দেখুন কতসহজে দেশকে Digital ভাবে Destroy করা হচ্ছে

1
369

শেখ হাসিনা যখন Digital বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেছিল তখন তার কথায় খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু তখন বুঝিনি যে এটা Digital বাংলাদেশ গড়া না, এটা ডিজিটাল ভাবে বাংলাদেশ কে Destroy করা। ২০০৯ সালে শুরু করল সকল বিষয়েই সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতি। এমন কি সমাজ, গনিত, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস এই সকল বিষয়েও। বাংলা, রসায়ন, পদার্থে সৃজনশীল করল বুঝলাম, কিন্তু সমাজ, ইতিহাস, এগুলাতে করল কেন এটা বুঝলাম না। শিক্ষামন্ত্রী কি ইতিহাস পালটাইতে পারবে। আমার মনে হয় ইতিহাসে সৃজনশীল প্রশ্ন এমন হবেঃ- ১। ঘোষেটি বেগম যদি সিরাজোদ্দউলার সাথে ষড়যন্ত্র না করত তাহলে কি হত?-তোমার উত্তরের সপেক্ষে যুক্তি দেখাও।

তারপর শুরু হল কলেজের পালা। ২০১০ সাল থেকে শুরু করল বাংলা আর ইসলামের ইতিহাস সৃজনশীল পদ্ধতি। ইসলামের ইতিহাস কেন করল তা আজও আমার মাথায় আসে না। আপনার কেউ বুঝলে আমাকে দয়া করে জানাবেন। ইসলামের ইতিহাস যদি সৃজনশীল করতে যায় তাহলে সেটা হবে আল্লাহর সাথে গাদ্দারি করা। কারন আল্লাহ যখন যেটা ভাল এবং প্রয়োজন মনে করেছেন সেটাই করেছেন। এটার এক জাররা পরিমাণও হেরফের হবে না।

অবশেষে কিছুদিন আগে শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন মেডিকেল-ডেন্টাল ভর্তিতে কোন পরীক্ষা হবে না, এস,এস,সি এবং এইচ,এস,সি পরীক্ষার রেজাল্টের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। তার মানে এস,এস,সি এবং এইচ,এস,সি উভয় পরীক্ষায় যারা গোল্ডেন A+ পাবে না তাদের ভর্তির আবেদন করা আর উলুবনে মুক্তো ছড়ানো একই কথা। তারপরও উভয় পরীক্ষায় গোল্ডেন A+ পেয়েও যে আপনি মেডিকেল-ডেন্টালে ভর্তি হতে পারবেন তার নিশ্চয়তা ২৫%। কারন শুধু এ বছরই A+ পেয়েছে ৮০ হাজার, গতবছরের কিছু কেজুয়াল ছাত্র তো আছেই। যদিও অনিয়ম হয় না তবুও শিক্ষামন্ত্রী বলতে পারেন ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম হয়।তাহলে উচিত যাতে অনিয়ম না হয় সেই ব্যাবস্থা করা। কোন সিস্টেম যদি  Abuse হয় তবে সেটা সিস্টেমের দোষ না, সিস্টেমটা যে চালায় তার দোষ। অনেক মন্ত্রী এম,পি ই তো ঘুষ খায়,তাই বলে কি এদেশে কোন এম,পি মন্ত্রী হবে না? আসলে যদি ভর্তি পরীক্ষা হয় তাহলে এম,পি মন্ত্রী সহ বড় বড় রুই-কাতলাদের ছেলেমেয়ে তো মেডিকেলে ভর্তি হতে পারবে না। এ জন্যই হয়ত পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করছেন আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী। এতে তারও কিছু আয় হয়। কিন্তু তিনি কি একবারও চিন্তা করেছেন এভেবে ভর্তি হয়ে যারা ডাক্তার হবে তার কি রোগী বাঁচাবে নাকি রোগী মারবে। আপনি একজন নোবেল বিখ্যাত বিজ্ঞানীর নাম বলতে পারবেন যিনি প্রত্যেক ক্লাসে প্রথম হয়েছেন। মনে রাখবেন, ভাল রেজাল্ট করা আর মেধাবি হওয়া দুটো ভিন্ন জিনিস। অনেকেই গাধার মতো মুখস্ত করে পরিক্ষায় A+ পায়, এমনকি বোর্ডও ফুটো করে ফালায়। কিন্তু বইয়ের বাইরে তাদের একটা হরফও বলার,লেখার বা বোঝার ক্ষমতা নাই। মেডিকেলে মুখস্ত করতে হয় ঠিক আছে, কিন্তু আমি মনে করি একজন ইঞ্জিনিয়ারের চেয়ে একজন ডাক্তারে অনেক বেশি মেধাবি এবং সৃজনশীল হতে হবে। কারন একজন ডাক্তারের কারবার রোগীর জীবন নিয়ে। নয়ত দেখা যাবে রোগীর হয়েছে জন্ডিস অথচ ডাক্তার জ্বর ভেবে দিনে ৬টা করে নাপার ডোস দিচ্ছে। তাহলে রোগী কি সুস্থ হবে নাকি মরবে? অনেক ভালো ভালো ছাত্র আছে যারা হয়ত কোন কারনে একটা বিষয়ে একটু খারাপ করেছে, কিমবা গোল্ডেন ছুটে গেছে। তাই বলে তারা খারাপ। কে ভালো কে খারাপ তার প্রমাণ হয় ভর্তি পরীক্ষায়। আর সেই পরীক্ষাই যদি না হয় তাহলে তো মেডিকেলে ভর্তি হবে সব বয়লার। এরা রোগী বাঁচানোর পরিবর্তে রোগী মারবে। দেখা যাবে রোগী একটু মোটা, ইঞ্জেকসন দিবে কিন্তু রগ দেখা যাচ্ছে না। তখন হয়ত সে গেয়ে উঠবেঃ- রগ ই তো যায় না দেখা, ইঞ্জেকসন দিবো কোথা।

সুতরাং আমাদের শিক্ষামন্ত্রী সাহেব, আপনি যা করছেন তাতে দেশ দ্রুত Digital ভাবে Destroy হয়ে যাবে। ১৯৫২ সালে যদি ছাত্ররা বাংলাকে মাতৃভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, ১৯৭১ সালে যদি স্বাধীনতা আদায় করতে পারে তবে আমরাও আমাদের দাবি আদায় করতে পারব, দরকার হলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগও করাইতে পারব ইনশাল্লাহ। আপনারা কি আমার সাথে একমত??????

 

আমাকে ফেচবুকে পাবেন এখানে……

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ