আমার প্রথম কবিতা-দৌড়…………..

7
656

আমরা যন্ত্রপাতি নিয়ে পড়ে থাকি সারাদিন,তাইবলে কী কবিতা লেখা যাবেনা?সাহিত্যিক হওয়ার স্বপ্নই দেখতাম একসময়……সেই স্বপ্নটাই পূরণ করার নিমিত্তে এই কবিতা।কথা শুধু একটাই,যারা  পড়বেননা তাদের কিছু বলবোনা…কিন্তু যারা পড়বেন…অবশ্যই জানাবেন যে কেমন লিখলাম…..কবিতার মানে আমি বুঝিয়ে বলবোনা।আপনারাই বুঝে নিন….খুব বেশী দুর্বোধ্য করা হয়নি।কবিতার নাম দিয়েছি…..দৌড়

 

জীবন পথের ম্যারাথন রেসে অন্তিম মূহুর্ত উপস্থিত

তবুও থেমে যায়নি জীবন

থামানো যাচ্ছেনা জীবন রথের ছুটে চলা

অসীম শূণ্যতার পানে।

তখনও আমি অবুঝ চেতনায় বুঁদ হয়েছিলাম

অথচ চেতনায় জাগ্রত হয়েছিল পাশবিকতা।

স্বত্তায় তাকে মেখে নিতে চেয়েছিলাম

অথচ এই ৪২ এর শেষেও আমি ব্যর্থ।

জীবন পথের ১২ বছর দৌড়ে ধরলাম জোছনা

চেয়েছিলাম চাঁদ,পেয়েছি তার আভা।

২০ ক্রোশ দৌড়ে ধরে গেল নেশা

সোদা মাটির গন্ধ নাকে,হাতে পায়ে বালির কণা

রোজ সেই চাঁদের আভায় স্নান

ঝা ঝা রোদে অবিরাম অক্সিজেন খাওয়া।

নারীর বাস্তব ও কল্পনা আমার জীবনপথে মিশে

হারালাম ক্ষণিকের স্বাধীনতা

হারালাম ২৫ বছরের দিশে।

তখন আর কবিতা হলনা,তবুও দৌড়ে চললাম।

অসীম আধারের মাঝে ক্ষীণ আলো

যেমন কীটপতঙ্গ টানে

তেমনি ছুটে চললাম শূণ্যতার পানে।

এরপর সমাজ নামক শব্দের সামাজিক মানে

দৌড়লাম জীবিকার অণ্বেষনে।

কত স্বপ্ন বুনলাম,কত স্বপ্ন জড়িয়ে গেল পায়ে

কত স্বপ্ন বিমূর্ত থেকে গেল জীবনের গানে।

তিরিশ অতিক্রান্ত করলাম

আর নাড়ীর টানে আটকে থাকা প্রিয় শরীর মাটি হল।

কিছুদিন আঁখিজলে ভেসে গেল আপন কপোল

তারপর একচোট হেসে নিলাম আমি এবং হাসির মধ্যেই বদলে গেলাম।

তবুও দৌড়লাম।

আতুড় ঘরের বিছানা থেকে দৌড়ে বাবা-মায়ের কোল

সেখান থেকে দৌড়ে বাড়ির উঠান,চেনা মাঠ

দৌড়ে স্কুল কলেজ অফিস আদালত আর বেশ্যা পাড়া।

৪২ এর সিড়ি মাড়ানোর পর কে যেন বলল,

‘একটু দাড়া,অনেক দৌড়ছিস

এখনও ছায়া শরীরের সামনে’।

মানসিক প্রতিবন্ধীদের বিশাল প্রাঙ্গনে

এখন আমি শয্যায়।

তবুও আমার আমি দৌড়ে যায়।।

7 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ