জিপিএস নিয়ে যত কথা-১

14
787

ভাল আছেন সবাই?ভাল থাকলেই ভাল আর যদি একটু খারাপ থাকেন তাহলে ও কোন সমস্যা নাই :P যাইহোক,কিছু দিন আগে জিপিএস সিস্টেম ব্যবহার করে আমার বঙ্গ সমাজে স্বল্পলাভের বিনিময়ে কিছু সেবা দেওয়ার বুদ্ধি মাথায় এসেছিল।যদিও সেই সেবা প্রদান করা হয়ে ওঠেনি কিন্তু এই জিপিএস সিস্টেম নিয়ে স্বল্প বিস্তর পড়াশোনা করেছিলাম যা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই।জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম হল একটি  বিশ্বব্যাপী রেডিও নেভিগেশন সিস্টেমে।সম্প্রতি এই সিস্টেম ব্যবহৃত হচ্ছে মোবাইল ফোন,যানবাহন,নির্মাণ উপকরণ ও ল্যাপটপ কম্পিউটর এ।যদিও আমাদের বাংলাদেশে জিপিএস এর ব্যবহার আজও শুরু হয়নি।কিন্তু এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুফল ভোগ করতে বাংলাদেশ ও আর বেশী দিন পিছিয়ে থাকবেনা এই প্রত্যাশা পোষণ করি।জিপিএস নিয়ে যত কথা-১

জিপিএস সিস্টেম মূলত সময়,অবস্থান ও গতির হিসাব নির্ধারন করে দেয়।জিপিএস সিস্টেমের গঠন প্রকৃতি ও ব্যবহারের সুবিধা সমূহ আলোচনা করার আগে আসুন সংক্ষেপে জেনে রাখি এই সিস্টেম উদ্ভাবনের ইতিহাস।

পজিশনিং সিস্টেমের শুরুটা হয় ১৯৪০ সালের প্রথম দিকে।তখন এই নেভিগেশন সিস্টেম এর নাম ছিল লোরান (loran) বা লং রেন্জ পজিশনিং সিস্টেম।ছিল আরও একটি গ্রাউন্ড বেইসড রেডিও নেভিগেশন সিস্টেম যার নাম ছিল ডেক্কা নেভিগেটর (decca navigator)।এই পজিশনিং সিস্টেম দুইটি বহুল ভাবে ব্যবহৃত হয় দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে।গ্লাসে পানি ঢেলে খাওয়ার মত পরিষ্কার বোঝা যায় যে সামরিক প্রয়োজনেই এই পজিশনিং সিস্টেমের উৎপত্তি ঘটে।এই লোরান পজিশনিং সিস্টেমের এর বিবর্তিত রুপ হচ্ছে জিপিএস যদিও মৌলিক দিকগুলো প্রায় এক রয়ে গেছে।১৯৪০ সালের পর ১৯৬০ সালে আমেরিকান নেভী প্রথমবারের মত স্যাটেলাইট নেভীগেশন সিস্টেমের সফল পরীক্ষা চালায়।                     জিপিএস নিয়ে যত কথা-১                            এই বছরেই আমেরিকান এয়ারফোর্স একটি রেডিও নেভীগেশন সিস্টেম চালু করার প্রস্তাব করে যার নাম ছিল mosaic (mobile system for accurate ICBM control)।যে কারণে চালু করা হয় প্রজেক্ট ৫৭ নামক একটি গবেষনা এবং এইখান থেকেই গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমের ধারনা পাওয়া যায়।আবার ১৯৬৪ সালে ইউনাইটেড স্টেটস আর্মির কাছ থেকেও জিপিএস এর ধারণা পাওয়া যায় তাদের secor((Sequential Collation of range)সিস্টেম থেকে।১৯৭৩ সালে পেন্টাগনের ১২ জন মিলিটারি কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত নেন একটা ডিফেন্স নেভীগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম (dnss) তৈরি করা হবে।এই নেভীগেশন সিস্টেমটাই ক্রমশ জিপিএস এ রুপলাভ করে।পরবর্তীতে এই ডিফেন্স নেভীগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেমের এর নাম দেওয়া হয় navstar।তারপর এই navstar কে বলা হয় navstar gps,যা এখন সংক্ষিপ্ত ভাবে বলা হয় জিপিএস।              জিপিএস নিয়ে যত কথা-১                         প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান জন-সাধারনের ব্যবহারের নিমিত্তে ১৯৮৩ সালে জিপিএস উন্মুক্ত ঘোষনা করেন।শুধুমাত্র জিপিএস  এর পেছনে ইউনাইটেড স্টেটস খরচ করেছে ১২ বিলিয়ন ডলার এবং গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমের জন্য আমেরিকা ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে সর্বমোট ২৪টি স্যাটেলাইট লঞ্চ করে!:) এইবার নিশ্চয় বুঝতেছেন সেবা দেওয়ার  চিন্তা করেও কেন বাদ দিতে হইছে :P জিপিএস নিয়ে যত কথা-১
আজ এই পর্যন্তই।জিপিএস নিয়ে আরও তথ্য পাবেন পরবর্তী পর্বে।সেই পর্যন্ত সবাই টিউনারপেজে চোখ রাখুন ও টিউনারপেজের সাথে থাকুন ,সুস্থ্য ও ভাল থাকুন।

টিউনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় http://www.elogbd.com

14 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ