as brave as Gryffindor.
ভোল্ডেমোরট
অনেকের কাছেই ভোল্ডেমোরটকে খুব ভালো লাগে। আবার অনেকেই তাকে দেখতেই পারে না। বিচিত্র ! আমার তাকে খুব একটা ভালো লাগে নাই। তবে তাকে আমি ‘সম্মান’ করি। ভিলেইন হিসেবে সে একেবারেই আলাদা, সেটা আমাকে স্বীকার করতেই হবে। সে কিন্তু পূর্ণাঙ্গ মানুষ নয়। সে ভালবাসা / বন্ধুত্বতে বিশ্বাসী নয়। সে এগুলো বুঝতেই পারে না। তার পরাজয়ের কারণও কিন্তু এটাই। কথা হল, সে কেন এরকম? Lord Voldemort cannot love because he was conceived under the effects of Love Potion, no real love. তার জন্য আমার করুণা হয়। দুঃখও হয়। সে যে ভালবাসতে পারে না, এটা তো তার নিজের দোষ নয়। অন্যের দোষে সে কেন শাস্তি পাবে? আমার খুব ভালো লেগেছে, Tale Of Three Brothers. Voldemort died for power. Snape died for lost love. Harry greeted death as an old friend. Together they make the deathly hallows. ভিন্ন সময়ে জন্ম নেওয়া তিন ভাই এরা। তাদের শৈশব কেটেছে একই রকম। দুর্বিষহ। কিন্তু তাদের পরিণতি কতোটা আলাদা!!! অন্য দুটি নিয়ে কিছু না বললেও, রিডেলেরটা নিয়ে কয়েকটা কথা বলা উচিত। সে ক্ষমতা ছাড়া আর কিছুই চায়নি জীবনে। কিচ্ছু না। সেই ক্ষমতার জন্য সে জীবন দিয়েছে। কয়জন পারে জীবনে একটা ডেসটিনেশন ঠিক করে সেটার দিকে একাগ্র চিত্তে এগিয়ে যেতে? তায় রিডেল আবার অসম্পূর্ণ মানুষ। কে গ্রেটেস্ট উইজার্ড ডাম্বেলডোর নাকি ভোল্ডেমোরট? এটা নিয়ে অনেক কনফিউশন আছে। আমি শুধু এক ভাবে এটাকে ব্যাখ্যা করবো। আমার ব্যাখ্যা আপনার সাথে না মেলার চান্সই বেশি। ভোল্ডেমোরট কখনো ডাম্বেলডোরের সাথে ডুয়েল করে নি। বছরের পর বছর সে শুধু শক্তিই সঞ্চয় করে গেছে। তবে ডাম্বেলডোরের সামনে আসার সাহস করে নি। সে ডাম্বেলডোরকে ভয় পেত। The only one he ever feared. সে শুধু একবারই ডাম্বেলডোরের সাথে লড়াই করেছিল। বলা যায়, করতে বাধ্য হয়েছিল। ডাম্বেলডোরের হাতে ছিল এল্ডার ওয়ান্ড। তবুও সে ভোল্ডেমোরটকে হারাতে পারে নি। বরং পরে ডাম্বেলডোর নিজেই স্বীকার করেছিল, ওই ডুয়েলে নিজের পারফর্মেন্সে সে হতাশ হয়েছিল। একটা কথা বলা উচিত, ভালো দক্ষতা থাকার পরও ডাম্বেলডোর কখনো ডার্ক আর্ট প্রয়োগ করে নি জীবনে। করলে হয়তো ওই ডুয়েলে সে জিতে যেত। রাওলিং একজন ওস্তাদ লেখক। তার লেখায় অনেক কিছুই তিনি বুঝিয়েছেন। উদাহরণ দেই। মলি উইসলি বেলাট্রিক্সকে মেরেছে। কেন? কেন আর কোন উইজার্ড না? কেন মিসেস উইসলি? সিনটা মনে করে দেখুন। জিনিকে আক্রমণ করেছিল বেলাট্রিক্স। তখন মেয়েকে রক্ষায় এগিয়ে এসেছিলেন মিসেস উইসলি। এটা দিয়ে রাওলিং দেখিয়েছেন, maternal love is always greater than obsessive love. নেভিলের পেট্রনাস কাস্টের সুইট মেমরি হল নেভিল নিজেই। এটা দিয়ে রাওলিং বুঝালেন, তার জীবন এতোই ওরস্ট যে সে নিজে ছাড়া তার আর কোন সুইট মেমরিই নেই। রন চরিত্র দিয়ে রাওলিং বুঝিয়েছেন, আশে পাশে সবার কাছে অর্থ থাকার পরও নিজে কপর্দকশূন্য হওয়ার তীব্র জ্বালা। রনের উক্তিঃ I hate being poor. এরকম আরও অনেক ছোট ছোট ঘটনা আছে। আমার কাছে অনেক কিছুই ভালো লাগে নাই সিরিজের। হ্যারিকে মেরে ফেলা উচিত ছিল। এখন ৫০ বছর পর আরেকজন কেউ কপিরাইট কিনে বন্ডের মতো হ্যারি লেখা শুরু করবে। খারাপ লেগেছে, যখন প্রোফেসর ম্যাকগানোগাল , now the time has come for Slytherin house to decide upon its loyalities. বলার পর, সব স্লিদারিন চলে যাওয়ায়। কেন সব স্লিদারিনকে খারাপ দেখানো হল? গ্রেটেস্ট স্নেইপ তো স্লিদারিন। অনেকেই বলে স্লিদারিন মানেই ডার্ক উইজার্ড আর ডার্ক উইজার্ড মাত্রই স্লিদারিন। একটা কথাও ঠিক না। প্রায় সব ডার্ক উইজার্ড স্লিদারিন। কিন্তু স্লিদারিন ছাড়াও কিন্তু ডার্ক উইজার্ড আছে। যেমন ওরমটেইল। আবার স্লিদারিন মানেই কি ডার্ক উইজার্ড? না। প্রোফেসর স্লাগহর্ন কিন্তু স্লিদারিন। দুই একজন স্লিদারিনকে অন্তত রাখা উচিত ছিল যুদ্ধে। হ্যারির গার্ল ফ্রেন্ড হিসেবে লুনাকেই বেশি মানাত। আরও কিছু জিনিস আমার ভালো লাগে নাই। রাওলিং বিভিন্ন সময়ে সাক্ষাৎকার দিয়ে ১৯ বছর পরের উইজার্ডদের সিচুয়াশন বলেছেন। যেমনঃ হ্যারি – রন দুই জনই অরর হয় পরবর্তী জীবনে। তারা ৬ বছর পড়া শোনা করেও অরর হতে পারে, তাদের স্পেশাল সার্ভিসের জন্য। হারমাইওনি পরে জিনিদের সাথে ৭ম বর্ষে পড়ে। তিন জনের নামই চকোলেট ফ্রগে উঠানো হয়। ১৯ বছর পরও হ্যাগ্রিডই গেম কিপার থাকে। বয়স প্রায় ৯০ এর মতো। ভোল্ডেমোরটের মৃত্যুর পর সব ডার্ক উইজার্ড প্রিজনে যায় অথবা অররদের হাতে মারা যায়, তবে ম্যালফয় ফ্যামিলির কিছু হয় না। সিসি ম্যালফয় মিথ্যা করে হ্যারি মারা গেছে বলায় তারা রেহাই পায়। হারমাইওনি মিনিস্ট্রি অফ ম্যাজিকে চাকরি করে। জিনি প্রফেশনাল কুইডিচ প্লেয়ার হয় এবং পরে স্পোর্টস রিপোর্টার হয়। লুনা কিন্তু নেভিলকে বিয়ে করে নি। আবার ম্যালফয়ও কিন্তু পারকিন্সনকে বিয়ে করেনি। আরও অনেক কিছু আছে। গুগলে খুঁজলে পেয়ে যাবেন। মুভি নিয়ে কিছু কথা। মুভি গুলো আমার কাছে ফালতু লেগেছে। ১, ৪ খারাপ না। ২ ভালো লেগেছে। বাকি সব কয়টা একটার থেকে আরেকটা অখাদ্য। সবচেয়ে ফালতু লেগেছে ৭, তারপর ৩। ৮ নং মুভিটি বেশ ভাল লেগেছে। অ্যাট লিস্ট ৬ ও ৭ এর সঙ্গে তুলনা করলে মুভিটি অত্যন্ত ভাল হয়েছে।  তবে ৮ নং মুভিতে চোখে বেশ ভাল ধরনের খটকা লেগেছে দুটি সিনে। প্রথমতঃ চো চ্যাং হ্যারির এক বছরের সিনিয়র। কিন্তু মুভিতে দেখা যাচ্ছে, সে দিব্বি ক্লাস করছে।  দ্বিতীয়তঃ ভোল্ডেমরটের হরক্রাক্স ধ্বংস করার জন্য প্রথমে পার্সেলটাং এ কিছু বলে সেটা ওপেন করতে হয়, তারপরই ধ্বংস করা সম্ভব। কিন্তু মুভিতে দেখলাম হাফেলপাফের কাপটা হারমাইওনি ধ্বংস করলো সেটা ওপেন না করেই।  এই দুটি ব্যাপারে আমার চোখে শুধুই খটকা লেগেছে, কিন্তু এই মুভিতে বেশ অবজেকশনেবল কয়েকটা সিন আছে। ডাম্বেলডোর হ্যারিকে স্পষ্টভাবে বলে যায়, হরক্রাক্স সংক্রান্ত তথ্য সে কেবল রন ও হারমাইওনিকে বলতে পারবে। আর কাউকে না। বইয়ে দেখা যায় হ্যারি ট্রুথফুল ছিল ডাম্বেলডোরের প্রতি। সে অ্যাবেরফোরথকে এই ব্যাপারে কিছুই বলেনি। কিন্তু মুভিতে হ্যারি তাকে হরক্রাক্স সংক্রান্ত কথাগুলো বলে দিয়েছে। ক্রেচারের লিডিং এ হাউজ এলফ আর্মি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। এটাও মুভিতে অনুপস্থিত। ডাম্বেলডোরের বোন সংক্রান্ত কাহিনী, তার বাবার আজকাবানে যাওয়ার পিছনের কারণ কিছুই মুভিতে দেখানো হয়নি। ডাম্বেলডোর একটি কমপ্লিমেন্ট ডিসারভ করত। সবচেয়ে আপত্তিকর ব্যাপারটা দেখা যায় মুভির শেষে। হ্যারি তার এল্ডার ওয়ান্ড ভেঙ্গে চুরমার করে পানিতে ভাসিয়ে দেয়।  খাইসে আমারে!!!! হ্যারি কি এতোই পাওয়ারফুল উইজার্ড হয়ে গেছে যে তার আর ওয়ান্ডের প্রয়োজন নেই? মোটেই না। সে এল্ডার ওয়ান্ড দিয়ে তার পূর্বের ওয়ান্ড (যেটা হারমাইওনি ভেঙ্গে ফেলেছিল) রিপেয়ার করে এবং তারপর এল্ডার ওয়ান্ড ডাম্বেলডোরের কবরে রেখে দেয়। বই থেকে মুভি করলে কাহিনী অবশ্যই অনেক বদলাতে হয়। কিন্তু আমার মতে উপরের ৪ টা সিন চূড়ান্ত রকমের অবজেকশনেবল। যাই হোক, মূল কথায় আসা যাক। হ্যারি পটারের মুভিগুলোতে আমার মতে ভালভাবে ফুটে এসেছে রন। তার উইটি কথাবার্তা গুলো মুভিতে আরও ভালভাবে বুঝা যায়। হারমাইওনি কিন্তু মুভিতে পরিপূর্ণ ভাবে ফুটে আসে নি। দুটি ঘটনা বলা যাক। ১) ভ্যালেন্টাইন ডেতে সে প্রোফেসর লকহার্টকে কার্ড দিয়েছিল। ২) সে ও ডবলু এল পরীক্ষায় ডার্ক আর্ট ডিফেন্সে হাইয়েস্ট পাই নি। সে বোগারট ডিফেন্স করতে পারেনি। তার বোগারট ছিল, প্রোফেসর ম্যাকগানোগাল বলছে, সে পরীক্ষায় ফেল করেছে। সাথে সাথে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। আমি বলছি না, এই দুটি ঘটনা মুভিতে দেওয়া উচিত ছিল। আমি বলছি, মুভি দেখে কখনো মনে হবে না, হারমাইওনি এই ধরনের কাজ করতে পারে। বইয়ে সবসময় কনফিউশন থাকে স্নেইপ কার পক্ষে। কিন্তু মুভি গুলোতে কখনো মনে হয় নি, স্নেইপ ভোল্ডেমোরটের পক্ষে। তবে মুভিকে যতোই গালিগালাজ করি না কেন, সবগুলো মুভিই আমি দেখেছি শুধু একজন মানুষের জন্য। হ্যারি না, ডাম্বেলডোর না, ভোল্ডেমোরট না। সেভেরাস স্নেইপ, দা বয় হু লাভড। আরও কিছু লেখার শখ ছিল। কিন্তু খুব টায়ার্ড ফিল করছি। আর লেখার এনার্জি পাচ্ছি না। সম্ভব হলে পরে আবার এই ব্যাপারে লিখব। আমি এখানে যেসব তথ্য ব্যবহার করেছি, সবগুলো হ্যারি পটারের বই, মুভি ও রাওলিং এর সাক্ষাৎকার থেকে নেওয়া। তবে এখানে আমি আমার মতামত দিয়েই চরিত্র, কাহিনী ও মুভি বিশ্লেষণ করেছি। কাউকে কষ্ট দেওয়ার জন্য আমি কিছু লিখি নি। তবুও কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি অত্যন্ত দুঃখিত। এতো সময় নষ্ট করে লেখাটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ। 
এই পোস্টটা লিখতে প্রায় ৩ দিন সময় লেগেছে। তাই ভালো লাগলে কমেন্ট এবং শেয়ার করে পরবর্তী পোস্টের জন্য উৎসাহিত করবেন। আজ আর নয়। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং ফুর্তিতে থাকবেন :D
বিদায় !
সোর্সঃ জিশান ভাইয়া (আমার বড় ভাই)

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ