বিভিন্ন জিনিস নিয়ে তথ্যের মেগা পোস্ট(পর্ব ১)। না দেখলে মিস!!!!

1
1471
বিভিন্ন জিনিস নিয়ে তথ্যের মেগা পোস্ট(পর্ব ১)। না দেখলে মিস!!!!

ডেভিল ম্যাক রিডার

I'm a little boy who loves to live alone in dark shadows . I love to share tips & tricks with people . I love to watch movies , listen music & read books but alone.......... I'm just 10 years old & love to study & write in blogs, groups................
বিভিন্ন জিনিস নিয়ে তথ্যের মেগা পোস্ট(পর্ব ১)। না দেখলে মিস!!!!

সবচেয়ে উচু গাছ

 

ভাবছেন, সবচেয়ে উঁচু গাছ কোনটা, এ তো ভারি সহজ প্রশ্ন! তবে উত্তরটা কিন্তু এতো সহজ নয়! কারণ, আগে মানুষ গাছের উচ্চতা মাপতে যে সব পদ্ধতি ব্যবহার করতো, সেগুলো তো আর এখনকার মতো নিখুঁত ছিলো না। তাই বেশিরভাগ সময়েই উচ্চতা মাপতে গিয়ে একটু এদিক-ওদিক হয়ে যেতো। আধুনিক পদ্ধতিতে গাছের উচ্চতা মাপার পর আগেকার তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা গেছে, আগে প্রায়ই গাছের উচ্চতা ৫-১৫% বেশি ধরা হতো। এসব কারণে সবচেয়ে উঁচু গাছ কোনটা সে ব্যাপারে কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব না। কারণ, আগেকার যে সব উঁচু গাছের কথা জানা যায়, সেগুলো যে আসলেও অতো উঁচু ছিলো, নাকি হিসাবে ভুল ছিলো, নাকি মানুষ আবেগের বশবর্তী হয়ে বাড়িয়ে বলতো, তা নিশ্চিত করে বলবে কে? আর এখন কিভাবে গাছের উচ্চতা মাপা হয় জানো? একটা সহজ পদ্ধতি হচ্ছে, গাছের একদম উপরে উঠে ফিতা ঝুলিয়ে দেয়া। কিন্তু অমন উঁচু উঁচু গাছে ওঠা কি আর যা-তা কথা! আবার লেজার ব্যবহার করেও গাছের উচ্চতা মাপা যায়।

এখন প্রশ্ন হলো, সবচেয়ে উঁচু গাছ কোনটা, তাই না? সবচেয়ে উঁচু গাছের নাম কোস্ট রেডউড। এই গাছের আরো কিছু প্রচলিত নাম আছে, যেমন- ক্যালিফোর্নিয়া রেডউড, তারপর জায়ান্ট রেডউড। আর গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Sequoia sempervirens। নাম শুনেই তো বুঝে গেছো, গাছটি প্রধানত আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়াতে জন্মে। গাছটি কতো উঁচু হয় জানো? প্রায় ৩৭৯ ফুট বা ১১৫.৫ মিটার। আর শিকড়সহ গাছটি যে আসলে কত্তো লম্বা, তা একবার চিন্তা করে দেখো! দৈত্যাকৃতির এই গাছটি কত বছর বাঁচে জানো? সে-ও কম না, প্রায় ১২০০-১৮০০ বছর! এমনকি এরচেয়ে বেশিও হতে পারে!

এতো গেলো সবচেয়ে উঁচু গাছের গল্প। কিন্তু সবচেয়ে মোটা গাছ কোনটা বলো তো? কোস্ট রেডউড কিন্তু এই তালিকাতেও একদমই পিছিয়ে নেই, আছে দুই নম্বরে। আর তিনে আছে ওরই আরেক আত্মীয়, নাম সিয়েরা রেডউড। সিয়েরা রেডউড আরো একটা নামেও বেশ পরিচিত- জায়ান্ট সিকোয়া। আর ওর বৈজ্ঞানিক নাম হলো Sequoiadendron giganteum। আর সবচেয়ে মোটা গাছ হলো মন্টেজুমা সাইপ্রেস। আমেরিকা, মেক্সিকো আর গুয়াতেমালাতে দেখা যায় পৃথিবীর সবচেয়ে মোটা এই গাছকে। গাছটির প্রচলিত অন্য নাম- স্যাবিনো, আহুয়েহুয়েতে; আর বৈজ্ঞানিক নাম- Taxodium mucronatum। কতো মোটা হয় গাছটা? সাধারণত ১-৩ মিটার! তবে এরচেয়েও মোটা মন্টেজুমা সাইপ্রেসও নাকি দেখা যায়!

এখন প্রশ্ন হলো, উচ্চতা আর মোটা- দুই মিলিয়ে সবচেয়ে বড়ো গাছ কোনটা? এই তালিকাতে আবার শীর্ষে সিয়েরা রেডউড, আর দুইয়ে কোস্ট রেডউড। আর তিনে আছে সবচেয়ে মোটা মন্টেজুমা সাইপ্রেস।

 

টুথব্রাশ আবিষ্কার

টুথব্রাশ কে আবিষ্কার কে করেছিলেন? সত্যিই তো! ভীষণ কঠিন এক প্রশ্ন। দাঁড়ান, আগে আপনাকে পুরো টুথব্রাশের ইতিহাসটা বলি, তাহলেই বুঝবেন, কেন বললাম এটা ভীষণই কঠিন প্রশ্ন।

সবচেয়ে পুরোনো টুথব্রাশ কোনটা বলেন তো? গ্রামে যাওয়ার সময় ব্রাশ নিতে ভুলে গেলে আপনাদের অনেকেই হয়তো সেই টুথব্রাশ দিয়ে দাঁতও মেজেছেন। হ্যাঁ, দাঁতন। নিম গাছের ডাল বা এইরকম অন্য কোন গাছের ডাল ভেঙ্গে আগাটা কামড়িয়ে বা চেছে টুথব্রাশ হিসেবে ব্যবহার করলে সেটাকে বলে দাঁতন। এবার বলো তো, পৃথিবীতে এই দাঁতন ব্যবহারের প্রচলন কবে শুরু হয়েছিল? বললে বিশ্বাস করবে না, খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ সালে, মানে যিশুখিষ্টের জন্মেরও প্রায় ৩০০০ বছর আগে!

১২ শতকের দিকে চিনে এক ধরনের টুথব্রাশ ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়। এই ব্রাশগুলো আবার খুবই মজার। ঘোড়ার লেজের পশম হাড়ের সঙ্গে গেঁথে এই ব্রাশগুলো বানানো হতো! এগুলোকে বলে ব্রিসল টুথব্রাশ। আসলে, টুথব্রাশের সামনের দিকে যে পশমের মতো জিনিসগুলি লাগানো থাকে, সেগুলোকে বলে ব্রিসল। আর এই ব্রাশেই প্রথম ব্রিসল ব্যবহার করা হয়েছিল বলেই এই টুথব্রাশের নাম ব্রিসল টুথব্রাশ। এই ব্রিসল টুথব্রাশই কিন্তু আজকের টুথব্রাশের জনক। এই টুথব্রাশগুলো চিন থেকে কোনো একভাবে ইউরোপে যায়, আর সেখানে গিয়েই ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

কিন্তু টুথব্রাশগুলো আজকের মতো কিভাবে হলো জানো? সে এক মজার গল্প। ইংল্যান্ডে উইলিয়াম এডিস নামে এক লোক থাকতো। ১৭৭০ সালের দিকে রায়ট করার অপরাধে তাকে জেলে পাঠানো হলো। ওখানে তো তার কোনো কাজই নেই। বসে থাকতে থাকতে তার মাথায় ব্রিসল টুথব্রাশকে আরো উন্নত করার বুদ্ধি আসলো। সে একটা হাড় জোগাড় করে তাতে অনেকগুলো ফুঁটো করলো। এবার জেলখানার প্রহরীদের কাছ থেকে কয়েকটা ব্রিসল টুথব্রাশ জোগাড় করলো। তারপর সেই ফুঁটোগুলো দিয়ে ব্রিসলগুলো ঢুকিয়ে ঢুকিয়ে আঠা দিয়ে আটকে দিলো। ব্যস, তৈরি হয়ে গেলো একটা সুন্দর টুথব্রাশ। আর জেল থেকে বের হওয়ার পর, ১৭৮০ সালে সে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে এই টুথব্রাশগুলো বাজারে ছাড়লো। আর মানুষও সেটা এতোই পছন্দ করলো, টুথব্রাশ বিক্রি করেই সে বড়লোক হয়ে গেলো! তার সেই টুথব্রাশ কোম্পানিটা এখনো আছে, নাম- উইজডম টুথব্রাশেস।

তবে কোনোকিছু আবিষ্কার করে বসে থাকলে কিন্তু সেটা তোমার আবিষ্কার বলে পরে কেউ স্বীকারই করবে না। তোমাকে আবিষ্কার করে পেটেন্ট করিয়ে নিতে হবে। সবচেয়ে বড়ো কথা, তোমার নামে পেটেন্ট করিয়ে নিলে দুষ্টুলোক আর তোমার আবিষ্কার নিয়ে দুই নম্বরী ব্যবসা করতে পারবে না। তো, টুথব্রাশের প্রথম পেটেন্ট কে করান, জানো? আমেরিকার এইচ এন ওয়াডসওয়ার্থ, ১৮৫৭ সালে। তিনি অবশ্য টুথব্রাশে ব্রিসল হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন বরাহের পশম। তবে আমেরিকাতে বাণিজ্যিকভাবে টুথব্রাশ বিক্রি করা শুরু হয় আরো অনেক পরে, ১৮৮৫ সালে।

তবে আমরা যে টুথব্রাশগুলো ব্যবহার করি, তাতে কিন্তু কোন পশুর পশমই ব্যবহার করা হয় না। তার বদলে ব্যবহার করা হয় সিনথেটিক ব্রিসল, যেমন ধরো নাইলনের ব্রিসল। এই সিনথেটিক ব্রিসলের টুথব্রাশ কে আবিষ্কার করেন জানো? দ্যুপন্ট দ্য নেমোয়াঁ, ১৯৩৮ সালে। আর প্রথম ইলেক্ট্রিক টুথব্রাশ তৈরি করা হয় ১৯৫৪ সালে, সুইজারল্যান্ডে।

এবার তুমিই বলো, টুথব্রাশের আবিষ্কারক কাকে বলবে? চীনের যে লোকটি প্রথম ব্রিসল টুথব্রাশ বানিয়েছিলো, তারই তো হওয়া উচিত, তাই না? কিন্তু তার নাম তো জানাই যায়নি। এখন আমরা কি পুরো চীনাদেরকেই টুথব্রাশের আবিষ্কারক বলবো? আর উইলিয়াম এডিস আর দ্যুপন্ট দ্য নেমোয়াঁ টুথব্রাশের ইতিহাসে মহাগুরুত্বপূর্ণ হলেও তারা কিন্তু আবিষ্কারক নন; তারা টুথব্রাশের উন্নয়ন করেছেন। তাহলে তুমি-ই বলো, কীভাবে আমি তোমাকে টুথব্রাশের আবিষ্কারকের নাম বলি! তবে এতটুকু বলতে পারি, টুথব্রাশ আবিষ্কার হয় চীনে। আর যে আবিষ্কার করেছেন, তার নাম জানতে চাইলে তুমি বড়ো হয়ে এটা নিয়ে গবেষণা করো। যদি খুঁজে বের করতেই পারো, কে আবিষ্কার করেছেন টুথব্রাশ, সেটাও কিন্তু ইতিহাসের কম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হবে না। ঐ যে বললাম না, ২০০৩ সালে আমেরিকানরা তাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন টুথব্রাশকেই!

সবচেয়ে বড়ো পাখি

পৃথিবীতে এখনো যে পাখিগুলো বাস করে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়ো পাখি হলো অস্ট্রিচ। এরা থাকে আফ্রিকা মহাদেশ আর আরব দেশগুলোতে, মানে আরব সাগরের তীরবর্তী দেশগুলোতে। লম্বায় এগুলো ৯ ফুটেরও বেশি হয়! আরো মজা কি জানো, এই পাখিগুলো উড়তেও পারে না। উড়বে কি করে, একেকটা অস্ট্রিচের ওজন কতো হয় জানেন? ১৫০ কেজিরও বেশি! এই পাখির আত্মীয়-স্বজন কারা জানো? এমু পাখি, কিউই পাখি, এরা।

তবে আগে পৃথিবীতে এরচেয়েও বড়ো পাখি ছিলো। আর সেই পাখির নামও সেই রকমই ভারি- এলিফ্যান্ট বার্ড! ওরা লম্বায় ১০ ফুটেরও বেশি হতো। আর একেকটা পাখির ওজন হতো প্রায় ৫০০ কেজি! ওরা থাকতো মাদাগাস্কারে। ওই যে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপদেশ, যেখানে অদ্ভূত অদ্ভূত সব প্রাণীদের বাস। সেই দেশেই থাকতো হাতির মতো বিশাল এই পাখিরা। কিন্তু আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগেই শেষ ‘হস্তী পাখি’টিও মারা গেছে। এখন আর পৃথিবীতে এই আজব পাখিটিকে দেখা যায় না।

তবে বড়ো পাখি বলতে শুধু যদি উচ্চতার কথা ধরো, তাহলে কিন্তু সবচেয়ে বড়ো পাখি হিসেবে এলিফ্যান্ট পাখিরও আগে নাম আসবে ‘জায়ান্ট মায়ো’ নামের আরেক দৈত্যাকার পাখির; দেখো না, তাই নামের মধ্যেই ‘দৈত্য’ শব্দটি ঢুকে গেছে। ওরা একেক জন লম্বায় হতো প্রায় ১২ ফুট! তবে ওদের একেক জনের ওজন আবার ছিলো এলিফ্যান্ট বার্ডদের অর্ধেক। নিউজিল্যান্ডের অধিবাসী এই পাখিরাও আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

তবে এই এলিফ্যান্ট বার্ড কিংবা জায়ান্ট মায়ো, এরা কেউ-ই কিন্তু উড়তে পারতো না। উড়ুক্কু পাখিদের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো যে পাখিটিকে ধরা হয়, সেটিকে মানুষ কখনো দেখেই নি! আর্জেন্টিনায় এই পাখিটির ফসিল, মানে জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। সাড়ে ৬ ফুট উচ্চতার পাখিটির কোন ডাকনামও দেয়া হয়নি, খটমটে বৈজ্ঞানিক নাম আর্জেন্টাভিস ম্যাগনিফিসেন্স (অৎমবহঃধারং সধমহরভরপবহং)। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছেন, ৮০ কেজি ওজনের বিশাল বপুর এই পাখিটি যখন ডানা মেলতো, তখন সেগুলো চওড়ায় হতো প্রায় ২৮ ফুট!

পেন্সিল আবিষ্কার

পেন্সিল প্রথম আবিষ্কার করেন কারা? যতদূর জানা যায়, পেন্সিলের প্রথম ব্যবহার করে রোমানরা। ওদের পেন্সিল কিন্তু আমাদের পেন্সিলের মতো ছিল না মোটেই। এখন আমরা রং করতে যেরকম তুলি ব্যবহার করি, সেরকম এক ধরনের পেন্সিল ওরা ব্যবহার করত প্যাপিরাসে লেখালেখি করতে। প্যাপিরাস চেনেন না বুঝি? প্যাপিরাস হলো প্রাচীনকালে ব্যবহৃত এক ধরণের কাগজ। ঠিক কাগজও নয় ওটা। প্যাপিরাস নামের এক ধরণের গাছের বাকল শুকিয়ে তাতে ওরা লেখালেখি করতো। ওটাকেই বলা হয় প্যাপিরাস। আর এই পেন্সিল শব্দটা এসেছে ল্যাটিন পেনিসিলিয়াস শব্দ থেকে। পেনিসিলিয়াস মানেই হচ্ছে ছোট্ট লেজ।

এখন আমরা যে পেন্সিল ব্যবহার করি, সেটা তাহলে কীভাবে এলো? তবে শোনো…, এই গল্পের শুরুটাও অনেক দিন আগের। ১৫৬৫ সালের কিছু আগে, অনেকে আরো পিছিয়ে বলে প্রায় ১৫০০ সালের দিকে, ইংল্যান্ডের বোরোডেল নামের এক জায়গায় গ্রাফাইটের একটা বিশাল খনি পাওয়া যায়। আর সেই গ্রাফাইটগুলোও ছিল যাকে বলে একদম খাঁটি গ্রাফাইট। ভাবছো, গ্রাফাইটের সাথে আবার পেন্সিলের কী সম্পর্ক? আরে, পেন্সিল তো গ্রাফাইট দিয়েই তৈরি হয়। পেন্সিলের শিসটাই হল গ্রাফাইট।

তো গ্রাফাইট আবিষ্কৃত হলো বটে, কিন্তু মানুষ তো তখনো জানে না, গ্রাফাইট দিয়ে কী করা যায়। তারা দেখলো, এই জিনিস দিয়ে খুব সুন্দর দাগ দেয়া যায়। তারা জাহাজে চিহ্ন দেয়ার জন্য গ্রাফাইটের ব্যবহার করতে লাগলো। এভাবে গ্রাফাইট দিয়ে যে লেখা যায়, তা তখনকার মানুষরা আবিষ্কার করে ফেললো। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই গ্রাফাইটের আরো একটা ব্যবহার আবিষ্কৃত হলো। কামানের গোলায় গ্রাফাইট ব্যবহার করলে বেশ কাজে দেয়। এবার তো গ্রাফাইট বেশ দরকারি হয়ে উঠলো। তখন তো কামানই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মারণাস্ত্র। সুতরাং গ্রাফাইটের খনি সরাসরি বৃটেনের রাজার অধীনে চলে গেল। আর প্রয়োজনীয় গ্রাফাইট মজুদ করে খনিতে কৃত্রিমভাবে বন্যার সৃষ্টি করা হলো, যাতে কেউ গ্রাফাইট চুরি করে কামানের গোলা বানাতে না পারে।

যা হোক, ইংল্যান্ডে তো পেন্সিল হিসেবে গ্রাফাইটের ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে। খনি থেকে গ্রাফাইট বের করে কেটে কেটে সেগুলো পেন্সিল হিসেবে ব্যবহার করতো ওরা। কিন্তু পৃথিবীর অন্য কোথাও আর ওরকম খাঁটি গ্রাফাইটের খনি পাওয়া গেল না। যে কয়েকটা গ্রাফাইটের খনি পাওয়া গেল, সবগুলোতেই গ্রাফাইটের সাথে অন্য কোনো না কোনো পদার্থ মিশে থাকে। তখন গ্রাফাইটকে আলাদা করতে গেলে গ্রাফাইটকে গুঁড়ো করতে হয়। সেই গুঁড়ো কামানের গোলায় ব্যবহার করা যায় বটে, কিন্তু সে তো আর পেন্সিল হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। সুতরাং, পেন্সিলের উপর বৃটিশদের একচ্ছত্র আধিপত্য থেকেই গেল।

প্রথম গ্রাফাইটের গুঁড়োকে আবার কঠিন গ্রাফাইটে রূপান্তরিত করে পেন্সিল বানানো শুরু হয় জার্মানির নুরেমবার্গে। তবে সেই পেন্সিল বৃটিশদের পেন্সিলের মতো অতো ভালো ছিল না। পরে আস্তে আস্তে গ্রাফাইটের গুঁড়োকে সুন্দর করে কঠিন গ্রাফাইটে রূপান্তরিত করার কৌশলও বের করে ফেলে মানুষ।

কিন্তু আমরা এখন যে পেন্সিল দেখি, তাতে তো গ্রাফাইটের শিসটা কাঠ দিয়ে মোড়ানো থাকে, তাই না? পেন্সিলের শিসকে এভাবে কাঠ দিয়ে মোড়ানোর কৃতিত্ব এক ইতালিয়ান দম্পতির। নাম তাদের সিমোনিয়ো বার্নাকোত্তি আর লিন্ডিয়ানা বার্নাকোত্তি। তারা একটা কাঠের মাঝে গর্ত খুঁড়ে তাতে গ্রাফাইটের শিস ঢুকিয়ে দিত। তবে কিছুদিনের মধ্যেই এরচেয়ে ভালো বুদ্ধি বের হয়ে গেল। কাঠের টুকরোকে দুই ভাগ করে দুই টুকরোতেই গর্ত করা হল। তারপর মাঝখানে গ্রাফাইটের শিস ভরে আঠা দিয়ে টুকরো দু’টোকে লাগিয়ে দিলেই হল, হয়ে গেল সুন্দর একটা পেন্সিল। এখনো পেন্সিল এভাবেই বানানো হয়।

পরে পেন্সিলের আরেকটা বড়ো পরিবর্তন ঘটলো। পেন্সিলের শেষ মাথায় রাবার জুড়ে দেয়া হলো। আর এরকম পেন্সিলের নকশা করে তার পেটেন্ট করিয়ে নিলেন হাইমেন লিপম্যান নামের এক ভদ্রলোক। মানে, তার অনুমতি ছাড়া আর কেউ এরকম রাবারওয়ালা পেন্সিল বাজারে বিক্রি করতে পারবে না। পরে তিনি জোসেফ রেকেনডরফার নামের আরেক ভদ্রলোকের কাছে বেশ চড়া দামে সেই পেটেন্ট বিক্রি করে দিলেন। পরে বিখ্যাত পেন্সিল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফেবার-ক্যাসেলের সঙ্গে এই প্যাটেন্ট নিয়ে খিটিমিটি লেগে যায় জোসেফের। শেষমেশ আদালতের রায়ে অবৈধ ঘোষিত হয় তার পেটেন্ট। অর্থাৎ, এখন যে কেউ রাবারওয়ালা পেন্সিল বানাতে পারে।

মানুষের গায়ের রং সাদা বা কালো হয় কেন?

আমাদের ত্বকে তো অনেক উপাদানই থাকে। এরকমই একটি উপাদান হলো মেলানিন। মানুষের গায়ের রং সাদা বা কালো হয় মূলত ত্বকে এই মেলানিনের উপস্থিতির কারণে। মেলানিনের কম বা বেশি থাকার উপরই নির্ভর করে একজন মানুষ সাদা হবে, না কালো হবে। যার শরীরে মেলানিন যতো বেশি, সে ততো কালো।

এই মেলানিন ত্বকে আল্ট্রাভায়োলেট রে বা অতি বেগুনী রশ্মির প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করে। অতি বেগুনী রশ্মি আমাদের ত্বকে প্রবেশ করে ভিটামিন ডি তৈরি করে। আবার এই অতি বেগুনী রশ্মি যদি আমাদের ত্বকে বেশি হয়ে যায়, তাহলে কিন্তু সমস্যা, স্কিন ক্যান্সার বা ত্বকের ক্যান্সারই হয়ে যেতে পারে!

এখন একটু খেয়াল করলে দেখবে, যে সব অঞ্চলে সূর্যের তাপ যতো বেশি পড়ে, সে সব অঞ্চলের লোকজন ততো কালো। আর যে সব অঞ্চলে সূর্যের তাপ যতো কম পড়ে, সে সব অঞ্চলের মানুষ ততো সাদা। কারণ, সূর্যের তাপ বেশি মানে গায়ে সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মিও পড়ে বেশি। আর সেই বেশি পরিমাণ অতি বেগুনী রশ্মি ঠেকাতে মেলানিনও বেশি-ই প্রয়োজন হয়। আর বরফ-পড়া দেশগুলোতে ঠিক তার উল্টো, তাই ওখানকার মানুষের গায়ের রং-ও সাদা। আর তাই আফ্রিকার গনগনে আবহাওয়ায় মানুষগুলোর শরীরে মেলানিনও থাকে বেশি, গায়ের রংও কুচকুচে কালো।

এখন শোনো মজার এক গল্প। ডারউইন, মানুষের বিবর্তনের যে তত্ত্ব বলেছিলেন, সেটা শোনো নি? ডারউইনের তত্ত্ব অনুসারে বাঁদর থেকে শিম্পাঞ্জী তারপর হলো মানুষ। আর মানুষ হওয়ার সময় আমাদের লেজও গেলো খসে। খেয়াল করে দেখো, যেখানে লেজ থাকার কথা, আমাদের সেই জায়গায় এখনো একটা হাড় রয়ে গেছে! তো আমরা যখন মানুষ হলাম, তখন তো আমাদের গায়ের লোমও কমতে শুরু করলো। তো শরীরে তাপরোধ করার, মানে ঐ অতিবেগুনী রশ্মি থেকে আমাদের ত্বককে রক্ষা করার তো একটা ব্যবস্থা থাকা চাই, নাকি? আগে তো ওদের লোমেই সব কাজ হয়ে যেতো। কিন্তু আমাদের গায়ে তো অমন লোমের জঙ্গল নেই। তখনই আমাদের শরীরে মেলানিনের পরিমাণ বাড়তে শুরু করলো। সে আজ থেকে প্রায় ১২ লাখ বছর আগের কথা। তখন নাকি পৃথিবীর সব মানুষের গায়ের রংই ছিলো আফ্রিকার মানুষদের মতো কুচকুচে কালো। আস্তে আস্তে মানুষ পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়তে লাগলো। আর যে যতো ঠাণ্ডা এলাকায় যেতে লাগলো, তার শরীরে ততোই মেলানিন কম দরকার হতে লাগলো; আর সে ততো সাদা হতে লাগলো। তার মানে কি দাঁড়ালো, গায়ের রং সাদা বা কালো হওয়ার মধ্যে এমন কোনো গর্বের কিছু নেই। এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বরং আমাদের দেশে গায়ের রং বেশি সাদা হলে উল্টো সমস্যা। আমাদের দেশে তো আর কম রোদ পড়ে না! তবে তার মানে কিন্তু এটাও না যে, গায়ের রং সাদা হওয়া খারাপ। কেন, মনে নেই, এই অতিবেগুনী রশ্মি-ই তো আমাদের ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি করে। গায়ে মেলানিন বেশি থাকলে তো অতিবেগুনী রশ্মি বেশি করে ভিটামিন ডি তৈরিই করতে পারবে না!

মোবাইলের সিমকার্ড কে আবিষ্কার করেন?

তার আগে বলেন তো, সিমকার্ডের পুরো নাম কী? সিমকার্ডের ইলাবরেশন হলো সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিফিকেশন মডিউল (SIM)। শব্দ সংক্ষেপকে যেমন বলে অ্যাব্রিভিয়েশন, ঠিক তেমনি ওই সংক্ষিত অক্ষরগুলোর পুরো লেখাকে বলে ইলাবরেশন। এই যেমন, এখানে SIM অ্যাবরিভিয়েশন আর Subscriber Identification Module  হলো ইলাবরেশন। এখন প্রশ্ন হলো, এই সিমকার্ড কে বা কারা প্রথম বানিয়েছিলো, তাই তো?

প্রথম সিমকার্ড কে বানিয়েছিলো সেটা বলাটা একটু কঠিনই বটে। কারণ, প্রথম সিমকার্ড তৈরি করে একটি জার্মান কোম্পানি। সেই কোম্পানির কে প্রথম সিমকার্ড বানিয়েছিলো, তা তো আর আলাদা করে বলা যায় না, তাই না? জার্মানির সেই কোম্পানিটির নাম জিসেকে অ্যান্ড ডেভ্রিয়েন্ট, সংক্ষেপে জিঅ্যান্ডডি (Giesecke & Devrient)। কোম্পানিটির হেডকোয়ার্টার জার্মানির মিউনিখ শহরে। ১৯৯১ সালে পৃথিবীর প্রথম সিমকার্ডও সেখানেই বানানো হয়।

তবে তাদের বানানো সিমকার্ড প্রথম যে কোম্পানি কেনে, সেটি কোনো জার্মান কোম্পানি নয়। ফিনল্যান্ডের কোম্পানি রেডিওলিনজা ওদের বানানো প্রথম ৩শ’টি সিমকার্ড কিনে নেয়। শুধু তাই নয়, পৃথিবীতে প্রথম এসএমএস (শর্ট মেসেজ সার্ভিস) সেবাও ওরাই প্রথম চালু করে, ১৯৯৩ সালে। প্রথম রিংটোন কিনে ডাউনলোড করার ব্যবস্থাও করে ওরা। সেটা ১৯৯৮ সালে।

পৃথিবীর প্রথমদিকের সেই সিমকার্ডগুলো কিন্তু দেখতে এখনকার মতো ছিলো না। সে সময়ের একেকটা সিমকার্ড আকৃতিতে ছিলো এখনকার একেকটা ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের সমান! সেটাকে বলা হয় ফুল-সাইজ সিমকার্ড। পরে সিমকার্ডের আকৃতি ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসে। আমরা যেটা ব্যবহার করি, সেটার নাম মিনি-সিমকার্ড। এর চেয়েও ছোট আকৃতির আরো তিন ধরনের সিমকার্ড আছে- মাইক্রো-সিমকার্ড, ন্যানো-সিমকার্ড আর এমবেডেড-সিমকার্ড।

চশমা আবিষ্কার

যখন চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, মানুষ আর ঠিকমতো দেখতে পায় না, তখন চশমা ব্যবহার করে। আর চশমাও কী মজার, ঠিক ঠিক চশমাটা চোখে দিলেই ব্যস, সবকিছু আবার আগের মতো পরিষ্কার! আপনাদের অনেকেও হয়তো এই বয়সেই চশমা ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। চশমা উপরের দিকে ঠেলে বেশ একটা বিজ্ঞের ভাব নেন! কিন্তু কেউ কী জানেন, চশমা কে আবিষ্কার করেছিলেন?

ধারণা করা হয়, চশমা প্রথম আবিষ্কার করেন আলেসান্দ্রো দেল্লা স্পিনা নামে এক ইতালিয়ান লোক। পিসার হেলানো মন্দিরের কথা শুনেছ না? স্পিনা সেই পিসা অঞ্চলের লোক ছিলেন। সম্ভবত ১২৮৬ সালে তিনি প্রথম চশমা আবিষ্কার করেন। অনেকে আবার বলে, তারও আগে আরেকজন চশমা আবিষ্কার করেছিলেন। কিন্তু তিনি আর কাউকে সেই চশমা ব্যবহার করতে দেননি। আর স্পিনা চশমা বানিয়ে নিজেও ব্যবহার করেছেন, মানুষকেও ব্যবহার করতে দিয়েছেন। কিছুদিন পরে, ১৩০১ সালে ভেনিস সরকার তো চশমা বিক্রির জন্য কিছু নিয়মও ঠিক করে দিয়েছিল। মানে ততোদিনে চশমা ব্যবসাও বেশ জমে উঠেছিল।

তবে অনেকে আরো আগে চশমা আবিষ্কৃত হওয়ার কথা বলেন। এমনি দাবি উঠেছিল, ফ্লোরেন্সের সালভিনো দি’আর্মাতো নামে একজন আরো আগে চশমা আবিষ্কার করেছিলেন বলে। কিন্তু পরে আরো গবেষণা করে দেখা গেল, সেটা নিছকই একটা গুজব। আবার বিখ্যাত পরিব্রাজক, যিনি পায়ে হেঁটেই পৃথিবীর অর্ধেক দেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন; সেই মার্কো পোলো লিখেছিলেন, তিনি নাকি ১৩ শতকেই চীনে চশমা ব্যবহার করতে দেখেছেন। কিন্তু এমন কথা খোদ চীনেরও কেউ লেখেননি। অন্যদের লেখায় চীনে প্রথম চশমার উল্লেখ পাওয়া যায় আরো পরে, ১৫ শতকে। তাও সেই চশমা নাকি আমদানি করা হয়েছিল।

সবচেয়ে পুরনো চশমার ছবিটা এঁকেছিলেন তোমাসো দ্য মোদেনা নামে এক ইতালিয়ান চিত্রশিল্পী। আসলে তিনি একজন বেশ উচ্চপদস্থ লোকের পড়ার ছবি এঁকেছিলেন; আর সেই লোকটি চশমা পড়ে ছিলেন। ফলাফল, ১৩৫২ সালে আঁকা হয়ে গেল পৃথিবীর প্রথম চশমার ছবি।

তবে মজার কথা কী জানেন? চশমা আবিষ্কৃত হলেও, চশমা কীভাবে কাজ করে, সেই ব্যাখ্যা তখনো মানুষ ঠিক বের করতে পারেনি। প্রথম এই ব্যাখ্যা দেন জোহান্স কেপলার, ১৬০৪ সালে।

বাইফোকাল চশমার নাম শুনেছেন? এই চশমায় দু’টি ভিন্ন পাওয়ার থাকে। এই চশমা প্রথম উদ্ভাবন করেন বিখ্যাত আমেরিকান বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন। অনেকে তার এই কৃতিত্বের দাবিদার করেন জর্জ হোয়াটলে আর জন ফেনোকেও। কিন্তু গবেষণায় প্রমাণিত হয়, এই কৃতিত্বটি তার। ধারণা করা হয়, তিনি হয়তো তারও বেশ আগেই বাইফোকাল চশমা উদ্ভাবন করেছিলেন।

এ তো গেল চশমার লেন্সের কাহিনী। এখন চশমার ফ্রেমের গল্পটা বলি। একদম পুরোনো আমলের চশমার ফ্রেমগুলোকে এখন বেশ অদ্ভূত ঠেকবে। ওগুলোর কোন ডাণ্ডা থাকতো না। হয় হাত দিয়ে ধরে ধরে পড়তে হতো, নাহয়, নাকের উপর ঠেস দিয়ে রাখতে হতো। প্রথম চশমার ফ্রেমে ডাণ্ডার ব্যবহার করা হয় ১৭২৭ সালে। প্রথম ডাণ্ডার ব্যবহার করেন সম্ভবত বৃটিশ চক্ষুবিদ এডওয়ার্ড স্কারলেট। কিন্তু সেই ডিজাইন তেমন ভালো হয়নি। পরে ফ্রেমের আরো অনেক উন্নতি হয়। এই তো কিছুদিন আগেও চশমার ফ্রেমের শেষ অংশটি এখনকার মতো গোলাকার হতো না, বেশ চোখা হতো। আপনার দাদুর পুরোনো চশমা থাকলে দেখবেন, সেই চশমার ফ্রেমের ডাণ্ডাটি একদম সোজা।

মানুষ ঘুমায় কেন?

আসলে মানুষ যে কেন ঘুমায়, এটা এমনই এক রহস্য, বিজ্ঞানীরাও অনেক দিন এই রহস্যের কোনো কিনারা করতে পারছিলেন না! শেষমেশ তারা খুঁজতে শুরু করলেন, মানুষ না ঘুমালে কি হয়। আর তা জানা গেলেই তো বলা যাবে, মানুষ কেন ঘুমায়, তাই না?

আগে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, মানুষ ঘুমায় শরীরের ক্লান্তি দূর করার জন্য। কিন্তু ক্লান্তি দূর করার জন্য ঘুম নাকি খুব একটা কাজের নয়। ঝাড়া ৮ ঘণ্টা ঘুমালে তোমার শরীরের যে পরিমাণ ক্যালরি জমা হবে, সেই ক্যালরি নাকি একটা টোস্ট খেয়েই পাওয়া যায়! তাহলে ঘুমের রহস্যটা কি?

দাঁড়াও, তার আগে শোনো ঘুমের স্তর কয়টা। ঘুমের স্তর মূলত ২টা- র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট স্তর, আর নন-র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট স্তর; সংক্ষেপে আরইএম আর এনআরইএম। এনআরইএম স্তরকে কিন্তু আবার ৪টা স্তরে ভাগ করা যায়। প্রথম স্তরটা যখন আমরা কেবল ঘুমাতে শুরু করি, সেটা। হালকা একটা তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব। আমরা ঘুমের এই স্তরে থাকি ১০ মিনিটের মতো। আর তারপর পরের স্তরে চলে যাই। এই স্তরে এসে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি কমতে থাকে। আর মোটামুটি ২০ মিনিট পরে আমরা গভীর ঘুমে তলিয়ে যাই। এই গভীর ঘুমের ২টি স্তর আছে। প্রথম স্তরে আমাদের মস্তিষ্ক আবার এক বিশেষ ধরনের তরঙ্গ (ফ্রিকোয়েন্সি) সৃষ্টি করে। আর এই স্তরে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি একেবারেই কমে যায়। আর তারপর এনআরইএমের শেষ স্তর। এই স্তরে আমাদের শরীর যাকে বলে একেবারে ছেড়ে দেয়। আর ঐ যে তোমাদের মধ্যে অনেকে রাতে ঘুমের মধ্যে হাঁটাহাঁটি করো, আবার অনেকে ঘুমের মধ্যে বিছানাকেই বাথরুম মনে করে বিছানায় ইয়ে করে দেয়, এসবই হয় ঘুমের এই স্তরে।

এখন ঘুমের আরইএম স্তরে আমরা কখন প্রবেশ করি? প্রথমবার এই স্তরে প্রবেশ করি ঘুমানোর ৭০-৯০ মিনিটের দিকে, এনআরইএমের শেষ স্তরের পর, মানে ওই হাঁটাহাঁটি আর বিছানায় ইয়ে করে দেয়ার স্তরের পর। আর এরপর ঘুরে ঘুরে এক ঘুমে প্রায় ৩-৫ বার এই স্তর আসে। আর ঘুমের মধ্যে যে মজার মজার, কখনো বা আবার ভয়ংকর ভয়ংকর সব স্বপ্ন দেখো না? সেগুলো-ও কিন্তু আমরা এই স্তরেই দেখি। আর তখন আমাদের চোখ পিটপিট করে। এ কারণেই এই স্তরের নাম দেয়া হয়েছে র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট। কিন্তু এই স্তরে কিন্তু আমাদের শরীর একেবারেই অবশ হয়ে থাকে। আর তাই এ স্তরে ঘুম ভাঙলে আমরা স্বপ্ন মনে করতে পারি ঠিকই, কিন্তু শরীর কেন জানি কথাই শুনতে চায় না। এই স্তর শেষ হলে আবারও ঘুমের ঐ প্রথম স্তর শুরু হয়।

এবার নিশ্চয়ই ঘুমের কারণ বুঝতে পেরেছেন। ঘুম যতোটা শারীরিক ক্লান্তি দূর করার জন্য দরকার, তারচেয়ে বেশি দরকার মানসিক ক্লান্তি দূর করার জন্য। আমরা সারাদিনে যতো বেশি মাথা খাটাই, যতো বেশি নতুন জিনিস শিখি, ততো বেশি ঘুমানো জরুরি হয়ে পড়ে। কারণ, ঐ যে ঘুমের আরইএম স্তর, যে স্তরে গেলে আমরা স্বপ্ন দেখি, সে স্তরে গেলে আমাদের মস্তিষ্ক সাজগোজের কাজ হয়, আমরা সারাদিন আমাদের মস্তিষ্কে যতো তথ্য আপলোড করেছি, সেগুলো সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখা হয়। আর তাই ছোটোদেরকে বেশি বেশি করে ঘুমোতে হয়। আর বড়রা ঘুমায় তুলনামূলক কম।

তাহলে ঘুমানো কেন দরকার, তা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছো। সেই সাথে আরেকটা জিনিস মাথায় রেখেন, পরীক্ষার আগের রাতে ঘুম-টুম বাদ দিয়ে শুধু পড়া কিন্তু ভালো নয়। কারণ, সারারাত ধরে পড়ে পড়ে না হয় পরীক্ষার সব পড়া আপনি আপনার মাথায় আপলোড করলে। কিন্তু সেগুলো যদি মস্তিষ্ক আরইএম স্তরে সাজাতে না পারে, তাহলে তো পরীক্ষার হলে গিয়ে আপনার সব পড়া ওলটপালট হয়ে যাবে!

মানুষ কাঁদে কেন?

আসলেই তো, মানুষ কাঁদে কেন? এ তো ভীষণ জটিল প্রশ্ন। শুধুই কি মানুষ কাঁদে? পশু-পাখিরা কি কাঁদে না? ওরাও কাঁদে। তবে হ্যাঁ, মানুষের কান্নার মাঝেও একটা শ্রেষ্ঠত্ব আছে! মানুষই কেবল দুঃখ পেলে কাঁদে। পশু-পাখিরা কিন্তু দুঃখ পেলে মোটেও কাঁদে না। তাহলে এখন থেকে আপনি যদি মন খারাপ করে কেঁদে ফেলেন, আর পরে সেটা নিয়ে আপনার বন্ধুরা আপনাকে ক্ষ্যাপাতে শুরু করে, তাহলে মোটেও মন খারাপ করবেন না। উল্টো বুক ফুলিয়ে বলবেন, আমি মানুষ দেখেই না মন খারাপ করে কেঁদেছি!

আচ্ছা, আমাদের চোখ দিয়ে যখন নোনা পানি ঝরে, তাকেই তো আমরা কান্না বলি, তাই না? এই কান্না বা চোখের পানি কিন্তু ৩ রকম। একটাকে বলে ব্যাসাল টিয়ার্স (টিয়ার্স মানে যে চোখের পানি সে তো তোমরা নিশ্চয়ই জানো!)। এটা আমাদের চোখের একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। প্রতিবার পলক ফেলার সময় চোখের পাতার পেছন থেকে আমাদের চোখের ওপর এই পানি ছিটিয়ে দেয়া হয়। এটা আমাদের চোখকে ধুলো-বালি থেকে রক্ষা করে। অনেকটা তেল বা লুব্রিকেন্টের মতো।

আরেক রকম পানির নাম দেয়া হয়েছে রিফ্লেক্স টিয়ার্স। একটানা কোনো কিছুর দিকে, যেমন ধরো ক্লাশে অনেকক্ষণ ধরে খুব মনোযোগ দিয়ে টিচারের দিকে তাকিয়ে আছো, তখন তোমার চোখ দিয়ে পানি পড়তে শুরু করে না? ওটাকেই বলে রিফ্লেক্স টিয়ার্স। আমাদের চোখ কোনো কিছু দেখতে দেখতে যখন খুব বিরক্ত বা একঘেঁয়ে হয়ে যায়, তখন এই পানি বের হয়ে চোখকে রিফ্রেশ করে দেয়। অনেকটা কম্পিউটার রিফ্রেশ করার মতো ব্যাপার আরকি!

আর শেষ রকম চোখের পানির নাম ইমোশনাল টিয়ার্স। যেই চোখের পানি নিয়ে আজকে আমাদের আলোচনা। আর এটা কিন্তু শুধুই মানুষের সম্পত্তি। পশু-পাখিরা এই কান্না একদমই কাঁদতে পারে না। তবে অনেক বিজ্ঞানী বলেন, কিছু কিছু প্রাণীও এই কান্না কাঁদে। চার্লস ডারউইন একটা বইয়ে লিখে গেছেন ভারতের হাতিরাও নাকি ওদের কেউ মারা গেলে কান্নাকাটি করে। দূর-দূরান্ত থেকে মরা হাতির মৃতদেহ দেখতে যায়। কিন্তু সব বিজ্ঞানীরা এখনো এ ব্যাপারে একমত হতে পারেন নি। অনেকেরই মত, ওসব মনের দুঃখে কান্না-ফান্না কিছু না, ওটা ওদের চোখ পরিস্কার করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ব্যাসাল টিয়ার্স আরকি!

এখন কথা হলো, আমরা কেন কাঁদি? আসলে এই ইমোশনাল টিয়ার্সে কি কি থাকে জানো? খুব বেশি থাকে ম্যাঙ্গানিজ নামের এক ধরনের লবণ আর প্রোল্যাক্টিন নামের এক ধরনের প্রোটিন। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই দু’টো পদার্থ শরীর থেকে বের হয়ে গেলে মানুষ অনেকটা আরাম বোধ করে। ধরো তোমার খুব মন খারাপ, তুমি কাঁদলে, আর তার সঙ্গে এগুলো বের হয়ে তোমাকে অনেক হালকা করে দিলো। তোমার মন খারাপও কিছুটা কমে গেলো। ঐ যে কথায় বলে না, কাঁদলে মন হালকা হয়? এটাই নাকি তার কারণ।

তবে কাঁদলে মন হালকা হওয়ার এরচেয়েও বড়ো কারণটা মানসিক। আপনি যখন কাঁদবে, তখন আপনার আশেপাশে যারা থাকবে, তারা সবাই-ই বুঝবে কোনো কারণে আপনার মন ভালো নেই। হয় আপনার মন খারাপ, অথবা আপনি ভীষণ হতাশ, কিংবা আপনি চরম পরিমাণে দ্বিধান্বিত। আর এই যে আপনার আশেপাশের মানুষকে আপনি আপনার মনের ভাব প্রকাশ করতে পারলেন, এটাও আপনার মনকে অনেকখানি হালকা করে দিবে। খেয়াল করে দেখবেন, আপনার মন খুব খারাপ হলে আর কোনো প্রিয় মানুষের কাছে কাঁদলে কেমন মনটা হালকা হয়ে যায়?

তাহলে আজকে কিন্তু একটা জিনিস খুব জেনে নিলেন। কান্না মোটেও অপরাধ না। এটা লজ্জার পাওয়ার কোনো বিষয়ও না। বরং এটা খুবই স্বাভাবিক একটা প্রক্রিয়া। মানুষের মন খারাপ হলে বা ব্যথা পেলে কাঁদবেন, এটাই স্বাভাবিক। আর এটা মনে আছে তো, মন খারাপ হলে বা ব্যথা পেলে কাঁদতে পারার গুণ কিন্তু একমাত্র মানুষের-ই আছে। প্রাণীরা কিন্তু মোটেও এই কান্না কাঁদতে পারে না!

thani ツƒαсεвøøќ মারাক্তক কিছু টিপস | না পড়ছেন ত মিস করছেন © বিভিন্ন জিনিস নিয়ে তথ্যের মেগা পোস্ট(পর্ব ১)। না দেখলে মিস!!!!

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ