ফেইসবুকে যতো বানোয়াট পোস্ট

4
326

ফেইসবুকে যতো বানোয়াট পোস্ট
ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর জন্য প্রতি শেয়ারে ১.২ ডলার!

হালের জনপ্রিয় সোশাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইট ফেইসবুকে ব্যবহারকারীরা অনেকটা সময় কাটান পছন্দের ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্যসমৃদ্ধ পোস্ট নিয়ে। কিন্তু তাদের অনেকেই হয়তো জানেন না যে, মানবতার স্বার্থে বা কৌতুহল জাগানো যে ছবি এবং পোস্টগুলো তারা শেয়ার করছেন, তার অধিকাংশই মিথ্যে গুজব এবং ধোঁকাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। ফেইসবুকের এসব বানোয়াট খবর নিয়েই আমাদের এই ধারাবাহিক আয়োজনের আজ প্রথম পর্ব।

সম্প্রতি ফেইসবুকে গাণিতিক হারে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা এক শিশুর ছবি। ছবির ক্যাপশনে রয়েছে, শিশুটি ক্যান্সার আক্রান্ত এবং প্রতিবার ছবিটি শেয়ার করলে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ শিশুটির চিকিৎসার জন্য দেবে ১.২ ডলার। ছবিটি সামনে পড়েছে কিন্তু মানবতার স্বার্থে শেয়ার করেননি, এমন ফেইসবুক ইউজার বিরল।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, পুরো ব্যাপারটি বানোয়াট ও গুজব ছাড়া কিছুই নয়। কেবল একটি ছবি শেয়ার করলেই ফেইসবুক অর্থ দান করবে এ ব্যাপারটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন। ছবিটি শেয়ার করলে তা কোনোভাবেই কোনো কাজে আসবেনা ওই শিশুটির। শুধু তাই নয়, অসুস্থ বাচ্চাদের ছবি ব্যবহার করে মিথ্যে গুজব ছড়িয়ে দেয়া পোস্টগুলোর একটি এটি।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই পোস্টগুলোতে ব্যবহৃত ছবিগুলো স্প্যামাররা ব্যবহার করছে বাচ্চার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই। অনেক ক্ষেত্রেই ফেইসবুকে এমন পোস্টগুলোর কারণে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে ওই শিশুর পরিবারকে।

এক্ষেত্রে ব্যবহৃত ছবিটি স্প্যামাররা স্প্যানিশ ভাষার একটি ওয়েবসাইট থেকে চুরি করেছিলেন বলেই জানাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। ২০০৭ সালে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য অপারেশন টেবিলে যেতে হয়েছিলো ছবির শিশুটিকে। আর ছবিটি ফেইসবুকে ব্যবহার করা হয়েছে শিশুটির অভিভাবকদের অনুমতি ছাড়াই।

ফেইসবুকে যতো বানোয়াট পোস্ট
বার্ড কিলার চিউইংগাম!

ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোর মধ্যে আরেকটি হচ্ছে দুটি পাখির ছবি। ছবিটির ক্যাপশনে বলা হয়েছে, মাটিতে পড়ে থাকা চিউইংগাম খেয়ে মারা গেছে পাখিটি। একই ছবি ব্যবহার করে তৈরি আরেকটি পোস্টে বলা হয়েছে, চিউইংগামে আটকে গাড়ির আঘাতে মারা গেছে পাখিটি।

চিউইংগাম খেয়ে পাখি মারা যাবার ব্যাপারটি কতোটুকু সত্যি, তা নিয়ে রয়েছে সন্দেহ। তবে পুরো ব্যাপারটি যে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে তা নিশ্চিত।

এ ব্যাপারে ২০০৯ সালে সংবাদ সংস্থা সিবিএস ২১-এ দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘জু আমেরিকা’র বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, ‘চিউইংগাম সাধারণত পাখিদের জন্য বিপজ্জনক নয়। তবে একটি পাখি যদি নিজের বায়ুনালীর থেকেও আকাড়ে বড় একটি চিউইংগাম খাবার চেষ্টা করে, তবে দম আটকে মারা যেতে পারে পাখিটি। কিন্তু এ কথাটি প্রাণীজগতের বহু প্রাণীসহ মানুষের জন্যেও সত্যি।’

একই বিষয়ে লেক টোবিয়াস ওয়াইল্ডলাইফ পার্কের এক বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আমাদের এখানে যে পাখিগুলো আছে, সেগুলো কখনোই মাটিতে পড়ে থাকা চিউইংগাম খাবার চেষ্টা করেনা। বড়জোর দু’একবার নাড়াচাড়া করে দেখতে পারে জিনিষটি কি। আর চিউইংগাম খেয়ে কোনো পাখি মারা যাওয়ার ঘটনা আমাদের এখানে কখনোই ঘটেনি।’

ওই ছবিটি নিয়ে সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে পোস্ট রয়েছে ২০০৯ সাল থেকেই। আসল পোস্টটিতে চলন্ত গাড়ির আঘাতে পাখিটি মারা গেছে বলা হয়েছিলো। পরে কোনো একসময় বদলে যায় ছবিটির আসল ক্যাপশন।

ছবিটির মূল বার্তায় বলা হয়েছে, নিজের আবর্জনাগুলো যেখানে সেখানে না ফেলে আবর্জনা ফেলার মতো জায়গাতেই ফেলতে। কিন্তু বার্তাটির পেছনে কারণ হিসেবে যে বিষয়টিকে তুলে ধরা হয়েছে তার সত্যতারও কোনো প্রমাণ নেই।

আমার ব্লগটা ভিজিট করবেন যদি সময় পান।  ফেসবুক এ একটা পেজ আছে  এই লিংকে  ভাল লাগলে লাইক করবেন

4 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ