জেনে নিন সবার প্রিয় টিনটিন এবং টম এন্ড জেরির ইতিহাস!!!

1
551
জেনে নিন সবার প্রিয় টিনটিন এবং টম এন্ড জেরির ইতিহাস!!!

ডেভিল ম্যাক রিডার

I'm a little boy who loves to live alone in dark shadows . I love to share tips & tricks with people . I love to watch movies , listen music & read books but alone.......... I'm just 10 years old & love to study & write in blogs, groups................
জেনে নিন সবার প্রিয় টিনটিন এবং টম এন্ড জেরির ইতিহাস!!!

জেনে নিন সবার প্রিয় টিনটিন এবং টম এন্ড জেরির ইতিহাস!!!

টিনটিন

 

আহ! সব্বার প্রিয় টিনটিন! ওর নাম শুনলেই কেমন যেন লোভ লাগে! ইচ্ছে করে ওর সঙ্গে অভিযানে নেমে পড়তে। দুর্গম অঞ্চলে দুর্ধর্ষ শত্রুর সঙ্গে বুদ্ধির মারপ্যাঁচে শত্রুকে হারিয়ে দিতে। আর টিনটিনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার কী বলো তো? হ্যাঁ, উপস্থিত বুদ্ধি। ওর উপস্থিত বুদ্ধি এত্তো চমৎকার! এখন প্রশ্ন হলো, টিনটিনের স্রষ্টা কে?

তার আগে বলো তো, টিনটিনের জন্ম কোন দেশে? বলতে পারলে না তো? থাক, আমিই বলে দিচ্ছি। টিনটিনের জন্ম বেলজিয়ামে। তবে এর স্রষ্টা কিন্তু ওর জাতীয়তাকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। টিনটিন যে সব জাতির মানুষেরই প্রিয় চরিত্র! তিনি মনে হয় কোনোভাবে আগেই জেনে গিয়েছিলেন, টিনটিন সারা পৃথিবীতে এমনি জনপ্রিয় হয়ে যাবে।

এবার আসল কথায় আসা যাক। টিনটিনের স্রষ্টার নাম, মানে যিনি এই কার্টুন চরিত্রটি বানিয়েছেন, তার নাম হার্জ (Hergé)। উনি নিজেই একজন বেলজিয়ান, তাই টিনটিনও বেলজিয়ান। আর ওর জন্মভ‚মিও বেলজিয়াম। তবে যে কথা বলেছিলাম, তিনি কিন্তু কোথাও টিনটিনকে সরাসরি বেলজিয়ান বলেননি। তবে অনেক গল্পেই বেলজিয়াম কিংবা সে দেশের রাজধানী ব্রাসেলসের কথা এসেছে। অনেক জায়গায় আবার সেই দেশের নানা জায়গাও ছবিতে উঠে এসেছে। তবে সেসব বাদ দিলে টিনটিন আদতে এক ইউরোপিয়ান চরিত্র। মানে ওকে ইউরোপের যে কোনো দেশের লোক বলেই চালিয়ে দেয়া যায়। আর ওকে ভালোবাসে তো বিশ্বের সব দেশেরই মানুষ! কোন দেশের মানুষ ওকে ভালোবাসে না, বলো?

টিনটিনের জন্ম হয়েছিল ঠিক ১৯২৯ সালের ১০ জানুয়ারি। মানে সেইদিন হার্জের হাত ধরে টিনটিনের প্রথম কমিকটি প্রকাশিত হয়। কমিকটির বেলজিয়ান নাম ছিল ‘লে পেটিট ভিংটিয়েমে’। ভাবছো, কী খটমটে নাম রে বাবা! এমন টিনটিনের বই তো কখনোই পড়ি নি! দাঁড়াও ইংরেজি নামটা বলি, তখন ঠিকই চিনতে পারবে, ‘টিনটিন ইন দ্য ল্যান্ড অফ সোভিয়েত।’

টিনটিন সৃষ্টির কিন্তু এক মজার ব্যাপার আছে। টিনটিন তো আদতে এক সাংবাদিক, যে সারা পৃথিবীতে ঘুরে বেড়ায়, আর দুর্ধর্ষ সব অভিযান করে। এই টিনটিনকে হার্জ তৈরি করেছিলেন আরো আগের এক চরিত্রকে ভিত্তি করে। তার সেই কমিক চরিত্রটির নাম টোটোর। টোটোর ছিল এক বয়-স্কাউট। তবে স্কাউট হিসেবে ও তেমন একটা সুবিধের ছিল না। হার্জ এই টোটোরকে নিয়ে কমিকস লেখেন ১৯২৬ সাল থেকে ’২৯ সাল পর্যন্ত। পরে তিনি সম্ভবত চিন্তা করলেন, টোটোর আর কতোদিন ছোট থাকবে। ওকে-ও তো বড় করা উচিত! আর সেই চিন্তা থেকেই হয়তো টিনটিনকে সৃষ্টি করলেন। তার পরেরটুকু তো যাকে বলে ইতিহাস! সারা পৃথিবীর সব বয়সী মানুষ এই টিনটিনকে এমনই ভালবেসে ফেললো, সে আর কী বলবো!

 

 

জেনে নিন সবার প্রিয় টিনটিন এবং টম এন্ড জেরির ইতিহাস!!!

টমএন্ড জেরি

 

 

টম অ্যান্ড জেরি- নাম শুনেই তো আমার ওদের খুনসুটি দেখতে ইচ্ছে করছে। দাঁড়াও, আগে তোমার প্রশ্নের উত্তর দেই, তার পর ঠিকই টম অ্যান্ড জেরি দেখতে বসা যাবে।

টম অ্যান্ড জেরির নির্মাতা আসলে দুইজন- উইলিয়াম হ্যানা আর জোসেফ বারবারা। দুজনেই মেট্রো গোল্ডউইন মায়ার নামের সিনেমা কোম্পানিতে কাজ করতেন। এই কোম্পানির জন্যই তারা কার্টুনটি তৈরি করেছিলেন। এখনো এই কোম্পানিই কার্টুনটি তৈরি করে। উইলিয়াম হ্যানা আর জোসেফ বারবারা অবশ্য আর টম অ্যান্ড জেরি নির্মাণ করেন না। করবেন কী করে; তারা দু’জনেই যে মারা গেছেন। উইলিয়াম হ্যানা ২০০১ সালে, আর জোসেফ বারবারা মারা গেছেন ২০০৬ সালে।

আসো শুনি কীভাবে টম অ্যান্ড জেরি নামের দুর্দান্ত এই কার্টুন সিরিজটি তৈরি হলো। উইলিয়াম হ্যানা আর জোসেফ বারবারা মেট্রো গোল্ডউইন মায়ার, সংক্ষেপে এমজিএম কোম্পানির রুডলফ আইসিং ইউনিটে কাজ করতেন। হ্যানা গল্প বানাতেন আর ক্যারেক্টার ডিজাইন করতেন; বারবারা পরিচালনা করতেন।

১৯৩০ সাল। ইউনিটটি খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই। তাদের কার্টুন সিরিজ ক্যাপ্টেন অ্যান্ড দ্য কিডজ চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে। হ্যানা আর বারবারা আলোচনায় বসলেন, এবার কী নিয়ে কার্টুন বানানো যায়। বারবারা ঠিক করলেন, ইঁদুর আর বিড়ালের লড়াই নিয়ে একটা কার্টুন বানানো যাক; নাম দিলেন ‘পুস গেটস দি বুট’। গল্পের বিড়ালের নাম ঠিক হলো জ্যাস্পার, ইঁদুরের নাম জিংক্স। কার্টুনটির গল্পটাও ছিল ভীষণ মজার; জ্যাস্পার জিংক্সকে ধরার জন্য ওকে তাড়িয়ে ফিরছে। হঠাৎ ধাক্কা লেগে একটা ফুলের টব ভেঙে গেল। আর যায় কোথায়, জ্যাস্পারের আফ্রো-আমেরিকান মালকিন চিৎকার করে উঠলেন- আরেকটা কিছু যদি ভাঙে, তোমাকে এক্কেবারে বের করে দেব। ভয়ে তো জ্যাস্পারের বুক শুকিয়ে গেল। আর জিংক্সও মজা পেয়ে গেল। ও ঘরের মধ্যে ভাঙার মতো যা কিছু আছে, সব ফেলে দিতে লাগলো। আর জ্যাস্পার জান-প্রাণ দিয়ে সে সব ধরতে লাগলো।

এত্তো সুন্দর গল্পের একটা কার্টুন, কিন্তু এমজিএমের সহকর্মীরা কিন্তু হ্যানা-বারবারার এই কার্টুন নিয়ে তেমন আশাবাদী হতে পারলো না। ওরা বললো, এ আর এমন কী? ইঁদুর-বিড়ালের সেই পুরোনো একঘেঁয়ে গল্প।

১৯৪০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, মুক্তি পেল পুস গেটস দ্য বুট। মোটামুটি ব্যবসাও করলো। কিন্তু তাতে লাভ হলো কী, হ্যানা- বারবারাকে ইঁদুর- বিড়ালের এই মজার কার্টুন বানাতে না দিয়ে গ্যালোপিং গ্যালস আর অফিসার পুচ নামের দুটো কার্টুনের কাজ দেয়া হলো।

কিন্তু সব হিসেব উল্টে গেল, যখন ১৯৪১ সালের অস্কারে মনোনয়ন পেল পুস গেটস দি বুট। অবশ্য শেষ পর্যন্ত কার্টুনটি অস্কার জেতেনি, অস্কার জোটে এমজিএমেরই আরেক কার্টুন দ্য মিল্কি ওয়ে’র কপালে। কিন্তু প্রযোজক ফ্রেড কুইম্বির মত পাল্টানোর জন্য মনোনয়নই যথেষ্ট ছিল। তিনি তড়িঘড়ি করে হ্যানা-বারবারাকে ডেকে ইঁদুর- বিড়ালের গল্প নিয়ে কার্টুনটির সিরিজ বানাতে বললেন। ওরাও হাতের কাজ ফেলে ওদের প্রিয় সিরিজটি বানানোর কাজে হাত দিলেন।

এখন সিরিজটির তো একটা নাম দেয়া দরকার। কী নাম দেয়া যায়, বলো তো? কেউই নাম ঠিক করতে পারছিল না। তখন তারা একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করলেন; যার নাম নির্বাচিত হবে, সে পাবে ৫০ ডলার। জন কার নামের এক অ্যানিমেটর টম অ্যান্ড জেরি নাম দিয়ে জিতে নিলেন ৫০ ডলার।

এবার হ্যানা-বারবারাও পুরোদমে কাজ শুরু করে দিলেন। ১৯৪১ সালেই মুক্তি পেল টম অ্যান্ড জেরির প্রথম কার্টুন- দ্য মিডনাইট স্ন্যাক। আর এরপর থেকে হ্যানা-বারবারা টম অ্যান্ড জেরি ছাড়া অন্য কোনো কাজে বলতে গেলে হাতই দেননি, সারা জীবন টম অ্যান্ড জেরি-ই বানিয়ে গেছেন। আর তাদের এই কাজের এমনই যাদু, এখনো ছেলে-বুড়ো সবাই টম অ্যান্ড জেরি বলতে পাগল। হলো তো টম অ্যান্ড জেরির গল্প শোনা? আমি তাহলে এবার টম অ্যান্ড জেরি দেখতে বসলাম, কেমন?

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ