১০ সেকেন্ড পালস, গ্রাহক সেবা না ভোগান্তি??? গ্রাহকদের তুলনায় অপারেটররা বেশি লাভবান।

16
384

মোবাইল কল রেটে ১০ সেকেন্ড পালস বাস্তবায়ন করাতে গ্রাহকদের তুলনায় অপারেটররা বেশি লাভবান হচ্ছে। কারণ তারা ১০ সেকেন্ড পালস বাস্তবায়ন করলেও কল রেট বাড়িয়েছে। কেউ তো আর ফোন করে সাধারনত ২-৩ মিনিটের কম কথা বলে না। সে যদি ২.০২ মিনিটে কলটি শেষ করে তবে ১০ সেকেন্ড পালস হিসাবে যে টাকা কাটা হবে তা কিন্তু আগের চেয়ে বেশি। তাছাড়া তারা fnf নাম্বারেও কল রেট বাড়িয়েছে।

 

গ্রামীনফোন
প্রথমেই বলি গ্রামীনফোনের কথা। গ্রামীনফোন প্রথম যে ১০ সেকেন্ড পালস অফারটি চালু করেছিল তা হল ১০ টাকায় ৪০ মিনিট(জিপি-জিপি) । প্রতি মিনিট ২৫ পয়সা সাথে ১০ সেকেন্ড পালস। আমার কথা হল, যেখানে  প্রতি মিনিট ২৫ পয়সা সেখানে  ১০ সেকেন্ড পালস কি খুব বেশি প্রয়োজন? তাছাড়া অফারটি আবার রাত ১২ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত। অর্থাৎ মানুষের যে সময়টা কথা বলা বেশি প্রয়োজন সেই সময়টাতেই অফার টি নেই। এরপর স্মাইল ও djuice এ  ১০ সেকেন্ড পালস  চালু করার পর এর কল রেট দেখে তো মাথা নষ্ট হওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। জিপি – জিপি কল রেট কিনা ভ্যাটসহ ২.০৭ টাকা/মিঃ । অর্থাৎ অন নেট হওয়া সত্তেও বিশাল রেট।
গ্রামীনফোন নিয়ে আর কিছু নাই বললাম। কারণ গ্রামীনফোন সম্পর্কে আপনারা আমার চেয়ে আরও অনেক ভালো জানেন।

 

এয়ারটেল
এয়ারটেলও ১০ সেকেন্ড পালস বাস্তবায়নের সাথে সাথে তাদের সব প্যাকেজের কল রেট বাড়িয়েছে। তাছাড়া তারা fnf নাম্বারেও কল রেট বাড়িয়েছে। fnf নাম্বারে  মানুষ এমনিতেই বেশি কথা বলে। fnf রেট যেহেতু কম সেহেতু এখানে ১০ সেকেন্ড পালস তেমন কোন কাজে আসেনা। কিন্তু তারা এর সাথে ১০ সেকেন্ড পালস যোগ করে রেট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যার কোন মানে হয়না।

 

রবি
আমি অন্য অপারেটরে ফোন দেয়ার জন্য রবি উদ্যোক্তা ব্যাবহার করতাম। যা কিনা যে কোন নাম্বারে ভ্যাটসহ ৭৫ পয়সা/মিঃ ছিল। কাল একটি নাম্বারে ফোন দেয়ার পর দেখি ১.১৫ টাকা/মিঃ করে টাকা কাটা হচ্ছে। রবি কাস্টমার কেয়ারে ফোন দেয়ার পর তারা বলে সরকার বলেছে  ১০ সেকেন্ড পালস যোগ করতে, তাই আমাদের সব প্যাকেজের রেট পরিবর্তন করা হয়েছে। (আরে  সরকার ১০ সেকেন্ড পালস যোগ করতে বলেছে কল রেট তো বাড়াতে বলেনি)। ৬ মিনিট অপেক্ষা করার পর লাইনটা পেয়েছিলাম, তাও আবার কিছু না বলেই কেটে দিল। তাই আর কিছু বলার সুযোগই পেলাম না।  ৬ মিনিট অপেক্ষা করিয়ে  ৬ মিনিটের জন্য টাকা কেটেছে ঠিক মতই। একবারতো অপেক্ষা করাতে করাতে আমার মোবাইল এর ২০ টাকাই শেষ করে ফেলেছিল। ৪-৫  মিনিট অপেক্ষার থাকার পর বলেছিল আমি অপেক্ষার সিরিয়ালে ১ নম্বরে আছি। একারণে লাইনটি কাটতেও পারছিলাম না।  কিন্তু এরপর আরও অনেকক্ষণ সিরিয়ালে ১ নম্বরে থাকার পরও আমার আর  কাস্টমার কেয়ারের সাথে কথা বলা হল না। মোবাইলের ব্যালেন্স পুরো খালি করে দিল। রবির কাস্টমার কেয়ারের মত বাজে সার্ভিস আমি আর কোথাও দেখিনি। যে কোন কারণে রবির কাস্টমার কেয়ারে ফোন করলে ৫ টাকার উপর যাবেই।

 

বাংলালিংক
বাংলালিংক এরও একি অবস্থা। ১০ সেকেন্ড পালস বাস্তবায়নের সাথে সাথে তাদের সব প্যাকেজের কল রেট পরিবর্তন হয়েছে। তাদের fnf রেট বাড়ানোর পরেই আমি বাংলালিংক ব্যাবহার করা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। তাই বর্তমান কল রেটের সাথে আগের কল রেটের পার্থক্য আমার জানা নেই। কিন্তু অনেকের কথা শুনে মনে হচ্ছে তাদের কল রেটও বেড়েছে।


 

১০ সেকেন্ড পালস বাস্তবায়ন হওয়াতে গ্রাহকদের কোন লাভ হয়েছে বলে মনে হয় না। তবে যখন miss call দিতে গিয়ে ধরা খাবেন তখন ১০ সেকেন্ড পালসটা আপনার ভালো কাজে আসবে। যদি কথা বলে লাইন কাটার পর দেখেন যে ৫.১ মিনিট এ কলটা শেষ হয়েছে তখন ১০ সেকেন্ড পালসের জন্য একটু শান্তি পেতে পারেন। কিন্তু একটু কষ্ট করে হিসাব করে দেখুন এটা আগের কল রেটের চেয়ে বেশি। উলটো আগের কল রেটে আপনি আরও কিছু মিনিট বেশি কথা বলতে পারতেন। সবগুলো অপারেটরের কল রেট দেখে মনে হচ্ছে ৫ বছর পিছনে চলে গেছি। ডিজিটাল যুগের এই যদি হয় অবস্থা তাহলে তো আরও অনেক কিছু দেখা বাকি আছে।

এমনটি কিন্তু কথা ছিল না। আমরা সবাই আশা করেছিলাম আগের কলরেটের সাথে ১০ সেকেন্ড পালস যুক্ত করা হবে। অথবা ফ্ল্যাট রেট করা হবে। এই যদি হয় ফ্ল্যাট রেট এর উদাহরণ !!! বিটিআরসি এখন কোথায়??? এতো সব এর পেছনে তো বিটিআরসি দায়ী। বিটিআরসির চেয়াম্যান সাহেব মারা যাওয়ার পরও যেহেতু বিটিআরসি ১০ সেকেন্ড পালস বাস্তবায়ন করিয়েছে সেহেতু এর সার্বিক তত্তাবদান করাও তাদের দায়িত্ব। নাকি অপারেটরদের লাভবান করার জন্য বিটিআরসির এই  পদক্ষেপ? বিটিআরসির সাবেক চেয়াম্যান ( যিনি মারা গেলেন) তিনি থাকলে মনে হয় না আমাদেরকে কল রেট নিয়ে এই ভোগান্তিতে ভুগতে হতো। বিটিআরসির চেয়াম্যান সাহেব কি মারা গেলেন, নাকি তাকে কৌশলে মেরে ফেলা হল এই সব বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ???
আপনাদের মতামত দয়া করে জানাবেন।

16 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ