সহিহ শুদ্ধ ভাবে নামায পড়ার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় মাসলা

13
1167

আমরা একাকী নামায পড়ার সময় অনেক সময় এমন কিছু ভুল করি যার জন্য আমাদের নামায একেবারেই হয় না। যেমন এক সেজদা দেয়ার পর আরেক সেজদার মাঝে সোজা হয়ে বসতে হবে, অনেক কে দেখা যায় এক সেজদা দেয়ার পর সাথে সাথে সোজা হয়ে না বসে আরেক সেজদা দিয়ে দেয়। এটা করলে সে একটা ওয়াজীব ভঙ্গ করলো তার ফলে ঐ ব্যক্তির নামায আর হবে না। অবশ্যই ২ সেজদার মাঝে এক তাসবীহ পরিমান যেমন সুবহানা রাব্বিয়াল আলা বলতে যতটুক সময় লাগে ততটুকু সময় পিঠ সোজা করে বসতে হবে। আবার রুকু করার পর সম্পূর্ণ সোজা হয়ে দাড়িয়ে সামিআল্লাহু হুলিমান হামিদাহ এরপর রাব্বানা লাকাল হামদ এটা স্পষ্ট ভাবে ঠিক সোজা হয়ে দাড়িয়ে পড়তে হবে। রুকু করার পর সম্পূর্ণ সোজা না হয়ে দাড়িয়ে সাথে সাথে সেজদায় চলে গেলে ঐ ব্যক্তি একটা ওয়াজীব তরক করলো, তার নামায হবে। এই ২ টা ভুল অনেক মুসলমান নামায পড়ার সময় প্রায়ই করে। কিন্তু নামায পড়ার সময় এই ২ টা ভুল করলে সে ওয়াজীব তরক করলো। আর কোন ওয়াজীব ভঙ্গ করলে ঐ ব্যক্তির নামায কখনো হবে না। আর ঐই সব ওয়াজীব ভঙ্গ করলে সিজদায়ে সাহু দিয়েও কোন লাভ নাই নতুন করে আবার নামায পড়তে হবে।

নামাযের মাঝে এমন অনেক সহজ সুন্নত আছে যে গুলি আমরা না জানার কারনে ছুটে যায়। যেমন রুকুতে হাতের আঙ্গুল গুলি ফাঁক রাখতে হয়, সিজদায় হাতের আঙ্গুল গুলি মিলিয়ে রাখতে হয় এবং তাশাহুদ/আত্তাহিয়্যাতু পড়ার সময় আঙ্গুল গুলি স্বাভাবিক অবস্থায় রাখতে হবে। সিজদা করার সময় প্রথমে নাক ও পরে কপাল মাটিতে রাখতে হবে। আবার সিজদা শেষ করে প্রথমে কপাল এরপর নাক উঠাতে হবে। আর নামাযে আজেবাজে চিন্তা থেকে বেচেঁ থাকার জন্য নামায শুরু করার আগে যদি আপনার কোন প্রয়োজনীয় কাজ থাকলে সেই কাজটা আগে করে তারপর জামাতে শরিক হবেন। আর নামাযে পঠিত সূরা, তসবীহ এগুলির অর্থের প্রতি লক্ষ্য রাখবেন। তাইলে আজেবাজে চিন্তা থেকে অনেকটাই বেচেঁ থাকতে পারবেন।
ধরেন জামাত শুরু হলো আপনি ১ রাকাত পর জামাতে উপস্থিত হলেন। তখন শরীয়তের ভাষায় আপনি মসবুক। ধরেন মাগরিবের ১ রাকাত পরে যদি আপনি জামাতে আসেন তাইলে ২য় রাকাতে আপনি ছানা পড়বেন না। ২য় রাকাতের বৈঠকে আপনি আত্তাহিয়্যাতু পুরাটাই পড়বেন। ৩য় রাকাতে আপনি শুধু আত্তাহিয়্যাতু পড়বেন। দোয়া মাসুরা ও দরুদ শরীফ পড়বেন না। তারপর ইমাম সাহেব উভয় সালাম ফিরানোর পর আপনি ছানা, তা-আউয ও তাসমিয়া মানে আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ে সুরা ফাতেহা ও তারপর ১ টি সূরা পড়বেন। যথারিতী শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু, দুরুদ শরীফ ও দোয়া মাসুরা পড়ে নামায শেষ করবেন। আবার মাগরিবের নামাযের ২য় রাকাতে আপনি জামাতে উপস্থিত হলে আগের নিয়মে বৈঠকে আপনি আত্তাহিয়্যাতু পুরাটাই পড়বেন। পরে ঐ জামাতের ৩য় রাকাতে আপনি ইমাম সাহেবের সাথে শেষ বৈঠকে শুধু আত্তাহিয়্যাতু পড়বেন। ইমাম সাহেব উভয় সালাম ফিরানোর পর আপনি ছানা, তা-আউয ও তাসমিয়া মানে আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ে সুরা ফাতেহা ও তারপর ১ টি সূরা পড়বেন। আপনার ২য় রাকাতে শুধু আত্তাহিয়্যাতু পড়বেন। ৩য় রাকাতে আপনি আবার সুরা ফাতেহা ও আরেকটি সূরা মিলিয়ে যথারিতী শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু, দুরুদ শরীফ ও দোয়া মাসুরা পড়ে নামায শেষ করবেন। এখন দেখুন মাগরিবে আপনাকে অবশ্যই ২ টি রাকাতে সূরা ফাতেহার পর অন্য একটি সূরা মিলাতে হবে। মাগরিবের নামাযের মাসলা টা বুঝলে আপনি অন্য সকল নামাযের মাসলা বুঝবেন। আর যোহরের নামায, আসরের নামায ও এশার নামাযে শেষ ২ রাকাতে শুধু সূরা ফাতেহা পড়বেন। মেয়েরা যদি কখন জামাতে অংশ গ্রহন করে তাইলে মাসবুক হিসাবেও তাদের ক্ষেত্রে একই মাসলা প্রয়োগ হবে।

আর নামায পড়ার আগে আপনাকে অবশ্যই গোসল বা ওযু করতে হবে। আপনি যদি সারা দিন গোসল করেন বা পুকুরে ডুব দেন তাও আপনার গোসল হবে না যদি না আপনি গোসলের ৩ টা ফরজ আদায় করেন। গোসলের ৩ টা ফরজ হল কুলি করা, নাকে পানি দেয়া আর সারা শরীর ভাল ভাবে ধৌত করা। আর যখন আপনি এই ৩ টা ফরজ আদায় করবেন তখন আপনাকে আর গোসলের পরে ওযু করতে হবে না। অনেক কে দেখা যায় গোসল করার পরও আবার ওযু করে। এটা ঠিক না। এটা করলে পানির অপচয় হিসাবে গন্য হবে। আর অপচয় কারী শয়তানের ভাই। আর ওযু করার সময় ওযুর ৪ টা ফরজ কাজ ক্রমানুসারে করা উচিত। যেমন প্রথমে মুখমন্ডল ধোওয়া, তার পর ২ হাতের কনুই, মাথা মাসেহ ও সর্বশেষ ২ পা ধোয়া। ওযুর মাঝে কুলি করা, নাকে পানি দেয়া ও ঘাড় মাসেহ করা সুন্নত। আর ওযু শুরু করার আগে অবশ্যই কোন শুকনা গাছের ডাল দ্বারা মেসওয়াক করবেন। মেসওয়াক করা ছেলে মেয়ে উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য। বর্তমানে বাংলাদেশে ২০ টাকা দিয়ে যয়তুন গাছের ডাল পাওয়া যায়। ওযুর আগে মেসওয়াক করলে ঐ নামায মেসওয়াক বিহীন নামায অপেক্ষা ৭০ গুণ বেশী উত্তম হয়। দেখুন শরীয়তের এই মাসলা গুলি আমাদের সকলকেই জানতে হবে। এখন আপনি চাইলে তাবলীগে সময় লাগিয়ে বা আপনার পরিচিত কোন আলেমদের কাছ থেকে বা ফিকাহর কিতাব থেকে জেনে নিবেন। এখন মাসলা না জানার কারনে যদি আপনার ওযু, গোসল ও নামায ভুল হয় তখন কিন্তু আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আপনাকে ক্ষমা করবে না।

এটা আমি কোথায় থেকে যেন কালেকশন করেছিলাম সঠিক মনে পড়ছে না। সুতরাং এটা আমার নিজের লেখা টিউন না।

13 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ