রোহিঙ্গাদের সমর্থনে মায়ানমার এর সাথে সাইবার ওয়ার কতটুকু নৈতিক আর কতটুকু রাজনৈতিক ?

14
356
রোহিঙ্গাদের সমর্থনে মায়ানমার এর সাথে সাইবার ওয়ার কতটুকু নৈতিক আর কতটুকু রাজনৈতিক ?

নাদিম জোবায়ের

যাহারা আমাকে চিনেন সেটা ভাল না চিনলে আরও ভাল :P
রোহিঙ্গাদের সমর্থনে মায়ানমার এর সাথে সাইবার ওয়ার কতটুকু নৈতিক আর কতটুকু রাজনৈতিক ?

গত দু দিন ধরে চলেছে মায়ানমার এর সাথে সাইবার যুদ্ধ । এই যুদ্ধের এক পখ্যে মায়ানমার হ্যাকার আর আরেক পক্ষ্যে বাংলাদেশী কয়েকটি হ্যাকার গ্রুপ(এক্সপায়ার ছাড়া) । রোহিঙ্গা ইস্যুতে এই ওয়ারের আগের কিছু ইতিহাস সবার জানা প্রয়োজ়ন বলেই মনে করি…

————————————————————————
ইতিহাসঃ
এফ্রিল এর ২য় সপ্তাহে বিচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশি কয়েকটি ওয়েব সাইট মায়ানমার হ্যাকারা হ্যাক করলে বাংলাদেশ সাইবার আর্মি(শুধু মাত্র বাংলাদেশ সাইবার আর্মি) মায়ানমার হ্যাকার দের বিরুদ্ধে সাইবার ওয়ার ঘোষনা করে । পর্বরতীতে বাংলাদেশ সাইবার আর্মি সাইবার ওয়ার বন্ধ করে মায়ানমার হ্যাকারদের সাথে একটি শান্তি চুক্তি(গোপনে) করে । প্রাসঙ্গিক কারনেই চুক্তিটি হবার কথা ছিল, মায়ানমার হ্যাকার এবং বাংলাদেশ সাইবার আর্মির মধ্যে । কিন্তু দুখজনক ভাবে সত্য যে বাংলাদেশ সাইবার আর্মি নিজেদের নামে চুক্তি না করে চুক্তি করেন বাংলাদেশী হ্যাকার নামে । যদিও বাংলাদেশের অন্য হ্যাকিং টিমগুলো ঐ চুক্তি সম্পর্কে কিছুই জানত না । বাংলাদেশ সাইবার আর্মি বোধহয় সজ্ঞানে বাংলাদেশের অন্য হ্যাকিং টিমের অস্তিতব মানতে নারাজ । সেই জন্য, কারও সাথে কথা না বলেই বাংলাদেশি হ্যাকারদের নামে চুক্তি করে বসে ।

সেই চুক্তির একটি শর্ত ছিল, “মায়ানমার যদি এর পরে কোন কারনে বাংলাদেশি সাইট হ্যাক করে তবে তাদের সাইবার জগতে মুহুরমুহ হামলা চালান হবে।” বাংলাদেশ সাইবার আর্মির চুক্তি সম্পর্কিত যে অপিশিয়াল নিউজ দেখে এই ইতিহাস দিলাম তা হল,

বাংলাদেশ সাইবার আর্মির পক্ষ থেকে সকলকে শুভেচ্ছা। কিছু দিন আগে আমরা আপনাদের জানিয়েছিলাম যে বাংলাদেশ সাইবার আর্মি মায়ানমার হ্যাকারদের সাথে সাইবার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।

আজ অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে মায়ানমার হ্যাকার ও বাংলাদেশি হ্যাকারদের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি হয়েছে এবং তাতে মায়ানমার হ্যাকাররা তাদের কৃত কর্মের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এবং বাংলাদেশি সাইট আর হ্যাক করবে না বলে জানায়।এতে বাংলাদেশ সাইবার আর্মি ও তাদের যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা দেয়।

বাংলাদেশ সাইবার আর্মি তাদের মেসেজ-এ জানায়, মায়ানমার যদি এর পরে কোন কারনে বাংলাদেশি সাইট হ্যাক করে তবে তাদের সাইবার জগতে মুহুরমুহ হামলা চালান হবে।

স্ক্রিন সটঃ
————————————————————————
মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের অবৈধ বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দেয় এবং চায় রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পুশ করার জন্য । গত কয়েক-দশক ধরে অনেক রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠায় । মায়ানমার সরকারের সাথে তাদের দেশের হ্যাকারা ও তাই চায় । বাংলাদেশের ওয়েবসাইট হ্যাক করে মায়ানমার হ্যাকাররা সেই মেসেজ দিচ্ছে বাংলাদেশীকে । তারা আরাকান রাজ্য নিজেদের দাবি করে সকল রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ফেরত আনার জন্য বলতেছে । বলতেই পারে তাদের দেশের সারথ্যের ব্যাপার । এবং তারা সাথে ইন্ডিয়ান হ্যাকিং টিম গুলোকে ও সাথে নিয়েছে, মানে পূর্বপরিকল্পিত ।

মায়ানমার হ্যাকাররা “=====—MISSION ANTI-ROHINGYA [Op. Anti-Terrorists] =====” দিয়ে সাইট গুলো হ্যাকড করে যাচ্ছে । এবং তাদের দেশের সাম্প্রতিক সময়ের সাপ্রদায়িক দাঙ্গায় সূত্র ধরে বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের ফেরত আনার জন্য মেসেজ দিচ্ছে । “To the world & Middle East – if you would like to take Jihadi Bengali Terrorists illegal immigrants, you are welcome to have them all. We don’t want to see even a single in our land. Please take them all! ”

এই সূত্র ধরেই বাংলাদেশ সাইবার আর্মি এবং বাংলাদেশর অন্য দু একটি গ্রুপ মায়ানমার হ্যাকার দের সাথে সাইবার যুদ্ধে নেমেছে ।(আগে করা শান্তি চুক্তি কই) এবং ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের শত খানেক ওয়েব সাইটের ডাটাবেজ ডিলেট এর বিনিময়ে কয়েকটা মায়ানমার সাইট DDoS Attack এ খানিক্ষন বন্ধ থাকছে ।

হ্যাঁ, মায়ানমার হ্যাকার রা চাইবেই আমাদের সাথে সাইবার ওয়ার করতে কিন্তু কেন তারা সাইবার ওয়ার এ যাচ্ছে তা না বুঝেই যদি আমরা সাইবার ওয়ার এ তাদের প্রতিপক্ষ হই তাহলে তো সমস্যা । সেই প্রথম থেকে মায়ানমার হ্যাকার দের সাথে গোপন শান্তি চুক্তি আবার এখন ওয়ার এ যাওয়া সব কিছুই রহস্যময় ।

কথা হচ্ছে হ্যাকার রা বলছে রোহিঙ্গারা অবৈধ বাংলাদেশী সেই সাথে বাংলাদেশীরা রোহিঙ্গাদের সমর্থনে সাইবার ওয়ার এ নামলে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নিয়ে মায়ানমার হ্যাকার আর বাংলাদেশি হ্যাকারদের মধ্যে কোন পার্থক্য বাকি থাকে বলে আমাদের মনে হয় না ।

বাংলাদেশের স্বার্থে বাংলাদেশ সাইবার আর্মি সহ ওয়ার এ অংশ নেয়া সকল গ্রুপ কে এই ওয়ার কন্টিনিঊ করার পুর্বে আবারও চিন্তা করে দেখার জন্য অনুরোধ করা হ্ল । অবশ্য দেশের স্বার্থ ছাড়া অন্য কোন স্বার্থ থাকলে ভিন্ন কথা । এই সাইবার ওয়ার শুধু বাংলাদেশের লস ছাড়া লাভ হবে না । আপনাদের (বাংলাদেশ সাইবার আর্মি) হ্যাকিং স্কিল সম্পকে খুব ভালো জানি, আপনাদের দৌড় কতদুর তা এই সাইবার ওয়ার এ আবার ও দেখতেছি । ১৮/২০ এ ওয়ার হতে কিন্তু ১৬/২০ নয় । তাই ওয়ার এর নামে পরোখ্য ভাবে (সচেতন অথবা অসচেতনতায়) মায়ানমার এর হ্যাকারদের দ্বারা বাংলাদেশী ওয়েব সাইট ধ্বংস করবেন না।এই ওয়ার আপনাদের গাদামির দায় ভার সাধারণ মানুষ দের নিতে হতে হবে ।

আর, যদি আপনাদের হ্যাকিং স্কিল খুব ভালো বলে মনে করেন তাহলে তাদের সাথে ফাইট করতে পারেন তবে তার আগে নিচ্ছিত হয়ে নিবেন এই ওয়ার এর লসের পরিমান এবং দায় ভার । এবং কেন ?

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মায়ানমার রাজনীতি, বৈশ্বিক রাজনীতি এবং দেশীয় রাজনীতি সম্পর্কে সকল সচেতন বাংলাদেশী কম বেশি জানেন তাই পোস্টের শিরোনাম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন বোধ করি বিশেষ একটা নেই। সাইবার ওয়ার এ অংশ নেয়ার আগে অথবা সমর্থন দেয়ার আগে শিরোনাম টা নিয়ে এক মুহূর্ত ভাববেন সেই প্রত্যাশাই করি ।

রোহিঙ্গাদের সমর্থনে এক্সপায়ার সাইবার আর্মি মায়ানমার হ্যাকার দের সাথে সাইবার ওয়ার এ যাবে না, নোংরা রাজনীতিতে মেতে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের ইচ্ছে আমাদের নেই ।
রোহিঙ্গাদের সমর্থনে এক্সপায়ার সাইবার আর্মি মায়ানমার হ্যাকার দের সাথে সাইবার ওয়ার এ যাবে না, নোংরা রাজনীতিতে মেতে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের ইচ্ছে আমাদের নেই ।

Join Us:
3xp1r3 – Facebook Page
এবং
3xp1r3 Cyber Group
Courtesy By:Md.Nadim Zobaer

3xp1r3 Media & Public Opinion

14 মন্তব্য

  1. এই সূত্র ধরেই বাংলাদেশ সাইবার আর্মি এবং বাংলাদেশর অন্য দু একটি গ্রুপ মায়ানমার হ্যাকার দের সাথে সাইবার যুদ্ধে নেমেছে ।(আগে করা শান্তি চুক্তি কই) এবং ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের শত খানেক ওয়েব সাইটের ডাটাবেজ ডিলেট এর বিনিময়ে কয়েকটা মায়ানমার সাইট DDoS Attack এ খানিক্ষন বন্ধ থাকছে ।

    এইটা কি জ্ঞান থাকতে বলছেন ভাই সব ?? :প

    বাংলাদেশ সাইবার আর্মি তাদের মেসেজ-এ জানায়, মায়ানমার যদি এর পরে কোন কারনে বাংলাদেশি সাইট হ্যাক করে তবে তাদের সাইবার জগতে মুহুরমুহ হামলা চালান হবে।

    এই লাইন তা চশমা পরে দেখে নিবেন ,…..

  2. রোহিঙ্গা ইস্যুতে এই ওয়ারের আগের কিছু ইতিহাস সবার জানা প্রয়োজ়ন বলেই মনে করি…

    এই কথাতার যুক্তি জানতে চাচ্ছিলাম ।

    কারন ওয়ারের ইস্যু এইটা না বরং বাংলাদেশী সাইবার স্পেস অ্যাটাক করার পেব্যাক হিসেবে ওয়ার ঘোষণা করা হয় …

  3. মাঝখানে তাদের সাথে আমাদের একটা চুক্তি হয়েছিল যে তারা আর আমাদের স্পেস অ্যাটাক করবে না। কিন্তু তারা তাদের কথা রাখেনি … তাই আমারাও তাদেরকে পাল্টা আক্রমন করি …

  4. আপনি বললেন বাংলাদেশ সাইবার আর্মি সাইবার ওয়ার বন্ধ করে মায়ানমার হ্যাকারদের সাথে একটি শান্তি চুক্তি করে তার কোন প্রমান দিতে পারলে ব্যাপারটা আরো পরিস্কার হত ।

একটি উত্তর ত্যাগ